সহকারী অধ্যাপক
২২ মে, ২০২৬ ০৫:৫৪ অপরাহ্ণ
প্রশংসা আল্লাহর -মোঃ মুজিবুর রহমান
প্রশংসা আল্লাহর
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
সমস্ত প্রশংসা সেই মহান রবের তরে,
যিনি সৃষ্টি করেছেন আকাশ, নদী, সাগর ঘিরে।
যাঁর কুদরতে সূর্য ওঠে আলোর দীপ্তি ছড়ায়,
চাঁদের কোমল জোছনা রাতে হৃদয় জুড়িয়ে যায়।
তিনি দয়াময়, পরম করুণাময়, অসীম দয়ার সাগর,
পাপী বান্দাও ফিরে এলে খুলে দেন রহমতের ঘর।
অশ্রুভেজা কপাল যখন সিজদাতে নত হয়,
রহমতের বারিধারা তখন অন্তরে নেমে রয়।
তিনি বিচার দিনের মালিক, মহা প্রতিদানের রব,
সেদিন কারো ধন-সম্পদ হবে না কোনো সবব।
ক্ষমতা, অহংকার, দম্ভ সব হবে মাটির ধূলি,
নেক আমল আর ঈমান ছাড়া কিছুই যাবে না তুলি।
তাই তো মুমিন কাঁদে বলে—
“হে আল্লাহ! আপনারই ইবাদাত করি নিরন্তর,
আপনারই কাছে চাই সাহায্য সকাল-সন্ধ্যার পর।
দুনিয়ার পথ অন্ধকারে হারিয়ে যাই বারবার,
আপনার হিদায়াত ছাড়া কে করবে উদ্ধার?”
হে রব! দেখান মোদের সেই সরল সঠিক পথ,
যে পথে হেঁটেছেন নবী, সিদ্দীক, শহীদের রথ।
যে পথে ছিল ঈমানের দীপ্ত শুভ্র আলো,
যে পথে গেলে অন্তর ভরে শান্তি লাগে ভালো।
সেই পথে ছিল তাকওয়ার সুবাস ভরা বাগান,
সবর, শোকর, ভালোবাসায় পূর্ণ ছিল প্রাণ।
যে পথে মানুষ কাঁদত রাতে রবের ভয়ে চুপে,
দিনের বেলায় ছড়াত তারা দয়া সকল রূপে।
হে আল্লাহ! দূরে রাখুন গজবের ভয়ংকর ছায়া,
অহংকারে ডুবে থাকা অন্তর যেন না পায় মায়া।
পথভ্রষ্টতার কালো ধোঁয়া ঢেকে না দিক মন,
কুরআনের নূরে জাগুক মোদের প্রতিটি স্পন্দন।
যারা দুনিয়ার মোহে পড়ে ভুলে গেছে আপন রব,
অহংকারে অন্ধ হয়ে করেছে সত্যকে অবহব,
তাদের পরিণাম দেখে কেঁপে ওঠে প্রাণ,
হে দয়াময়! বাঁচিয়ে রাখুন ঈমানের সম্মান।
হে রব! আপনি ছাড়া নেই তো কোনো আশ্রয়,
আপনার রহমত ছাড়া বান্দা বড়ই নিরুপায়।
ঝড়ের রাতে পথহারা নাবিক যেমন ডাকে তীর,
তেমন করেই ডাকি আপনাকে অশ্রুভেজা নীর।
আমাদের অন্তর ভরে দিন কুরআনের আলো,
হিংসা-বিদ্বেষ মুছে গিয়ে হৃদয় হোক ভালো।
মায়ের মুখে হাসি ফুটুক, শান্তি আসুক ঘরে,
আপনার রহমতের ছায়া থাকুক জীবনভরে।
আমাদের রিজিক দিন হালাল ও বরকতময়,
দুঃখ-কষ্ট ধৈর্যে সহার শক্তি দিন নির্ভয়।
পাপের পথে যেন না যায় এই দুর্বল প্রাণ,
শেষ নিশ্বাসেও থাকে যেন ঈমানেরই গান।
কবরের আঁধার ঘুচিয়ে দিন রহমতের আলোয়,
হাশরের মাঠে রাখুন মোদের আরশেরই ছায়ায়।
ডান হাতে আমলনামা পেয়ে যেন হাসি মুখে,
জান্নাতের পথে যেতে পারি আপনার সুখে।
সিরাত সেতুর কঠিন পথে রাখুন অবিচল,
আপনার নামের জিকিরে থাকুক হৃদয় টলমল।
কাওসারের সুমিষ্ট পানি পান করাবেন হেসে,
প্রিয় নবীর উম্মত হয়ে দাঁড়াই যেন শেষে।
হে পরম দয়ালু রব!
আমাদের ঘর, সমাজ, দেশ করুন নূরে ভরা,
অন্যায়, জুলুম, হিংসা যেন দূরে যায় সরা।
মানুষ মানুষকে ভালোবাসুক আপনারই তরে,
ইসলামের শান্তির বাণী ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে।
আপনারই ইবাদাতে কাটুক মোদের জীবন,
আপনারই সন্তুষ্টিতে হোক অন্তরের স্পন্দন।
শেষে যখন ডাক আসবে ছেড়ে যাব এ ধরা,
কালিমার নূরে ভরে যাক শেষ নিশ্বাস সারা।
তখন ফেরেশতারা বলুক স্নিগ্ধ মধুর বাণী—
“ভয় করো না, দুঃখ করো না, শেষ হয়েছে গ্লানি।”
জান্নাতের দরজা খুলে ডাকুক অফুরান সুখ,
রহমতের ছায়ায় ভরে উঠুক মুমিন হৃদয়-মুখ।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—
যিনি আদি, যিনি অন্ত, যিনি সর্বময়,
তাঁর দয়াতেই পৃথিবীজুড়ে জীবনের পরিচয়।
তাঁরই পথে চলতে চাই প্রতিটি ক্ষণজুড়ে,
হে আল্লাহ! রাখুন মোদের ঈমানের নূরে।
আমিন।
সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর তরে,
যিনি সৃষ্টি করলেন ধরণী আকাশ ঘিরে।
নীলিমাভরা আসমানে জ্বালালেন চাঁদ-সূর্য,
তাঁরই হুকুমে দিন আসে, রাত নামে ধীর।
তিনি সৃষ্টিকুলের রব, অফুরন্ত দয়ার সাগর,
তাঁর রহমতের ছায়াতলে শান্ত হয় অন্তর।
ভাঙা হৃদয় কাঁদলে যখন নীরব রাতের শেষে,
করুণাধারা ঝরে পড়ে রহমতের আবেশে।
তিনি দয়াময়, অতি মেহেরবান, পরম করুণাময়,
অন্ধকারে হারানো প্রাণ তাঁর নূরেই পথময়।
পাপী যদি কাঁদে ফিরে অনুতপ্ত প্রাণে,
ক্ষমার দরজা খুলে দেন তিনি দয়ার টানে।
তিনি বিচার দিনের মালিক, মহা প্রতিদানদাতা,
সেদিন কাঁপবে রাজা-বাদশাহ, কাঁপবে সকল মাথা।
ধন-সম্পদ, অহংকার কিছুই রবে না সাথে,
নেক আমল আর ঈমান যাবে কেবল হাতে।
তাই তো মুমিন অশ্রুভরা কণ্ঠে ডাকে বারংবার—
“হে আল্লাহ! আপনারই করি ইবাদাত অপার।
আপনারই কাছে চাই সাহায্য প্রতিক্ষণ,
আপনারই রহমতে বাঁচে এ দুর্বল জীবন।”
হে দয়াময়! দেখান মোদের সরল সঠিক পথ,
যে পথে চলেছেন নবী, সত্যবাদী মহারথ।
যে পথে ছিল তাকওয়ার দীপ্ত সোনালি আলো,
যে পথে গেলে হৃদয় জুড়ে প্রশান্তি লাগে ভালো।
সেই পথে ছিল কুরআনের মধুময় আহ্বান,
সেই পথে ছিল সিজদাভরা নির্মল জীবনগান।
যে পথে মানুষ কাঁদত শুধু রবেরই ভয়ে,
ভালোবাসা বিলাত সবাই আপন আপন হৃদয়ে।
হে আল্লাহ! দূরে রাখুন গজবের কালো ছায়া,
অহংকারের আগুন যেন অন্তরে না পায় মায়া।
পথভ্রষ্টতার অন্ধ ঝড়ে হারিয়ে না যাই,
কুরআনের নূর দিয়ে হে রব! পথ দেখাই।
যাদের প্রতি আপনি দিয়েছেন সীমাহীন নিয়ামত,
তাদের পথে চলতে চাই রেখে ঈমান অটুট।
নবীদের সেই সুমহান পথ, শহীদের সে গান,
সিদ্দীকদের পদচিহ্নে ভরে উঠুক প্রাণ।
হে রব! এই দুনিয়া ক্ষণিক মরীচিকার মেলা,
আজ যে হাসে কাল সে কাঁদে—সময় ফুরায় বেলা।
ক্ষমতা আর দম্ভ যত মাটির সাথে মিশে,
আপনার নামই শুধু চিরকাল রয় শেষে।
হে আল্লাহ! দিন আমাদের অন্তরে তাকওয়া,
নফসের ধোঁকা থেকে রক্ষা, দিন সত্যের ছোঁয়া।
চোখে দিন লজ্জার পানি, মুখে দিন জিকির,
আপনার প্রেমে কাঁদুক প্রাণ, হোক হৃদয় স্থির।
আমাদের ঘর ভরে দিন শান্তির সুবাসে,
মায়ের মুখে হাসি ফুটুক রহমতের বাতাসে।
পিতার কষ্ট দূর করুন দয়ার ছায়াতলে,
ভাইয়ের সাথে ভাই থাকুক মহব্বতের দলে।
হে দয়াময়! সমাজ হতে দূর করুন হিংসা,
মানুষ যেন মানুষকে না দেয় কোনো নিঃশ্বাসহীন কষ্টের দংশা।
অন্যায়ের কালো মেঘ মুছে যাক দূর আকাশে,
সত্য আর ন্যায়ের সূর্য উঠুক নব উল্লাসে।
আমাদের রিজিক দিন হালাল ও বরকতময়,
সবরের শক্তি দিন, হে রব! অন্তর হোক নির্ভয়।
কষ্ট এলেও যেন না ভাঙে ঈমানের মিনার,
আপনার স্মরণে কাটুক জীবন বারংবার।
হে আল্লাহ! কবরের ঘর করুন জান্নাতি বাগান,
মুনকার-নাকীর প্রশ্নে দিন সহজ জবাবের জ্ঞান।
হাশরের মাঠে রাখুন আরশের স্নিগ্ধ ছায়ায়,
নেককারদের দলে রাখুন রহমতের মায়ায়।
ডান হাতে আমলনামা পেয়ে যেন হাসি মুখে,
প্রিয়জনের সাথে মিলি জান্নাতের সুখে।
সিরাত সেতুর কঠিন পথে রাখুন অবিচল,
আপনার নামের নূরে হোক অন্তর উজ্জ্বল।
কাওসারের সুমিষ্ট পানি পান করাবেন শেষে,
প্রিয় নবীর উম্মত হয়ে দাঁড়াই যেন হেসে।
জান্নাতুল ফিরদাউস হোক চূড়ান্ত ঠিকানা,
আপনার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের মানা।
হে মহান রব!
আপনারই ইবাদাতে কাটুক সকাল-সাঁঝ,
আপনারই ভালোবাসায় ভরে উঠুক আজ।
পৃথিবীর সব সুখ ম্লান আপনার রহমতে,
আপনারই নূরে প্রাণ জাগে ইবাদতের সুরেতে।
যখন শেষ বিকেলের আলো মুছে যাবে ধরা,
সব সম্পর্ক থেমে যাবে, নিভে যাবে সুরভরা।
তখন শুধু চাইবো মোরা আপনার ক্ষমার ছায়া,
কালিমার নূরে ভরে যাক বিদায়ের মায়া।
ফেরেশতারা ডাকুক এসে কোমল মধুর বাণী—
“ভয় করো না মুমিন বান্দা, শেষ হয়েছে গ্লানি।”
জান্নাতের দরজা খুলে আসুক অফুরান সুখ,
রহমতের আলোয় ভরে উঠুক হৃদয়-মুখ।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মহান,
তাঁরই হুকুমে চলে সৃষ্টি, তাঁরই দয়ায় প্রাণ।
তিনি আদি, তিনি অন্ত, তিনি সর্বময়,
তাঁরই পথে চলতে পারাই জীবনের পরিচয়।
হে আল্লাহ!
আমাদের রাখুন ঈমান, আমল, তাকওয়ার নূরে,
আপনার প্রেমে কাটুক জীবন প্রতিটি ক্ষণজুড়ে।
দুনিয়া ও আখিরাতে দিন কল্যাণের ঠিকানা,
আপনার সন্তুষ্টিতেই হোক জীবনের শেষ গাঁথা।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
***
মহান আল্লাহর নামে শুর করি পবিত্র এই গান,
যিনি দয়ায় সৃষ্টি করলেন সমগ্র জাহান।
সমস্ত প্রশংসা তাঁর, মহান সৃষ্টিকর্তার তরে,
যাঁর হুকুমে ফুল ফোটে সুবাস ছড়ায় ঘরে ঘরে।
তিনি সৃষ্টিকুলের রব, অফুরন্ত রহমতের ধারা,
তাঁরই নূরে আলোকিত চন্দ্র-সূর্য-তারা।
তিনি না চাইলে শুকিয়ে যায় নদীর বুকে জল,
তিনি চাইলে মরুভূমিতেও ফুটে ওঠে শাপলা কমল।
দয়াময়, পরম করুণাময়, অতি মেহেরবান,
পাপী বান্দাও ফিরে এলে দেন ক্ষমার সম্মান।
রাতের আঁধারে কাঁদলে যদি অশ্রুভেজা প্রাণ,
রহমতের দরজা খুলে শোনেন তিনি আর্তবান।
তিনি বিচার দিনের মালিক, প্রতিদানের রব,
সেদিন কাঁপবে আসমান-জমিন, থামবে দম্ভ সব।
রাজা-বাদশাহ, ধনী-গরিব দাঁড়াবে একই সারি,
কেউ বাঁচিবে না সেদিন ছাড়া তাঁর রহমত ভারী।
হে আল্লাহ! আপনারই করি ইবাদাত নিরন্তর,
আপনারই নিকট চাই সাহায্য সকাল-দুপুর।
দুনিয়ার পথে হারিয়ে গিয়ে কাঁদি বারবার,
আপনার হিদায়াত ছাড়া কে করবে উদ্ধার?
হে মহান রব! দেখান মোদের সরল সঠিক পথ,
যে পথে চলেছেন নবী, সত্যবাদী মহারথ।
যে পথে ছিল তাকওয়ার আলো, ঈমানের সুবাস,
যে পথে গেলে অন্তর পায় অনাবিল বিশ্বাস।
যে পথে রাত জেগে মানুষ করত আপনাকে স্মরণ,
অশ্রুভেজা সিজদাতে ভরাত হৃদয়ের কানন।
যে পথে ছিল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা,
মানুষ মানুষকে দিত শান্তির নির্মল আশা।
হে আল্লাহ! রাখুন দূরে গজবের ভয়াল ছায়া,
অহংকারের বিষ যেন অন্তরে না পায় মায়া।
পথভ্রষ্টতার অন্ধকারে হারিয়ে না যাই,
কুরআনের আলো দিয়ে হে রব! পথ দেখাই।
যাদের উপর বর্ষিয়েছেন নিয়ামতের ধারা,
সেই নেককারদের দলে রাখুন মোদের সারা।
নবীদের পবিত্র পথ, শহীদের রক্তরাঙা গান,
সিদ্দীকদের পদচিহ্নে জাগুক ঈমানি প্রাণ।
হে রব! এই পৃথিবী তো ক্ষণিকেরই মেলা,
আজ আছে যে, কালই তার ফুরিয়ে যাবে বেলা।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা সব পড়ে রবে পিছে,
শুধু নেক আমল যাবে সঙ্গে কবরের অন্ধকারে মিশে।
হে আল্লাহ! অন্তরে দিন তাকওয়ার প্রদীপ,
আপনার ভয়েই কাটুক মোদের প্রতিটি ক্ষণ গভীর।
চোখে দিন অশ্রুর ধারা, মুখে জিকিরের বাণী,
আপনার প্রেমে কাঁদুক প্রাণ, হোক হৃদয়খানি।
আমাদের ঘরে দিন শান্তি, রহমতের আলো,
মায়ের মুখে হাসি ফুটুক, দূরে যাক কালো।
পিতার ক্লান্ত হৃদয় জুড়াক সন্তানের আচরণে,
ভাইয়ের সাথে ভাই থাকুক মহব্বতের বন্ধনে।
হে দয়াময়! দূর করুন হিংসা-বিদ্বেষ যত,
মানুষ যেন মানুষকে না দেয় কোনো ক্ষত।
অন্যায়ের কালো মেঘ মুছে যাক দূর আকাশে,
সত্য আর ন্যায়ের সূর্য উঠুক ভালোবাসায় ভাসে।
আমাদের রিজিক করুন হালাল ও বরকতময়,
সবরের শক্তি দিন, অন্তর রাখুন নির্ভয়।
কষ্ট এলে যেন না ভাঙে ঈমানের মিনার,
আপনার জিকিরে কাটুক জীবন বারবার।
হে আল্লাহ! কবরের ঘর করুন জান্নাতি বাগান,
মুনকার-নাকীর প্রশ্নে দিন সহজ জবাবের জ্ঞান।
হাশরের ময়দানে রাখুন আরশের স্নিগ্ধ ছায়ায়,
নেককারদের সঙ্গে তুলুন রহমতের মায়ায়।
ডান হাতে আমলনামা পেয়ে হাসুক প্রাণ,
জান্নাতের পথে যাক মুমিনের কাফেলা মহান।
সিরাত সেতুর কঠিন পথে রাখুন অবিচল,
আপনার নূরের আলোয় হোক হৃদয় উজ্জ্বল।
কাওসারের সুমিষ্ট পানি পান করাবেন শেষে,
প্রিয় নবীর উম্মত হয়ে দাঁড়াই যেন হেসে।
জান্নাতুল ফিরদাউস হোক চূড়ান্ত ঠিকানা,
আপনার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের মানা।
হে মহান দয়ালু রব!
আপনারই ইবাদাতে কাটুক সকাল-সাঁঝ,
আপনারই ভালোবাসায় ভরে উঠুক আজ।
আপনার রহমত ছাড়া জীবন অন্ধকার,
আপনার নূরেই জাগে মুমিন হৃদয় বারবার।
যখন নিভে যাবে জীবনের শেষ প্রদীপ,
থেমে যাবে পৃথিবীর কোলাহল অতি নীরব গভীর।
তখন শুধু চাইবো মোরা আপনার ক্ষমার ছায়া,
কালিমার নূরে ভরে যাক বিদায়ের মায়া।
ফেরেশতারা বলুক এসে মধুর স্নিগ্ধ বাণী—
“ভয় করো না মুমিন বান্দা, শেষ হয়েছে গ্লানি।”
জান্নাতের দরজা খুলে আসুক অফুরান সুখ,
রহমতের আলোয় ভরে উঠুক হৃদয়-মুখ।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মহান,
তাঁরই দয়ায় বেঁচে থাকে সারা জাহান।
তিনি আদি, তিনি অন্ত, তিনি সর্বময়,
তাঁরই পথে চলতে পারাই জীবনের পরিচয়।
হে আল্লাহ!
আমাদের রাখুন ঈমান, আমল, তাকওয়ার নূরে,
আপনার প্রেমে কাটুক জীবন প্রতিটি ক্ষণজুড়ে।
দুনিয়া ও আখিরাতে দিন শান্তির ঠিকানা,
আপনার সন্তুষ্টিতেই হোক জীবনের শেষ গাঁথা।
আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন।
***
হে মহান আল্লাহ!
সমস্ত প্রশংসা আপনারই তরে,
আপনি ছাড়া আর কেউ নেই এ হৃদয়ের অন্তরে।
আপনিই সৃষ্টি করেছেন আকাশ, বাতাস, নদীর কলতান,
আপনারই হুকুমে জেগে ওঠে প্রতিটি প্রাণ।
আপনি সৃষ্টিকুলের রব, অফুরন্ত রহমতের আলো,
আপনার দয়ায় মরুভূমিতেও ফুটে ওঠে ভালো।
আপনি না চাইলে সূর্যও আলো দিতে পারে না,
আপনার কুদরত ছাড়া একটি পাতাও নড়ে না।
আপনি দয়াময়, পরম করুণাময়, অতি মেহেরবান,
অপরাধী বান্দাকেও দেন ক্ষমার সম্মান।
রাতের গভীরে কাঁদলে যদি কোনো ভাঙা প্রাণ,
আপনি রহমতের সাগরে ভাসান তার অবসান।
আপনি বিচার দিনের মালিক, প্রতিদানের রব,
সেদিন থেমে যাবে দুনিয়ার অহংকার সব।
সিংহাসন, সম্পদ, ক্ষমতা থাকবে না কোনো কাজে,
শুধু নেক আমলই আলো হবে কঠিন সেই মাঝে।
হে আল্লাহ!
আপনারই ইবাদাত করি অশ্রুভেজা মনে,
আপনারই সাহায্য চাই দুঃখের প্রতিক্ষণে।
দুনিয়ার আঁধার পথে হারিয়ে যাই বারবার,
আপনার হিদায়াত ছাড়া কে করবে উদ্ধার?
হে রব! দেখান সেই সরল উজ্জ্বল পথ,
যে পথে চলেছেন নবী, শহীদ আর সৎ মহারথ।
যে পথে ছিল কুরআনের সুমধুর আহ্বান,
যে পথে ছিল তাকওয়ার সুবাসে ভরা প্রাণ।
যে পথে মানুষ রাত জেগে কাঁদত আপন ভয়ে,
ভালোবাসা বিলাত সবার মাঝে হৃদয় দিয়ে।
যে পথে ছিল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা অফুরান,
মানুষ মানুষকে দিত শান্তি আর সম্মান।
হে দয়াময়!
রাখুন দূরে গজবের ভয়াল কালো ছায়া,
অহংকারের আগুন যেন হৃদয়ে না পায় মায়া।
পথভ্রষ্টতার অন্ধকারে হারিয়ে না যাই,
কুরআনের নূর দিয়ে হে রব! পথ দেখাই।
যাদের উপর বর্ষিয়েছেন নিয়ামতের ধারা,
তাদের কাতারে রাখুন আমাদেরও সারা।
নবীদের সেই পবিত্র পথ, সিদ্দীকদের গান,
শহীদের রক্তমাখা পথে জাগুক ঈমান।
হে রব!
এই পৃথিবী তো ক্ষণিকের ছায়াময় খেলা,
আজ আছে যার হাসি, কাল ফুরাবে বেলা।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা পড়ে রবে মাটির ‘পরে,
শুধু ঈমান আর আমল যাবে কবর ঘরে।
হে আল্লাহ!
অন্তরে দিন তাকওয়ার দীপ জ্বালানো আলো,
আপনার স্মরণে কাটুক প্রতিটি সকাল ভালো।
চোখে দিন তওবার অশ্রু, মুখে জিকিরের বাণী,
আপনার প্রেমে কাঁদুক প্রাণ দিবস আর রজনী।
আমাদের ঘরে দিন রহমতের প্রশান্তি,
মায়ের মুখে ফুটুক হাসি, দূরে যাক ক্লান্তি।
পিতার কষ্ট দূর করুন দয়ার পরশে,
ভাইয়ের সাথে ভাই থাকুক ভালোবাসার রসে।
হে পরম করুণাময়!
সমাজ হতে দূর করুন হিংসা আর বিভেদ,
মানুষ যেন মানুষকে না দেয় কষ্টের আঘাত।
অন্যায়ের কালো মেঘ ভেঙে উঠুক সত্যের সূর্য,
ন্যায় আর দয়ার আলোয় ভরে উঠুক ভূর্জ্য।
আমাদের রিজিক করুন হালাল ও বরকতময়,
সবরের শক্তি দিন, অন্তর রাখুন নির্ভয়।
দুঃখ এলে যেন না ভাঙে ঈমানের মিনার,
আপনার জিকিরে কাটুক জীবন বারবার।
হে আল্লাহ!
কবরের অন্ধকার ঘর করুন জান্নাতি বাগান,
মুনকার-নাকীর প্রশ্নে দিন সহজ জ্ঞানের দান।
হাশরের মাঠে রাখুন আরশের স্নিগ্ধ ছায়ায়,
নেককারদের দলে তুলুন রহমতের মায়ায়।
ডান হাতে আমলনামা পেয়ে হাসুক প্রাণ,
জান্নাতের পথে উঠুক মুমিনের কাফেলা মহান।
সিরাতের কঠিন সেতু পার করুন সহজ করে,
আপনার নূরের আলো থাকুক অন্তর ভরে।
কাওসারের সুমিষ্ট পানি পান করাবেন শেষে,
প্রিয় নবীর উম্মত হয়ে দাঁড়াই যেন হেসে।
জান্নাতুল ফিরদাউস হোক চূড়ান্ত ঠিকানা,
আপনার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের মানা।
হে মহান রব!
আপনারই ইবাদাতে কাটুক সকাল-সাঁঝ,
আপনারই ভালোবাসায় ভরে উঠুক আজ।
আপনার রহমত ছাড়া জীবন অন্ধকার,
আপনার নূরেই জাগে মুমিন হৃদয় বারবার।
যখন নিভে যাবে জীবনের শেষ প্রদীপ,
থেমে যাবে পৃথিবীর কোলাহল নীরব গভীর।
তখন শুধু চাইবো মোরা আপনার ক্ষমার ছায়া,
কালিমার নূরে ভরে যাক বিদায়ের মায়া।
ফেরেশতারা বলুক এসে মধুর স্নিগ্ধ বাণী—
“ভয় করো না মুমিন বান্দা, শেষ হয়েছে গ্লানি।”
জান্নাতের দরজা খুলে আসুক অফুরান সুখ,
রহমতের আলোয় ভরে উঠুক হৃদয়-মুখ।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মহান,
তাঁরই হুকুমে টিকে আছে সমগ্র জাহান।
তিনি আদি, তিনি অন্ত, তিনি সর্বময়,
তাঁরই পথে চলতে পারাই জীবনের পরিচয়।
হে আল্লাহ!
আমাদের রাখুন ঈমান, আমল, তাকওয়ার নূরে,
আপনার প্রেমে কাটুক জীবন প্রতিটি ক্ষণজুড়ে।
দুনিয়া ও আখিরাতে দিন শান্তির ঠিকানা,
আপনার সন্তুষ্টিতেই হোক জীবনের শেষ গাঁথা।
আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন।
৪
৪ মন্তব্য