সহকারী অধ্যাপক
২১ মে, ২০২৬ ০৯:০৬ অপরাহ্ণ
সত্তর হাজারের কাফেলায় - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
সত্তর হাজারের কাফেলায়
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
কে যাবে সেই দলে প্রভু,
যারা যাবে বিনা হিসেবের ডাকে?
পূর্ণিমা চাঁদের মতো মুখ উজ্জ্বল,
দাঁড়াবে না হাশরের ভয়ের ফাঁকে।
আমি কি আছি সেই কাফেলায়,
যেখানে নেই কোনো কঠিন জেরা?
যেখানে রহমতের ছায়া নেমে আসে,
আর খুলে যায় জান্নাতের সোনার দুয়ারা।
প্রচেষ্টা আছে, চোখে অশ্রু আছে,
রাতের তাহাজ্জুদে নীরব কান্না;
পাপের ভারে নুয়ে পড়া বুকে
তবু জাগে ফিরদাউসের কামনা।
হে আল্লাহ, আমল যে অল্প আমার,
ভুলে ভরা এ জীবনের খাতা;
তবু তোমার রহমতের সাগর বিশাল,
তুমি ছাড়া কে আছে আর মাথা?
যারা তাওয়াক্কুলে বুক বেঁধেছিল,
মানুষের কাছে হাত পাতেনি;
রবের উপর ভরসা রেখে
দুঃখ এলেও ঈমান হারায়নি।
সেই দলে কি ডাকবে আমায়?
যেদিন কাঁপবে হাশরের ময়দান!
ডান হাতে আমলনামা পেয়ে
হাসবে কি এ অশ্রুভেজা প্রাণ?
জান্নাতে থাকবে না কোনো বেদনা,
না থাকবে বিচ্ছেদের দীর্ঘশ্বাস;
সেখানে শান্তি নদীর মতো বইবে,
রহমতের হবে অফুরন্ত সুবাস।
নেককার দম্পতি মিলবে আবার,
থাকবে না দুনিয়ার অভিমান;
হৃদয়ে হৃদয় জুড়ে যাবে চিরতরে,
শেষ হবে সব কষ্টের গান।
হুর, নিয়ামত, অমলিন সুখ—
সবই তো রবের দান মহান;
কিন্তু সবচেয়ে বড় পুরস্কার হবে
রবের সন্তুষ্টির অফুরান।
তাই হে মন, অহংকার করো না,
নিশ্চিত ভেবে বসো না কভু;
আমল করে যাও বিনম্র চিত্তে,
ক্ষমা চাইতে থেকো শুধু।
কারণ জান্নাত কেবল আমলে নয়,
রহমতেই খুলবে তার দ্বার;
যার উপর আল্লাহ খুশি হবেন,
সফল হবে সেই ভাগ্যধার।
হে দয়াময়, সেই সত্তর হাজারের
কাফেলায় রেখো আমাদেরও নাম;
হাশরের তপ্ত ময়দানে দিও
আরশের ছায়া ও শান্তির স্থান।
মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান, প্রিয়জনসহ
করো জান্নাতে পুনর্মিলন;
ঈমান, তাকওয়া, নেক আমলের পথে
দাও অবিচল সুন্দর জীবন।
যতদিন প্রাণ থাকে এ বুকে,
তোমারই পথে চলার তাওফিক দাও;
শেষ নিঃশ্বাসে কালিমার আলো,
আর কবরেতে রহমতের ছায়া দাও।
আমিন।
হাদিসে বর্ণিত সেই সৌভাগ্যবান সত্তর হাজার—
যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে—
তাদের কথা শুনলে প্রতিটি মুমিন হৃদয়েই আশা জাগে।
“আমি কি তাদের মাঝে আছি?”
এই প্রশ্নই তো ঈমানের কোমল আকুতি।
যার অন্তরে ভয়ও আছে, আশাও আছে,
যে গুনাহ দেখে কাঁদে, আবার রহমতের আশায় বাঁচে—
সে-ই তো আল্লাহর দিকে ফিরতে চায়।
কবিতা: “আমি কি সেই সত্তর হাজারে?”
আমি কি সেই সত্তর হাজারে,
যারা যাবে বিনা হিসাবে?
যাদের মুখে পূর্ণিমার আলো,
হাশরেও থাকবে নিরাপদ ভাবে?
আমি কি আছি সেই দলে প্রভু,
যেখানে নেই ভয়ের ছায়া?
যেখানে রহমতের বাতাস বয়ে
দেবে জান্নাতের স্নিগ্ধ মায়া?
আমারও তো প্রচেষ্টা আছে,
রাতের শেষে নীরব কান্না;
সিজদাতে বলি— “হে আল্লাহ,
ভুলে ভরা এ জীবনখানা।”
কখনো আমল হয় না ঠিক,
কখনো অন্তর হয় কালো;
তবু আপনার রহমতের আশায়
জ্বালিয়ে রাখি তওবার আলো।
যারা রবের উপর ভরসা করে,
মানুষকে দেয় না কষ্ট;
হারাম ছেড়ে হালাল বেছে নেয়,
সত্যের পথেই থাকে অবিচল দৃঢ়।
তারা লোক দেখানো আমল চায় না,
চায় না দুনিয়ার বড় পরিচয়;
নির্জনে শুধু কেঁদে বলে—
“রব ছাড়া আপন আর কেউ নয়।”
হে আল্লাহ, আমিও তো চাই
অন্তরটাকে পরিষ্কার রাখতে;
হিংসা, অহংকার, লোভের আগুন
আপনার ভয়ে দূরে সরাতে।
যদি সেই দলে নাম না-ও থাকে,
তবু যেন ঈমান না হারাই;
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আপনার পথে
সত্য ও তাকওয়া নিয়ে চলতে পারি।
জান্নাতে থাকবে না কোনো দুঃখ,
না থাকবে বিচ্ছেদের ব্যথা;
সেখানে মুমিন হৃদয় মিলবে
চির আনন্দের মহাব্যাপ্ততায় গাঁথা।
নেককার স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি,
ভালোবাসা হবে নির্মল নূর;
না থাকবে অভিমান, না কোনো কষ্ট,
না থাকবে দুনিয়ার দূরত্ব সুর।
বেহেশতের নহর বইবে ধীরে,
ফলমূল ঝুঁকে দেবে সালাম;
পাখির কণ্ঠে শান্তির তাসবীহ,
চারিদিকে রহমতের কালাম।
হুর, প্রাসাদ, অফুরন্ত সুখ—
সবই তো রবের দান;
তবু সবচেয়ে বড় নেয়ামত হবে
রবের সন্তুষ্টির সম্মান।
হে মন, নিশ্চিত হয়ে বসো না,
কারও আমলই যথেষ্ট নয়;
রহমত ছাড়া মুক্তি মেলে না,
এ কথাই তো হাদিস কয়।
তাই আমল করো বিনয় নিয়ে,
মানুষের হক আদায় করো;
গোপনে কেঁদে তওবা করে
রবের রহমত কামনা ধরো।
হে দয়াময়, যদি লিখে রাখো
সেই সৌভাগ্যবানদের নাম;
আমার নামটাও রেখো পাশে,
দিও না বঞ্চনার ঘোর অন্ধকার ধাম।
হাশরের মাঠে ডান হাতে দিও
আমলনামার উজ্জ্বল আলো;
পুলসিরাত করো সহজ,
ক্ষমা দিয়ে ঢেকে দিও কালো।
কবরের ঘুম হোক প্রশান্তিময়,
নূরে ভরে যাক নির্জন রাত;
শেষ নিঃশ্বাসে কালিমা দিও,
এটাই হোক জীবনের প্রভাত।
মা-বাবা, পরিবার, প্রিয়জনসহ
দাও জান্নাতের চির ঠিকানা;
ঈমান, তাকওয়া, নেক আমলে
সুন্দর হোক জীবনখানা।
আমি কি সেই সত্তর হাজারে?
জানি না হে মহান রব;
তবু আপনার রহমতের আশায়
বুকের ভিতর জ্বলে নীরব প্রদীপ।
আমিন।
***
কবিতা: “রহমতের সত্তর হাজার”
সত্তর হাজার সৌভাগ্যবান,
বিনা হিসাবে যাবে জান্নাতে;
না থাকবে ভয়, না কোনো জেরা,
রব ডাকবেন রহমতের সাথে।
পূর্ণিমা চাঁদের উজ্জ্বল আলো
ঝলমল করবে তাদের মুখে;
হাশরের কঠিন তপ্ত ময়দান
শান্ত হবে রহমতের সুখে।
আমি কি আছি সেই দলে প্রভু?
এ প্রশ্ন জাগে অন্তরে;
রাতের নীরব তাহাজ্জুদে
চোখের পানি ঝরে অঝোরে।
প্রচেষ্টা আছে, তবু ভয়ও আছে,
আমল যে অনেক কম;
গুনাহের বোঝা কাঁধে নিয়ে
কাঁদি আমি নিরবতম।
তবু হে রব, নিরাশ নই,
আপনার রহমত অসীম;
এক ফোঁটা দয়া দিলে আপনি,
মুছে যাবে অন্ধকার ভীষণ।
যারা তাওয়াক্কুলে দৃঢ় ছিল,
শুধু রবের উপর ভরসা;
মানুষকে দেয়নি কষ্ট কখনো,
বুকে ছিল ঈমানের ভাষা।
তারা হক মেরে বাড়ি গড়েনি,
হারাম দিয়ে সাজায়নি জীবন;
সত্যের পথে থেকেছে অবিচল,
তাকওয়াতেই খুঁজেছে শোভন।
লোক দেখানো আমল নয়,
নিভৃতে কেঁদেছে তারা;
“হে আল্লাহ, আপনি ছাড়া
আমার তো কেউ নেই আর।”
আমি কি পারব সে পথে চলতে?
নফসের সাথে লড়তে সদা?
লোভ, অহংকার, হিংসার আগুন
নিভাতে রবের ভয়ে নিরন্তর প্রহরা?
জান্নাতে থাকবে না কোনো দুঃখ,
না থাকবে কবরের ভয়;
না থাকবে বিচ্ছেদের কান্না,
না থাকবে মৃত্যুর ক্ষয়।
সেখানে নদী বইবে শান্তিতে,
ফল ঝুঁকে দেবে সালাম;
পাখির কণ্ঠে তাসবীহ উঠবে,
মুখর হবে জান্নাতের ধাম।
নেককার স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি,
ভালোবাসা হবে পবিত্র নূর;
না থাকবে ভুল বোঝাবুঝি,
না থাকবে হৃদয়ের দূর।
হুর, প্রাসাদ, সোনার বাগান—
সবই তো জান্নাতের দান;
তবু সবচেয়ে বড় পুরস্কার—
রবের সন্তুষ্টির সম্মান।
হে মন, নিশ্চিত হয়ো না কভু,
কারও আমলই যথেষ্ট নয়;
রহমত ছাড়া মুক্তি নেই,
এ সত্যই হৃদয়ে রয়।
তাই গোপনে কেঁদে তওবা করো,
মানুষের হক আদায় করো;
অহংকার ভেঙে বিনয় নিয়ে
রবের দরজায় মাথা ধরো।
হে দয়াময়, যদি লিখে রাখো
সেই সত্তর হাজারের নাম;
আমার নামটাও রেখো পাশে,
দিও না বঞ্চনার অন্ধকার ধাম।
হাশরের মাঠে ডান হাতে দিও
আমলনামার শুভ আলো;
পুলসিরাত করো সহজ,
ক্ষমা দিয়ে ঢেকে দিও কালো।
কবরের রাত হোক প্রশান্তিময়,
নূরে ভরে যাক প্রতিক্ষণ;
শেষ নিঃশ্বাসে কালিমা দিও,
এটাই হোক শ্রেষ্ঠ অর্জন।
মা-বাবা, পরিবার, প্রিয়জন সবাই
পাক জান্নাতের চির ঠিকানা;
ঈমান, তাকওয়া, নেক আমলে
সুন্দর হোক জীবনখানা।
আমি কি সেই সত্তর হাজারে?
জানি না হে মহান রব;
তবু আপনার রহমতের আশায়
বুকের ভিতর জ্বলে ঈমানের প্রদীপ।
আমিন।
***
***
হাদিসে বর্ণিত সেই সৌভাগ্যবান সত্তর হাজার—
যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে—
তাদের কথা শুনলে মুমিন হৃদয়ে একসাথে ভয়, আশা আর আকুলতা জেগে ওঠে।
“আমি কি তাদের মাঝে আছি?”
এই প্রশ্নই তো একজন ঈমানদারের নীরব কান্না।
যার অন্তরে তওবা আছে, গুনাহের ভয় আছে,
মানুষের হক আদায়ের চেষ্টা আছে,
আর আল্লাহর রহমতের প্রতি গভীর আশা আছে—
সে-ই তো রহমতের পথের পথিক।
কবিতা: “সত্তর হাজারের কাফেলায় ডাক”
হে প্রভু, সেই সত্তর হাজারে
আমার নাম কি লেখা আছে?
যারা যাবে বিনা হিসাবে
রহমতের নূরের বাতাসে।
পূর্ণিমা রাতের চাঁদের মতো
উজ্জ্বল হবে যাদের মুখ,
হাশরের সেই ভয়াল ময়দানেও
থাকবে না কোনো দুঃখ।
আমি কি আছি সেই দলে?
প্রচেষ্টা আছে, ভয়ও আছে;
রাতের শেষে সিজদাহ ভেজে
চোখের নীরব কান্নার ভাষে।
আমল আমার অল্প খুবই,
ভুলে ভরা দিন ও রাত;
তবু আপনার রহমতের আশায়
জেগে থাকে হৃদয়পাত।
যারা তাওয়াক্কুলে দৃঢ় ছিল,
শুধু রবের উপর ভরসা;
মানুষকে দেয়নি কষ্ট কোনো,
বুকে ছিল ঈমানের ভাষা।
তারা হক মেরে ঘর গড়েনি,
হারামে সাজায়নি জীবন;
সত্যের পথে থেকেছে অবিচল,
তাকওয়াতেই খুঁজেছে শোভন।
নিভৃতে যারা কেঁদেছে শুধু—
“হে আল্লাহ, আপনি ছাড়া কে?”
দুনিয়ার ভিড়ে হারায়নি যারা
আপনার স্মৃতির ডাকে।
আমি কি পারব সে পথে চলতে?
নফসের সাথে লড়তে সদা?
লোভ, অহংকার, হিংসার আগুন
নিভাতে অন্তরে জাগে প্রহরা।
জান্নাতে থাকবে না কোনো ভয়,
না থাকবে বিচ্ছেদের ক্ষত;
সেখানে শান্তি নদীর মতো
বইবে অনন্ত অবিরত।
নেককার স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি,
ভালোবাসা হবে পবিত্র নূর;
না থাকবে অভিমান কোনো,
না থাকবে হৃদয়ের দূর।
বেহেশতের ফল ঝুঁকে বলবে—
“এসো, আল্লাহর প্রিয় বান্দা”;
পাখির কণ্ঠে তাসবীহ উঠবে,
ভরে যাবে শান্তির ধ্বনি-ছন্দা।
হুর, প্রাসাদ, অফুরন্ত সুখ—
সবই তো রবের মহান দান;
তবু সবচেয়ে বড় নেয়ামত হবে
রবের সন্তুষ্টির সম্মান।
হে মন, নিশ্চিত হয়ো না কভু,
কারও আমলই যথেষ্ট নয়;
রহমত ছাড়া মুক্তি মেলে না—
হাদিস এ কথাই কয়।
তাই তওবা করো নীরব রাতে,
মানুষের হক আদায় করো;
অহংকার ভেঙে বিনয় নিয়ে
রবের দরজায় মাথা ধরো।
হে দয়াময়, যদি লিখে রাখো
সেই সত্তর হাজারের নাম,
আমার নামটাও রেখো পাশে—
দিও না বঞ্চনার অন্ধকার ধাম।
হাশরের মাঠে ডান হাতে দিও
আমলনামার শুভ আলো;
পুলসিরাত করো সহজ,
ক্ষমা দিয়ে ঢেকে দিও কালো।
কবরের রাত হোক প্রশান্তিময়,
নূরে ভরে যাক প্রতিক্ষণ;
শেষ নিঃশ্বাসে কালিমা দিও—
এটাই হোক শ্রেষ্ঠ অর্জন।
মা-বাবা, পরিবার, প্রিয়জনসহ
দাও জান্নাতের চির ঠিকানা;
ঈমান, তাকওয়া, নেক আমলে
সুন্দর হোক জীবনখানা।
আমি কি সেই সত্তর হাজারে?
জানি না হে মহান রব;
তবু আপনার রহমতের আশায়
বুকের ভিতর জ্বলে ঈমানের প্রদীপ।
আমিন।
৪
৪ মন্তব্য