সহকারী অধ্যাপক
২১ মে, ২০২৬ ০৮:১৪ অপরাহ্ণ
এ ধরাতে জিতে.. হাশরে ? -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
এ ধরাতে জিতে.. হাশরে ?
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
দুনিয়াতে কত মানুষ
হিসাব করে দিনরাত,
কীভাবে বাড়বে সম্পদ আরো,
কীভাবে হবে প্রভুত্বের জগত।
কারো হক মেরে হাসিমুখে
চলে বড়লোকের বেশে,
অথচ জানে না—হাশরের মাঠে
ধরা পড়বে কঠিন শেষে।
আজ যে জমি, আজ যে দালান,
আজ যে টাকার পাহাড়,
কবরপথে কিছুই যাবে না,
থেমে যাবে দম্ভের বাহার।
মানুষ ভাবে—
“আমি জিতেছি, আমি বড়,”
কিন্তু আখিরাতের আদালতে
খুলবে গোপন প্রতিটি ঘর।
সেদিন থাকবে না কোনো ক্ষমতা,
থাকবে না মিথ্যা বুলি,
রাজা-গরিব সবাই দাঁড়াবে
মহান রবের সামনে চলি।
যার হক কেড়ে নিয়েছিলে,
যার চোখে এনেছিলে জল,
যার পাওনা আটকে রেখে
করেছিলে জীবন বিকল—
সে-ই সেদিন সামনে এসে
বলবে, “হে রব, বিচার চাই!”
তখন কারো ধন-সম্পদ
একটুও কাজে আসবে নাই।
নেক আমল হবে মুদ্রার মতো
হকের বদলে দিতে হবে,
নামাজ, রোজা, দান-সদকা
সব পাওনাদার নিয়ে যাবে।
যদি নেকি শেষ হয়ে যায়,
তবুও শেষ নয় সেই ক্ষতি,
হকদারের পাপ এসে তখন
চাপবে তারই জীবনের গতি।
কত ভয়ংকর সেই অবস্থা!
কত বড় সে দেউলিয়া!
দুনিয়াতে ছিল ধনী অনেক,
হাশরে হলো নিঃস্ব প্রিয়া।
তাই তো মুমিন কাঁদে নিরবে—
“হে আল্লাহ! তুমি বাঁচাও,
অন্যের হক গিলে খাওয়ার
অন্ধ লোভ থেকে ফিরাও।”
হে দয়াময়! হে পরওয়ারদিগার!
আমাদের অন্তর কর পবিত্র,
কারো হক যেন না থাকে বাকি,
কর আমলখাতা উজ্জ্বল চিত্র।
আমরা যেন কাউকে কষ্ট দিয়ে
ঘুমোতে না যাই রাতে,
কারো কান্না যেন না জড়ায়
আমাদের জীবনের সাথে।
যে টাকা আমার নয় কখনো,
তা যেন হাতে না ধরি,
হারাম পথে সুখ এলে প্রভু,
সেই সুখ থেকেও দূরে করি।
আমাদের জিহ্বা করো সত্যবাদী,
হৃদয় করো নরম,
মানুষের হক আদায়ে দাও
ঈমানভরা দৃঢ় ধরম।
কত মানুষ হাসছে আজ
অন্যের হক মেরে,
কালকে তারাই কাঁদবে ভীষণ
হাশরের আগুন ঘিরে।
দুনিয়ার আদালত ফাঁকি দিলেও
রবের বিচার কঠিন,
সেখানে কোনো চালাকি নয়,
সেখানে সত্য সুস্পষ্ট ঋণ।
তাই এখনও সময় আছে,
ফিরে আসুক মন,
পাওনা ফিরিয়ে ক্ষমা চেয়ে
শুদ্ধ হোক জীবন।
হে আল্লাহ!
আমাদের করো আমানতদার,
হক আদায়ে দাও তাওফিক,
অন্যায় থেকে রাখো হেফাজতবার।
আমাদের কবর করো আলোকিত,
হাশর করো সহজ,
ডান হাতে দিও আমলনামা,
মুখে দিও শান্তির রোজ।
মিজানের পাল্লা ভারী করে
দাও নেকির আলো,
মানুষের হক আদায় করে
চলতে দাও ভালো।
জান্নাতুল ফিরদাউসের পথে
রাখো অবিচল প্রাণ,
লোভ-অহংকার দূরে সরিয়ে
দাও তাকওয়ার সম্মান।
এই দুনিয়া ক্ষণিকের মেলা,
সবই একদিন ফুরাবে,
শুধু ঈমান, নেক আমল আর
সৎকর্ম সাথে যাবে।
তাই হে মানুষ, জেগে ওঠো,
সময় এখনো আছে,
হকের ভয় আর রবের প্রেম
রাখো হৃদয়ের কাছে।
মহান আল্লাহ মোদের সবাইকে
হক্কুল ইবাদ থেকে বাঁচান,
কারো হক নষ্ট না করে
সত্যের পথে রাখুন প্রাণ।
আমিন।
দুনিয়ার এই রঙিন মেলায়
মানুষ কত স্বপ্ন বোনে,
কেউবা অট্টালিকা গড়ে
কেউবা সুখের হিসাব গোনে।
কেউ জমায় সোনা-রূপা,
কেউ গড়ে সম্মানের পাহাড়,
কেউ বা আবার অন্যের হক
মেরে হাসে বারংবার।
অথচ কেউ ভাবেও না—
একদিন থামবে জীবনের পথ,
নিভে যাবে দম্ভের বাতি,
শেষ হবে ক্ষমতার রথ।
কবরের সেই নিঃসঙ্গ ঘরে
থাকবে না কোনো সাথী,
না থাকবে পদ-পদবি,
না থাকবে দুনিয়ার গাঁথি।
সেদিন শুধু আমলগুলো
দাঁড়াবে সাক্ষী হয়ে,
কোথায় করেছ ন্যায়-অন্যায়
সবই যাবে খুলে।
হায়! কত মানুষ দুনিয়াতে
নিজেকে ভাবে বিজয়ী,
অন্যের হক মেরে খেয়ে
চলে বুক ফুলিয়ে নির্ভয়ী।
কিন্তু হাশরের ভয়াল মাঠে
যখন হবে বিচার,
সেই জালিমের মুখের হাসি
হয়ে যাবে অশ্রুধার।
যার টাকা মেরেছিলে তুমি,
যার অধিকার করেছিলে নষ্ট,
যার জীবনে এনেছিলে কষ্ট,
দিয়েছিলে বুকভরা দুঃখ—
সে-ই সেদিন দাঁড়িয়ে বলবে,
“হে রব! আমার হক চাই!”
তখন কোনো ধনসম্পদ
একটুও কাজে আসবে নাই।
নামাজ যাবে, রোজা যাবে,
যাবে দানের আলো,
হকের বদলে নেকিগুলো
পাওনাদার নেবে ভালো।
যখন সব নেকি ফুরিয়ে যাবে
শেষ হবে আমলের ভাণ্ডার,
তখন অন্যের পাপ এসে
চাপবে তারই কাঁধের ভার।
কত ভয়ংকর সেই দৃশ্য!
কত কঠিন সেই বিচার!
দুনিয়াতে যে ছিল সম্মানী,
হাশরে সে হবে লাঞ্ছনার।
তাই তো জ্ঞানীরা কাঁদে নিরবে,
তাকওয়াবান ভয় পায়,
কারো হক যেন না থাকে বাকি—
এই দোয়াই হৃদয় গায়।
হে আল্লাহ!
আমাদের রিজিক করো হালাল,
অন্যের সম্পদ থেকে
রাখো অন্তর বেহাল।
লোভের আগুন নিভিয়ে দাও,
হৃদয় ভরাও নূরে,
কারো কান্না যেন না লাগে
আমাদের জীবনজুড়ে।
মানুষ যেন নিরাপদ থাকে
আমাদের হাত ও মুখে,
কাউকে কষ্ট না দিয়ে চলি
প্রতিদিন সুখে-দুঃখে।
যে পাওনা আজও বাকি আছে
তাওফিক দাও শোধ করতে,
ক্ষমা চেয়ে মাথা নত করে
সত্যপথে ফিরতে।
হে দয়াময় রব!
অহংকার থেকে বাঁচাও,
ক্ষমতার নেশা দূরে সরিয়ে
নম্রতার আলো দাও।
এই দুনিয়া মরীচিকার মতো,
চোখের পলকে শেষ,
আজ যে রাজা, কাল সে হবে
মাটির নিচে নিঃশেষ।
কবর ডাকে প্রতিটি প্রাণকে,
মৃত্যু আসে নীরবে,
আজ যে হাঁটে অহংকারে
কাল সে শুবে কবরে।
তখন পাশে থাকবে না কেউ,
না বন্ধু, না পরিবার,
শুধু আমল আর রবের রহমত
হবে মুক্তির দ্বার।
তাই হে মানুষ, সময় থাকতে
ফিরে এসো সত্যপথে,
কারো হক নষ্ট না করে
চলো আল্লাহর রাহে।
কারণ হক্কুল ইবাদ বড় ভয়ংকর,
এ ঋণ সহজে মেটে না,
নামাজ-রোজা অনেক থাকলেও
মানুষের হক ছেড়ে দেয় না।
এক ফোঁটা চোখের পানি যদি
কারো কারণে ঝরে,
তার হিসাবও দিতে হবে
রবের বিচারের ঘরে।
তাই তো মুমিন ভয় করে খুব
জুলুমের প্রতিটি কাজ,
কারো অন্তর ভাঙা যে প্রভু
পছন্দ করেন না আজ।
হে মহান আল্লাহ!
আমাদের করো সত্যবাদী,
আমানতদার, দয়ালু, বিনয়ী
ও নেককার বান্দা খাঁটি।
আমাদের কবর করো প্রশস্ত,
আলোয় ভরাও রাত,
মুনকার-নাকীর প্রশ্নে দিও
সঠিক উত্তর দানের শক্তি ও প্রভাত।
হাশরের ময়দান করো সহজ,
মিজান করো ভারী,
ডান হাতে দিও আমলনামা
হে রহমান, হে গফ্ফারি।
পুলসিরাত পার করিও
বজ্রের চেয়েও দ্রুত,
জাহান্নামের আগুন থেকে
রাখিও প্রভু মুক্ত।
জান্নাতুল ফিরদাউসের ছায়ায়
দাও স্থায়ী ঠিকানা,
নবীজীর শাফাআত পেয়ে
হোক সফল জীবনের মানা।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক সুখে
যেন না ভুলে যাই,
আখিরাতের চিরস্থায়ী
সফলতাই চাই।
কারো হক যেন না থাকে
আমাদের ঘাড়ে বোঝা,
মৃত্যুর আগে তাওবা করে
ফিরি সত্যের সোজা।
হে আল্লাহ!
আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন
জুলুম, হারাম ও হক নষ্ট থেকে,
ঈমান-আমল-তাকওয়ায় ভরিয়ে দিন
দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ রেখে।
আমিন।
***
এই দুনিয়ার ক্ষণিক সুখে
মানুষ কত মত্ত হয়,
ক্ষমতা আর অর্থ পেয়ে
নিজেকেই সে শ্রেষ্ঠ কয়।
কারো হক মেরে খেয়ে
হাসিমুখে চলে পথে,
ভাবছে বুঝি জিতে গেছে
এই মাটিরই রঙিন রথে।
কেউ জমিয়েছে অট্টালিকা,
কেউ বানিয়েছে সিংহাসন,
কেউবা আবার গরিবের হক
কেড়ে করে উল্লাসন।
অথচ কবর ডাকছে নীরব,
মৃত্যু দাঁড়িয়ে খুব কাছে,
আজকে যারে শক্তিশালী
কাল সে মাটির নিচে আছে।
দুনিয়ার এই বিচারখানা
ফাঁকি দেওয়া সহজ হয়,
কিন্তু রবের দরবারেতে
একটুও কি লুকানো রয়?
সেদিন যখন হাশরের মাঠে
সবাই হবে একত্রিত,
রাজা-ভিখারী একই কাতারে
হবে ভয়ে অবনতচিত।
সূর্য তখন মাথার কাছে,
ঘাম ঝরিবে ভয়াল ঢেউ,
নিজের আমল ছাড়া সেথা
সাহায্য করার থাকবে কে?
যার হক তুমি নষ্ট করেছ,
যারে দিয়েছ কষ্ট ভার,
সে-ই এসে ধরবে হাত
বলবে, “আজ চাই বিচার!”
তখন কোথায় দম্ভ যাবে?
কোথায় যাবে অহংকার?
সামনে তখন খুলে যাবে
প্রতিটি কাজের হিসাবখাতা আর।
নামাজ যাবে, রোজা যাবে,
যাবে দানের অগণন নূর,
হকের বদলে সবই দিবে
জালিম তখন হবে মজবুর।
যখন নেকি শেষ হয়ে যাবে,
থামবে আমলের সঞ্চয়,
হকদারের পাপ এসে তখন
তার কাঁধেতে হবে ভয়।
কত ভয়ংকর সেই মুহূর্ত!
কত কঠিন সেই ক্ষণ!
দুনিয়াতে যে হাসতো গর্বে
হাশরে হবে লাঞ্ছিত মন।
তাই তো মুমিন কাঁদে রাতে,
তাই তো করে অশ্রুধারা,
“হে আল্লাহ! হকের বোঝা
রাখিও না আমার দ্বারা।”
কারো টাকা যেন না খাই,
কারো জমি না করি গ্রাস,
কারো অন্তর না ভাঙি প্রভু,
না দিই কষ্টের শ্বাস।
হে পরওয়ারদিগার মহান!
হৃদয় করো নরম,
মানুষের হক আদায়ে দাও
সুন্দর ঈমানি ধরম।
লোভের আগুন নিভিয়ে দাও,
অহংকার করো চূর্ণ,
হারাম পথে সুখের আশা
করো অন্তর হতে শূন্য।
যে পাওনা আজও বাকি আছে
ফিরিয়ে দেওয়ার দাও শক্তি,
ক্ষমা চেয়ে শুদ্ধ মনে
চলতে দাও সত্যভক্তি।
এই দুনিয়া মরীচিকা শুধু,
চোখের পলকে ফুরায়,
আজ যে প্রাসাদ আকাশ ছোঁয়
কাল তা ধুলায় মিশে যায়।
কবরের ঘরে একা মানুষ
শুয়ে থাকবে নীরব হয়ে,
না থাকবে ধন, না থাকবে সাথী,
সবই যাবে দূরে সরে।
থাকবে শুধু আমলখাতা,
সৎকর্ম কিংবা গুনাহ,
সেদিন কারো অভিনয় নয়,
চলবে না কোনো প্রবঞ্চনা।
তাই হে মানুষ, সময় থাকতে
ফিরে এসো আলোর পথে,
কারো হক নষ্ট না করে
চলো রবের সন্তুষ্টিতে।
কারণ হক্কুল ইবাদ প্রভু
বড়ই কঠিন বিষয়,
এই ঋণের ভার বহিতে গিয়ে
অনেক নেকিও ক্ষয়।
একটি দীর্ঘশ্বাসের হিসাব
এক ফোঁটা চোখের জল,
সবই লেখা আছে প্রভুর কাছে
নয় কিছুই বিফল।
তাই তো যারা জ্ঞানী-মুমিন
তারা থাকে সদা ভয়,
কারো মনে আঘাত দিয়ে
কখনো তারা সুখী নয়।
হে মহান আল্লাহ!
আমাদের করো আমানতদার,
সত্যবাদী, বিনয়ী, দয়ালু
ও তাকওয়াবান বান্দা আবার।
আমাদের কবর করো প্রশস্ত,
নূরে ভরাও রাত,
মুনকার-নাকীর প্রশ্নে দিও
সঠিক জবাবের প্রভাত।
হাশরের ময়দান সহজ করো,
মিজান করো ভারী,
ডান হাতে দিও আমলনামা
হে রহমান, হে গফ্ফারি।
পুলসিরাত পার করিও
বিদ্যুতের চেয়েও দ্রুত,
জাহান্নামের ভয়াল আগুন
থেকে রেখো মুক্ত।
নবীজীর শাফাআত পেয়ে
হোক জীবন ধন্য,
জান্নাতুল ফিরদাউস হোক
চিরসুখের গন্তব্য।
এই দুনিয়ার ক্ষণিক জয়ে
যেন না হই অন্ধ,
আখিরাতের চিরসফলতাই
হোক হৃদয়ের বন্ধ।
কারো হক যেন না থাকে
আমাদের ঘাড়ে ভার,
মৃত্যুর আগে তাওবা করে
ফিরি তোমার দ্বার।
হে আল্লাহ!
জুলুম, হারাম, অন্যায় হতে
রাখিও মোদের দূরে,
ঈমান-আমল-তাকওয়ার আলো
জ্বালিয়ে দিও অন্তঃপুরে।
মানুষের হক আদায় করে
চলতে দাও সঠিক রাহে,
হাশরের দিনে লজ্জাহীন
রাখিও মোদের চেহারাতে।
তোমার রহমতের ছায়াতলে
হোক জীবনের শেষ,
ডান হাতে আমলনামা পেয়ে
হাসুক মুমিন নিঃশেষ।
আমিন।
***
দুনিয়ার পথে মানুষ কত
জয়ের নেশায় ছুটে যায়,
ক্ষমতা আর সম্পদের মোহে
অহংকারে বুক ফুলায়।
কেউ বা গড়ে দালানকোঠা,
কেউ বা টাকার পাহাড় তোলে,
কেউ অন্যের হক মেরে খেয়ে
হাসে সুখের অভিনয়ে।
ভাবছে বুঝি—
“আমি জিতেছি, আমি বড়,
আমার মতো ক্ষমতাবান
নেই তো আর এই ভুবনজুড়ো!”
অথচ মৃত্যু নিঃশব্দ পায়ে
দাঁড়িয়ে আছে দ্বারে,
আজ যে রাজা সোনার সিংহাসনে
কাল সে মাটির অন্ধকারে।
কবর তখন ডাকবে তাকে
নিস্তব্ধ রাতের মতো,
না থাকবে দেহের অহংকার
না থাকবে অর্থ যত।
সেই কবরে একা মানুষ
ভাববে নীরব মনে—
“যে সম্পদের জন্য লড়েছি
তা তো রইল ভূবনে!”
হাশরের সেই ভয়াল দিনে
যখন উঠবে সবাই,
রবের দরবার কাঁপিয়ে তখন
বিচারের ডাক পড়িবে ভাই।
সূর্য হবে মাথার কাছে,
ঘাম ঝরিবে অশ্রুধার,
নিজের আমল ছাড়া সেথায়
থাকবে না কোনো অধিকার।
যার হক তুমি নষ্ট করেছ,
যারে দিয়েছ দুঃখভার,
সে-ই এসে রবের কাছে
করবে কঠিন বিচারধার।
বলবে তখন—
“হে আমার রব!
আমার হক ফিরিয়ে দাও,
যে জুলুম করেছে আমার সাথে
আজ তার বিচার চাও।”
তখন কোথায় যাবে ক্ষমতা?
কোথায় যাবে প্রভাব-দাপট?
সেদিন শুধু সত্যের সামনে
ভেঙে পড়বে মিথ্যার রথ।
নামাজ যাবে, রোজা যাবে,
দান-সদকার আলো,
হকের বদলে নেকিগুলো
পাওনাদার নেবে ভালো।
যখন সব নেকি ফুরিয়ে যাবে,
শেষ হবে পুণ্যের ভাণ্ডার,
তখন অন্যের পাপ এসে
চাপবে জালিমের কাঁধের ভার।
কত ভয়াবহ সেই দৃশ্য!
কত কঠিন সেই বিচার!
দুনিয়াতে যে হাসতো গর্বে
হাশরে সে লাঞ্ছনার।
তাই তো মুমিন কাঁদে রাতে,
ভয় পায় অন্তর ভরে,
কারো হক যেন না থাকে
নিজের ঘাড়ের ‘পরে।
হে আল্লাহ!
কারো টাকা যেন না খাই,
কারো জমি না করি গ্রাস,
কারো অন্তর না ভাঙি প্রভু,
না দিই কষ্টের নিশ্বাস।
আমাদের হাত করো পবিত্র,
জিহ্বা করো সত্যবাদী,
মানুষ যেন নিরাপদ থাকে
আমাদের ব্যবহার দেখি।
লোভের আগুন নিভিয়ে দাও,
অহংকার করো চূর্ণ,
হারাম পথে সুখের আশা
করো অন্তর হতে শূন্য।
যে পাওনা আজও বাকি আছে
ফিরিয়ে দেওয়ার দাও তাওফিক,
ক্ষমা চেয়ে বিনয়ী মনে
করতে দাও সঠিক ঠিক।
এই দুনিয়া মরীচিকা শুধু,
চোখের পলকে শেষ,
আজ যে অট্টালিকা আকাশ ছোঁয়
কাল তা ধুলায় নিঃশেষ।
কবরের ঘরে নিঃসঙ্গ মানুষ
শুয়ে থাকবে চুপ,
না থাকবে বন্ধু, না থাকবে ধন,
থামবে দম্ভের রূপ।
থাকবে শুধু আমলখাতা,
সৎকর্ম কিংবা পাপ,
সেদিন কোনো চালাকি নয়,
বন্ধ হবে মিথ্যার চাপ।
তাই হে মানুষ, সময় থাকতে
ফিরে এসো আল্লাহর পথে,
কারো হক নষ্ট না করে
চলো সত্যের রথে।
কারণ হক্কুল ইবাদ প্রভু
বড়ই কঠিন দায়,
এই ঋণের বোঝা নিয়ে
অনেক নেকিও ক্ষয় হয়।
একটি দীর্ঘশ্বাসের হিসাব,
এক ফোঁটা চোখের জল,
সবই লেখা আছে রবের কাছে,
কিছুই নয় বিফল।
তাই তো জ্ঞানী মুমিনেরা
থাকে সদা ভয়,
কারো অন্তর ভেঙে দিয়ে
কখনো শান্তি হয় না কই।
হে মহান রব!
আমাদের করো আমানতদার,
দয়ালু, বিনয়ী, নেককার
ও তাকওয়াবান বান্দার।
আমাদের কবর করো প্রশস্ত,
নূরে ভরাও রাত,
মুনকার-নাকীর প্রশ্নে দিও
সঠিক জবাবের প্রভাত।
হাশরের মাঠ সহজ করো,
মিজান করো ভারী,
ডান হাতে দিও আমলনামা
হে রহমান, হে গফ্ফারি।
পুলসিরাত পার করিও
বিদ্যুতের চেয়েও দ্রুত,
জাহান্নামের ভয়াল আগুন
থেকে রেখো মুক্ত।
নবীজীর শাফাআত পেয়ে
হোক জীবন ধন্য,
জান্নাতুল ফিরদাউস হোক
চিরসুখের গন্তব্য।
এই দুনিয়ার ক্ষণিক জয়ে
যেন না হই অন্ধ,
আখিরাতের চিরসফলতাই
হোক হৃদয়ের বন্ধ।
কারো হক যেন না থাকে
আমাদের ঘাড়ে ভার,
মৃত্যুর আগে তাওবা করে
ফিরি তোমার দ্বার।
হে আল্লাহ!
জুলুম, হারাম, অন্যায় হতে
রাখিও মোদের দূরে,
ঈমান-আমল-তাকওয়ার আলো
জ্বালিয়ে দিও অন্তঃপুরে।
মানুষের হক আদায় করে
চলতে দাও সঠিক রাহে,
হাশরের দিনে লজ্জাহীন
রাখিও মোদের চেহারাতে।
তোমার রহমতের ছায়াতলে
হোক জীবনের শেষ,
ডান হাতে আমলনামা পেয়ে
হাসুক মুমিন নিঃশেষ।
আমিন।
৪
৪ মন্তব্য