Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ মে, ২০২৬ ০৬:১৩ অপরাহ্ণ

জান্নাতুল ফিরদাউস - মোঃ মুজিবুর রহমান

জান্নাতুল ফিরদাউস

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মরণ যদি আসে হঠাৎ, প্রস্তুতি কি আছে প্রাণে?
কবরের সেই নীরব ঘরে আলো জ্বলবে তো ঈমানে?
হাশরের সেই উত্তাল ময়দান, ভয় আর ঘামের ঢেউ,
নবীর উম্মত হয়ে সেদিন হারিয়ে যাব না তো কেউ?

আমলনামা ডান হাতে নিয়ে হাসব কি আনন্দভরে?
নাকি আফসোস জমবে শুধু ভুলের অন্ধকার ঘরে?
এই প্রশ্নগুলো ভয় নয় শুধু তো ঈমানের ডাক,
যে হৃদয়ে আখিরাত জাগে, সে হৃদয় বড় পবিত্র থাক।

দুনিয়ার রঙিন মেলায় কত মানুষ ভুলে যায়,
মৃত্যু যেন বহু দূরের, কবর যেন কিছু নয়।
তবু রাতের নীরবতায় অন্তর কেঁদে বলে চুপে
হে আল্লাহ! ফিরদাউস দিও, রেখো না আর গোনাহর রূপে।

যে মানুষটা ফজর বেলায় চোখের পানি ফেলে কয়
আমার রব, তুমি ছাড়া আর তো কোনো আশ্রয় নয়।
যে গোপনে দান করে আর ক্ষুধার্তকে ভাত দেয়,
মায়ের মুখের হাসির জন্য নিজের কষ্ট চাপা নেয়

যে হারামকে ভয় পেয়ে একা পথ বদলে নেয়,
মানুষ ঠকিয়ে বাড়ি গড়ে না, হকের টাকা খেয়ে না খায়,
যে আমানত ঠিক রাখে আর প্রতিশ্রুতি ভাঙে না,
মানুষের হক মেরে গিয়ে সুখের প্রাসাদ গড়ে না

সেই মানুষই ধীরে ধীরে জান্নাতের পথ পায়,
তাকওয়ার আলো বুকের মাঝে আকাশ হয়ে যায়।
কারণ জান্নাত শুধু মুখের কিছু কথার দাবি নয়,
এটা হলো ধৈর্য, কান্না, ত্যাগ আর রবের প্রতি ভয়।

কবর হবে অন্ধকার?—যদি ঈমান থাকে সাথে,
আল্লাহর জিকির করলে ভাই আলো নামবে রাতে।
সুবহানাল্লাহ বলার মাঝে রহমতের দরজা খোলে,
আলহামদুলিল্লাহ বললে হৃদয় শান্তিতে দোলে।

হাশরের মাঠ কঠিন হবেসূর্য যখন কাছে নামবে,
নেক আমলই ছায়া হয়ে ক্লান্ত প্রাণকে আগলে রাখবে।
সেদিন টাকা, দালান-কোঠা, ক্ষমতা আর নামের জোর
একটুও না কাজে এসে ডুববে অহংকারের ঘোর।

সেদিন শুধু কাজে লাগবে সিজদাভেজা কপালখানি,
অসহায়ের চোখের পানি মুছিয়ে দেওয়ার গল্পখানি।
কারো হক না মেরে চলা, সত্য পথে অটল থাকা,
গোপনে রবের ভয়ে কেঁদে নিজের নফসকে দমন রাখা।

ডান হাতে আমলনামাকত বড় সে সৌভাগ্য!
সেদিন মুমিন হাসবে দেখে আল্লাহর রহমতের ভাগ্য।
বলে উঠবে আনন্দ ভরে
নাও, পড়ো আমার আমলনামা!
আমি জানতাম একদিন ঠিক
হিসাব দিতে হবে আমায়।

তারপর খুলবে জান্নাতের দরজা সুবিশাল,
ফিরদাউসের বাগানজুড়ে শান্তির অনন্ত জোয়ার।
নদী বয়ে যাবে ধীরে, থাকবে না কোনো ভয়,
না থাকবে মৃত্যু, কষ্ট, দুঃখ কিংবা ক্ষয়।

সেখানে থাকবে চিরসবুজ প্রশান্তিরই ছায়া,
রবের সন্তুষ্টি হবে সবচেয়ে বড় মায়া।
মুমিন তখন মাথা তুলে কাঁদবে খুশির সুরে
হে আল্লাহ! তুমি দয়ালু, তুমি নিলে কাছে পুরে!

তাই এখনো সময় আছে, ফিরে এসো রবের পথে,
নামাজগুলো ঠিক করো ভাই, কোরআন রাখো হাতে।
মানুষকে ভালোবাসো, কাউকে কষ্ট দিও না আর,
হক নষ্ট করে কেউ কোনোদিন হয়নি সফলতার অধিকার।

যদি ভুল হয়তাওবা করো, রহমতের দরজা খোলা,
আল্লাহর দয়া সাগরের চেয়েও অনেক বড়, অনেক ভোলা।
এক ফোঁটা চোখের পানি যদি সত্য তাওবায় ঝরে,
পাহাড়সম গোনাহও মুছে যেতে পারে এক নিমিষে।

হে আল্লাহ!
আমাদের মৃত্যু দিও ঈমানের সুবাস নিয়ে,
কবর দিও শান্তিময় নূরের আলো দিয়ে।
হাশরের মাঠে দিও নবীর ছায়াতলে স্থান,
ডান হাতে আমলনামা দিয়ে করো সহজ হিসাবদান।

আমাদের অন্তর দিও তাকওয়ার আলোয় ভরা,
গোপন-প্রকাশ্যে দিও শুধু তোমাকেই ভয় করা।
পাপ থেকে বাঁচাও প্রভু, হেফাজত করো মন,
ফিরদাউসের সর্বোচ্চ ঘরে লিখে দিও চিরজীবন।

আমিন।


***

মরণ একদিন দরজায় এসে ধীরে ধীরে কড়া নাড়বে,
চোখের দেখা থেমে গিয়ে দুনিয়ার মায়া সবই ছাড়বে।
বন্ধ হবে ব্যস্ত শহর, থেমে যাবে হিসাব-খাতা,
শুধু রবে আমলগুলো, রবে সত্য, রবে কথা।

কবর তখন নিঃসঙ্গ ঘর, না থাকবে কোনো আপনজন,
না থাকবে সেই দম্ভভরা পরিচয় কিংবা ধন।
সাথে যাবে না দালান-কোঠা, নাম-যশ কিংবা অহংকার,
সাথে যাবে ঈমান-আমল, তাওবা, ধৈর্য, অশ্রুধার।

যে রাত জেগে তাহাজ্জুদে কেঁদেছে রবের দরবারে,
যে গোপনে দান করেছে ক্ষুধার্ত কোনো মানুষেরে,
যে নিজেকে গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখার যুদ্ধ করে,
সেই মানুষই শান্তি পাবে কবরের অন্ধকার ঘরে।

যে মানুষটা কোরআনের আলো বুকে নিয়ে পথ চলে,
ফিতনা দেখে নিজেকে সে গুটিয়ে রাখে ভয়তলে,
চোখের হেফাজত করে আর জবান রাখে নিয়ন্ত্রণে,
তার জন্যই রহমত নামে আল্লাহর অশেষ করুণায়।

হাশরের সেই ভয়াল দিনে সূর্য যখন মাথার কাছে,
মানুষ যখন দিশেহারা নিজের ভয়েই কাঁপতে থাকে,
নবীর উম্মত মুমিন যারা সিজদা দিয়ে কাটায় রাত,
তাদের জন্য আরশতলে খুলে যাবে রহমতের হাত।

সেদিন কত রাজা-বাদশাহ মাটির মতো তুচ্ছ হবে,
কত শক্তি, কত ক্ষমতা নিমিষেই নিশ্চুপ রবে।
শুধু মূল্য পাবে তখন বিনয়ভরা অন্তরখানি,
কারো হক না মেরে চলার ছোট্ট ছোট্ট নেকের বাণী।

আমলনামা ডান হাতে পাওয়ার সেই আনন্দঘন ক্ষণ,
কত বড় সৌভাগ্য হবে, কাঁপবে খুশিতে মুমিন মন!
বলে উঠবে উচ্ছ্বাস ভরে
দেখো! আমার হিসাব আজ সহজ হলো প্রভুর দয়ায়,
আমি বিশ্বাস রেখেছিলাম আখিরাতের সাক্ষাৎ চাওয়ায়।

তারপর জান্নাতের পথে ফেরেশতারা ডাকবে ধীরে
এসো তোমরা শান্ত হৃদয়, এসো রহমতের নীড়ে।
ফিরদাউসের বাগান জুড়ে বইবে প্রশান্তির হাওয়া,
না থাকবে ভয়, না থাকবে মৃত্যু, না থাকবে কোনো কাঁদা।

সেখানে নদী দুধের মতো, মধুর মতো স্বচ্ছ ধারা,
সেখানে নেই হিংসা-বিদ্বেষ, নেই কোনো দুঃখের কারা।
সেখানে শুধু রবের সন্তুষ্টি হৃদয় ভরিয়ে দেবে,
এক পলকের সেই সুখ মানুষ কল্পনাতেও না ভেবে।

তাই হে হৃদয়, এখন থেকেই প্রস্তুতি নাও নীরবে,
নামাজগুলো ঠিক রাখো ভাই, সত্য থেকো জীবনে।
হারাম ছেড়ে হালাল পথে রিজিক খোঁজো ধৈর্য ধরে,
মানুষ ঠকিয়ে সুখের ঘর একদিন ধুলোয় মিশে পড়ে।

পিতা-মাতার দোয়া নাও, এতিমের মাথায় হাত রাখো,
অসহায়ের কান্না শুনে হৃদয় দিয়ে পাশে থাকো।
কারো পাওনা মেরে খেও না, হক নষ্ট করো না আর,
হাশরের দিন এসব নিয়েই হবে কঠিন বিচার।

তুমি যদি ভুল করেও ফের তাওবার পথে ফিরে আসো,
আল্লাহর রহমতের দরজা খোলা পাবে ভালোবাসো।
তিনি তো অতি দয়ালু, বান্দাকে ফেরান না খালি,
এক ফোঁটা চোখের পানিতেও মাফ করেন গোনাহ ঢালি।

হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তরগুলো কোরআনের আলোয় ভরে দাও,
ঈমানের স্বাদ দিয়ে আমাদের গুনাহ থেকে দূরে নাও।
মৃত্যুকে দিও শান্তিময়, কালিমাভরা শেষ নিশ্বাস,
কবরকে দিও জান্নাতের বাগানের মতো সুবাস।

হাশরের মাঠে নবীর ছায়া নসিব করো হে দয়াময়,
ডান হাতে আমলনামা দিয়ে বলো—“ভয় কোরো না আর ভয়।
মীযানের পাল্লা ভারী করো রহমতের নূর দিয়ে,
ফিরদাউসের সর্বোচ্চ ঘরে রেখো আমাদের নিয়ে।

যেন শেষ নিঃশ্বাসেও বলি
আল্লাহ তুমি আমার রব,
তোমার দয়াই শেষ সম্বল,
তোমার পথেই জীবনের সব।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।


***

দুনিয়ার এই ক্ষণিক পথে হাঁটছি কত স্বপ্ন বুকে,
হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ মেশা হাজার রঙের ভিড়ের মুখে।
তবু গভীর রাতের শেষে হৃদয় চুপে প্রশ্ন করে
হে আমার রব! কেমন আছি তোমার পথে চলার ঘোরে?”

মরণ যদি আজই আসে নিঃশব্দ কোনো ক্ষণে,
কবর যদি ডাক দেয় আমায় নীরব অন্ধকার বনে,
আমার সাথী হবে কি তখন ঈমানভরা সিজদাখানি?
নাকি শুধু আফসোস হয়ে কাঁদবে গুনাহভেজা প্রাণই?

কবর তো এক সত্য ঘর, সবার আগে যেতে হবে,
রাজা-প্রজা, ধনী-গরিবসবাই সেথায় থামতে রবে।
সেখানে নেই পরিচয়ের অহংকারের বড়াই,
শুধু আমল কথা বলবেকেমন ছিল জীবনটাই।

যে নামাজে শান্তি খুঁজে, যে কোরআনে আলো পায়,
যে গোপনে রবের ভয়ে চোখের পানি ফেলতে চায়,
যে হারামের পথ ছেড়ে হালালের পথে থাকে স্থির,
তার হৃদয়ে তাকওয়ার নূর জ্বলে উঠে ধীরেধীর।

যে মানুষটা মানুষের হক ফিরিয়ে দিতে ভয় না পায়,
নিজের ক্ষতি হলেও সত্য কথা বলেই যায়,
যে এতিমের মাথায় হাত রাখে মমতার পরশ দিয়ে,
আল্লাহ তার জীবনে রহমত নামান নীরবে।

হাশরের সেই বিশাল মাঠকত ভয়াল, কত কঠিন!
সূর্যের তাপ মাথার উপরে, নেই কোনো ছায়া সেদিন।
মানুষ ছুটবে দিশেহারা নিজের হিসাব বাঁচাতে,
কেউবা কাঁদবে ভয় আর লজ্জায় গুনাহর বোঝা কাঁধেতে।

সেদিন শুধু শান্ত থাকবে মুমিন হৃদয় যাদের ছিল,
যারা দুনিয়াতে আল্লাহকে ভয় করে জীবন গড়েছিল।
তাদের মুখে নূরের আভা, অন্তরে প্রশান্তির ঢেউ,
কারণ তারা জানত আগেরব ছাড়া আশ্রয় নেই কেউ।

মীযানের পাল্লা ভারী হবে ছোট্ট নেক আমলেও,
এক ফোঁটা দয়া, একটুকু হাসি, কারো পাশে দাঁড়ালেও।
সুবহানাল্লাহ জিকিরগুলো ফুল হয়ে যাবে সেদিন,
ইস্তিগফারের অশ্রুবিন্দু মুক্তা হয়ে হবে রঙিন।

ডান হাতে আমলনামাকি অপার আনন্দঘন!
মুমিন তখন হাসবে খুশিতে কাঁপবে সমস্ত মন।
বলে উঠবে
এসো সবাই, দেখো আজ আমার সফলতা!
রবের দয়া ছাড়া ছিল না কোনো যোগ্যতা।

তারপর খুলবে জান্নাতের দরজা প্রশান্ত আলোয় ভরা,
ফিরদাউসের বাগানজুড়ে রহমতের সুবাস ধরা।
সেখানে নেই মৃত্যু কোনো, নেই বিচ্ছেদের ব্যথা,
নেই অপমান, নেই ভয়ভীতি, নেই কোনো দুঃখকথা।

সেখানে নদী বইবে ধীরে দুধ আর মধুর রঙে,
ফলমূল থাকবে অফুরন্ত শান্তিমাখা ঢঙে।
সেখানে মুমিন দেখবে যখন রবের সন্তুষ্টির হাসি,
তখন দুনিয়ার সব কষ্টই মনে হবে ক্ষণিক ফাঁসি।

তাই হে প্রিয় হৃদয় আমার, এখনো সময় ফুরায়নি,
তাওবার দরজা খোলা আছে, রহমত এখনো হারায়নি।
নামাজ ঠিক করো, মন ঠিক করো, মানুষকে ভালোবাসো,
হকের বিষয়ে সতর্ক থেকে সত্যের পথেই ভাসো।

কারো মনে কষ্ট দিও না, গীবত-অহংকার ছাড়ো,
পাপ এলে আল্লাহ বলে নিজের নফসটাকে মারো।
কারণ জীবন ক্ষণিক মেহমান, মৃত্যু খুবই নিকটে,
আজ যে হাসে দুনিয়ার মোহে, কাল সে কবরের রথে।

হে আল্লাহ!
আমাদের হৃদয়গুলো ঈমানের আলোয় ভরে দাও,
তাকওয়ার পথে অটল রেখে গুনাহ থেকে দূরে নাও।
শেষ নিঃশ্বাসে কালিমা দিও শান্তিমাখা সুরে,
কবরটাকে নূরে ভরিয়ে রেখো রহমতের নীড়ে।

হাশরের মাঠে নবীর ছায়া নসিব করো দয়াময়,
মীযানের পাল্লা ভারী করে দূর করো সব ভয়।
ডান হাতে আমলনামা দিয়ে বলো স্নেহভরা বাণী
প্রবেশ করো ফিরদাউসে, আজ সফল তোমার প্রাণই।

আমাদের চোখের পানিগুলো কবুল করো ইবাদত হয়ে,
আমাদের তাওবা কবুল করো রহমতের দরিয়া বয়ে।
দুনিয়া আখিরাতে দাও শান্তি, নূর আর কল্যাণ,
তোমার দয়ায় শেষ হোক মোদের জীবনের সব গান।

আমিন, ইয়া আরহামার রাহিমিন।


***

জীবনের এই পথটা কত ক্ষণিক, কত ভঙ্গুর, কত নীরব,
আজ যে মানুষ হাসছে খুব, কালই হয়তো হবে অনুপস্থিত।
সময় যেন বালুর মতো হাতের ফাঁক দিয়ে ঝরে যায়,
তবু মানুষ দুনিয়ার মোহে আখিরাতকে ভুলে রয়।

কিন্তু যে হৃদয়ে রাতে কবরের কথা জেগে উঠে,
যে অন্তরে হাশরের ভয় নীরব কান্না হয়ে ফুটে,
যে প্রাণ ভাবে—“আমার রব কি খুশি আমার আমলে?”
সে হৃদয় তো বেঁচে আছে ঈমানেরই আলো ঢলে।

মরণ একদিন আসবেই কাছে তো চিরন্তন সত্য,
কেউ রুখতে পারবে না তাকে, নেই কোনো শক্তি, নেই সামর্থ্য।
হঠাৎ করেই নিভে যাবে জীবনের প্রদীপখানি,
রয়ে যাবে শুধু কিছু দোয়া আর মানুষের স্মৃতিবাণী।

সেদিন যখন জানাজাতে মানুষ নীরব কাঁদবে ধীরে,
প্রিয় মুখটা মাটির নিচে রেখে আসবে অশ্রুনীরে,
তখন শুধু কাজে লাগবে নামাজ, রোজা, নেক আমল,
সাথে যাবে না অর্থ-সম্পদ, দম্ভ কিংবা ব্যস্ত দল।

কবর তখন প্রশ্ন করবে
বল, কে তোমার রব ছিল?”
জীবনভর যে আল্লাহকে ভয় করেছে,
তার উত্তর হবে সহজ, নির্মল।

যে কোরআনের আলো বুকে নিয়ে চলেছে অবিরাম,
যে হারাম ছেড়ে হালাল খুঁজে করেছে জীবন অবগাহন,
যে অন্যের হক ফিরিয়ে দিয়ে নিজের নফসকে হারিয়েছে,
সে মানুষই কবরের অন্ধকারে নূরের সুবাস পেয়েছে।

হাশরের সেই ভয়াবহ দিন
মা ভুলে যাবে সন্তানকে,
বন্ধু পালাবে বন্ধু ছেড়ে,
মানুষ ছুটবে নিজের প্রাণ বাঁচাতে।
সূর্যের আগুন মাথার উপরে,
ঘাম ডুবাবে পাপীর বুক,
কেউ কাঁদবে নিজের ব্যর্থতায়,
কেউ দাঁড়াবে রহমতের সুখ।

সেদিন যারা দুনিয়াতে গোপনে আল্লাহকে ডেকেছিল,
সিজদার মাঝে চোখের পানি ফেলে তাওবা করেছিল,
তাদের মুখে থাকবে নূরের আলো, অন্তরে শান্তির ঢেউ,
কারণ তারা জানতআল্লাহ ছাড়া সত্য আশ্রয় নেই কেউ।

মীযানের পাল্লা ভারী হবে ছোট ছোট নেক কাজেও,
একটি ভালো কথা, একটি হাসি, কারো পাশে দাঁড়ালেও।
এক ফোঁটা ইখলাসভরা দান পাহাড়সম মূল্য পাবে,
একটি আস্তাগফিরুল্লাহ রহমতের ফুল হয়ে যাবে।

ডান হাতে আমলনামাকি অপরূপ সেই দৃশ্যখানি!
মুমিন তখন খুশির অশ্রুতে ভিজিয়ে ফেলবে প্রাণই।
বলবে
আমি তো ভয় করতাম রবকে নিভৃতে,
আজ তিনি দয়া করলেন আমার অক্ষমতাতে।

তারপর খুলবে জান্নাতের দরজা, সুবাস ছড়াবে চারিধার,
ফিরদাউসের ছায়াতলে থাকবে না কোনো কষ্টভার।
নদী বইবে দুধের মতো, মধুর মতো স্বচ্ছ জলে,
চিরশান্তির পাখিরা গান গাইবে জান্নাতি তলে।

সেখানে নেই মৃত্যু আর, নেই কোনো বিচ্ছেদের ব্যথা,
নেই অপমান, নেই হতাশা, নেই কোনো অশ্রুকথা।
সেখানে শুধু রবের সন্তুষ্টি হৃদয় জুড়ে থাকবে ভরে,
মুমিন তখন সিজদায় পড়ে কাঁদবে আনন্দেরই সুরে।

তাই হে হৃদয়, ভয় পেয়ো না যদি তাওবার পথ ধরো,
আল্লাহর রহমত বিশাল, তাঁর দরজায় ফিরে পড়ো।
নামাজকে জীবনের আলো বানাও, কোরআনকে সাথী করো,
মানুষকে ভালোবেসে নরম হৃদয় নিয়ে জীবন গড়ো।

কারো হক মেরে সুখের ঘর কখনো টিকে না শেষে,
জুলুমের প্রাসাদ ভেঙে যায় সময়ের কঠিন রেষে।
সত্য পথে ধৈর্য ধরো, গীবত-অহংকার ছাড়ো,
নফস যখন পাপের দিকে টানে, “আল্লাহ বলে তাকে হারো।

হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তরে তাকওয়ার দীপ জ্বালিয়ে রাখো,
গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে তোমার প্রেমে হৃদয় ঢাকো।
শেষ নিঃশ্বাসে কালিমা দিও, ঈমানভরা শান্তি দিয়ে,
কবরটাকে জান্নাতের বাগান করো নূরের ছায়া দিয়ে।

হাশরের মাঠে নবীর ছায়া নসিব করো দয়াময়,
মীযানের পাল্লা ভারী করে দূর করো সকল ভয়।
ডান হাতে আমলনামা দিয়ে হাসিমুখে বলো সেদিন
এসো আমার প্রিয় বান্দা, ফিরদাউস আজ তোমার দিন।

আমাদের চোখের অশ্রুগুলো কবুল করো ইবাদত হয়ে,
আমাদের ছোট ছোট নেকি রহমতের কারণ হয়ে।
দুনিয়া আখিরাতে দাও শান্তি, নূর আর সম্মান,
তোমার দয়ায় পূর্ণ হোক আমাদের জীবনের গান।

আমিন, ইয়া রহমান, ইয়া রহিম।

মন্তব্য করুন

ব্লগ