Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ মে, ২০২৬ ০৬:০১ অপরাহ্ণ

অন্ধকার যুগে সত্যের ডাকে - মোঃ মুজিবুর রহমান


অন্ধকার যুগে সত্যের ডাকে

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

যখন চারদিকে মিথ্যার মেলা,
অন্যায়ের ঢেউ উঠে বেলা অবেলা,
যখন সত্য বলা হয়ে যায় অপরাধ,
ঈমান নিয়ে চলাই যেন কঠিন জিহাদ
তখন কিছু যুবক দাঁড়ায় দৃপ্ত প্রাণে,
তাওহীদের আলো জ্বলে তাদের টানে।

রাজপ্রাসাদ, আরাম, সুখের আয়োজন,
সব ফেলে তারা খুঁজে নেয় মুক্তির কারণ।
মানুষ তখন মূর্তির সামনে মাথা নত করে,
ক্ষমতার ভয়ে সত্যকে রাখে ঘরের ভেতরে।
কিন্তু যুবকেরা বলল দৃঢ় কণ্ঠে
আমাদের রব এক, তিনি আছেন ঊর্ধ্বগগনে।

নির্যাতনের ছায়া নামে নগরজুড়ে,
অত্যাচারের আগুন জ্বলে ঘরে ঘরে।
তখন তারা পালায় না কাপুরুষ হয়ে,
বরং ঈমান বাঁচাতে বেরোয় দৃঢ় বুকে।
গুহার অন্ধকারে আশ্রয় নেয় গিয়ে,
আল্লাহর রহমতের আশায় হৃদয় ভরিয়ে।

তাদের কণ্ঠে উঠল মুনাজাতের সুর
হে আমাদের রব, করুনা করুন ভরপুর।
আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন,
আমাদের প্রতিটি পথ সহজ করে দিন।
আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিকতায় ভরান,
ভয় আর অস্থিরতা হৃদয় থেকে সরান।

কী অপূর্ব সেই দোয়া, কী পবিত্র ভাষা!
বিপদের রাতেও হারায়নি আশা।
যখন সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়,
আল্লাহর দরজা তখন খোলা রয়।
যখন মানুষ ফেলে যায় মাঝপথে এসে,
রব তখন বান্দাকে নেন রহমতের দেশে।

তারপর নেমে এলো শান্ত নিদ্রার ঢেউ,
গুহার ভেতরে নিস্তব্ধ হলো সবকিছু।
না ছিল কোনো প্রাসাদ, না ছিল বিছানা,
তবুও ছিল নিরাপদ মহান রবের ঠিকানা।
আল্লাহ নিজেই তাদের কান বন্ধ করলেন,
সময়ের দীর্ঘ নদী নীরবে পার করলেন।

দিন যায়, মাস যায়, বছর পেরোয় ধীরে,
সূর্য ওঠে আবার ডুবে যায় নীড়ে।
কিন্তু গুহার ভেতর ঘুমিয়ে যুবকের দল,
আল্লাহর হিফাজতে প্রশান্ত, অবিচল।
মানুষের পাহারা যেখানে ব্যর্থ হয়,
রবের পাহারা সেখানে চির অটুট রয়।

অবশেষে একদিন তারা জেগে উঠল,
দীর্ঘ ঘুম শেষে চোখ মেলে তাকাল।
একজন বলল
আমরা কতক্ষণ ছিলাম এখানে?”
অন্যজন বলে
একদিন কিংবা দিনেরও কিছু অংশ হয়তো।

তারা জানত না শতাব্দী পেরিয়েছে কবে,
সময় থমকে ছিল আল্লাহরই আদেশে।
পৃথিবী বদলেছে, বদলেছে মানুষ,
কিন্তু ঈমানের আলো হয়নি নিঃশেষ।

আল্লাহ তখন দেখালেন মানবজাতিকে
ক্ষমতা কেবল তাঁরই হাতে।
যিনি মৃত্যু পরে জীবন ফেরান,
ঘুমের মাঝে যুগ যুগ সময় পার করান।
তিনি চাইলে মরুভূমিতে ফুল ফোটে,
ভাঙা হৃদয়েও শান্তির নদী ছোটে।

হে যুবক, শুনো আসহাবে কাহফের গান,
ঈমানের পথে রেখো দৃঢ় প্রাণ।
ফ্যাশনের ঝড়ে ভেসে যেও না দূরে,
হারিয়ে যেও না দুনিয়ার মোহঘোরে।
সত্যের পথে চলা কঠিন হতে পারে,
কিন্তু রবের সাহায্য নেমে আসে ধৈর্যধারে।

আজও কত যুবক দিশেহারা পথে,
নেশা আর পাপের অন্ধকার রথে।
কত হৃদয় আজ বিষণ্নতায় ভরা,
আশাহীনতায় দিন কাটে সারা।
তাদের জন্য কাহফের যুবক এক আলো,
তাওহীদের ডাক আজও রাখে ভালো।

বন্ধু, যদি চারপাশ প্রতিকূল হয়,
তবুও ঈমান যেন দুর্বল না হয়।
মানুষ যদি তোমাকে অবহেলা করে,
রব কিন্তু বান্দাকে ভুলে না রে।
গুহার আঁধারও আলো হয়ে যায়,
যখন আল্লাহর রহমত সাথে রয়।

যে যুবক নামাজে চোখের জল ফেলে,
রাতের নীরবতায় রবকে ডাকে একা লে
হে আল্লাহ, আমায় সঠিক পথে রাখুন,
গুনাহের অন্ধকার থেকে দূরে রাখুন”—
তার জীবন কখনো বৃথা যায় না,
রবের দরবারে সে হারিয়ে যায় না।

আসহাবে কাহফ শেখায় এই বাণী
ঈমানদারের জীবন কখনো নয় হানি।
দুনিয়ার ক্ষতি যদি সহ্যও করতে হয়,
আখিরাতের সফলতাই প্রকৃত জয়।

তাই চল আমরা সত্যের পথে হাঁটি,
রবের ভয়ে হৃদয় করি খাঁটি।
বিপদ এলে ধৈর্যের হাত ধরি,
অন্ধকারে থেকেও আলোর স্বপ্ন গড়ি।

হে আল্লাহ,
আমাদেরও দিন সেই দৃঢ় ঈমান,
যে ঈমানে জাগে আত্মার প্রাণ।
ফিতনার যুগে হিফাজত করুন,
সত্যের পথে অবিচল রাখুন।
আসহাবে কাহফের মতো তাওফীক দিন,
আপনার রহমতে হৃদয় রঙিন করুন।

আমিন।

***

গুহার যুবকদের অমর ডাক

যখন রাজপথ জুড়ে শিরকের উল্লাস,
সত্যের কণ্ঠ রুদ্ধ, মিথ্যার সুবাস,
যখন ঈমান রাখা ছিল ভয়ংকর দায়,
অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ানোই রেওয়াজ হয়
তখন কিছু তরুণ উঠল জেগে,
তাওহীদের দীপ জ্বালল বুকে।

তারা ছিল না সোনার মুকুটধারী,
ছিল না কোনো সেনাবাহিনীর ভারী,
তবুও তাদের অন্তরে ছিল আগুন,
আল্লাহর প্রেমে দীপ্ত প্রতিটি ধ্বনি রঙ।
দুনিয়ার রাজা ভয় দেখাল বারবার,
তবুও তারা বলেনি শিরকই সত্য আর!

তারা বলল
আমাদের রব আসমান-জমিনের মালিক,
তাঁকে ছেড়ে আর কাকে করব সাথী ঠিক?”
এই সত্য উচ্চারণ করতেই শুরু হলো ঝড়,
অত্যাচারের কালো মেঘে ঢাকল নগর।

বন্ধ হলো পথ, রুদ্ধ হলো দ্বার,
চারপাশে শুধু ভয় আর অন্ধকার।
তবুও তাদের হৃদয়ে ছিল না ভয়,
কারণ তারা জানত আল্লাহ সাথে রয়।

তারপর একদিন নীরব ভোরে,
শহর ছেড়ে বের হলো তারা গোপনে।
না ছিল সঙ্গে দুনিয়ার ধন,
ছিল কেবল ঈমানভরা মন।
পাহাড়ের বুকে ছোট্ট এক গুহা,
সেখানেই তারা পেল আশ্রয়ের ছোঁয়া।

গুহার নিস্তব্ধ দেয়ালে প্রতিধ্বনি তুলে
তারা হাত তুলল অশ্রুসজল চোখ মেলে

হে আমাদের রব!
আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন,
আমাদের পথকে সহজ সঠিক করে দিন।
এই কঠিন সময়ে আপনি ছাড়া আর কে আছে?
আপনার দয়া ছাড়া কে আমাদের বাঁচায় কাছে?”

কী অপূর্ব সে প্রার্থনার ভাষা!
অন্ধকারেও হারায়নি আশা।
যে দোয়া উঠে অন্তরের গভীর থেকে,
আল্লাহ তা ফিরিয়ে দেন না শূন্য হাতে।

তারপর রহমতের চাদর নেমে এলো ধীরে,
ঘুমের পরশ ছুঁয়ে দিল তাদের নীরে।
গুহার ভেতর থেমে গেল সময়ের গতি,
নিস্তব্ধতায় লুকাল আল্লাহর মহিমার স্মৃতি।

সূর্য ওঠে, সূর্য নামে,
ঋতু বদলায় আপন থামে।
রাজা মরে, রাজত্ব ফুরায়,
দালানকোঠা ধূলায় হারায়।
কিন্তু গুহার মাঝে যুবকদের ঘুম,
রবের হিফাজতে নিরাপদ প্রতিক্ষণ।

মানুষের চোখে যা অসম্ভব হয়,
আল্লাহর কাছে তা সহজময়।
তিনি চাইলে শত বছরও হয় ক্ষণ,
আবার ক্ষণেও বদলে যায় জীবন।

দীর্ঘকাল পরে একদিন হঠাৎ,
জেগে উঠল তারা ঘুমের প্রভাত।
চোখ মেলে দেখে অপরিচিত আলো,
চারপাশ যেন আগের মতো নয় ভালো।

একজন বলল
আমরা কতক্ষণ এখানে ঘুমালাম?”
অন্যজন বলল
একদিন কিংবা দিনের কিছু অংশ হয়তো কাটালাম।

তারা জানত না যুগ কেটে গেছে,
সভ্যতার চেহারা বদলে গেছে।
কিন্তু বদলায়নি আল্লাহর কালাম,
চিরন্তন রয়েছে তাঁরই নাম।

আল্লাহ তখন দেখালেন সবারে
ক্ষমতা কেবল তাঁরই দ্বারে।
যিনি মৃত হৃদয়ে জীবন জাগান,
অন্ধকার শেষে আলো বিলান।
যিনি বান্দাকে ফেলে দেন না কভু,
ডাকলে সাড়া দেন মহান প্রভু।

হে যুবক, শুনো কাহফের গল্প,
শুধু ইতিহাস নয়, ঈমানের দিশারী পথ।
যখন চারদিকে ফিতনার আগুন জ্বলে,
নিজেকে রেখো রবের ছায়াতলে।

বন্ধুরা যদি গুনাহে ডাকে,
তুমি থেকো সত্য আঁকড়ে।
দুনিয়া যদি উপহাস করে,
আল্লাহ তবু ভালোবাসেন অন্তরে।

আজও কত তরুণ হারিয়ে যায়,
নেশা, হতাশা, পাপের ছায়ায়।
কত হৃদয় বিষণ্নতায় কাঁদে,
কেউ বোঝে না তাদের ব্যথার বাঁধে।
তাদের জন্য কাহফের যুবক আলো,
তাদের জীবন ঈমানের ভালোবাসার পালো।

তুমি যদি একা হয়ে যাও পথে,
তবুও থেকো সত্যের রথে।
কারণ গুহার আঁধারও নূরে ভরে যায়,
যখন আল্লাহর রহমত সাথে রয়।

যে যুবক রাতের অন্ধকারে কাঁদে,
সিজদায় পড়ে রবকে ডাকে
হে আল্লাহ, আমায় হেদায়েত দিন,
আমার অন্তরকে পবিত্র রাখুন”—
তার অশ্রু বৃথা ঝরে না কভু,
রহমতের দরজা খুলে দেন প্রভু।

আসহাবে কাহফ শেখায় আমায়
ঈমানের পথে ভয় কিসের ভাই?
দুনিয়া যদি বিরুদ্ধেও দাঁড়ায়,
আল্লাহর সাহায্য ঠিকই চলে আয়।

তাই এসো আমরা হৃদয় গড়ি,
সত্যের পথে জীবন ধরি।
অন্যায়ের সাথে আপোষ নয়,
মুমিনের শক্তি ঈমানময়।

হে আল্লাহ!
আমাদের যুবকদের হিফাজত করুন,
ফিতনার স্রোত থেকে দূরে রাখুন।
আমাদের অন্তরে কাহফের যুবকদের মতো
অটল ঈমান দান করুন।
বিপদে ধৈর্য,
অন্ধকারে আলো,
গুনাহে তওবা,
আর জীবনে হেদায়েত দান করুন।

যখন চারদিক মিথ্যার দেয়াল,
তখনও যেন সত্য বলার শক্তি থাকে অবিচল।
যখন দুনিয়া আমাদের ভুলে যায়,
আপনার রহমত যেন পাশে রয়।

আসহাবে কাহফের মতো
আমাদেরও করুন আপনার প্রিয় বান্দা,
যাদের হৃদয়ে জ্বলে শুধু তাওহীদের প্রদীপখানা।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।


***



গুহার নিস্তব্ধতায় ঈমানের আলো

যখন পৃথিবী ভরে যায় অন্ধকারে,
সত্য তখন কাঁদে নীরব হাহাকারে।
মিথ্যার বাজার জমে রাজপথ জুড়ে,
মানুষ হারায় রবকে দুনিয়ার মোহঘোরে।
তখন কিছু যুবক উঠল জেগে,
তাওহীদের দীপ নিয়ে অন্তর বুকে।

না ছিল হাতে ক্ষমতার তরবারি,
না ছিল সৈন্যদল অগণিত ভারী।
ছিল শুধু অন্তরে আল্লাহর ভয়,
আর সত্যের পথে অবিচল প্রত্যয়।
তারা বলল
আমাদের রব একজনই মহান,
তাঁরই হাতে আকাশ-জমিনের প্রাণ।

চারদিকে তখন শিরকের জয়ধ্বনি,
মূর্তির সামনে নত হতো জনপদখানি।
রাজা বলত আমাকেই সিজদা করো!
মানুষ ভয়ে মাথা নত করত ঝুঁকে আরও।
কিন্তু তরুণেরা ভয় পায়নি কভু,
কারণ তাদের হৃদয়ে ছিলেন শুধু প্রভু।

অত্যাচারের আগুন যখন বাড়ল ধীরে,
তখন তারা বেরিয়ে গেল নগর ছেড়ে।
না ছিল বিলাস, না কোনো বাহন,
ছিল কেবল ঈমানভরা স্পন্দন।
পাহাড়ের কোলে এক নির্জন গুহা,
সেখানে গিয়ে থামল ক্লান্ত দেহ-মন দুভা।

তারপর তারা হাত তুলল কাঁদতে কাঁদতে,
দোয়ার ভাষা উঠল আকাশ ছুঁতে

হে আমাদের রব!
আপনার রহমত আমাদের ঢেকে রাখুক,
ভয় আর বিপদ হতে নিরাপদ রাখুক।
আমাদের কাজকে সঠিক করে দিন,
এই কঠিন পথে হেদায়েত দান করুন।

কী পবিত্র সে আর্তনাদ!
কী নির্মল সেই ইবাদত!
যখন পৃথিবী সব দরজা বন্ধ করে দেয়,
রব তখন রহমতের জানালা খুলে দেয়।

তারপর নেমে এলো গভীর প্রশান্তি,
গুহার বাতাসে ছড়িয়ে গেল নীরব শান্তি।
আল্লাহ নিজেই তাদের কান বন্ধ করলেন,
সময়কে যেন নিঃশব্দে থামিয়ে দিলেন।

বছর গেল, যুগ গেল,
সময়ের নদী বহুদূর বয়ে চলল।
রাজারা মরে গেল, সভ্যতা বদলাল,
কত ইতিহাস ধূলিতে মিশে হারাল।
কিন্তু গুহার বুকে যুবকেরা ঘুমায়,
রবের হিফাজতে প্রশান্তি পায়।

সূর্য তাদের পাশ কেটে যেত ধীরে,
আলো এসে পড়ত গুহার কিনারে।
মনে হতো যেন প্রকৃতিও জানে
এই যুবকেরা আছে আল্লাহর নিরাপদ টানে।

তারপর দীর্ঘ নিদ্রা শেষে একদিন,
জেগে উঠল তারা আলোর রঙিন।
চোখ মেলে দেখে অপরিচিত দৃশ্য,
চারপাশ যেন বদলে গেছে নিঃশব্দে নিঃশেষ।

একজন মৃদুস্বরে বলল তখন
আমরা কতক্ষণ ছিলাম এখানে গোপন?”
অন্যজন বলল
হয়তো একদিন কিংবা দিনের কিছু অংশ।

তারা জানত না শতাব্দী কেটে গেছে,
দুনিয়ার মানচিত্র বদলে গেছে।
কিন্তু বদলায়নি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি,
চিরন্তন তাঁরই মহিমার গতি।

আল্লাহ দেখালেন সবার মাঝে,
ক্ষমতা কেবল তাঁরই সাজে।
যিনি চাইলে মৃত হৃদয় জাগে,
অন্ধকার শেষে নূরের সকাল লাগে।

হে যুবক!
যদি দুনিয়া তোমাকে ঠেলে ফেলে দেয়,
তবুও সত্যের পথ ছেড়ে যেও না হে।
যদি সবাই অন্যায়ের সাথে মিশে যায়,
তুমি থেকো ঈমানের আলোয়।

আজও কত যুবক দিশাহীন রাতে,
হতাশা আর পাপের অন্ধকার পথে।
কেউ হারায় নেশার বিষে,
কেউ ডুবে যায় দুনিয়ার লোভের নিশে।
তাদের জন্য কাহফের যুবক এক শিক্ষা
আল্লাহর পথে চলাই জীবনের দীক্ষা।

যে যুবক ফজরের আগে কাঁদে,
সিজদায় পড়ে রবকে ডাকে
হে আল্লাহ, আমায় হেদায়েত দিন,
আমার অন্তরকে ঈমানে ভরিয়ে দিন”—
তার অশ্রু কখনো হারিয়ে যায় না,
রহমতের ফেরেশতা তাকে ছেড়ে যায় না।

বন্ধু,
গুহা শুধু পাহাড়ের গর্ত নয়,
গুহা মানে আল্লাহর নিরাপদ আশ্রয়।
যখন চারদিকে ফিতনার ঢেউ,
রবের দিকে ফিরে যাওয়াই সবচেয়ে ঢেউভাঙা নৌ।

আসহাবে কাহফ শেখায় এই সত্যবাণী
ঈমানদারের জীবন কখনো বৃথা জানি।
দুনিয়ার ক্ষতি সাময়িক ক্ষণ,
আখিরাতের সফলতাই আসল অর্জন।

তাই এসো,
আমরা হৃদয়কে পবিত্র করি,
সত্যের পথে দৃঢ় হয়ে চলি।
মিথ্যার সামনে মাথা নত নয়,
মুমিনের পরিচয় ঈমানময়।

হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তরে কাহফের যুবকদের মতো
অটল সাহস দান করুন।
ফিতনার যুগে ঈমান রক্ষা করুন,
গুনাহ থেকে হিফাজত করুন।
আমাদের দোয়া কবুল করুন,
আমাদের পথ সহজ করুন।

যখন পৃথিবী আমাদের ভুলে যায়,
আপনার রহমত যেন পাশে রয়।
যখন অন্তর ভেঙে যায় নিরবে,
আপনার নূর যেন জ্বলে হৃদয়ের গভীরে।

আমাদেরও করুন সেই সৌভাগ্যবানদের দল,
যারা সত্যের পথে থাকে অবিচল।
যাদের হৃদয়ে শুধু আপনার ভয়,
আর আখিরাতের সফলতার প্রত্যয়।

আমিন ইয়া আরহামার রাহিমিন।
***

গুহার পথে জেগে ওঠা ঈমান

যখন দুনিয়া ডুবে যায় পাপের অন্ধকারে,
মানুষ হারিয়ে ফেলে সত্যকে মিথ্যার ভিড়ে,
যখন ঈমান রাখা হয়ে যায় কঠিন ভার,
সত্যবাদীর কণ্ঠে নেমে আসে অত্যাচার
তখন কিছু যুবক উঠে দাঁড়ায় নির্ভীক প্রাণে,
তাওহীদের শপথ নিয়ে বুকের গভীর টানে।

রাজদরবারে তখন শিরকের জয়ধ্বনি,
মূর্তির সামনে নত হতো নগরবাসী জননী।
ক্ষমতার মসনদে বসে জালিম রাজা,
বলত আমাকেই মানো, আমিই সবার সাজা!
কিন্তু তরুণেরা ভয়কে দিল হার,
বলল আমাদের রব মহান, এক অপার।

তাদের চোখে ছিল আখিরাতের আলো,
তাদের প্রাণে ছিল ঈমানের ভালো।
দুনিয়ার চাকচিক্য তাদের টানেনি আর,
কারণ হৃদয়ে জ্বলত জান্নাতের অঙ্গার।

যখন জুলুমের কালো মেঘ ঘিরে ধরল শহর,
তখন তারা বেরিয়ে পড়ল নীরব প্রহর।
না ছিল সঙ্গে স্বর্ণ, না ছিল কোনো সেনা,
ছিল শুধু রবের প্রতি অটুট ভরসা।
পাহাড়ের কোলে এক নির্জন গুহা,
সেখানেই পেল তারা শান্তির ছোঁয়া।

গুহার ভেতরে বসে কাঁদল তারা ধীরে,
চোখের জলে দোয়া উঠল আকাশের নীড়ে

হে আমাদের রব!
আপনার রহমত আমাদের ঢেকে রাখুক,
ফিতনার আগুন থেকে নিরাপদ রাখুক।
আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক করে দিন,
এই আঁধার পথে নূরের দিশা দিন।

কী অপূর্ব সেই প্রার্থনার ভাষা!
ভাঙা হৃদয়েও ছিল না হতাশা।
কারণ তারা জানত
যে রব মরুভূমিতে ফুল ফোটান,
তিনি বান্দার অশ্রুও কবুল করেন অবিরাম।

তারপর নেমে এলো ঘুমের শান্তি,
গুহার বুকে থেমে গেল সময়ের গতি।
আল্লাহ নিজেই তাদের কান বন্ধ করলেন,
শত বছরের ঘুমে তাদের ঢেকে দিলেন।

সূর্য ওঠে, সূর্য ডোবে,
ঋতুর পরে ঋতু আসে রবে।
রাজা বদলায়, সভ্যতা মুছে যায়,
দালানকোঠা ধূলিতে হারায়।
কিন্তু গুহার মাঝে যুবকদের নিদ্রা,
রবের রহমতে নিরাপদ প্রতিক্ষণ ধরা।

মানুষের পাহারা যেখানে ব্যর্থ হয়,
আল্লাহর পাহারা সেখানে অটুট রয়।
তিনি চাইলে সাগর পথ হয়ে যায়,
আবার চাইলে আগুনও শীতল হয়।

অবশেষে একদিন নিদ্রা ভাঙল ধীরে,
তারা জেগে উঠল বিস্ময়ের নীড়ে।
চোখ মেলে দেখে বদলে গেছে চারদিক,
সময়ের স্রোত যেন ছুটেছে বহুদূর দিক।

একজন বলল
আমরা কতক্ষণ ঘুমিয়েছিলাম এখানে?”
অন্যজন বলল
হয়তো একদিন, কিংবা দিনের কিছু ক্ষণে।

তারা বুঝেনি যুগ পেরিয়ে গেছে,
ইতিহাসের পাতা বদলে গেছে।
কিন্তু বদলায়নি আল্লাহর কালাম,
চিরন্তন রয়েছে তাঁরই নাম।

আল্লাহ তখন মানুষকে দেখালেন আবার
ক্ষমতা তাঁরই, তিনি মহা পরাক্রমশালী অপার।
যিনি মৃত হৃদয়েও জীবন জাগান,
অন্ধকার শেষে নূরের সকাল আনেন।

হে যুবক!
যদি চারদিকে ফিতনার ঢেউ ওঠে,
তুমি থেকো রবের পথে।
বন্ধুরা যদি গুনাহে ডাকে,
তুমি থেকো সিজদার মাটিকে আঁকড়ে।

আজও কত তরুণ দিশেহারা রাতে,
হতাশা আর পাপের অন্ধকার পথে।
কেউ হারায় নেশার বিষে,
কেউ ডুবে যায় দুনিয়ার লোভের নিশে।
তাদের জন্য কাহফের যুবক এক দিশা,
ঈমানের আলোয় জেগে ওঠার ভাষা।

যে যুবক তাহাজ্জুদের নীরব ক্ষণে,
রবকে ডাকে চোখের জলে
হে আল্লাহ, আমায় হেদায়েত দিন,
আমার অন্তরকে পবিত্র রাখুন”—
তার কান্না বৃথা ঝরে না কখনো,
রহমতের দরজা বন্ধ হয় না তবু।

বন্ধু,
গুহা শুধু পাথরের আশ্রয় নয়,
গুহা মানে আল্লাহর নিরাপদ পরিচয়।
যখন পৃথিবী ঠেলে দেয় অন্ধকারে,
রবের দিকেই ফিরতে হয় বারেবারে।

আসহাবে কাহফ শেখায় এই গান
ঈমানই মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্মান।
দুনিয়ার ক্ষতি ক্ষণিকের ধূলি,
আখিরাতের সফলতাই আসল মূলই।

তাই এসো আমরা অন্তর গড়ি,
সত্যের পথে দৃঢ় হয়ে চলি।
অন্যায়ের সামনে মাথা নত নয়,
মুমিনের পরিচয় সে ঈমানময়।

হে আল্লাহ!
আমাদের যুবকদের হিফাজত করুন,
ফিতনার আগুন থেকে দূরে রাখুন।
আমাদের অন্তরে তাওহীদের আলো দিন,
গুনাহের পথ থেকে ফিরিয়ে নিন।

যখন হৃদয় ভেঙে যায় কষ্টের ভারে,
আপনার রহমত যেন জড়িয়ে ধরে।
যখন সবাই ছেড়ে যায় মাঝপথে,
আপনি যেন থাকেন আমাদের সাথে।

আমাদেরও করুন সেই সৌভাগ্যবান দল,
যারা সত্যের পথে থাকে অবিচল।
যাদের অন্তরে শুধু আপনার ভয়,
আর আখিরাতের সফলতার পরিচয়।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

- (সূরাঃ আল-কাহফ আয়াতঃ ১০-১৩ মাক্কী)-

মন্তব্য করুন

ব্লগ