সহকারী অধ্যাপক
১৯ মে, ২০২৬ ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ
কোন্ নিআমতকে অস্বীকার করবে? - মোঃ মুজিবুর রহমান
কোন্ নিআমতকে অস্বীকার করবে?
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
দুই সমুদ্র বয়ে চলে পাশাপাশি নিরবধি,
একটির ঢেউ নীলাভ শান্ত, অন্যটির গভীর গতি।
মাঝখানে অদৃশ্য প্রাচীর— মহান প্রভুর হুকুমে দাঁড়ায়,
কেউ সীমা লঙ্ঘন করে না, নিজ নিজ নিয়মে চলায়।
মানুষ দেখে শুধু পানি,
আল্লাহ দেখান রহস্যখানি।
অগাধ জলের বুকের নিচে
কত নিদর্শন লুকায় আছে!
তখন আসমান হতে ধ্বনি ভেসে আসে—
“বল মানব ও জিন জাতি!
তোমরা কোন্ নিআমত অস্বীকার করবে?”
সমুদ্রের বুকে মুক্তা ঝরে,
প্রবাল জাগে লাল আভাতে,
মানুষ পরে অলংকার হয়ে
হাসির রঙিন প্রভাতে।
কে দিল এত সৌন্দর্য বলো?
কে দিলো সাগরের তল?
কে দিলো রিযিকের ভাণ্ডার
ঢেউয়ের ভিতর অবিরল?
অথচ মানুষ কত গাফেল!
নেই কৃতজ্ঞতার ভাষা,
নিয়ামতের পাহাড় পেয়েও
অভিযোগে ভরে আশা।
পাহাড়সম বিশাল জাহাজ
সমুদ্রপথে চলে,
লোহা কাঠ আর মানুষের জ্ঞান—
সবই তো তাঁর দলে।
ঝড়ের রাতে উত্তাল ঢেউয়ে
মানুষ যখন কাঁদে,
তখন শুধু আল্লাহর নাম
হৃদয়ের ভিতর বাঁধে।
বন্দর পেলে ভুলে যায় আবার
কার দয়াতে বাঁচল প্রাণ,
ভোগের নেশায় ডুবে গিয়ে
হারায় অন্তরের জ্ঞান।
তখন আবার রবের আহ্বান—
“হে সৃষ্টি! শোনো মন ভরে,
তোমরা কোন্ নিআমত অস্বীকার করবে?”
এই দুনিয়া ক্ষণিক ছায়া,
আজ আছে, কাল আর নাই,
রাজা-বাদশাহ, ধনী-গরিব
সবাই মাটিরই ঠাঁই।
যে প্রাসাদে অহংকার ছিল,
আজ সেখানে নীরবতা,
যে মুখ ছিল গর্বে ভরা
আজ কবরের অন্ধকারে ব্যথা।
ফুল শুকায়, নদী বদলায়,
যৌবন একদিন হারায়,
হাসিমাখা চঞ্চল মুখও
একদিন নিঃশব্দ ঘুমায়।
শুধু একজন চির অমর,
চির মহান, চির দয়ালু,
সব ধ্বংসের পরেও যিনি
রহবেন মহিমায় আলো।
তিনি আল্লাহ— মহান প্রভু,
আরশের মহা অধিপতি,
যাঁর কুদরতে সূর্য জ্বলে,
যাঁর রহমতে জীবনের গতি।
হে মানুষ! কেন এত অহংকার?
কেন এত দুনিয়ার মোহ?
একদিন সব ফেলে রেখে
চলে যেতে হবে নিঃসঙ্গ পথ।
সঙ্গে যাবে না ধন-সম্পদ,
যাবে না ক্ষমতার মান,
শুধু আমল, ঈমান আর
সৎকর্ম হবে সাথির প্রাণ।
তাই হৃদয় জাগাও আজই,
ফিরে চলো রবের পানে,
যিনি দুঃখে শান্তি দেন
অন্ধকারে আলো টানে।
সিজদায় ভিজুক চোখের পানি,
জিকিরে জাগুক প্রাণ,
কুরআনের আলোয় গড়ে উঠুক
নতুন পবিত্র জাহান।
সমুদ্র, আকাশ, চাঁদ আর তারা—
সবাই বলে এক বাণী:
“আল্লাহ ছাড়া উপাস্য নেই,
তিনিই অনন্ত দয়াবানই।”
তখন মুমিন হৃদয় কেঁদে বলে—
হে প্রভু! আমরা অস্বীকার করি না,
আপনার প্রতিটি নেয়ামত
আমাদের জীবনের সেরা চিহ্ন।
আপনি দয়াময়, ক্ষমাশীল,
আপনি আশ্রয়হীনদের আশ্রয়,
আপনার রহমতের এক ফোঁটাতেই
শুকনো হৃদয় ফুল হয়ে রয়।
তাই আবারও ধ্বনি উঠুক—
ঢেউয়ের পরে ঢেউয়ের মতো,
“সুতরাং তোমাদের রবের
কোন্ নিআমত অস্বীকার করবে?”
হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তরকে কুরআনের আলোয় ভরিয়ে দিন,
গাফেল হৃদয়কে জাগিয়ে দিন,
দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহ থেকে ফিরিয়ে আনুন।
যেদিন সব ধ্বংস হবে,
সব শব্দ থেমে যাবে,
সেদিন যেন আপনার রহমতের ছায়ায়
আমাদের স্থান মিলে যায়।
আমীন।
***
সূরা আর-রাহমানের আলোকে মহিমান্বিত কাব্যধারা
“নিয়ামতের সাগরে ডুবে থেকেও কেন ভুলি রবকে?”
দুই সমুদ্র পাশাপাশি বহে—
একটি নোনা, একটি মিঠে,
একটির ঢেউ অশান্ত গর্জন,
অন্যটি শান্ত নীরব নীড়ে।
তবুও কেউ সীমা ভাঙে না,
কেউ অন্যের পথে যায় না,
অদৃশ্য এক প্রভুর আদেশ
সবকিছুকে বেঁধে রাখে নাড়া নাড়া।
কে দিলো এমন শাসন তাদের?
কে দিল এমন ভারসাম্য?
কে রাখে কোটি সৃষ্টিকে
এক নিয়মে, এক মহিমায় অনন্য?
তখন আকাশ কাঁপিয়ে আসে
সেই মহান প্রশ্নখানি—
“হে মানুষ! হে জিন জাতি!
তোমরা কোন্ নিআমত অস্বীকার করো বলো দেখি?”
সমুদ্রের বুক ফুঁড়ে ওঠে
মুক্তা, প্রবাল, রঙিন ধন,
মানুষ পরে অলংকার হয়ে
ভুলে যায় দানের কারণ।
ডুবুরি নামে গভীর জলে,
অন্ধকারের অতল তলে,
হাতে তুলে আনে রত্ন,
রবের রহমতের ফসল ফলে।
কিন্তু মানুষ কত অকৃতজ্ঞ!
রত্ন দেখে মুগ্ধ হয়,
রত্নদাতার কথা কিন্তু
হৃদয়ের ভেতর জাগে না কয়।
সমুদ্রের বুকে বিশাল জাহাজ
পাহাড়সম দেহ নিয়ে,
শত ঝড় আর উত্তাল ঢেউ
পাড়ি দেয় ভয়কে পিছে ফেলে দিয়ে।
মানুষ ভাবে— “আমার শক্তি!”
বিজ্ঞান নাকি সব করেছে!
অথচ একটু ঝড়ের ইশারায়
সেই জাহাজও তলিয়ে গেছে।
তখন মানুষ কাঁদতে কাঁদতে
ডাকে শুধু এক আল্লাহ,
কারণ বিপদ শেখায় তাকে—
ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ।
তীরে এলেই আবার সে
ভুলে যায় সেই কান্নার রাত,
আবার শুরু দুনিয়ার মোহ,
আবার গুনাহ, আবার আঘাত।
হে মানুষ! একটু থামো,
একটু ভেবে দেখো প্রাণে,
কার দয়াতে সূর্য ওঠে?
কার রহমতে শ্বাস টানে?
মায়ের কোলে যে মমতা,
বাবার কপালে চিন্তার রেখা,
বন্ধুর হাসি, শিশুর মুখে
নিষ্পাপ আনন্দের দেখা—
সবই তো প্রভুর নিয়ামত,
সবই তো দয়ার ছোঁয়া,
তবুও মানুষ অভিযোগ করে,
কৃতজ্ঞতার ভাষা হয় না খোঁয়া।
এই পৃথিবী মরুভূমির
একটি ক্ষণিক ছায়া মাত্র,
আজ যে হাসে অট্টালিকায়
কাল সে নিঃসঙ্গ কবরপাত্র।
যে রাজা ছিল সিংহাসনে,
যার আদেশে কাঁপত দেশ,
আজ তার নাম পড়ে আছে
ভাঙা পাথর, ধূলির রেশ।
যে সুন্দর মুখ আয়নায় দেখে
অহংকারে কাটাত দিন,
আজ সে মুখই মাটির নিচে
নিস্তব্ধ অন্ধকারে বিলীন।
যে যুবক শক্তিতে বলীয়ান
পৃথিবী জয়ের স্বপ্ন দেখে,
একটি জ্বর, একটি নিশ্বাস
তাকেও ফেলে দেয় মাটির বুকে।
ফুল ঝরে যায়, নদী শুকায়,
সবুজ বনও হারায় রং,
শুধু একজন চির অমর—
মহান রব, অনন্ত ঢং।
তিনি আদি, তিনিই অন্ত,
তিনিই মহান পরাক্রমশালী,
তাঁরই কুদরতে নক্ষত্র জ্বলে,
তাঁরই ইচ্ছায় রাত হয় কালি।
সমুদ্র তাঁর তাসবীহ পড়ে,
পাহাড় পড়ে সিজদাতে,
চাঁদ-সূর্য তাঁরই হুকুমে
ঘুরে চলে নিরব রাতে।
পাখির কূজন, বাতাসের সুর,
বৃষ্টির টুপটাপ ধ্বনি,
সবকিছু যেন বলছে মিলে—
“আল্লাহ ছাড়া উপাস্য কেহই নাহি।”
তবুও মানুষ গাফেল হয়ে
দুনিয়ার প্রেমে হারায় মন,
কবরের কথা ভুলে গিয়ে
গড়ে অহংকারের ভুবন।
হে গাফেল হৃদয়! জেগে ওঠো,
সময় কিন্তু দ্রুত ফুরায়,
আজ যে সকাল হাসি আনে
কাল সে বিকেল কাঁদিয়ে যায়।
একদিন আজরাইল আসবে,
থেমে যাবে দেহের গান,
বন্ধ হবে দুনিয়ার মেলা,
শেষ হবে সব অহংকারের মান।
সঙ্গে যাবে না ধন-সম্পদ,
যাবে না কোনো পরিচয়,
শুধু আমল, দোয়া, ঈমান
হবে সেদিন সত্যময়।
তাই নামাজে দাঁড়াও আজই,
কুরআনের পথে ফিরো,
অন্যায়ের পথ ছেড়ে দিয়ে
রবের রহমত ধীরে ধরো।
হক নষ্ট কোরো না কারো,
অশ্রু ঝরিও না প্রাণে,
কারণ মজলুমের আর্তনাদ
পৌঁছে যায় আরশের টানে।
হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তর নরম করুন,
অহংকার থেকে বাঁচান,
গুনাহভরা এই হৃদয়টাকে
তাওবার আলোয় সাজান।
আমাদের চোখে দিন অশ্রু,
ঠোঁটে দিন জিকিরের সুর,
মৃত্যুর আগে ঈমানভরা
সুন্দর তাওবার নূর।
যেদিন দুনিয়া নিঃশেষ হবে,
তারারা নিভে যাবে আকাশ হতে,
সেদিন যেন আপনার রহমতে
ঠাঁই পাই জান্নাতের পথে।
আর তখন সমগ্র সৃষ্টি
কাঁপিয়ে উঠবে এক বাণী—
“সুতরাং তোমাদের রবের
কোন্ নিআমত অস্বীকার করবে জানি?”
মুমিন হৃদয় কেঁদে বলবে—
“হে আমাদের দয়াময় রব!
আপনার দান অগণিত,
আপনার রহমত অফুরন্ত।
আমরা অস্বীকার করি না,
আপনিই জীবন, আপনিই আলো,
আপনিই মুক্তির আশ্রয়,
আপনিই হৃদয়ের ভালো।”
আমীন।
***
সূরা আর-রাহমানের আলোকে সুবিশাল কাব্যধারা
“সমুদ্রের ঢেউয়ে ঢেউয়ে রবের ডাক”
দুই সমুদ্র বয়ে চলে—
একটি শান্ত, অন্যটি উন্মত্ত,
একটি নীল নরম স্বপ্ন,
অন্যটি গভীর রহস্যময় শক্ত।
তবুও তারা সীমা মানে,
অতিক্রম করে না বিধান,
অদৃশ্য এক প্রাচীর যেন
রেখে দিয়েছে মহান রহমান।
মানুষ দেখে শুধু পানি,
রব দেখান কুদরতের ছাপ,
এক ফোঁটা জলের মাঝেও
লুকিয়ে থাকে মহা হিসাব।
ঢেউয়ের ভাষা, জলের সুর,
সবই যেন তাসবীহ পড়ে,
“তিনি মহান! তিনি মহান!”
গভীর সাগর অন্তরে ঝরে।
তখন আকাশ হতে ধ্বনি আসে—
“হে জিন ও মানব জাতি!
বল তো, তোমাদের রবের
কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার সত্যি?”
সমুদ্রের বুকের নিচে
মুক্তা জন্ম নেয় নীরবে,
প্রবালের রঙিন সৌন্দর্য
চোখে এনে বিস্ময় ভরে।
কে দিল সাগরে এ ধনভাণ্ডার?
কে দিল এত রঙের খেলা?
কে দিল মানুষের হাতে
সৌন্দর্য ছোঁয়ার মায়ামেলা?
মানুষ অলংকার পরে হাসে,
ভুলে যায় দানের মালিক,
দুনিয়ার চাকচিক্যে মগ্ন হয়ে
হৃদয় হয় অন্ধ ও কালিক।
বিশাল জাহাজ পাহাড়সম
ঢেউয়ের বুকে চলে,
লোহার দেহ, আগুনের শক্তি
রবের ইশারাতে দোলে।
একটি ঝড়, একটি হুকুম—
সবকিছু হয় তছনছ,
মানুষ তখন বুঝতে শেখে
ক্ষমতা তার কত ক্ষুদ্র।
ঝড়ের রাতে মাঝ সমুদ্রে
যখন মৃত্যু কাছে আসে,
মানুষ তখন কাঁদতে কাঁদতে
আল্লাহকেই শুধু ডাকে ভাসে।
তীরে এসে ভুলে যায় আবার
সেই কান্না, সেই ভয়,
আবার গুনাহ, আবার অহংকার,
আবার দুনিয়ার ক্ষয়।
হে মানুষ! কত নিদর্শন
তোমার চারপাশে জাগে,
তবুও কেন হৃদয় তোমার
অন্ধকারে ডুবে থাকে?
সূর্য ওঠে প্রতিদিন ভোরে,
চাঁদ আসে নরম আলো নিয়ে,
পাখিরা গান গায় অবিরাম
রবের প্রশংসা হৃদয় দিয়ে।
শিশুর হাসি, মায়ের মমতা,
বাবার কষ্টভরা ভালোবাসা,
বন্ধুর কাঁধ, রিজিকের পথ—
সবই তো রবের দেওয়া আশা।
তবুও মানুষ অভিযোগ করে,
কম পড়ে তার চাওয়ার শেষ,
অথচ এক মুহূর্ত নিশ্বাস বন্ধ
হলেই থেমে যাবে সব রেশ।
এই দুনিয়া মরীচিকা শুধু,
ক্ষণিক ছায়ার মতো,
আজ যে হাসে আনন্দভরে
কাল সে নিঃশব্দ কবরগতো।
রাজা-বাদশাহ, ধনী-গরিব
সবাই একই পথে যায়,
মাটির নিচে নীরব ঘুমে
সব অহংকার মিশে হারায়।
যে প্রাসাদ আকাশ ছুঁয়েছিল,
আজ সেখানে পাখির বাসা,
যে নাম শুনে কাঁপত দুনিয়া
আজ তা শুধুই ইতিহাসা।
যৌবনের দীপ্ত চোখ দুটো
একদিন নিভে যাবে ধীরে,
সৌন্দর্যের অহংকারও
মাটির ধূলায় মিশবে ফিরে।
শুধু একজন চির অমর—
মহান আল্লাহ, দয়াময় রব,
তাঁরই মহিমায় আকাশ টিকে,
তাঁরই রহমতে জীবনের সব।
তিনি আদি, তিনিই অন্ত,
তিনিই গোপন, তিনিই প্রকাশ,
তাঁরই ইশারায় রাত নামে,
তাঁরই হুকুমে সূর্যের আভাস।
সমুদ্র তাঁর সিজদায় নত,
পাহাড় পড়ে ভয়ে স্তব্ধ,
তারারা জ্বলে তাঁরই নামে,
বিশ্বজগৎ তাঁরই বন্দ।
তবুও মানুষ গাফেল হয়ে
ভুলে যায় কবরের ডাক,
দুনিয়ার খেলায় মত্ত হয়ে
হারিয়ে ফেলে মুক্তির পথ।
হে গাফেল হৃদয়! জেগে ওঠো,
সময় কিন্তু দ্রুত যায়,
আজ যে সকাল সোনালি রোদ
কাল তা সন্ধ্যার আঁধার ছায়।
আজ যে হাত শক্তিতে ভরা
কাল তা নিস্তেজ হবে,
আজ যে চোখ স্বপ্নে ভাসে
কাল তা মাটিতে রবে।
সঙ্গে যাবে না অট্টালিকা,
যাবে না ধনসম্পদের পাহাড়,
শুধু নেক আমল, সৎ হৃদয়
হবে কবরের সত্য সহায়।
তাই নামাজে দাঁড়াও কেঁদে,
কুরআনের আলো ধরো,
গুনাহভরা পথ ছেড়ে দিয়ে
রবের দিকে ফিরে চলো।
অন্যের হক নষ্ট কোরো না,
কারো মনে দিও না ক্ষত,
কারণ মজলুমের চোখের পানি
আরশ কাঁপায় নিরন্তর।
হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তর পবিত্র করুন,
ঈমান দিন দৃঢ় ও সত্য,
অহংকার, হিংসা, লোভ থেকে
বাঁচান আপনার রহমতে নিত্য।
আমাদের চোখে তাওবার অশ্রু,
ঠোঁটে জিকিরের বাণী,
হৃদয়ে কুরআনের নূর দিয়ে
করুন জীবনখানি টানি।
যেদিন সবকিছু ধ্বংস হবে,
পাহাড় উড়বে তুলোর মতো,
সেদিন যেন আপনার ছায়ায়
মিলে যায় শান্তির পথ।
আর তখন আকাশ-বাতাসে
ভেসে উঠবে সেই আহ্বান—
“সুতরাং তোমাদের রবের
কোন্ নিআমত করবে অস্বীকার প্রাণ?”
মুমিন তখন কেঁদে বলবে—
“হে আমাদের দয়াময় রব!
আপনার নেয়ামত গুনে শেষ হয় না,
আপনার রহমত সীমাহীন সব।
আপনিই আলো, আপনিই জীবন,
আপনিই অন্তরের শান্তি,
আপনিই জান্নাতের আশা,
আপনিই অনন্ত প্রান্তি।”
আমীন।
আর-রাহমানের ১৯ -২৭ আয়াত
৪
৪ মন্তব্য