Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ মে, ২০২৬ ০৭:৩১ অপরাহ্ণ

পার্থিব জীবনে মুমিনের ভয় ও দুশ্চিন্তা

জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে কঠোর হৃদয় ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার জন্য। কঠোর হৃদয় ব্যক্তি আল্লাহ থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করে। কোনো গুনাহ ব্যক্তির জন্য হৃদয় কঠোর হওয়ার চেয়ে ক্ষতিকর নয়। যখন ব্যক্তির হৃদয় কঠোর হয় তখন তার চোখ শুকিয়ে যায় (সে আল্লাহর ভয়ে কান্না করে না)। আর বান্দার হৃদয় কঠোর হয় চার কাজে, বিশেষত যখন তা সীমা অতিক্রম করে। কাজগুলো হচ্ছে : অধিক পানাহার, ঘুম ও কথা এবং অন্যের সঙ্গ বা মেলামেশা (অসৎ সঙ্গ)। 

শরীরে রোগ বাসা বাঁধলে যেমন পানাহার কোনো উপকারে আসে না, তেমনি প্রবৃত্তির জ্বরে আক্রান্ত হৃদয়েও উপদেশ কোনো প্রভাব ফেলে না। যে ব্যক্তি হৃদয়ের পরিচ্ছন্নতা কামনা করে, সে যেন আল্লাহকে প্রবৃত্তির ওপর প্রাধান্য দেয়। কেননা ব্যক্তির হৃদয় যত বেশি প্রবৃত্তি দ্বারা আক্রান্ত থাকে, সে আল্লাহর ভালোবাসা ও দয়া থেকে তত বেশি দূরে অবস্থান করে।

আবু দারদা (রা.) বলেন, আমাকে তিনটি জিনিস হাসিয়েছে এবং তিনটি জিনিস কাঁদিয়েছে। আমাকে হাসিয়েছে : ১. দুনিয়ায় আচ্ছন্ন ব্যক্তি অথচ মৃত্যু তার পেছনে লেগে আছে, ২. উদাসীন ব্যক্তি অথচ সে (আল্লাহর দৃষ্টি ও হিসাব থেকে) বিস্মৃত নয়, ৩. যে মুখ ভরে হাসে অথচ জানে না আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট, নাকি অসন্তুষ্ট। আমাকে কাঁদিয়েছে : ১. আমার প্রিয় মুহাম্মদ (সা.)-এর বিচ্ছেদ ও তার বেদনা, ২. পুনরুত্থানের ভয়, ৩. সেদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয়, যেদিন সব গোপন বিষয় উন্মোচিত হবে। কেননা আমি জানি না, আমি কোন দিকে ধাবিত হবো জান্নাতের দিকে, না জাহান্নামের দিকে।

আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক (রহ.)-কে বলা হয়, আপনি যখন নামাজ পড়েন তখন আমাদের সঙ্গে থাকেন না কেন? তিনি বলেন, আমি গিয়ে সাহাবি ও তাবেঈদের সঙ্গে বসি (তাদের রীতি-পদ্ধতি অনুসরণ করি অথবা তাদের জীবনী পাঠ করি)। তাদের কিতাব ও জীবন ইতিহাস দেখো ও পাঠ কোরো। তোমাদের সঙ্গে আমার কি কাজ অথচ তোমরা আত্মপ্রবঞ্চিত মানুষ।

ইবনুল জাওজি (রহ.) বলেন, পুণ্যাত্মা পূর্বসূরিরা জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত সংরক্ষণে পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতেন। আমের ইবনে আবদে কায়েস (রহ.) সম্পর্কে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তাঁকে বলেন, আসুন! আমার সঙ্গে একটু গল্প করুন। তিনি তাকে বলেন, তুমি সূর্যকে থামিয়ে দাও (অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান, তাই অহেতুক গল্প করে সময় নষ্ট কোরো না)।

আবু হাতেম আসাম্ম (রহ.) বলেন, যার অন্তর আল্লাহর স্মরণশূন্য সে এমন রোগে আক্রান্ত, যার কোনো আরোগ্য নেই। সে চারটি বিপদের আশঙ্কায় আছে১. কিয়ামত দিবসের বিপদ : যেদিন আল্লাহ বলবেন, এরা জান্নাতে যাবে এবং আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কারো ভ্রুক্ষেপ করি না; এরা জাহান্নামে এবং আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কারো ভ্রুক্ষেপ করি না। আর ব্যক্তি জানে না সে কোন দলভুক্ত হবে। 

২. ভাগ্যলিপির বিপদ : যখন তাকে তিন স্তরবিশিষ্ট অন্ধকারের ভেতর (মায়ের গর্ভাশয়ে) সৃষ্টি করা হয়েছে এবং কে সৌভাগ্যবান কে হতভাগা তা নির্ণয় করা হয়েছে। আর ব্যক্তি জানে না সে সৌভাগ্যবান, না হতভাগা।

৩. পুনরুত্থান দিবসের বিপদ : ব্যক্তি জানে না, সেদিন তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হবে, না অসন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হবে।

৪. বিচার দিবসের বিপদ : যেদিন মানুষকে ভালো ও মন্দ শ্রেণিতে বিভক্ত করা হবে। ব্যক্তি জানে না সে কোন দলে থাকবে। এই চার বিপদের মুখোমুখি ব্যক্তির হৃদয় কখনো দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারে না।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের পরকালের স্মরণ, চিন্তা ও প্রস্তুতি থেকে কখনো উদাসীন করবেন না। আমিন।

মাওয়ায়িজুল আখিরাহ থেকে
মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর কালের কণ্ঠ থেকে নেয়া।

মন্তব্য করুন

ব্লগ