প্রভাষক
১৮ মে, ২০২৬ ০৭:২৩ অপরাহ্ণ
সব গ্যালাক্সি কি একই দিকে ঘোরে
সব গ্যালাক্সি কি একই দিকে ঘোরে
গ্যালাক্সি বলতেই আমাদের মাথায় ঘুরতে থাকে মহাকাশে ঘূর্ণায়মান চাকতির মতো কোনো মহাজাগতিক বিশালাকার বস্তু, যার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য নক্ষত্র, গ্যাসীয় পদার্থ, ধূলিকণা, ডার্ক ম্যাটারসহ আরও কত কী! স্কুলের বইয়ে গ্যালাক্সির এই চাকতি ধরনের ছবি দেখতে দেখতে একটা বদ্ধমূল ধারণা আমাদের মনে গেঁথে গেছে; ছায়াপথগুলো যেন একেকটা স্বাধীন নক্ষত্রের দ্বীপ, যেগুলো গ্যাস, ধূলিকণা সংগ্রহ করতে করতে গড়ে ওঠে, মহাশূন্যে ঘুরতে থাকে, বিবর্তিত হয়, আবার একসময় অন্য কোনো ছায়াপথের সঙ্গে মিশে যায়। গঠনগত দিক থেকে ছায়াপথগুলোর ঘূর্ণন এলোমেলো হওয়া উচিত; কিন্তু বাস্তবে সেরকম কোনো বিশৃঙ্খলা বিজ্ঞানীদের নজরে পড়ে না। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, এই বিশাল মহাবিশ্বের বিশৃঙ্খলা এত কম!
গ্যালাক্সিগুলোর ঘূর্ণনের জন্য দায়ী এক বৃহৎ কসমিক ওয়েব। এটি মহাবিশ্বের এমন এক বৃহত্তম কাঠামো, যা পুরো মহাবিশ্বকে একটি সুতোর জালের ন্যায় সংযুক্ত করে রেখেছে। বিজ্ঞানীরা একে মহাজাগতিক ফিলামেন্টও বলে থাকেন।
গ্যালাক্সিগুলোর ঘূর্ণনের জন্য দায়ী এক বৃহৎ কসমিক ওয়েব
মূলত এটি ডার্ক ম্যাটার, গ্যাস, ছায়াপথ ও ক্লাস্টার দিয়ে তৈরি মহাশূন্যে ভাসমান সুবিশাল এক নেটওয়ার্ক। এর অন্দরেই ছায়াপথগুলো বেড়ে ওঠে, নক্ষত্ররা এর সঙ্গে সঙ্গেই ভাসতে থাকে; অবশেষে মহাকর্ষের টানে জটিল আকার ধারণ করে। আসলে ছায়াপথগুলো বিচ্ছিন্নভাবে তৈরি হয় না, আর মহাজাগতিক বড় স্কেলে পদার্থগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কোনো মহাজাগতিক কাঠামোও তৈরি করে না। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, মহাজাগতিক জালগুলো কীভাবে ছায়াপথের ঘূর্ণনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে?
গ্যালাক্সিগুলোর ঘূর্ণনের জন্য দায়ী এক বৃহৎ কসমিক ওয়েব। এটি মহাবিশ্বের এমন এক বৃহত্তম কাঠামো, যা পুরো মহাবিশ্বকে একটি সুতোর জালের ন্যায় সংযুক্ত করে রেখেছে।
এটি বুঝতে গেলে আমাদের টাইডাল টর্ক তত্ত্বটি একটু বুঝতে হবে। এই তত্ত্ব বলে, ছায়াপথের কৌণিক ভরবেগের সৃষ্টি হয়েছে তার চারপাশে অসমভাবে বিন্যস্ত পদার্থগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় উদ্ভূত টর্কের কারণে। আসলে সৃষ্টির শুরুতে মহাবিশ্বের সর্বত্র পদার্থের বণ্টন সমান ছিল না। সে কারণে জায়গায় জায়গায় ঘনত্বের পার্থক্য তৈরি হয় এবং জন্ম নেয় অসম মহাকর্ষীয় টান। ফলে নির্মীয়মাণ গ্যালাক্সিগুলো, অর্থাৎ প্রোটোগ্যালাক্সিগুলো একসময় টর্কের কবলে পড়ে, যার কারণে তারা কৌণিক ভরবেগ অর্জন করে। ১৯৬৯ সালে জিম পিবলস প্রথম এই ধারণা দেন।
তার মানে এই নয় যে সমস্ত ছায়াপথ একই দিকে ঘোরে; কিছু ছায়াপথ ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে, আবার কিছু বিপরীত দিকেও ঘোরে। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী লিওর শামির জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের অত্যাধুনিক ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখেন, তিন ভাগের দুই ভাগ ছায়াপথ ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে, আর অবশিষ্ট এক ভাগ ঘোরে বিপরীত দিকে। ২৬৩টি ছায়াপথের ঘূর্ণন বিশ্লেষণ করে শামির এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মাঝে এই ফলাফল একই সঙ্গে কৌতূহলোদ্দীপক ও বিতর্কিত। জেমস ওয়েবের তোলা ছবি বিশ্লেষণে খুব সতর্ক না থাকলে অজস্র ছবির মাঝে গুরুত্বপূর্ণ ছবি বাছাই করা, তাদের শ্রেণিবিন্যাস, ছবির ধরন, এমনকি টেলিস্কোপের জ্যামিতিও অনেক সময় প্রকৃত পর্যবেক্ষণের পথকে বন্ধুর করে তোলে।
৪
৪ মন্তব্য