সহকারী অধ্যাপক
১৮ মে, ২০২৬ ০৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
হক্কুল ইবাদের ভয়াল হিসাব - মোঃ মুজিবুর রহমান
হক্কুল ইবাদের ভয়াল হিসাব
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
হাশরের মাঠে সূর্য যখন মাথার পরে জ্বলে,
মানুষ তখন কাঁদবে শুধু আপন কর্মফলে।
কেউ বা নেকির পাহাড় বুকে দাঁড়াবে আশায় ভর,
কেউ বা ভয়ে থরথরিয়ে বলবে—“প্রভু! বাঁচাও এবার!”
আমলনামা খুলে যাবে সবার চোখের সামনে,
গোপন কিছু রইবে না আর পৃথিবীর সেই ঘরে।
ক্ষুদ্র যত অন্যায় ছিল, ছোট বলে যা মানি,
সবই লেখা, সবই ধরা—একটুও নয় টানি।
কেউ ছিল খুব নামাজি আর তাহাজ্জুদে কাঁদে,
রোজা রাখে, দানও করে গোপন নীরব সাধে।
তবু যদি মানুষের হক বুকে চাপা রয়,
হাশরের সেই আদালতে রেহাই তার নয়।
কাউকে যদি কষ্ট দিয়ে হেসেছ অবহেলায়,
কারও প্রাপ্য মেরে খেয়ে চলেছ নির্লজ্জ ছলে,
কারও নামে মিথ্যা রটিয়ে করেছ অপমান,
কারও চোখে জল ঝরেছে তোমার কটু বাণ—
তবে সাবধান! কিয়ামতের ভয়ংকর সে দিনে,
সব হিসাবই উঠবে ভেসে বিচারের আয়নায়।
তোমার যত নেকি আছে কাড়াকাড়ি হবে,
মাজলুমদের হাতে সেগুলো একে একে রবে।
যার টাকা তুমি খেয়েছিলে প্রতারণার ছলে,
যে রাত জেগে কেঁদেছিলো তোমার দেয়া জ্বলে,
যার সম্মান ভেঙেছিলে অহংকারের নেশায়,
আজকে তারা দাঁড়াবে সব আল্লাহরই পাশে।
নামাজ তোমার চলে যাবে, রোজা যাবে সরে,
দান-সদকা, তিলাওয়াতও যাবে একে একে ঝরে।
শেষে যখন নেকির ভাণ্ডার হবে শূন্য একদম,
পাওনাদারের পাপ তখন পড়বে তোমার গায়।
কী ভয়ংকর দৃশ্য হবে! কী কঠিন সে ক্ষণ!
মানুষ তখন বুঝবে গিয়ে দুনিয়ার আচরণ।
যে কথাটা হালকা ভেবে বলেছিলে হেসে,
সেই কথাটাই আগুন হয়ে দাঁড়াবে এসে।
বন্ধুর টাকা আটকে রেখে বলেছিলে—“কাল”,
বছর পেরোয়, ফেরাও নি—কেমন কঠিন জাল!
অসহায়ের দীর্ঘশ্বাস আকাশ ভেদ করে,
রাতের অন্ধ অশ্রুগুলো জমে বিচারঘরে।
কত মানুষ বাহিরেতে খুব ধার্মিকের বেশে,
ভিতরজুড়ে হিংসা, লোভ আর প্রতারণা মেশে।
মিষ্টি মুখে কথা বলে, অন্তরজুড়ে বিষ,
মানুষ ঠকায়, হক মারে—এ কেমন সর্বনাশ!
আল্লাহ বলেন—“আমার হক আমি চাইলে ছাড়ি,
বান্দার হক মিটবে না তো, কেমন করে পারি?”
তাই তো আগে ক্ষমা চাও, ফিরিয়ে দাও দেনা,
অন্যায়ের সে বোঝা নিয়ে বাঁচা মোটেই সোনা না।
গীবত যেন আগুনখণ্ড, সম্মান যেন ফুল,
একটি কথার আঘাতেও রক্ত ঝরে কূল।
তুমি যাকে তুচ্ছ ভেবে অপমান কর আজ,
হয়তো তারই দোয়ার কাছে কাঁপবে তোমার সাজ।
হে মানুষ! সময় থাকতে নিজেকে শুধরাও,
কারও হক মেরে খেয়ে সুখের স্বপ্ন না গড়াও।
কারও জমি, কারও শ্রম, কারও চোখের জল,
সব কিছুরই হিসাব হবে—রয় না কিছু চল।
মৃত্যু এসে কড়া নাড়ে নিঃশব্দ গভীর রাতে,
কেউ জানে না কতক্ষণ আর আছে এই হাতে।
তাই তো আগে হৃদয় ধুয়ে কর তওবার পথ,
অন্যায়ের সব ঋণ শোধে হও সত্যের রথ।
যদি কারও মন ভেঙে দাও, গিয়ে বলো—“ভাই,
ক্ষমা করো, ভুল করেছি, আর এমনটি নাই।”
যদি কারও টাকা থাকে তোমার কাছে বাকি,
ফিরিয়ে দাও, নইলে পরে বাঁচবে না আর থাকি।
কারণ সেদিন বিচারক হবেন বিশ্বজগতের রব,
সেখানে আর চালাকি নয়, চলবে না কোনো সব।
নেই উকিল, নেই পরিচয়, নেই ক্ষমতার জোর,
সত্য ছাড়া টিকবে না আর কোনো মিথ্যার ঘোর।
আমলনামা খুলে যখন সামনে ধরা হবে,
মানুষ তখন নিজের কর্ম নিজেই দেখতে পাবে।
ছোট-বড় সব কাজ তখন জেগে উঠবে ধীরে,
অবাক হয়ে মানুষ বলবে—“লেখা আছে নীরে!”
হে আল্লাহ! আমাদের তুমি হেদায়েত দাও,
মানুষের হক আদায়ে সত্যপথে নাও।
মুখের ভাষা কোমল করো, অন্তর কর পবিত্র,
জুলুম, লোভ আর প্রতারণা করো নাথ বিলুপ্ত।
আমরা যেন কাউকে কভু কষ্ট নাহি দিই,
অন্যায়ের সে কালো পথে আর কখনো নই যাই।
হাশরের সেই ভয়াল দিনে দিও নূরের ছায়া,
নেক আমলে ভরিয়ে দিও জীবনেরই মায়া।
মাজলুমের আর্তনাদ যেন না লাগে কারও গায়,
অসহায়ের চোখের পানি আগুন হয়ে যায়।
তাই তো আগে সতর্ক হও, ফিরাও যত হক,
নইলে শেষে নিঃস্ব হয়ে হারাবে সব লোক।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক জীবন স্বপ্নভাঙা ঘর,
আজকে আছে, কালকে নেই—মৃত্যু অতি পর।
যে বুদ্ধিমান, সে-ই আগে ঠিক করে নেয় পথ,
মানুষ বাঁচায়, হক ফিরিয়ে গড়ে জান্নাতের রথ।
হে প্রভু! আমাদের তুমি করো না মুফলিস,
হাশরের সেই ময়দানে দিও না সর্বনাশ।
নামাজ, রোজা, নেক আমল কবুল করো দয়ায়,
বান্দার হক আদায় করে নিও তোমার ছায়ায়।
আমিন।
মুফলিসের আর্তনাদ : হক্কুল ইবাদের ভয়াল বিচার
দুনিয়ার বুকে কত মানুষ সাদা পোশাক পরে,
মুখে মিষ্টি ঈমানী কথা, অন্তর ভাঙে ঘরে।
মসজিদভরা সিজদা তাদের, হাতে তসবিহ দোলে,
তবু কারও হক মেরে খায় গোপন অন্ধ ছলে।
কেউ বা এত নামাজি যে রাত কাঁদিয়ে ফেলে,
তাহাজ্জুদের দীর্ঘ সিজদা অশ্রু ঝরে গালে।
কেউ বা রোজার ক্ষুধা সয়ে দান করে নিরবে,
তবু মানুষের হক মেরে শান্তি খোঁজে ভবে।
হায়! সে জানে না অন্তরে কী ভয়ংকর ক্ষয়,
হাশরের সেই মহামাঠে রেহাই তার নয়।
যেখানে সব গোপন কথা প্রকাশ হবে খোল,
যেখানে এক কণাও নয় অন্যায়ের ভুল।
আমলনামা হাতে নিয়ে দাঁড়াবে সব প্রাণ,
কারও চোখে নূরের হাসি, কারও বুকে টান।
অপরাধী কাঁপতে কাঁপতে বলবে ভয়ার্ত স্বরে—
“হায় ধ্বংস! এ কেমন কিতাব! সবই লেখা করে!”
ছোট্ট যত অন্যায় ছিল অবহেলার ছলে,
সবই ধরা, সবই গোনা, লুকায় নি একটুও ফলে।
বন্ধুর টাকা মেরে খাওয়া, শ্রমিকের ঘাম চুরি,
এতিমের হক আত্মসাৎ আর মিথ্যা অপবাদ ধরি—
সব উঠে আসবে সেদিন ভয়াল বিচারের ঘরে,
কেউ পারবে না পালিয়ে যেতে মিথ্যার অন্ধ তরে।
ক্ষমতা, পদ, পরিচয় সব থেমে যাবে তখন,
সত্য ছাড়া রইবে না আর বাঁচার কোনো কারণ।
রাসূল বললেন—“শোনো তবে প্রকৃত মুফলিস কে?
সে তো নয় যার দুনিয়াতে টাকা-পয়সা কম থাকে।
বরং সে-ই আসল নিঃস্ব কিয়ামতের দিনে,
যে পাহাড়সম নেকি নিয়ে হাজির হবে দ্বীনে।
নামাজ, রোজা, জাকাত নিয়ে দাঁড়াবে সে রবের দর,
কিন্তু সাথে আনবে আরও জুলুমেরই ভার।
কাউকে গালি, কাউকে অপবাদ, কারও টাকা হরণ,
কারও রক্ত ঝরিয়েছে, করেছে নির্যাতন।”
তখন আল্লাহর আদালতে হবে ভয়াল বিচার,
মাজলুমদের ডাকা হবে একে একে আবার।
তোমার নেকি ভাগ হবে তাদের হাতে গিয়ে,
যাদের তুমি কাঁদিয়েছিলে অহংকারে হিয়ে।
যার চোখেতে জল এনেছ অবহেলার তীরে,
আজকে সে-ই দাঁড়াবে এসে আল্লাহরই নীড়ে।
তোমার রোজা যাবে তারে, যাবে তাহাজ্জুদ,
তোমার দানের সওয়াবও হবে অন্যেরই রুজু।
শেষে যখন নেকির ভাণ্ডার শূন্য হয়ে যায়,
তবু যদি পাওনা বাকি থাকে কারও হায়!
তখন তাদের পাপের বোঝা চাপবে তোমার ঘাড়ে,
আগুনসম সেই গুনাহ জড়াবে অন্তর জুড়ে।
কী ভয়াবহ দৃশ্য হবে! কী কঠিন সে ক্ষণ!
মানুষ তখন বুঝবে গিয়ে দুনিয়ার আচরণ।
একটি কটু বাক্য কত আগুন হয়ে জ্বলে,
একটি অন্যায় জীবনভর বিচার ডেকে চলে।
কারও প্রাপ্য আটকে রেখে সুখের ঘুমে রাত,
কারও সম্মান ভেঙে দিয়ে নিজের বড় মাত।
কারও দুঃখে হাসলে যদি অহংকারের সুরে,
হাশরের দিন সে কান্নাগুলো উঠবে বিচার ঘুরে।
কত মানুষ বাহিরেতে নেককারীর বেশে,
ভিতরভরা প্রতারণা, হিংসা বিষের শেষে।
মুখে বলে—“আল্লাহভীরু”, অন্তর কিন্তু কালো,
মানুষ ঠকিয়ে ভাবে বুঝি পেয়ে গেছে ভালো।
হে মানুষ! সময় থাকতে নিজেকে শুধরাও,
অন্যায়ের এই বোঝা নিয়ে সুখের স্বপ্ন না গড়াও।
কারও হক মেরে খেয়ে কভু শান্তি আসে না,
মাজলুমের দীর্ঘশ্বাস বৃথা কখনো যায় না।
রাতের শেষে নিঃশব্দে যে চোখের পানি ঝরে,
আল্লাহ তা সংরক্ষণ করেন আরশেরই তলে।
অসহায়ের ভাঙা বুকের নীরব দীর্ঘশ্বাস,
একদিন তা আগুন হয়ে করবে সর্বনাশ।
তাই তো আগে ক্ষমা চাও, ফিরিয়ে দাও দেনা,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগাও, মুছে দাও সব বেদনা।
কারও কাছে ঋণ থাকিলে আদায় করে দাও,
অন্যায়ের সব পথ ছেড়ে সত্যপথে যাও।
গীবত যেন জ্বলন্ত ছুরি, কাটে অন্তরখান,
মিথ্যা কথা বিষের মতো পুড়িয়ে দেয় প্রাণ।
মানুষের সম্মান যে ভাই কাবার চেয়েও বড়,
তাই তো কারও মান ভেঙে সুখের ঘর না গড়।
আজকে তুমি শক্তিশালী, হাতে আছে জোর,
কালকে কিন্তু থেমে যাবে দুনিয়ার সব ঘোর।
কবর হবে নিঃসঙ্গ ঘর, সাথী হবে আমল,
সেখানে আর কাজ দেবে না দুনিয়ার সম্বল।
হাশরের সেই মাঠে যখন সূর্য হবে নিকট,
ঘামে ডুবে মানুষ হবে ভীষণভাবে বিপদ।
মা ছুটে যাবে সন্তান ছেড়ে, ভাই ভুলিবে ভাই,
নিজের ভয়েই কাঁপবে সবাই, আশ্রয় কোথাও নাই।
সেই কঠিন দিনে যদি হক্কুল ইবাদ রয়,
নামাজ রোজা কোনোটাই আর বাঁচাতে না কয়।
কারণ মানুষ কাঁদলে তার আর্তনাদ যে সোজা,
আরশ ভেদ করে পৌঁছে যায় রবের দরবারে রোজা।
তাই তো বলি, হে মানবজাতি, হৃদয়টাকে ধোও,
অন্যায়ের সব কালো দাগ তওবাতে মুছো।
নরম ভাষায় কথা বলো, কষ্ট দিও না আর,
মানুষ বাঁচাও, হক ফিরিয়ে গড়ো আখিরাতের দ্বার।
যদি কারও টাকা নাও ফেরত দিতে ভুলো না,
যদি কারও মন ভাঙো তবে ক্ষমা চাইতে লজ্জা না।
যদি কারও হক তোমার কাছে থেকে থাকে পড়ে,
আজই ফিরাও, সময় কিন্তু থেমে থাকে না ঘরে।
কারণ মৃত্যু নিঃশব্দ পায়ে দাঁড়িয়ে আছে দ্বারে,
কে জানে আর কতক্ষণ এই জীবন সংসারে!
আজকে যারা হাসছে খুব কাল তারা নিরব,
কবরের মাটিতেই শেষে থামে দুনিয়ার রব।
হে আল্লাহ! আমাদের তুমি করো না গাফিল,
মানুষের হক নষ্ট করে করো না লাঞ্ছিত অপদস্থ।
হিংসা, লোভ আর প্রতারণা দূর করো অন্তর,
সত্য, ন্যায় আর দয়ার আলো দাও হৃদয় ভর।
আমরা যেন কাউকে কভু না দিই অবহেলা,
মুখের কথায় না ভাঙি কারও স্বপ্নভরা ভেলা।
অসহায়ের কষ্ট যেন না হয় আমাদের হাতে,
ক্ষমা, দয়া, ভালোবাসা ফুটুক প্রতিটি রাতে।
হে দয়াময়! হাশরের সেই ভয়াল বিচারদিনে,
আমাদেরকে ডেকো নূরের ছায়াময় বাগিচাতে।
নামাজ, রোজা, নেক আমল কবুল করো দয়ায়,
বান্দার হক আদায় করে নিও তোমার ছায়ায়।
মুফলিস হয়ে যেন নাথ দাঁড়াতে না হয় শেষে,
পাপের ভারে জাহান্নামের আগুন না আসে ঘেঁষে।
মাজলুমদের দোয়া যেন সাথী হয় পরপারে,
ক্ষমার নূরে ভরে দিও হৃদয় আমাদের।
আমিন।
***
হক্কুল ইবাদের আর্তনাদ : মুফলিসের ভয়াল পরিণতি
হাশরের মাঠে আগুনরাঙা সূর্য যখন জ্বলে,
মানুষ তখন কাঁপবে শুধু আপন কর্মফলে।
কেউ দাঁড়াবে নূরের ছায়ায় শান্ত মুখের হাসি,
কেউ বা ভয়ে থরথরিয়ে বলবে—“শেষে গেলাম নাকি!”
সেদিন কোনো আড়াল হবে না তো কারও তরে,
গোপন যত পাপ ছিল সব উঠবে প্রকাশ ঘরে।
আমলনামা খুলে যাবে দিগন্তভরা মাঠে,
মানুষ তখন নিজের জীবন দেখবে কাঁপা হাতে।
“হায় ধ্বংস!” বলে কাঁদবে বহু অপরাধী প্রাণ,
“এ কেমন বই! রেখেছে সব ক্ষুদ্র-বৃহৎ জ্ঞান!”
ছোট্ট যত অন্যায় ছিল হেসে করা রাতে,
সবই লেখা, সবই ধরা হিসাবেরই পাতাতে।
কেউ ছিলো দুনিয়াতে খুব পরহেজগার বেশে,
মসজিদমুখী, সাদা টুপি, তসবিহ হাতে শেষে।
রাত জেগে সে তাহাজ্জুদে অশ্রু ফেলত নীর,
মানুষ দেখে ভাবত—“বাহ! কত বড় ধীর!”
কেউ বা রোজা রাখত খুব, দান করিত চুপে,
কেউ বা কুরআন তিলাওয়াতে কাটাত জীবন রূপে।
তবু যদি মানুষের হক রয়ে যায় বুকে,
সে আমল সব ঝরে যাবে বিচারদিনের মুখে।
রাসূল বললেন—“শোনো তবে আসল মুফলিস কে?
সে তো নয় যার দুনিয়াতে ধন-সম্পদ কম থাকে।
বরং সে-ই প্রকৃত নিঃস্ব কিয়ামতের দিনে,
যে পাহাড়সম নেকি নিয়ে আসবে রবের দ্বীনে।
নামাজ, রোজা, জাকাত নিয়ে হাজির হবে ঠিক,
কিন্তু সাথে জুলুম-ভরা অন্ধকারের দিক।
কাউকে গালি দিয়েছিল, কারও মানে আঘাত,
কারও সম্পদ আত্মসাৎ আর কারও রক্তপাত।”
তখন শুরু হবে সেথা ভয়াবহ হিসাব,
মাজলুমেরা দাঁড়াবে সব নিয়ে নালিশখানা চাপ।
তোমার নেকি কেটে কেটে দেওয়া হবে তারে,
যাদের তুমি কষ্ট দিলে দুনিয়ারই দ্বারে।
বন্ধুর টাকা আটকে রেখে বলেছিলে—“কাল”,
বছর গেল, ফেরাও নি—কেমন কঠিন জাল!
অসহায়ের চোখের পানি ঘুম ভাঙাবে শেষে,
সেই কান্নাই আগুন হয়ে দাঁড়াবে পরিবেশে।
যে শ্রমিকের ঘাম শুকালো মজুরি ছাড়া হায়,
যে এতিমের হক মেরে সুখের ঘর বানায়,
যে বিধবার জমি কেঁড়ে হাসল অহংকারে,
আজকে তারা দাঁড়াবে সব রবের দরবারে।
তোমার দানের সওয়াব যাবে তাদের হাতে ধীরে,
তোমার রোজার আলো যাবে মাজলুমদের নীড়ে।
তোমার তাহাজ্জুদের কান্না, তিলাওয়াতের নূর,
এক এক করে হারিয়ে যাবে বিচারদিনের সুর।
শেষে যখন নেকির ভাণ্ডার হবে শূন্য প্রায়,
তবু যদি কারও হক বাকি থাকে হায়!
তখন তাদের পাপের বোঝা চাপবে তোমার ঘাড়ে,
জাহান্নামের আগুন তখন ঘিরে ধরবে পাড়ে।
কী ভয়ংকর দৃশ্য হবে! কী নিঃস্ব সে প্রাণ!
দুনিয়াতে যে সম্মানী ছিল হারাবে সব মান।
মানুষ তখন বুঝবে গিয়ে দুনিয়ারই ছল,
অন্যায়ের সুখ আসলে ছিল মরীচিকার জল।
গীবত যেন বিষের ছুরি কাটে হৃদয়খান,
মিথ্যা অপবাদ আগুন হয়ে পোড়ায় নির্দোষ প্রাণ।
তুমি যাকে তুচ্ছ ভেবে অপমান কর আজ,
হয়তো তারই দীর্ঘশ্বাস কাঁপাবে তোমার সাজ।
কত মানুষ মিষ্টি মুখে ঈমানেরই কথা কয়,
অন্তরে তার হিংসা, লোভ, প্রতারণার ভয়।
মানুষ ঠকিয়ে ভাবে বুঝি বেঁচে গেলাম বেশ,
হাশরের দিন বুঝবে গিয়ে কী ভয়ংকর শেষ।
আল্লাহ বলেন—“আমার হক চাইলে আমি ছাড়ি,
বান্দার হক না মিটলে কীভাবে ক্ষমা করি?”
তাই তো আগে ক্ষমা চাও, ফিরিয়ে দাও দেনা,
অন্যায়ের বোঝা কাঁধে সুখের জীবন সোনা না।
হে মানুষ! সময় থাকতে হৃদয়টাকে ধোও,
জুলুমের সব কালো দাগ তওবাতে মুছো।
কারও হক মেরে খেয়ে শান্তি আসে কই?
মাজলুমের আর্তনাদ তো আকাশ ছুঁয়ে রয়।
রাতের শেষে নীরব কাঁদে যে অসহায় মন,
তার দীর্ঘশ্বাস পৌঁছে যায় আরশেরই আপন।
অবহেলার অশ্রুগুলো জমে বিচারঘরে,
একদিন তা আগুন হয়ে জ্বলবে অন্তরে।
যদি কারও টাকা নাও, ফিরিয়ে দাও ভাই,
মৃত্যু কিন্তু বলে আসে না—“আমি আসছি তাই।”
আজকে তুমি শক্তিশালী, হাতে ক্ষমতার দাপ,
কালকে তুমি নিঃসঙ্গ কবর, থেমে যাবে চাপ।
যদি কারও মন ভাঙো গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নাও,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগাও, ভালোবাসা দাও।
কারও সম্মান ধূলায় ফেলে বড় হয়ো না কভু,
মানুষের হক নষ্ট করা পছন্দ করেন না রবু।
হাশরের সেই মাঠে যখন সূর্য হবে নিকট,
ঘামে ডুবে মানুষ হবে ভীষণভাবে বিপদ।
মা ভুলিবে সন্তান সেথা, ভাই ভুলিবে ভাই,
নিজের ভয়েই সবাই কাঁদে, সাহায্য কোথাও নাই।
সেই ভয়াল দিনে যদি হক্কুল ইবাদ রয়,
নামাজ-রোজা তখন আর রক্ষা দিতে নয়।
কারণ সেদিন ন্যায়বিচারে হবে না অবহেলা,
এক কণাও জুলুম সেথা পাবে না আর ভেলা।
তাই তো বলি—মানুষ বাঁচাও, দিও না কষ্ট আর,
সত্যপথে চললে খুলবে জান্নাতেরই দ্বার।
অসহায়ের মুখে হাসি ফোটাও ভালোবেসে,
দয়ার আলো ছড়িয়ে দাও পৃথিবীর পরিবেশে।
মুখের ভাষা কোমল রাখো, অন্তর রাখো নরম,
হিংসা, লোভ আর প্রতারণা করো অন্তর ভ্রম।
কারও জমি, কারও শ্রম, কারও চোখের জল,
সব কিছুরই হিসাব হবে—রয় না কিছু চল।
দুনিয়ার এই জীবন ক্ষণিক মেঘের মতো ভাই,
আজকে আছে, কালকে নেই—থাকার কিছু নাই।
যে বুদ্ধিমান, সে-ই আগে শুধরে নেয় পথ,
মানুষের হক ফিরিয়ে গড়ে জান্নাতের রথ।
হে আল্লাহ! আমাদের তুমি করো না মুফলিস,
হাশরের সেই ময়দানে দিও না সর্বনাশ।
নামাজ, রোজা, নেক আমল কবুল করো দয়ায়,
বান্দার হক আদায় করে নিও তোমার ছায়ায়।
মাজলুমদের দোয়া যেন সাথী হয় শেষে,
ক্ষমার নূরে ভরে দিও হৃদয় অবশেষে।
গুনাহভরা অন্তর হতে দূর করো অন্ধকার,
হাশরের দিন দিও নাথ জান্নাতেরই দ্বার।
আমিন।
***
হক্কুল ইবাদের মহাবিচার : মুফলিসের কান্না
হাশরের মাঠে সূর্য যখন মাথার খুবই কাছে,
মানুষ তখন দিশেহারা ভয়ের অন্ধ নাচে।
ঘামে ডুবে কাঁপবে দেহ, শুকিয়ে যাবে প্রাণ,
কেউ বা কাঁদে—“হে আল্লাহ! আজ কোথায় পরিত্রাণ?”
সেদিন কোনো গোপন কথা লুকিয়ে রবে না,
অন্তরের সব কালো দাগ চাপা পড়ে না।
আমলনামা খুলে যাবে দিগন্তজোড়া মাঠে,
মানুষ নিজের জীবন দেখবে কাঁপা কাঁপা হাতে।
কেউ দাঁড়াবে নূরের ছায়ায় প্রশান্ত মুখভরা,
কেউ বা পাপে ভেঙে পড়ে দিশাহারা সারা।
কেউ বলিবে—“হায় আফসোস! কী লিখা এ বই!
ছোট-বড় কিছুই দেখি বাদ তো গেল না কই!”
দুনিয়াতে যে হেসেছিল অন্যায়েরই নেশায়,
আজকে সে-ই কাঁপবে গিয়ে বিচারেরই আশায়।
যে ভাবত—“কে দেখেছে?” রাতের গোপন পাপ,
আজকে তারই কর্মগুলো খুলে যাবে চাপ।
কেউ ছিলো খুব নামাজি আর তাহাজ্জুদে কাঁদে,
কেউ বা রোজা রাখত খুব দুনিয়ার সব বাদে।
দান-সদকা, কুরআন তিলাওয়াত করত নিরবধি,
মানুষ দেখে বলত—“বাহ! কত বড় পরহেজগারই!”
তবুও যদি মানুষের হক রয়ে যায় বাকি,
হাশরের সেই আদালতে রক্ষা কোথাও নাকি!
কারও মনে কষ্ট দিয়ে ফিরেছ যদি হেসে,
সেই অশ্রু আজ আগুন হবে বিচারের পরিবেশে।
রাসূল বললেন—“শোনো তবে প্রকৃত মুফলিস কে?
সে তো নয় যার দুনিয়াতে ধন-সম্পদ কম থাকে।
বরং সে-ই আসল নিঃস্ব কিয়ামতের দিনে,
যে পাহাড়সম নেকি নিয়ে হাজির হবে দ্বীনে।
নামাজ, রোজা, জাকাত নিয়ে দাঁড়াবে রবের দর,
কিন্তু সাথে আনবে আরও জুলুমেরই ভার।
কাউকে গালি দিয়েছিল, অপবাদ দিয়েছিল কারও,
কারও টাকা আত্মসাৎ, ভেঙেছে কারও ভালো।
কারও রক্ত ঝরিয়েছে, মেরেছে নির্দয় হাতে,
কারও সম্মান ধূলায় মিশায় অহংকারের সাথে।
তখন আল্লাহ বলবেন—‘আজ হবে ন্যায়বিচার’,
মাজলুমেরা দাঁড়াবে সব নিয়ে নালিশভার।”
তোমার নেকি কেটে কেটে দেওয়া হবে তাদের,
যাদের তুমি কাঁদিয়েছিলে দুনিয়ারই ভিড়ে।
তোমার তাহাজ্জুদের কান্না যাবে তাদের ঘরে,
তোমার রোজার নূর ঝরে পড়বে অন্য দ্বারে।
তোমার দানের সওয়াব যাবে শ্রমিকেরই হাতে,
যার মজুরি আটকে রাখলে অন্যায়েরই রাতে।
যে এতিমের হক মেরে সুখের ঘর বানালে,
আজকে তারই সামনে তুমি মাথা নিচু করলে।
বন্ধুর টাকা নিয়ে বললে—“দেবো কালকে ভাই”,
বছর গেল, বছর পেরোয়—ফেরত দিলে নাই।
অসহায়ের দীর্ঘশ্বাস জমেছে আকাশপানে,
আজকে সেগুলো আগুন হয়ে জ্বলবে বিচারখানে।
কত মানুষ বাহিরেতে বড় ধার্মিক বেশে,
মিষ্টি মুখে ঈমানী কথা বলে খুব হেসে।
ভিতরভরা হিংসা, লোভ, প্রতারণার বিষ,
মানুষ ঠকিয়ে ভাবে বুঝি হয়ে গেছে দিশ।
কেউ গীবত করে রাতভর মজলিস জমিয়ে,
কারও ইজ্জত ভাঙে হেসে গল্পেরই ছলে গিয়ে।
কেউ বা মিথ্যা অপবাদে জ্বালায় নিরপরাধ প্রাণ,
কেউ বা ক্ষমতার দাপটে করে অত্যাচার খান।
হায়! সে জানে না অন্তরে কী ভয়াবহ ক্ষয়,
হাশরের সেই মহামাঠে রেহাই তার নয়।
কারও চোখের অশ্রুবিন্দু তুচ্ছ নয় তো ভাই,
মাজলুমের আর্তনাদ কখনো বিফল নাই।
আল্লাহ বলেন—“আমার হক চাইলে আমি ছাড়ি,
বান্দার হক না মিটলে কীভাবে ক্ষমা করি?”
তাই তো আগে ক্ষমা চাও, ফিরিয়ে দাও দেনা,
অন্যায়ের বোঝা কাঁধে সুখের জীবন সোনা না।
গীবত যেন আগুনখণ্ড পুড়িয়ে দেয় প্রাণ,
কটু ভাষার আঘাতেতে ভেঙে যায় সম্মান।
তুমি যাকে তুচ্ছ ভেবে অপমান কর আজ,
হয়তো তারই দীর্ঘশ্বাস কাঁপাবে তোমার সাজ।
হে মানুষ! সময় থাকতে নিজেকে শুধরাও,
কারও হক মেরে খেয়ে সুখের স্বপ্ন না গড়াও।
কারও জমি, কারও শ্রম, কারও চোখের জল,
সব কিছুরই হিসাব হবে—রয় না কিছু চল।
আজকে তুমি শক্তিশালী, হাতে আছে জোর,
কালকে কিন্তু থেমে যাবে দুনিয়ার সব ঘোর।
কবর হবে নিঃসঙ্গ ঘর, সাথী হবে আমল,
সেখানে আর কাজে দিবে না দুনিয়ার সম্বল।
মৃত্যু এসে কড়া নাড়ে নিঃশব্দ গভীর রাতে,
কেউ জানে না কতক্ষণ আর আছে এই হাতে।
আজকে যারা হাসছে খুব কাল তারা নিরব,
মাটির ঘরে থেমে যাবে দুনিয়ার সব রব।
তাই তো আগে হৃদয় ধুয়ে কর তওবার পথ,
অন্যায়ের সব ঋণ শোধে হও সত্যের রথ।
যদি কারও টাকা থাকে ফিরিয়ে দাও ভাই,
হাশরের সেই বিচারে আর সুযোগ কিন্তু নাই।
যদি কারও মন ভেঙে দাও গিয়ে বলো—“ক্ষমা”,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগাও, মুছে দাও সব জমা।
অসহায়ের মুখে হাসি ফোটাও ভালোবেসে,
দয়ার আলো ছড়িয়ে দাও পৃথিবীর পরিবেশে।
মানুষের সম্মান যে ভাই কাবার চেয়েও বড়,
তাই তো কারও মান ভেঙে সুখের ঘর না গড়।
নরম ভাষায় কথা বলো, অন্তর রাখো পবিত্র,
হিংসা, লোভ আর প্রতারণা করো নাথ বিলুপ্ত।
হাশরের সেই মাঠে যখন সূর্য হবে নিকট,
ঘামে ডুবে মানুষ হবে ভীষণভাবে বিপদ।
মা ভুলিবে সন্তান সেথা, ভাই ভুলিবে ভাই,
নিজের ভয়েই সবাই কাঁদে, আশ্রয় কোথাও নাই।
সেই কঠিন দিনে যদি হক্কুল ইবাদ রয়,
নামাজ-রোজা তখন আর বাঁচাতে নাও কয়।
কারণ সেদিন ন্যায়বিচারে হবে না অবহেলা,
এক কণাও জুলুম সেথা পাবে না আর ভেলা।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক জীবন মেঘের মতো ভাই,
আজকে আছে, কালকে নেই—থাকার কিছু নাই।
যে বুদ্ধিমান, সে-ই আগে শুধরে নেয় পথ,
মানুষের হক ফিরিয়ে গড়ে জান্নাতের রথ।
হে আল্লাহ! আমাদের তুমি করো না মুফলিস,
হাশরের সেই ময়দানে দিও না সর্বনাশ।
নামাজ, রোজা, নেক আমল কবুল করো দয়ায়,
বান্দার হক আদায় করে নিও তোমার ছায়ায়।
মাজলুমদের দোয়া যেন সাথী হয় শেষে,
ক্ষমার নূরে ভরে দিও হৃদয় অবশেষে।
গুনাহভরা অন্তর হতে দূর করো অন্ধকার,
হাশরের দিন দিও নাথ জান্নাতেরই দ্বার।
আমরা যেন কাউকে কভু কষ্ট নাহি দিই,
অন্যায়ের সে কালো পথে আর কখনো নই যাই।
মুখের ভাষা কোমল করো, অন্তর করো নূর,
তোমার রহমতের ছায়া হোক আখিরাতের সুর।
যে কান্না লুকিয়ে ঝরে অসহায়ের রাতে,
সেই কান্না যেন না লাগে আমাদেরই হাতে।
ক্ষমা, দয়া, ভালোবাসায় ভরে উঠুক প্রাণ,
হক আদায়ে কাটুক নাথ জীবনেরই গান।
হে দয়াময়! বিচারদিনে যখন উঠবে ডাক,
আমলনামা ডান হাতে দিও করুণা মাখ।
মুফলিস হয়ে যেন নাথ দাঁড়াতে না হয় শেষে,
জান্নাতেরই ছায়া দিও রহমতের পরিবেশে।
আমিন।
***
৪
৪ মন্তব্য