সহকারী অধ্যাপক
১৮ মে, ২০২৬ ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ
প্রজ্জ্বলিত আগুন - মোঃ মুজিবুর রহমান
প্রজ্জ্বলিত আগুন।
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
নিন্দার আগুনে জ্বলে যে মন
গীবতের ছুরিতে কাটে জীবন,
হাসিমুখে করে আঘাত যারা
ভালোবাসার নামে বিষ ঢালে সারা,
তাদের জন্য এসেছে সতর্ক বাণী—
সূরা -এর ভয়াল আহ্বানখানি।
দুর্ভোগ তার, ধ্বংস তারই,
যে মানুষকে ছোট করে ভারি।
সামনে এসে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে,
পেছনে গিয়ে অপবাদ ঝরে।
কথার আঘাতে ভাঙে যে প্রাণ,
সে বোঝে না কত বড় অবমান।
কারো দুঃখে হাসে যে জন,
বিদ্রূপে ভরে তার আপন মন,
মনে করে— “আমি বড় শক্তিশালী,
আমার ধন আছে পাহাড়সম দামী!”
দিনরাত শুধু হিসাব কষে,
স্বর্ণ-রুপা জমায় বসে বসে।
মুঠো ভর্তি টাকা দেখে ভাবে—
“আমার জীবন যাবে না তবে!”
দালান-কোঠা, ব্যাংকের সারি,
এসবই নাকি তার পাহারাদারি!
কিন্তু মৃত্যু চুপিসারে এসে
সব অহংকার ভেঙে দেয় শেষে।
কোথায় যাবে সেই সম্পদ তখন?
কার হবে সেই জমা রতন?
যে ধন নিয়ে ছিল এত গর্ব,
কবরপথে হবে না তার সঙ্গ।
এক মুঠো মাটি হবে ঠিকানা,
ফুরিয়ে যাবে দুনিয়ার মানা।
আল্লাহ বলেন— “কখনো নয়!
ধন তোমাকে বাঁচাবে না ভয়।”
নিক্ষেপ হবে “হুতামা” আগুনে,
যার শিখা জ্বলে কঠিন রূপে।
সেই আগুন শুধু দেহে নয়,
হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
হৃদয়ের ভেতর জ্বালাবে ক্ষত,
যেখানে ছিল অহংকার শত।
জ্বলবে অন্তর, পুড়বে প্রাণ,
থামবে না সেই আগুনের টান।
চারদিক ঘিরে আগুনের দেয়াল,
মুক্তির পথ হবে বেহাল।
উঁচু উঁচু স্তম্ভের মাঝে
আটকে রাখবে ভয়ানক সাজে।
না থাকবে বন্ধু, না সহায়,
সেদিন কেউ পাশে দাঁড়াবে না হায়।
ক্ষমতার মুকুট মাটিতে লুটাবে,
অহংকারের মাথা নত হবে।
তাই হে মানুষ, সাবধান হও,
নিন্দা-গীবতের পথ ছেড়ে দাও।
কারো সম্মান ভেঙো না আর,
এটাই তো মুমিনের অঙ্গীকার।
মিষ্টি ভাষায় ভালোবাসো,
অন্যের ব্যথা হৃদয়ে রাখো।
যে মুখে কুরআনের বাণী রয়,
সে মুখে কেন বিষের ক্ষয়?
যে জিহ্বা পড়ে দরুদ শরীফ,
সেই জিহ্বা কেন করে গীবত নির্দ্বিধ?
একটু ভেবে দেখো ভাই,
মানুষ কাঁদলে আল্লাহও চায়—
তুমি হও দয়ার বাতি,
অন্যের সুখে দাও সাথী।
ধন নয়, মান নয়, থাকবে না কিছু,
শেষে শুধু আমল যাবে পিছু।
নামাজ, সিজদা, দান আর ধৈর্য,
এসবই হবে আখিরাতের গৌরবময় ঐশ্বর্য।
যে অন্তরে তাকওয়ার আলো,
তার জীবনই সত্য ভালো।
চলো তবে বদলাই মন,
ত্যাগ করি হিংসা-অভিমান।
গীবতের বদলে করি দোয়া,
নিন্দার বদলে ভালোবাসা ছোঁয়া।
মানুষকে দিই সম্মানের স্থান,
এতেই লুকিয়ে রবের সন্তোষ মহান।
হে আল্লাহ! আমাদের রক্ষা করো,
অহংকার থেকে দূরে ধরো।
জিহ্বাকে দাও সত্যের নূর,
হৃদয় ভরাও ঈমানি সুর।
ধন নয়, চাই তোমার রহমত,
গীবত নয়, চাই নেক আমল সমৃদ্ধ।
যেদিন কবর হবে আপন ঘর,
থাকবে না কোনো দুনিয়ার পর,
সেদিন যেন মুখে থাকে হাসি,
আমলনামা হয় নূরে ভাসি।
হুতামার আগুন থেকে বাঁচিয়ে নিও,
জান্নাতের ছায়ায় স্থান দিও।
মুত্তাকীদের দলে রেখো মোরে,
সৎপথে রেখো জীবনভরে।
যেন কারো হক নষ্ট না করি,
কারো সম্মানে আঘাত না ধরি।
এই দোয়া বুকে নিয়ে চলি—
আল্লাহর প্রেমেই জীবন গড়ি।
কালো রাতের নীরবতায়
কত দীর্ঘশ্বাস ভাসে,
নিন্দুকের বিষাক্ত কথায়
কত হৃদয় নীরবে নাশে।
হাসিমুখে মধু ঝরায়,
অন্তরে রাখে বিষের ঢেউ,
সামনে বন্ধু সেজে আসে,
পেছনে আঘাত হানে কেউ।
এই সকল মুখোশধারীর
জন্য এসেছে কঠিন বাণী,
সূরা -এর আয়াতে
ঝরে ভয়াল সতর্কবাণী।
“দুর্ভোগ তার!”—রবের ডাক,
যে নিন্দা করে অবিরাম,
মানুষেরই মান ভেঙে
নিজেকে ভাবে বড় মহান।
কারো সুখে জ্বলে যে অন্তর,
কারো দুঃখে হাসে প্রাণ,
বিদ্রূপে যার জিহ্বা ভেজা
অহংকারে ভরা যার গান।
মানুষকে তুচ্ছ করে
নিজেকে ভাবে শ্রেষ্ঠ বেশ,
অথচ তারই জীবনসন্ধ্যা
নেমে আসে অতি নিঃশেষ।
যে সম্পদ গুনে রাত পোহায়,
দিন কাটায় হিসাব কষে,
স্বর্ণ-রুপার ঝনঝনিতে
মানবতা যায় ধীরে ভেসে।
ব্যাংক ভরা অর্থ দেখে
মনে করে— “ভয় কিসের আর?”
মৃত্যু বুঝি ছুঁতে পারবে না
আমার সুরক্ষিত সংসার!
দালান-কোঠা আকাশচুম্বী,
নাম-যশের কত আয়োজন,
ক্ষমতার মুকুট মাথায় পরে
চলে সে উদ্ধত মন।
কিন্তু হঠাৎ মৃত্যুদূত
দরজাতে এসে দাঁড়ায় চুপে,
সব অহংকার মাটিতে মিশে
জীবন থেমে যায় রূপে।
কোথায় তখন ধনের পাহাড়?
কোথায় তখন গর্বের সিংহাসন?
কাফনের সাদা কাপড় ছাড়া
থাকে না কোনো আয়োজন।
যে হাতে ছিল কোটি টাকার
ক্ষমতার ভারী চাবি,
সেই হাত আজ নিথর পড়ে
মাটির নিচে অচেনা ছবি।
হুতামা! ভয়ংকর আগুন!
আল্লাহর জ্বালানো শিখা,
যার উত্তাপে কাঁপবে অন্তর
ভেঙে যাবে মিথ্যা দীক্ষা।
সেই আগুন শুধু চামড়া নয়,
পৌঁছবে হৃদয়ের গভীরে,
যেখানে লুকায় হিংসা-বিদ্বেষ
অন্ধকারের অগ্নিনীরে।
হৃদয়ের ভেতর জ্বলবে ক্ষত,
অহংকার হবে ছাই,
নিন্দা-গীবতের প্রতিটি শব্দ
সেদিন ফিরবে ভয়ংকর দায়।
জ্বলন্ত স্তম্ভ ঘিরে ধরবে,
থাকবে না কোনো মুক্তির পথ,
চিৎকার করেও পাবে না সাড়া
শেষ হবে সব মিথ্যা রথ।
যে জিহ্বা দিয়ে গীবত হতো
সেই জিহ্বা হবে আগুনভার,
যে চোখে ছিল বিদ্রূপ হাসি
সেই চোখে নামবে অশ্রুধার।
মানুষকে যারা কাঁদিয়েছে
অপবাদ আর অবহেলায়,
আজ তারা কাঁদবে একাকী
জাহান্নামের দহনজ্বালায়।
তাই হে মানুষ! সাবধান হও,
ভাঙো না কারো সম্মান আর,
কারো দোষের গল্প বলে
অন্তর কোরো না অন্ধকার।
মুমিন সে-ই, যার আচরণে
মানুষ খুঁজে শান্তির ছায়া,
যার কথাতে দুঃখ মুছে
ভাঙা হৃদয় আশ্রয় পায়।
যে মুখে কুরআনের বাণী,
সে মুখে কেন বিষের সুর?
যে জিহ্বা পড়ে দরুদ শরীফ
সে জিহ্বা কেন করে গুনাহ ভরপুর?
তুমি হও দয়ার বাতি,
তুমি হও মমতার গান,
মানুষের চোখের অশ্রু মুছে
পাও রবের অফুরান দান।
ধন-সম্পদ ক্ষণিক মায়া,
আজ আছে তো কাল হারায়,
ক্ষমতার সব রঙিন মুকুট
মৃত্যুর পরে ধুলোয় ঝরায়।
থাকে শুধু আমলনামা,
নামাজ, সিজদা, দান আর ধৈর্য,
যে হৃদয়ে তাকওয়া জাগে
সেই পায় আখিরাতের ঐশ্বর্য।
হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমা করো,
আমাদের অন্তর পবিত্র দাও,
গীবতের কালো আগুন হতে
হৃদয়গুলো দূরে রাখাও।
জিহ্বাতে দাও সত্যের নূর,
চোখে দাও লজ্জার আলো,
অন্যের দোষ না খুঁজি যেন
বরং ব্যবহার করি ভালো।
যেদিন হবে কবরবাস,
থামবে দুনিয়ার সব আয়োজন,
সেদিন যেন নেক আমলই
হয় আমাদের একমাত্র পাথেয়ধন।
হুতামার আগুন হতে
রক্ষা করো পরম দয়াল,
জান্নাতের শীতল ছায়ায়
রেখো আমাদের চিরকাল।
নিন্দা নয়— হোক দোয়ার ভাষা,
গীবত নয়— হোক প্রেমের গান,
অহংকার নয়— হোক বিনয়
এটাই হোক জীবনের মান।
মানুষ যেন দেখে মোদের
সততা আর মমতার রূপ,
তাকওয়ার আলোয় ভরে উঠুক
এই দুনিয়ার প্রতিটি ধূপ।
দুনিয়া তো ক্ষণিক সফর,
সবই একদিন ফুরাবে শেষে,
রাজা-প্রজা সবাই মিলাবে
মাটির নীরব অন্ধকার দেশে।
শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টিটুকু
চিরদিন সাথে রবে,
তাই হে হৃদয়! নেক পথে চলো,
রবের প্রেমে জীবন ভরে।
তওবার অশ্রু ঝরাও রাতে,
সিজদাতে রাখো কাঁপা মুখ,
মানুষকে দাও ভালোবাসা,
মুছে দাও তাদের দুঃখ।
হুতামার ভয়াল আগুন নয়—
জান্নাতের স্বপ্নে মন ভরাও,
গীবতের পথ ছেড়ে দিয়ে
আল্লাহর পথে ফিরে যাও।
****
ঝলমলে এই দুনিয়াটা
মায়ার রঙে ঘেরা,
হাসির আড়াল, সুখের মুখোশ
ভেতরটা কত ফাঁকা ধরা।
কেউ বা হাসে অন্যকে নিয়ে,
কেউ অপবাদ ছড়ায় গোপনে,
কেউ বা ধনের পাহাড় গড়ে
ডুবে থাকে অহংকারের স্বপনে।
এইসব হৃদয়হীন মানুষদের
নিয়ে নাযিল হলো বাণী ভার,
সূরা -এর আয়াতে
কাঁপে অন্তর বারংবার।
“দুর্ভোগ তার!”—আল্লাহ বলেন,
যে নিন্দা করে অবিরাম,
সামনে হাসে, পেছনে দংশে,
ভেঙে দেয় মানুষের সম্মান।
যে গীবতের আগুন জ্বালিয়ে
আনন্দ খোঁজে রাতের শেষে,
যার কথাতে হৃদয় ভাঙে
চোখের জল নীরবে ভেসে।
যে মানুষকে ছোট ভাবিয়া
নিজেকে ভাবে মহামান,
সে জানে না— রবের দরবারে
সব অহংকার হয় অপমান।
যে সম্পদ গোনে রাতভর,
দিন কাটে যার হিসাব কষে,
স্বর্ণ-রুপার মোহে পড়ে
মানবতা যায় ধীরে ভেসে।
সে ভাবে— “আমার ধন-সম্পদ
আমাকে রাখবে অমর করে!”
অথচ মৃত্যু দাঁড়িয়ে থাকে
নিঃশব্দে তার ঘরের দ্বারে।
কোথায় যাবে দালান-কোঠা?
কোথায় যাবে ব্যাংকের সারি?
মৃত্যুর পরে কেউ রাখে না
সোনা-রুপার পাহারাদারি।
এক টুকরো সাদা কাফনই
শেষ ঠিকানা হয়ে রয়,
যে রাজা ছিল দম্ভে ভরা
মাটির নিচে সেও ক্ষয়।
হুতামা! ভয়াল সেই আগুন!
যার শিখা আকাশ ছোঁয়,
আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন
যার উত্তাপে অন্তর ক্ষয়।
সেই আগুন শুধু বাহিরে নয়,
হৃদয়ের গভীরেও যায়,
যেখানে লুকানো হিংসা-বিদ্বেষ
সব পুড়িয়ে ছাই বানায়।
উঁচু উঁচু আগুনের স্তম্ভ
চারদিক হতে ঘিরে ধরবে,
না থাকবে ছায়া, না থাকবে পানি,
না কোনো পথ মুক্তি দেবে।
চিৎকার করেও সাড়া মিলবে না,
বন্ধ হবে আশার দুয়ার,
অহংকারের প্রতিটি শব্দ
ফিরে আসবে অগ্নিঝড়।
যে জিহ্বা ছিল গীবতের সাথী
সে জিহ্বা আগুনে জ্বলবে,
যে চোখে ছিল বিদ্রূপ হাসি
সেই চোখ অশ্রুতে ভরবে।
যে হাতে মানুষ অপমানিত
সেই হাত কাঁপবে ভয়ে,
দুনিয়ার সব মিথ্যা শক্তি
মুছে যাবে মৃত্যুর বয়ে।
তাই হে মানুষ! থামাও নিজেকে,
অন্যের দোষ কোরো না প্রচার,
কারো সম্মান ভাঙা মানে
নিজের আমল করা নষ্টসার।
হয়তো যাকে তুমি তুচ্ছ ভাবো
সে রবের কাছে বড় প্রিয়,
তার চোখের জলের মূল্য
আরশ কাঁপানো সত্য নীয়।
যে মুখে কুরআনের আয়াত
সে মুখে কেন বিষের বাণী?
যে জিহ্বাতে দরুদ ঝরে
সে জিহ্বা কেন করে হানি?
মিষ্টি কথায় শান্তি দাও,
মানুষের ক্ষত মুছে দাও,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগিয়ে
রবের সন্তুষ্টি খুঁজে নাও।
ধন-সম্পদ ক্ষণিক ছায়া,
আজ আছে তো কাল ফুরাবে,
ক্ষমতার রঙিন মুকুট
একদিন ধুলোয় ঝরবে।
থাকবে শুধু নেক আমল,
সিজদা, দোয়া, ধৈর্য, দান,
যে হৃদয়ে তাকওয়ার আলো
সেই তো পাবে শান্তি মহান।
হে আল্লাহ! তুমি রক্ষা করো
নিন্দা-গীবতের কালো পথ হতে,
অহংকারের আগুন নিভাও
তোমার রহমতের নূর দিয়ে।
আমাদের জিহ্বা সত্য বলুক,
চোখে থাকুক লজ্জার জল,
অন্যের ব্যথা বুঝার তাওফিক
দাও হে রব্বুল আলামিন অতল।
যেদিন কবর হবে আপন ঘর,
থামবে জীবনের আয়োজন,
সেদিন যেন নেক আমলই
হয় আমাদের পাথেয় ধন।
হুতামার আগুন থেকে
বাঁচাও হে পরম দয়াল,
জান্নাতের শীতল ছায়ায়
রেখো আমাদের চিরকাল।
নিন্দা নয়— হোক দোয়ার ভাষা,
গীবত নয়— হোক প্রেমের গান,
অহংকার নয়— হোক বিনয়
এই হোক মুমিনের পরিচয় মহান।
মানুষ যেন দেখে মোদের
দয়া-মমতার সুন্দর রূপ,
তাকওয়ার সুবাসে ভরে উঠুক
এই পৃথিবীর প্রতিটি ধূপ।
দুনিয়া তো ক্ষণিক সফর,
সবই একদিন হারিয়ে যাবে,
শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টিটুকু
চিরদিন সাথে রয়ে যাবে।
তাই হে হৃদয়! জেগে ওঠো,
তওবার অশ্রু ফেলো রাতে,
হুতামার ভয়াল আগুন ছেড়ে
চলো জান্নাতের প্রভাতেতে।
৪
৪ মন্তব্য