সহকারী অধ্যাপক
১৮ মে, ২০২৬ ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ
কিয়ামতের সেই ময়দানে মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
কিয়ামতের সেই ময়দানে
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
কিয়ামতের সেই ময়দানে
হিসাব হবে একদিন,
কে কত নামাজ পড়েছিল,
কত ছিলো দানের ঋণ।
কার কপালে সিজদার দাগ,
কার হাতে তসবিহ গোনা,
কার চোখেতে তাহাজ্জুদের
অশ্রু ঝরার ছিলো সোনা।
সবই হবে সামনে আনা,
লুকোবে না কিছুই আর,
বুকের ভেতর জমে থাকা
গোপন যত অন্ধকার।
কিন্তু হঠাৎ ডাক পড়িবে—
“এই মানুষটা কারো হক
মেরে খেয়েছে দুনিয়াতে,
করেছে কত অন্যায় শখ!”
কেউ বলবে— “গালি দিছে”,
কেউ বলবে— “ভাঙছে মন”,
কেউ বলবে— “টাকা নিয়ে
ফিরে নাই সে বহুক্ষণ!”
কেউ বলবে— “অপবাদে
পুড়ছে আমার জীবনখান”,
কেউ বলবে— “জুলুম কইরা
করছে আমায় অপমান!”
তখন নাকি আমলনামা
খুলে যাবে সবার তরে,
নেকির পাহাড় থাকলেও তা
টিকবে না আর বেশিক্ষণে।
এক এক করে নামাজ যাবে,
রোজার সওয়াব উড়ে যায়,
দান-সদকার নূর সবই
পাওনাদারের ঘরে ধায়।
যে কোরআন পড়তো বসে
ফজর বেলার নীরবতায়,
সেই কোরআনের নেকিগুলো
আজকে অন্য খাতায় যায়।
যে ভাবিত— “আমি ভালো,
মানুষ আমায় সাধু কয়”,
আজকে সে-ই কাঁদছে বসে—
“কোথায় আমার সঞ্চয়?”
নেকির ভাণ্ডার ফুরিয়ে গেল,
তবু রইলো হকের দায়,
মজলুমদের পাপের বোঝা
তারই ঘাড়ে চাপানো হয়।
পাহাড়সম পাপের ভারে
নুয়ে পড়ে ক্লান্ত প্রাণ,
শেষে তাকে টেনে নেয়
ভয়ংকর সেই জাহান্নাম।
হায় রে মানুষ! কিসের গর্ব?
কিসের এত দম্ভ তোর?
মানুষ কাঁদে তোর কারণে,
আর তুই ভাবিস— “আমি জোর!”
সাদা পাঞ্জাবি, মিষ্টি কথা,
বাহিরটাতে ভদ্র বেশ,
ভেতরজুড়ে হকের আগুন
জ্বালিয়ে রাখিস দিনশেষ।
কারো টাকা আটকে রাখিস,
কারো ঘুম কেড়ে নিস,
কারো চোখে জল ঝরায়ে
নিজে আবার হাসতে বসিস!
এমন যদি চলতেই থাকে,
কী উত্তর দিবি কও?
রবের দরবার বসলে পরে
কোন মুখ নিয়ে দাঁড়াবি তৌ?
তাই এখনও সময় আছে,
ফিরে আয় রে আলোর পথে,
মানুষ যদি কাঁদে তোরে,
শান্তি পাবি কেমন মতে?
যার পাওনা ফিরিয়ে দে তুই,
ক্ষমা চেয়ে নে নির্ভয়ে,
মানুষ খুশি, আল্লাহ খুশি—
জীবন যাবে নূরের বয়ে।
গীবত, অপবাদ আর জুলুম
আগুন হয়ে জ্বালায় প্রাণ,
এই আগুনে পুড়ার আগে
কর তওবা, হে ইনসান।
ঈমান শুধু মুখের বুলি
হলেই কিন্তু রক্ষা নাই,
সৎকর্ম আর আমানতদারী
ছাড়া মুক্তির পথও নাই।
যে নামাজে মানুষ গড়ে,
সেই নামাজই আসল ঠিক,
যে রোজাতে মন নরম হয়,
সেই রোজাতেই রহমত ঠিক।
আল্লাহ যেন হক আদায়ে
দেন আমাদের শক্তিমান,
কারো হক নষ্ট না করি—
এই হোক আজ প্রাণের গান।
হাশরের সেই কঠিন দিনে
খালি হাতে না যাই আর,
নেকি নিয়ে গিয়ে যেন
না হই দেউলিয়া আবার।
হে আল্লাহ! তুমি বাঁচাও
মানুষের হক নষ্ট হতে,
তুমি দিও নরম অন্তর
সত্য ও ন্যায়ের পথে।
আমল দিও কবুল করে,
ক্ষমা করো গোপন পাপ,
মজলুমের সেই আর্তনাদে
কাঁপুক আমাদেরও চাপ।
শেষ নিশ্বাস যাওয়ার আগে
সবার সাথে মিটুক হিসাব,
ঈমান নিয়ে কবরে যাই—
এই হোক প্রাণের জবাব।
***
হাশরের সেই ভয়াল দিনে
সূর্য থাকবে মাথার কাছে,
ঘামে ডুবে মানুষ তখন
ভয়ে কাঁপবে বুকের মাঝে।
কারো হাতে আমলনামা,
কারো মুখে বিষাদ ছায়া,
কারো চোখে আশার নূর,
কারো বুকে দুঃখ মায়া।
সেদিন নাকি হিসাব হবে
অতি সূক্ষ্ম প্রতিটি কাজ,
কে কাকে কত কাঁদিয়েছে,
কে পড়েছে কত নামাজ।
কে গরিবের হক মেরেছে,
কে করেছে বিশ্বাসঘাত,
কার কথাতে ভেঙেছে হৃদয়,
কার আচরণ ছিল মাত।
সেদিন নাকি দুনিয়ার সব
মিথ্যা মুখোশ খুলে যাবে,
ভদ্রতার সেই অভিনয়ও
ধূলির সাথে মিশে যাবে।
যে মানুষটা সাদা পোশাক
পরে ছিল খুব সম্মানী,
মানুষ বলত— “বড় পরহেজগার!”
“বড় আল্লাহভীরু জানি!”
আজকে কেন সেই মানুষটা
চোখের জলে ডুবে রয়?
কারণ তারই অন্যায়ে
অনেক মানুষ কেঁদেছে ভয়।
কারো জমি দখল করেছে,
কারো টাকা দেয়নি ফেরত,
কারো শ্রমের দাম না দিয়ে
নিজে করেছে সুখের ভোজ।
কারো নামে মিথ্যা রটিয়ে
নিজে ছিলো বাহবা পেয়ে,
কারো ঘুম কেড়ে নিয়েছে
প্রতারণার জাল বিছিয়ে।
একটা মানুষ রাত জেগেছে
টাকার আশায় বছরের পর,
আরেকজন শুধু বলেছে—
“দিচ্ছি ভাই”, “আর একটু পর!”
সেই অপেক্ষা, সেই দীর্ঘশ্বাস
আরশ কাঁপায় নিঃশব্দে,
মজলুমের কান্না নাকি
হারায় না রবের দরজাতে।
তখন আল্লাহ বলবেন ডেকে—
“আজকে হবে ন্যায় বিচার,
যে যার হক বুঝে নেবে,
শেষ হবে সব অহংকার।”
তখন শুরু নেকি বণ্টন,
কেউ নেয় তাহাজ্জুদের নূর,
কেউ নিয়ে যায় কুরআন খতম,
কেউ নেয় সদকার সুর।
কেউ নেয় রোজার প্রতিদান,
কেউ নেয় হজ্জের আলো,
যে মানুষটা ভাবত নিজে
“আমিই সবচেয়ে ভালো!”
তারই নেকির পাহাড় নাকি
মুহূর্তেই শূন্য হয়,
কারণ হকের বোঝা বহন
সহজ কিছু মোটেও নয়।
যখন সব নেকি ফুরিয়ে
তবু বাকি থাকে দায়,
তখন মজলুমের পাপ এসে
তারই কাঁধে ভর করে যায়।
পাহাড়সম সেই পাপভার
চেপে বসে বুকের উপর,
ভয়ংকর সেই জাহান্নামের
আগুন তখন করে ঘির।
হায় রে মানুষ! বুঝলি না তুই
কত কঠিন মানুষের হক!
নামাজ রোজা সবই হারায়
যদি থাকে জুলুমের শখ।
সিজদা যত দীর্ঘ হোক না,
মন যদি হয় কালো রঙ,
মানুষ ঠকিয়ে জান্নাত চাওয়া
শুধুই মিছে স্বপ্ন ঢঙ।
কারো হক মেরে খেয়ে
হজে গেলে কী লাভ বল?
কারো চোখের অশ্রু মুছে
তবেই খুলবে রহমতদল।
আমানতদারী বড় আমল,
সত্যবাদী শ্রেষ্ঠ গুণ,
যে মানুষটা হক আদায়ে
ভয় পায় রবের আইন।
সে হয়তো খুব গরিব মানুষ,
ছোট্ট ঘরে কাটায় দিন,
কিন্তু তারই মুখে হাসবে
হাশর দিনের শান্তি-চিন।
যে ব্যবসায়ী মাপে ঠিকঠাক,
মিথ্যা কথা বলে না আর,
যে শ্রমিকও হালাল রুটিতে
শুকরিয়া করে বারংবার—
তাদের জন্য সুখবর আছে,
নূরের মিছিল সামনে রয়,
কারো হক না মেরে যারা
পৃথিবীতে ছিল নির্ভয়।
আর যে মানুষ মুখে মধু,
ভেতরে শুধু ধোঁকার আগুন,
বন্ধুর টাকা মেরে খেয়ে
ঘুমায় সুখে প্রতিদিন—
তার জন্য ভয়ংকর হিসাব
অপেক্ষাতে দাঁড়িয়ে রয়,
মজলুমদের দীর্ঘ কান্না
একদিন ঠিক বিচার কয়।
তাই তো বলি, ওরে মানুষ!
আজই নিজের হিসাব নে,
কারো টাকা আটকে থাকলে
ফিরিয়ে দে নির্ভয়ে।
কারো মনে কষ্ট দিলে
ক্ষমা চেয়ে মাথা নত কর,
মানুষ খুশি, আল্লাহ খুশি—
এটাই সবচেয়ে বড় ঘর।
গীবত যেন বিষের চেয়ে
আরও ভয়াল আগুন ভাই,
একটা অপবাদে কত
নির্দোষ মানুষ ভেঙে যায়।
কারো সম্মান নিয়ে খেলিস না,
কারো দুঃখ নিয়ে হাসিস না,
কারো কান্নার উপর দাঁড়িয়ে
নিজের সুখের ঘর বাঁধিস না।
ঈমান শুধু কথায় নয়,
আচরণে তার প্রমাণ,
সৎকর্ম আর আমানতদারী
মুমিন জীবনের প্রাণ।
হক আদায়ে যত্নবান যে,
আল্লাহ তার সহায় হন,
মজলুমের চোখের পানি
থেকে তিনি বাঁচিয়ে রাখেন।
তাই হে রব! তুমি দয়া করে
আমাদেরকে হেদায়েত দাও,
কারো হক যেন নষ্ট না হয়—
সেই তাওফিক দান করাও।
মৃত্যুর আগে শোধ হোক সব
অন্যায়ের যত দেনা,
হাশরের মাঠে লজ্জিত হয়ে
কাঁদতে যেন না হয় আর না।
আমল দিও কবুল করে,
হৃদয় ভরো তাকওয়ায়,
ঈমান নিয়ে কবরে যাই—
এই দোয়া আজ ঠোঁটে গায়।
যেদিন সবাই ভয়ে কাঁপবে
আরশ নিচে আশ্রয় চাই,
সেদিন যেন রহমতের ডাকে
বলতে পারি— “হে রব! আমায় বাঁচাই।”
***
হাশরের সেই বিশাল মাঠে
নেই কোনো পরিচয়পত্র,
নেই কোনো পদ-পদবি আর
নেই দুনিয়ার গর্বমাত্র।
সেখানে শুধু আমলনামা,
সেখানে শুধু সত্য কথা,
কারো মুখে শান্তির হাসি,
কারো বুকে ভয় আর ব্যথা।
কেউ দাঁড়াবে নূরের মাঝে,
কারো মুখে অন্ধকার,
কারো হাতে ডান দিক হতে
আমলনামার সুখের ভার।
কেউ বা তখন কাঁদবে চুপে—
“হায়! কোথায় গেল সব?”
দুনিয়াতে যে খুব ধার্মিক,
আজকে কেন নিঃস্ব রব?
সে তো কত নামাজ পড়ত,
রোজা রাখত বছরজুড়ে,
কত মানুষ বলত তাকে—
“বড় আল্লাহওয়ালা পুরে!”
তাহাজ্জুদে কাঁদত রাতে,
কুরআনেরও সুর ছিল,
মসজিদের প্রথম কাতারে
তারই নাকি ঘর ছিল।
কিন্তু হঠাৎ ডাক পড়িবে—
“এই মানুষটা দাঁড়াও আজ!
মানুষের হক মেরে খেয়ে
করেছ অনেক অন্য কাজ!”
একজন বলে— “আমার টাকা
বছর ধরে দেয়নি ফেরত,”
আরেকজন কয়— “অপবাদে
করছে আমায় ক্ষতবিক্ষত!”
কেউ বলবে— “ভেঙেছে মন,”
কেউ বলবে— “গালি দিছে,”
কেউ বলবে— “হাসির আড়ালে
জীবনটারে বিষ বানাইছে!”
কেউ বলবে— “বন্ধু সেজে
বিশ্বাসটারে করল চুরি,”
কেউ বলবে— “মিষ্টি কথায়
হৃদয়খানাই দিল পুড়ি!”
তখন নাকি আল্লাহ বলবেন—
“আজকে হবে পূর্ণ বিচার,
যে যার হক বুঝে নেবে,
শেষ হবে সব অহংকার।”
তারপর শুরু নেকি বণ্টন,
ভয়ংকর সেই দৃশ্যখান,
একজন নেয় ফজর নামাজ,
আরেকজন নেয় রমজান।
কেউ নিয়ে যায় দানের সওয়াব,
কেউ নেয় হজ্জের নূর,
কেউ নিয়ে যায় কুরআন খতম,
কেউ নেয় তাহাজ্জুদের সুর।
তিল তিল করে শেষ হয়ে যায়
আমলভর্তি ভাণ্ডার,
তবুও যদি হক বাকি রয়
বাড়ে শুধু ভয় আর ভার।
তখন মজলুম মানুষের পাপ
তারই ঘাড়ে চাপানো হয়,
নেকিহারা সেই মানুষটা
নীরব কাঁদে, বুকটা ক্ষয়।
হায় রে মানুষ! বুঝলি না তুই
বান্দার হক কত কঠিন!
আল্লাহর হক ক্ষমা হতে পারে,
বান্দার হক ভয়ংকর ঋণ।
সিজদা শুধু যথেষ্ট নয়
যদি অন্তর কালো হয়,
দাড়ি-টুপি, বাহির ভদ্রতা—
হক নষ্টে সবই ক্ষয়।
কারো টাকা আটকে রেখে
কেমন করে ঘুমাস সুখে?
কারো কান্নার উপর দাঁড়িয়ে
কেমন করে হাসিস মুখে?
একটা শ্রমিক ঘাম ঝরালো,
মজুরি তার দিলি না,
একটা এতিম চেয়ে রইল,
অধিকারটা মিলল না।
একটা বন্ধু ভরসা করে
হাত বাড়ালো ভালোবেসে,
তুই-ই তারে কষ্ট দিলি
লোভের আগুন বুকে মেখে।
কেউ রাত জাগে পাওনার আশায়,
কেউ ফোন করে শতবার,
“আজকে দিব”, “কালকে দিব”—
মিথ্যা শুধু বারংবার।
সেই দীর্ঘশ্বাস, সেই কান্না
আসমানে যায় চুপিসারে,
মজলুমের আর্তনাদ নাকি
থাকে না কোনো দেয়ালপারে।
তাই তো নবী শিখিয়েছেন—
“আমানত রাখো ঠিকভাবে,”
“মানুষ ঠকিয়ে জান্নাত চাওয়া
সম্ভব নয় কোনোভাবে।”
ঈমান শুধু মুখের বুলি
হলেই কিন্তু কাজ না হয়,
সৎকর্ম আর আমানতদারী
মুমিন জীবনের পরিচয়।
যে ব্যবসায়ী সত্যবাদী,
মাপে কম দেয় না কখনো,
যে কর্মচারী ফাঁকি দেয় না,
হালাল রুজি খোঁজে সদা—
যে শিক্ষকটা ন্যায় শেখায়,
ঘুষের টাকায় মন না ভরে,
যে বিচারক সত্যের পক্ষে
ভয় না পেয়ে দাঁড়ায় ঘুরে—
তাদের জন্য সুখবর আছে,
নূরের মিছিল সামনে রয়,
কারো হক না মেরে যারা
দুনিয়াতে ছিল নির্ভয়।
আর যে মানুষ বাহিরে ভালো,
ভেতরে শুধু ধোঁকার ঢেউ,
মানুষ ঠকিয়ে হাসে নিত্য—
তার পরিণাম ভয়ংকর ঢেউ।
হে মানুষ! আজও সময় আছে,
ফিরে আয় রে আলোর পথে,
কারো পাওনা থাকলে শোধ কর
বিলম্ব না করে সাথে।
কারো মনে কষ্ট দিলে
ক্ষমা চেয়ে নে বিনয়ে,
মানুষ খুশি, আল্লাহ খুশি—
জীবন ভরে শান্তি বয়ে।
গীবত যেন আগুন বিষ,
অপবাদ ভয়ংকর তীর,
একটা কথায় ভেঙে যেতে
পারে কারো জীবন-নীর।
কারো সম্মান নিয়ে খেলিস না,
কারো দুঃখ নিয়ে হাসিস না,
কারো চোখের জল ঝরিয়ে
নিজের সুখের ঘর বাঁধিস না।
মৃত্যু কিন্তু হঠাৎ এসে
ডেকে নেবে একদিন,
তখন শুধু সঙ্গে যাবে
আমল আর হকের ঋণ।
টাকা-পয়সা, দালান-কোঠা,
বন্ধুবান্ধব, বাহির রূপ—
কবরের ওই অন্ধকারে
কেউ হবে না সাথিরূপ।
তাই চল আজ হিসাব করি—
আমার কাছে কারো পাওনা?
কারো চোখের নীরব কান্না
হয়ে আছে কি অভিশাপ না?
কারো টাকা? কারো সম্মান?
কারো হক কি মেরেছি আমি?
কারো অন্তর ভেঙে দিয়ে
ঘুরছি কি আজ বেহায়াপনা নিয়ে নামি?
হে আল্লাহ! তুমি দয়া করে
অন্তরটাকে নরম করো,
লোভ-অহংকার দূরে সরিয়ে
হকের পথে দৃঢ় ধরো।
আমল দিও খাঁটি করে,
মুখে দিও সত্য বাণী,
মানুষ যেন কাঁদে না আর
আমার কারণে কোনোখানি।
মৃত্যুর আগে শোধ হোক সব
অন্যায়ের যত দেনা,
হাশরের মাঠে লজ্জায় পড়ে
কাঁদতে যেন না হয় সেথা।
ঈমান দিও অটুট করে,
সৎকর্মে দিও প্রাণ,
আমানতদার বানিয়ে রেখো—
এই হোক আজ মুমিন গান।
যেদিন সবাই ভয়ে কাঁপবে
সূর্য থাকবে মাথার কাছে,
সেদিন যেন রহমত পেয়ে
শান্তি নামে বুকের মাঝে।
নেকি নিয়ে, হকও শোধে,
দাঁড়াই যেন রবের তরে,
দেউলিয়া হয়ে না ফিরি আর
হাশরের সেই ময়দানে রে।
***
৪
৪ মন্তব্য