প্রভাষক
১৭ মে, ২০২৬ ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ
চাঁদের আলোয় রাতের আকাশে বিরল রংধনু
চাঁদের আলোয় রাতের আকাশে যে বিরল রংধনু তৈরি হয়, তাকে চন্দ্রধনু বা 'মুনবো' (Moonbow) বলা হয়. এটি প্রকৃতির অন্যতম এক চমৎকার ও দুর্লভ সৃষ্টি.
গঠন প্রক্রিয়া ও বৈশিষ্ট্যআলোর উৎস: সাধারণ রংধনু সূর্যের আলোয় তৈরি হলেও চন্দ্রধনু তৈরি হয় সরাসরি চাঁদের আলোয়.
পদ্ধতি: আলোর উৎস ভিন্ন হলেও এটি সৌর রংধনুর মতোই বাতাসে ভেসে থাকা জলকণা বা বৃষ্টির ফোঁটায় আলোর প্রতিসরণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়.অবস্থান:
এটি সর্বদা আকাশে চাঁদের বিপরীত দিকে অবস্থান করে.
রং: চাঁদের আলো সূর্যের আলোর চেয়ে অনেক দুর্বল. তাই মানুষের চোখে এর সাতটি রং সাধারণত ধরা পড়ে না এবং এটি দেখতে ধূসর বা সাদা রঙের মনে হয়. তবে দীর্ঘ এক্সপোজারের (Long exposure) ক্যামেরায় এর আসল রঙিন রূপ ফুটিয়ে তোলা সম্ভব.দেখা যাওয়ার শর্তসমূহচন্দ্রধনু বা মুনবো দেখার জন্য কিছু নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রয়োজন হয়:আকাশে উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ থাকতে হবে.আকাশকে হতে হবে একদম ঘুটঘুটে অন্ধকার এবং মেঘমুক্ত.চাঁদের অবস্থান দিগন্তের বেশ নিচে (৪২ ডিগ্রির কম উচ্চতায়) থাকতে হবে.বাতাসে প্রচুর জলকণা বা কুয়াশা থাকতে হবে.দেখার সেরা স্থানজলপ্রপাতের আশপাশে যেখানে নিয়মিত জলের ঝাপটা বা জলকণার তৈরি হয়, সেখানে চন্দ্রধনু দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে.ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত: জিম্বাবুয়ে এবং জাম্বিয়ার সীমান্তে অবস্থিত এই বিশ্বখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে পূর্ণিমার রাতে নিয়মিত এই বিরল চন্দ্রধনু দেখা যায়.
স্থানীয়রা এই জলপ্রপাতকে 'মোসি-ওয়া-তুনিয়া' বা 'বজ্রধ্বনি সৃষ্টিকারী ধোঁয়া' বলে ডাকেন.কাম্বারল্যান্ড জলপ্রপাত: আমেরিকার কেনটাকিতে অবস্থিত এই জলপ্রপাতটিও চন্দ্রধনু দেখার জন্য বেশ জনপ্রিয়.
৪
৪ মন্তব্য