সহকারী অধ্যাপক
১৭ মে, ২০২৬ ০৪:০৮ পূর্বাহ্ণ
আদম (আ.)-কে জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব দান -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
আদম (আ.)-কে জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব দান
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মানুষ ছিল নীরব মটিরই গড়া,
প্রভুর রহমতে পেল ভাষার ধারা।
শূন্য পৃথিবীতে এলো জ্ঞানের আলো,
আল্লাহ শেখালেন—“পড়ো, জানো ভালো”।
আরশের মালিক ডেকে বললেন তখন,
“আমি বানাবো প্রতিনিধি পৃথিবীর ভূবন।”
ফেরেশতা বলল—“প্রভু! এ কেমন জন?
রক্ত ঝরাবে যারা, করবে সংঘর্ষণ!”
রহমান বললেন—“যা জানো না তোমরা,
আমিই জানি সব, আছি সর্বত্র ধরা।”
তারপর আদমকে দিলেন সেই জ্ঞান,
বস্তুর পরিচয় আর ভাষার দান।
শিখালেন নাম সব—আকাশ, নদী, বাতাস,
শিখালেন অনুভব, চিন্তা, ভালোবাসা বিশেষ।
শিখালেন কেমন করে মনের কথা কয়,
কেমন করে মানুষ সত্যের পথে রয়।
ফেরেশতাদের সামনে এল সেই দিন,
আদম বললেন সব নাম অতি রঙিন।
নতমুখে ফেরেশতা বলল বিনয় ভরে—
“আপনি যা শিখান, তাই জানি শুধু রবে।”
সুবহানাল্লাহ! কী মহান সেই দান,
মানুষ পেল জ্ঞান, পেল ভাষার সম্মান।
কলমের আঁচড়ে গড়ল সভ্যতার পথ,
জ্ঞানেই মানুষ পেল মর্যাদার রথ।
সূরা রহমান যেন নূরেরই ঘোষণা,
“রহমান”—করুণার অফুরন্ত ভাষণা।
তিনি কুরআন শিক্ষা দিলেন মহীয়ান,
সৃষ্টি করলেন মানুষ, দিলেন বয়ান।
বয়ান মানে শুধু মুখের কিছু কথা নয়,
এ শক্তিতেই মানুষ বিশ্বজয়ী হয়।
হৃদয়ের ব্যথা আর আনন্দের গান,
ভাষাতেই ফুটে ওঠে জীবনের মান।
মা তার শিশুকে ডাকে মমতার সুরে,
কবি লেখে কবিতা রাতের নীরব ঘোরে।
আলেম বুঝায় দ্বীন, শিক্ষক দেয় জ্ঞান,
সবই তো “বয়ান”-এর রহমতের দান।
মানুষ চাঁদ ছুঁয়েছে, সাগর করেছে জয়,
বিজ্ঞান আজ বিশ্বজুড়ে বিস্ময়ের পরিচয়।
তবুও মূল উৎস একটিই জানি—
সব জ্ঞানের মালিক আল্লাহ সুবহানাহু তাআলাই।
যে ডাক্তার রোগ দেখে ওষুধ দেয় হাতে,
যে কৃষক ফসল ফলায় মাঠের প্রভাতে,
যে ইঞ্জিনিয়ার গড়ে অট্টালিকার সারি,
সব জ্ঞানের পেছনে রবের দয়া ভারী।
কলিজার ভেতরে যত চিন্তার ঢেউ,
প্রভুর ইশারায় জাগে, নিজে কিছু নয় কেউ।
তিনি না চাইলে মানুষ বোবা হতো,
ভাষাহীন দুনিয়াটা আঁধারে ডুবে যেতো।
তাই অহংকার কেন জ্ঞান নিয়ে ভাই?
আল্লাহ না দিলে কিছুই পাওয়া নাই।
আজ যে জ্ঞানী, কাল সে ভুলে যায় সব,
রব চাইলে মুহূর্তে থেমে যায় রথ।
জ্ঞান যদি বাড়ে আর ঈমান না রয়,
সে জ্ঞান মানুষকে ধ্বংসের পথেই লয়।
আর যদি জ্ঞানে থাকে আল্লাহর ভয়,
সে জ্ঞান দুনিয়া-আখিরাতে কল্যাণময়।
হে প্রভু! তুমি দাও উপকারী জ্ঞান,
যে জ্ঞানে জাগে শুধু সত্যেরই গান।
যে জ্ঞানে মানুষ হয় বিনয়ী ও নরম,
যে জ্ঞানে জাগে হৃদয়, দূরে যায় ধরম।
দাও এমন ভাষা—কাউকে না কষ্ট দেয়,
দাও এমন কলম—সত্যের কথা কয়।
দাও এমন হৃদয়—ক্ষমা করতে জানে,
দাও এমন জীবন—তোমার পথে টানে।
আদমের সে শিক্ষা আজও বহমান,
প্রজন্মে প্রজন্মে ছড়ায় জ্ঞানের গান।
কুরআনের আলোতে যে হৃদয় জাগে,
অন্ধকার পৃথিবীতেও সে নূর খুঁজে পাবে।
মাদরাসার শিশুটি যখন কুরআন পড়ে,
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক যখন জ্ঞান গড়ে,
দু’জনের পথ যদি আল্লাহর দিকে যায়,
তবেই সেই জ্ঞান সফলতা পায়।
এই দুনিয়ার যত আবিষ্কার মহান,
সবই তো প্রভুর দেওয়া সামান্য জ্ঞান।
মানুষ যত জানে, তত বুঝে শেষে—
রবের জ্ঞানের সামনে ক্ষুদ্র সবকিছুই যে।
তাই মাথা নত করি মহান রবের তরে,
যিনি ভাষা দিলেন মনের কথা ঝরে।
যিনি জ্ঞান দিলেন অন্ধকারে আলো,
যিনি মানুষ গড়লেন সৃষ্টির মাঝে ভালো।
হে আল্লাহ! রাখো আমাদের সত্যের পথে,
ভাষাকে রেখো তুমি কল্যাণের রথে।
জ্ঞানকে করো নূর, অহংকার নয়,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের জয়।
কুরআনের প্রতিটি আয়াত নূরের দিশা,
মানুষকে শেখায় জীবনের ভাষা।
যে বুঝে এ বাণী, সে হারায় না আর,
রবের জ্ঞানের আলোয় হয় উজ্জ্বল তার সংসার।
সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস তুমি মহান,
তুমি ছাড়া নেই কারো স্বাধীন জ্ঞান।
হে রহমান! হে রহীম! রাখো দয়া ভরে—
মানবতা জাগুক কুরআনের নূরের ঘরে॥
জ্ঞানের আলো প্রথম যখন
নামল ধরণীপৃষ্ঠে,
মাটির মানুষ প্রাণ পেলো
রহমতেরই দৃষ্টে।
আদম তখন নীরব ছিলেন,
শব্দ ছিল না মুখে,
রহমান তাঁকে ভাষা দিলেন
করুণাভরা সুখে।
“আল্লামাল ইনসানা মা লাম ইয়ালাম”—
প্রভুর মহান বাণী,
অজ্ঞ প্রাণে জ্বালালেন তিনি
জ্ঞান-সূর্যের পানি।
অন্ধকারে ডুবে থাকা
পৃথিবী হলো জাগ্রত,
মানুষ পেলো চিন্তার শক্তি,
হলো বিবেক প্রাপ্ত।
ফেরেশতারা অবাক হয়ে
তাকিয়ে ছিল চেয়ে,
“এ কেমন সৃষ্টি পৃথিবীতে
পাঠালে তুমি দিয়ে?
রক্ত ঝরাবে, সৃষ্টি করবে
অশান্তিরই ঢেউ!”
রব বলিলেন—“যা জানো না,
তা-ও জানি আমি ঢেউ।”
তারপর এল সেই মহামুহূর্ত,
নূরের ভরা ক্ষণ,
আদমকে দিলেন আল্লাহ
জ্ঞানের অফুরন্ত ধন।
শিখালেন নাম সবকিছুর—
নদী, পাহাড়, তারা,
শিখালেন কেমন ভাষায় মানুষ
ভাব প্রকাশ করে সারা।
গাছের পাতা, ফুলের ঘ্রাণ,
মেঘের গর্জন ধ্বনি,
সবকিছুরই পরিচয় দিলেন
প্রভু মহাজ্ঞানী।
আদম তখন দাঁড়িয়ে গেলেন
ফেরেশতার মাঝে,
নামের ধারা উচ্চারণে
বিস্ময় এলো সাজে।
নতমুখে সব ফেরেশতা
বলল কাঁপা স্বরে—
“আপনি ছাড়া জ্ঞান আমাদের
নেই তো কিছু রে।
আপনি যেটুকু শিখিয়েছেন,
ততটুকুই জানি,
আপনার জ্ঞান সীমাহীন,
আপনি মহাজ্ঞানী।”
সেই থেকে আজ মানবজাতি
জ্ঞান দিয়ে পথ চলে,
ভাষার টানে হৃদয় খুলে
স্বপ্ন বুনে দলে দলে।
কলম হাতে কবি লেখে,
বিজ্ঞানী করে গবেষণা,
সবকিছুরই মূল যে আল্লাহ—
এটাই সত্য ঘোষণা।
সূরা রহমান মধুর সুরে
ঘোষণা করে যায়—
“রহমান কুরআন শিক্ষা দিলেন,
মানুষ সৃষ্টি করায়।
তারপর দিলেন বয়ান শক্তি,
ভাষার অপার দান,”
এই ভাষাতেই মানুষ পেলো
সভ্যতার সম্মান।
ভাষা শুধু শব্দ নয় ভাই,
ভাষা হৃদয়ের সেতু,
ভাষা দিয়ে মা ডাক শোনা,
ভাষা ভালোবাসার কেতু।
ভাষা দিয়ে আলেম বোঝান
কুরআনের তাফসির,
ভাষা দিয়ে মজলুম মানুষ
জানায় ব্যথার নকশীর।
ভাষা দিয়ে শিশুর মুখে
ফোটে প্রথম হাসি,
ভাষা দিয়ে প্রেমিক লেখে
অপেক্ষার উদাসী।
ভাষা দিয়ে জাতি গড়ে,
ভাষা দিয়ে গান,
ভাষা ছাড়া মানুষ যেন
প্রাণহীন বিরান।
মানুষ আজ মহাকাশ ছুঁয়েছে,
চাঁদে বসায় পা,
সাগর পাড়ি, প্রযুক্তি গড়ে
বিস্ময় ছড়ায় যা।
তবু মানুষ যতই জানুক,
শেষে বুঝে ঠিক—
রবের জ্ঞানের সাগর সামনে
নিজের জ্ঞান ক্ষীণ।
একটি বীজে গাছের রহস্য,
এক ফোঁটা জলে প্রাণ,
মানুষ কি তা সৃষ্টি করেছে?
সবই প্রভুর দান।
ডাক্তার যত চিকিৎসা করুক,
শিফা দেন আল্লাহ,
কৃষক যত ফসল ফলাক,
বরকত দেন আল্লাহ।
শিক্ষক যত জ্ঞান বিলাক,
বোঝার শক্তি কে দেয়?
মায়ের কোলের শিশুটিকে
ভাষা শিখায় কে হে?
সব প্রশ্নের উত্তর একটি—
রহমান ও রহীম,
তাঁর ইচ্ছাতেই জগত চলে,
তাঁর করুণা অগাধ সীম।
জ্ঞান পেয়ে তাই অহংকারে
ভুলে যেয়ো না রব,
ফিরাউনেরও ছিল ক্ষমতা,
ছিলো সোনার রথ।
অহংকারে ডুবে গিয়ে
হারালো সে সব,
আল্লাহ ছাড়া টিকেনি কিছু,
ভেঙে গেছে রব।
যে জ্ঞানে নেই আল্লাহভীতি,
সে জ্ঞান অন্ধকার,
সে জ্ঞান মানুষ ধ্বংস করে,
আনে শুধু ভার।
আর যে জ্ঞানে ঈমান থাকে,
মানবতার আলো,
সে জ্ঞান মানুষকে শেখায়
ভালোবাসতে ভালো।
হে আল্লাহ! দাও সে জ্ঞান
যে জ্ঞান হৃদয় জাগায়,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ
সাহস নিয়ে দাঁড়ায়।
দাও এমন ভাষা, কারো মনে
যেন না লাগে ক্ষত,
সত্য বলি, ন্যায় বলি,
হোক কলম পবিত্র।
দাও এমন মন—ক্ষমা করতে
যে মন সদা চায়,
দাও এমন প্রাণ—তোমার পথে
সারা জীবন যায়।
দাও এমন জ্ঞান—মানুষ যেন
মানুষকে ভালোবাসে,
হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে
শান্তির বীজ রোপে আসে।
আদম হতে আজ পর্যন্ত
জ্ঞানধারা বহমান,
কুরআনেরই আলো ছড়িয়ে
জাগে মুসলিম প্রাণ।
মাদরাসা আর বিদ্যালয়ে
যেখানে জ্ঞানের জয়,
সেখানে যদি রবের ভয় থাকে
তবেই কল্যাণময়।
সূর্য-চন্দ্র হিসাব মেনে
চলছে অবিরাম,
তারকারাও সিজদা করে
শুনে প্রভুর নাম।
পাহাড়-নদী, গাছের ডালে
প্রকৃতির প্রতিটি সুর,
সবাই যেন বলছে নীরব—
“আল্লাহ মহান, গফুর।”
কুরআনের প্রতিটি আয়াত
জ্ঞানের দীপশিখা,
যে হৃদয়ে এ আলো জ্বলে
সে পায় মুক্তি-দীক্ষা।
অন্ধকারেও সে মানুষটি
খুঁজে পায় নূরের পথ,
কারণ তার প্রাণে জেগে থাকে
রবের পবিত্র রথ।
তাই মাথা নত করি আজ
সেই মহান প্রভুর তরে,
যিনি মানুষ সৃষ্টি করে
জ্ঞান দিলেন অন্তরে।
যিনি ভাষা দিলেন মুখে,
কলম দিলেন হাতে,
যিনি মানুষকে সম্মান দিলেন
সকল সৃষ্টির সাথে।
সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস
তুমিই হে আল্লাহ মহান,
তুমি ছাড়া নেই তো কারো
স্বাধীন কোনো জ্ঞান।
হে রহমান! হে রহীম!
দয়া রেখো অন্তরে,
মানবতা জাগুক আবার
কুরআনেরই নূরের ঘরে॥
***
মহান রবের নামে শুরু করি বাণী,
যিনি জ্ঞানের সাগর, করুণার খনি।
সূরা বাকারাহ খুলে দেয় দ্বার,
মানুষ কেন সৃষ্টির মাঝে এত সম্মানধার।
মাটির দেহে নীরব মানুষ,
ছিল না কোনো ভাষার আবেশ।
রহমান তখন রহমত ভরে
দিলেন জ্ঞানের অনন্ত রেশ।
“আল্লামা আদামাল আসমা”—
নূরের মতো বাণী,
আদমকে শেখালেন প্রভু
সবকিছুর পরিচয়খানি।
আকাশ কাকে বলে তখন,
কী নদী আর কী সাগর,
কীভাবে কথা বলতে হয়,
কীভাবে বুঝাতে অন্তর।
শিখালেন শব্দ, শিখালেন ধ্বনি,
শিখালেন ভাবের ভাষা,
শিখালেন কেমন করে মানুষ
ভালোবাসে নিরাশা।
ফেরেশতারা অবাক হয়ে
চেয়ে রইল নীরব,
মানুষ নামে এ কোন সৃষ্টি—
জ্ঞানে এতই গরব!
তারা বলল—“হে রব আমাদের!
এ কেমন প্রতিনিধি?
পৃথিবীতে রক্ত ঝরাবে,
ছড়াবে বিভেদ-বীজই।”
রব তখন বললেন ধীরে—
“যা জানো না, জানি আমি,
আমার জ্ঞানে সৃষ্টি জগৎ,
আমার জ্ঞানে নামি।”
তারপর এল সেই মুহূর্ত
ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ,
আদম বললেন নাম সবকিছুর
অতীব মধুর স্পষ্ট।
ফেরেশতারা মাথা নত করে
বলল বিনয়ভরে—
“আপনি ছাড়া কোনো জ্ঞান
নেই তো আমাদের তরে।”
সুবহানাল্লাহ! কী মহিমা!
কী অপার সে দান!
জ্ঞান দিয়েই মানুষ পেল
সৃষ্টির মাঝে সম্মান।
সূরা রহমান খুলে দিলো
আরেক রহস্যদ্বার,
“আর-রহমানু আল্লামাল কুরআন”—
করুণার অফুরন্ত ধার।
তিনি মানুষ সৃষ্টি করলেন,
তারপর দিলেন “বয়ান”,
এই বয়ানেই ফুটে ওঠে
মানুষের পরিচয় মহান।
ভাষা শুধু শব্দ নয়,
ভাষা হৃদয়ের আলো,
ভাষা ছাড়া মানুষ হতো
নিঃসঙ্গ, দিশেহারা কালো।
মায়ের মুখের মধুর ডাকে
ভাষা জাগে প্রাণে,
শিশুর প্রথম “মা” ডাকেতে
করুণা নামে টানে।
ভাষা দিয়ে কবি লেখে
রাত্রিজাগা গান,
ভাষা দিয়ে আলেম বোঝায়
কুরআনের জ্ঞান।
ভাষা দিয়ে মজলুম মানুষ
জানায় বুকের ব্যথা,
ভাষা দিয়েই সত্যবাদী
উচ্চারণ করে কথা।
কলম যখন হাতে উঠে
জ্ঞান তখন জ্বলে,
সভ্যতার সব ইতিহাস
লেখা হয় সেই ছলে।
মানুষ আজ মহাকাশে
রকেট নিয়ে যায়,
সাগর পাড়ি, পাহাড় চূড়া
জয়ের পতাকা গায়।
কম্পিউটার আর প্রযুক্তিতে
দুনিয়া আজ বিস্ময়,
তবু মানুষ বুঝে শেষে—
রব ছাড়া কিছু নয়।
একটি চোখের গঠন দেখে
বিজ্ঞান থমকে রয়,
একটি মস্তিষ্ক কেমন করে
ভাবনার নদী বয়!
একটি হৃদয় সারাক্ষণ
চলছে নিঃশব্দে,
কে দিলো তার গতি বলো
এ নিখুঁত নিয়মে?
ডাক্তার শুধু চেষ্টা করে,
শিফা দেন আল্লাহ,
কৃষক শুধু বীজ বোনে,
ফসল দেন আল্লাহ।
শিক্ষক শুধু পাঠ পড়ান,
বোঝার শক্তি কে দেয়?
বিজ্ঞানী শুধু খোঁজে পথ,
রহস্য খুলে কে হে?
সব প্রশ্নের উত্তর এক—
রহমান ও রহীম,
তাঁর করুণায় জগত ভাসে,
তাঁর জ্ঞান অসীম।
তাই জ্ঞান পেয়ে অহংকারে
ভুলে যেয়ো না রব,
ফিরাউনেরও ছিল রাজ্য,
ছিল মহাশক্তির রথ।
অহংকারে ডুবে গিয়ে
সব হারালো শেষে,
রবের সামনে টিকেনি কিছু
ক্ষমতারই বেশে।
যে জ্ঞানে নেই আল্লাহভীতি
সে জ্ঞান ভয়ংকর,
সে জ্ঞান মানুষ ধ্বংস করে,
জ্বালায় অশান্তির ঘর।
আর যে জ্ঞানে ঈমান থাকে,
মানবতার গান,
সে জ্ঞান দুনিয়া আখিরাতে
হয়ে ওঠে কল্যাণ।
হে আল্লাহ! দাও সে জ্ঞান
যে জ্ঞান হৃদয় ভেজায়,
অন্যায়ের সামনে মানুষ
সাহস নিয়ে দাঁড়ায়।
দাও এমন ভাষা প্রভু
যাতে নেই অপমান,
যে ভাষাতে শান্তি ঝরে,
জাগে প্রেম-ঈমান।
দাও এমন কলম হাতে
লিখি সত্যের বাণী,
মিথ্যার পথে না যাই কভু,
থাকি সৎজ্ঞানী।
দাও এমন মন, কষ্ট পেয়ে
ক্ষমা করতে জানে,
দাও এমন প্রাণ, তোমার প্রেমে
অশ্রু ঝরে টানে।
মাদরাসাতে শিশু যখন
নূরানি কুরআন পড়ে,
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক যখন
জ্ঞান খোঁজে গভীরে,
দু’জন যদি তোমায় মানে
তোমারই ভয় করে,
তবেই সেই জ্ঞান সফল হয়
দুই জাহানের তরে।
সূর্য-চাঁদ হিসাব মেনে
চলছে অবিরাম,
তারারাও নীরবে করে
প্রভুরই ইহতিরাম।
গাছের পাতায় শিশিরবিন্দু,
পাখির কূজনধ্বনি,
সবকিছুতেই জ্বলজ্বল করে
রবের মহাজ্ঞানি।
কুরআনের প্রতিটি আয়াত
নূরের দীপশিখা,
যে হৃদয়ে এ আলো জ্বলে
সে পায় সত্যদীক্ষা।
অন্ধকারেও সে মানুষটি
হারায় না পথখানি,
কারণ তার অন্তরে জাগে
রবের দেওয়া বাণী।
আদম হতে আজ পর্যন্ত
জ্ঞানের নদী বয়,
মানুষ যত জানছে তত
রবের মহিমা কয়।
মহাবিশ্বের কোটি তারা,
অগণিত গ্রহলোক,
সবকিছুরই স্রষ্টা যিনি
তাঁরই কুদরতি শোক।
মানুষ শুধু খুঁজে ফেরে
রহস্যেরই দ্বার,
আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার
জ্ঞানের নেই অধিকার।
তাই মাথা নত করি আজ
মহান রবের তরে,
যিনি ভাষা দিলেন মুখে,
জ্ঞান দিলেন অন্তরে।
যিনি মানুষ সৃষ্টি করে
করলেন সম্মানিত,
সকল সৃষ্টির মাঝে মানুষ
হলো জ্ঞানে ভূষিত।
হে রহমান! হে দয়াময়!
রাখো নূরের পথে,
জ্ঞানে যেন অহংকার না
জন্মে কোনো মতে।
জ্ঞান যেন হয় সেবার আলো,
মানবতার গান,
ভাষা যেন ছড়ায় শুধু
সত্য আর ঈমান।
সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস
তুমিই হে মহান,
তুমি ছাড়া নেই তো কারো
স্বাধীন কোনো জ্ঞান।
তোমার কুরআন চিরকাল
মানবতার দিশা,
তোমার বাণী জাগিয়ে রাখে
হৃদয়েরই আশা।
হে আল্লাহ! মানবজাতি
ফিরুক তোমার ঘরে,
জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাক
দুনিয়ার অন্তরে।
মানুষ যেন মানুষ হয়ে
মানুষকেই ভালোবাসে,
কুরআনের নূর নিয়ে আবার
শান্তির পৃথিবী গড়ে আসে॥
সূরা আল-বাকারাহ (আয়াত ৩১-৩৩) এবং সূরা আর-রহমানের (আয়াত ১-৪)
৪
৪ মন্তব্য