Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ মে, ২০২৬ ০৪:০৫ পূর্বাহ্ণ

প্রতিকূলতা ও অসহযোগীতায় .. -ঝুকি মোঃ মুজিবুর রহমান

প্রতিকূলতা অসহযোগীতায় ..ঝুকি
মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

নিপীড়ন আসে, বঞ্চনা আসে,
অসহযোগিতার দেয়াল ভেসে আসে পাশে,
মানুষ তখন ভাবে— “সব বুঝি শেষ!”
কিন্তু ঝড়ই তো শেখায় দাঁড়াতে অবশেষ।

যে মানুষ আগুন পেরোয়,
সে- তো আলো হয়ে ফের জ্বলে রয়।
যে বুক কাঁদে রাতের আঁধারে,
সেই বুকই একদিন হাসে বিজয়ের দ্বারে।

হে পথিক, থেমো না তুমি,
অভিমান জমলেও থামিও না ভূমি।
কারণ পাহাড়ও নত হয় শেষে,
যদি মানুষ এগোয় সাহসের বেশে।

নিন্দুকেরা বলবে হাজার কথা,
হৃদয়ে ঢালবে বিষাদ ব্যথা,
কেউ বলবে— “তুমি পারবে না আর,
কেউ টেনে ধরবে স্বপ্নের দ্বার।
তবু তুমি আকাশের দিকে তাকাও,
রবের উপর ভরসা রাখাও।

কারণ রাত যতই দীর্ঘ হোক না কেন,
ফজরের আলো ঠিকই আসে তখন।
অন্ধকার যত গভীর হয়,
আলোর আগমন তত নিকট রয়।

বঞ্চিত মানুষ যদি ভেঙে না পড়ে,
তবে একদিন ইতিহাস গড়ে।
যে মানুষ কষ্টে থেকেও হাসতে জানে,
সে- তো বিজয় ছিনিয়ে আনে।

ঝড়কে ভয় পেলে নৌকা চলে না,
আঘাত না পেলে মানুষ গড়ে না।
পথে যদি কাঁটা না থাকে,
তবে সফলতার মুকুট কিসে আঁকে?

অনেকেই পাশে থাকার ভান করে,
প্রয়োজনে সরে যায় দূরে।
কেউ কেবল সুবিধা নিতে আসে,
স্বার্থ ফুরোলেই হারায় বাতাসে।
তখন হৃদয় কেঁপে ওঠে নীরব ক্ষোভে,
চোখের কোণে জমে ব্যথা অভাবে।

তবু হে মানুষ, কেঁদে থেমো না,
ভাঙা হৃদয় নিয়ে নত হয়ো না।
যে তোমাকে ফেলেছে আঁধার গহ্বরে,
তুমি জ্বলে উঠো নক্ষত্র হয়ে আকাশের উপরে।

প্রতিকূলতা হলো জীবনের পরীক্ষা,
ধৈর্য যার আছে, সে- পায় দীক্ষা।
হোঁচট খেয়ে যে আবার উঠে দাঁড়ায়,
জয় একদিন তার দোরগোড়ায়।

ঝুঁকি ছাড়া বড় কিছু হয় না কভু,
সাহসীদের দিকেই তাকান প্রভু।
যে নিজেকে বদলাতে জানে,
ভাগ্যও একদিন তার হাতেই টানে।

নিজেকে গড়ো জ্ঞান আর কর্মে,
দৃঢ় হও সততা ধর্মে।
অন্যায় দেখে মাথা নত নয়,
সত্যের পথে থাকাই বড় জয়।

হয়তো আজ তুমি একা খুব,
চারপাশে কেবল অবহেলার ধূব।
তবু মনে রেখোবীজ একাই থাকে মাটির তলে,
তারপর একদিন বিশাল বৃক্ষ দোলে।

যে মানুষ কষ্টকে শক্তি বানায়,
সময় তাকে সম্মান জানায়।
যে পড়ে গিয়েও হার মানে না,
দুনিয়ার কোনো শক্তি তাকে থামায় না।

তাই এগিয়ে চলো দৃঢ় পায়ে,
আত্মবিশ্বাস রাখো হৃদয় গাঁয়ে।
ভালো কাজ কখনও হারায় না,
ধৈর্যের ফল বৃথা যায় না।

হিংসা, ঘৃণা, অবহেলা যত,
সফলতার পথে সবই ক্ষণিক রথ।
আজ যারা তোমায় তুচ্ছ ভাবে,
কাল তারাই বিস্ময়ে তাকাবে।

নিপীড়নের অন্ধকার ভেদ করে যারা উঠে,
তারাই তো দীপ্তিমান হয় পৃথিবীর মুখে।
কষ্টের আগুনে পুড়ে যে খাঁটি হয়,
তার জীবনেই মহিমার জয়।

হে আল্লাহ, তুমি সাহস দাও,
ভাঙা হৃদয়ে নতুন আলো জ্বালাও।
বিপদের মাঝেও ঈমান অটুট রাখো,
সৎ পথে চলার শক্তি দাও।

যেন বঞ্চনা ঘৃণায় না ভাসায়,
অন্যায়ের জবাব অন্যায়ে না আসায়।
বরং ধৈর্য, জ্ঞান আর প্রজ্ঞার আলোয়,
মানুষ হেঁটে চলে সফলতার পালোয়।

হে রব, যারা কষ্টে আছে,
তাদের হৃদয়ে শান্তি দাও কাছে।
যারা অবহেলায় দিন কাটায় নীরব,
তাদের জীবন করো সম্মানে উজ্জ্বল।

কারণ তুমি চাইলে মরুভূমিতেও ফুল ফোটে,
ডুবন্ত প্রাণও ফিরে আসে নতুন রথে।
তুমি চাইলে ব্যর্থ মানুষও জিতে যায়,
অন্ধকার শেষে নতুন সূর্য উঠে দাঁড়ায়।

তাই ভয় নয়, হতাশা নয়,
বিশ্বাস হোক জীবনের পরিচয়।
প্রতিকূলতাকে পায়ের নিচে রেখে,
এগিয়ে চল মানুষ ভবিষ্যতের ডাকে।

একদিন সব কষ্ট হবে স্মৃতি,
বিজয়ের হাসিতে ভরবে গীতি।
মানুষ বলবে— “সে হার মানেনি কভু,
আর আসমানে রহমত দিবেন মহান প্রভু।

আমিন।



নিপীড়নের আগুনে পুড়ে যে মানুষ,
সে- তো একদিন হয় দীপ্ত আভাস।
বঞ্চনার কাঁটা বুকে নিয়ে যে হাঁটে,
সফলতার ফুল ফোটে তারই হাতে।

অসহযোগিতার কঠিন দেয়াল,
বারবার করে পথকে বেহাল।
তবু যে থামে না ঝড়ের ভয়েতে,
সেই তো পৌঁছে যায় বিজয়ের শিখেতে।

মানুষের জীবন নদীর মতন,
কখনো শান্ত, কখনো ভয়াল গহন।
কখনো স্রোত বয়ে যায় অনুকূলে,
কখনো ঢেউ উঠে প্রতিকূলে।
তবু নাবিক যদি দাঁড় টেনে যায়,
তীর একদিন ঠিকই ধরা দেয়।

কত আপন মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়,
কত বিশ্বাস ভেঙে ধুলোয় মিশে যায়।
কত মিথ্যা অপবাদ আসে কানে,
কত অবহেলা জমে বুকের টানে।
তবু হে হৃদয়, ভেঙে যেও না আর,
আল্লাহর রহমত তো সীমাহীন অপার।

যে কাঁদে নীরবে রাতের শেষে,
তার চোখেই সূর্য ওঠে হেসে।
যে মানুষ ধৈর্য ধরে কষ্ট সয়,
জীবনের ময়দানে শেষ হাসি তারই হয়।

নিন্দুকেরা যতই বিষ ছড়াক,
হৃদয়ে ততই সাহস জাগাক।
কারণ অন্ধকার যত বাড়ে ধীরে,
প্রভাত তত কাছে আসে নীরে।

ঝুঁকি ছাড়া স্বপ্ন পূরণ হয় না,
সংগ্রাম ছাড়া মানুষ বড় হয় না।
হাজার ব্যর্থতা পথ আটকালেও,
দৃঢ় মন কখনো থামে না ঢেউ।

হয়তো আজ তোমার হাতে শূন্যতা,
চারদিকে কেবল অবহেলার নীরবতা।
তবু মনে রেখোশুকনো মাটির বুকে,
একদিন সবুজ অঙ্কুরও ফোটে সুখে।

যে মানুষ প্রতিকূলতায় হারায় না দিশা,
তার জীবনেই জ্বলে আশার নিশা।
যে পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়ায় বারবার,
জয়ের মুকুট পরে সেই অধিকার।

মানুষের কটু কথা শুনে থেমো না,
মিথ্যা অপবাদে নিজেকে ভেঙো না।
কারণ যারা সত্যের পথে চলে,
তাদের আলো কখনো নিভে না কালে।

বঞ্চনা যদি হৃদয় পোড়ায়,
তবে সেই আগুনই শক্তি গড়ায়।
অসহযোগিতা যদি পথ রোধ করে,
সাহস তখন পথ বানায় অন্ধকার ঘিরে।

কেউ তোমার কষ্ট বুঝবে না হয়তো,
কেউ পাশে দাঁড়াবে না সময়মতো।
তবু আকাশের মালিক আছেন জেগে,
তিনি দেখেন সব নীরব চোখ মেলে।

হে মানুষ, নিজের শক্তিকে চিনো,
হতাশার দেয়াল ভেঙে ফেলো দিনো।
নিজেকে গড়ো জ্ঞান আর কর্মে,
সফলতা আসবেই ধৈর্যের ধর্মে।

আজ যে তোমাকে তুচ্ছ ভাবে,
কাল সে- বিস্ময়ে তাকাবে।
আজ যে হাসে তোমার ব্যর্থতায়,
কাল সে- হারাবে তোমার উচ্চতায়।

ইতিহাস কখনো সহজে গড়ে না,
সংগ্রাম ছাড়া মহত্ত্ব আসে না।
যারা দুঃখের সাথে যুদ্ধ করে,
তারাই তো নক্ষত্র হয়ে জ্বলে ঘরে ঘরে।

একটি বীজও থাকে মাটির নিচে,
অন্ধকারে, নীরব কষ্টের পিছে।
তারপর একদিন মাথা তুলে দাঁড়ায়,
বিশাল বৃক্ষ হয়ে ছায়া বিলায়।

তুমিও তেমনই ধৈর্য ধরো,
ঝড়ের মাঝেও আশা ভরো।
কারণ আল্লাহ যদি সহায় হন,
বন্ধ দরজাও খুলে যায় তখন।

হে রব, তুমি শক্তি দাও,
ভাঙা হৃদয়ে নতুন স্বপ্ন জাগাও।
নিপীড়নের অন্ধকার দূরে সরাও,
হতাশ প্রাণে আশার আলো জ্বালাও।

যেন অন্যায়ের বদলে অন্যায় না আসে,
বরং ক্ষমা ফুটুক মানবতার হাসে।
যেন প্রতিশোধ নয়, ধৈর্য জাগে প্রাণে,
সত্যের পথে চলি দৃঢ় ঈমানে।

হে প্রভু, যারা কষ্টে আছে নিরবধি,
তাদের জীবনে দাও সুখের নদী।
যারা অবহেলায় চোখের জল ফেলে,
তাদের হৃদয় ভরাও রহমতের মেলে।

কারণ তুমি চাইলে পাথরেও ফুল ফোটে,
মৃত হৃদয়ও নতুন স্বপ্নে ছোটে।
তুমি চাইলে ডুবে যাওয়া মানুষও ভাসে,
হারানো আলো আবার ফিরে আসে।

তাই ভয় কোরো না প্রতিকূল সময়কে,
হতাশা দিও না হৃদয়ের দ্বারকে।
সাহস নিয়ে এগিয়ে চলো সামনে,
বিশ্বাস রাখো মহান রবের নামে।

একদিন দুঃখ হবে পুরোনো স্মৃতি,
হাসিমুখে লিখবে জীবনের গীতি।
মানুষ বলবে— “সে হার মানেনি কভু,
আর রহমত বর্ষাবেন মহান প্রভু।

নিপীড়নের কালো রাত শেষে,
সফলতার সূর্য উঠবেই হেসে।
যে মানুষ আশা হারায় না প্রাণে,
জয় একদিন আসে তারই টানে।

আমিন।

***

প্রতিকূলতার কালো মেঘে ঢেকে গেলে আকাশ,
মানুষ ভাবেবুঝি থেমে গেল সর্বনাশ।
চারদিকে শুধু অবহেলা আর দীর্ঘশ্বাস,
বুকের ভিতর জমে থাকে নীরব হতাশ।

তবু জীবন তো থেমে থাকার নাম নয়,
ঝড়ের ভিতর দিয়েই খুঁজে নিতে হয় জয়।
নিপীড়নের আগুন মানুষকে পোড়ায় ঠিকই,
কিন্তু সেই আগুনেই গড়ে ওঠে শক্তি।

বঞ্চনার কাঁটা বিঁধে যায় হৃদয়ের গভীরে,
অসহযোগিতার দেয়াল দাঁড়ায় ধীরে ধীরে।
মানুষ তখন একা হয়ে পড়ে নিরুপায়,
স্বপ্নগুলোও যেন ভেঙে ধুলোয় মিশে যায়।

কেউ বুঝতে চায় না বুকের গোপন ব্যথা,
কেউ শুনতে চায় না চোখের নীরব কথা।
বরং ব্যর্থতার হিসাব কষে সবাই,
হাসিমুখে আঘাত দিয়ে চলে যায় তাই।

তবু হে মানুষ, থেমো না মাঝপথে,
অন্ধকার থাকলেও হাঁটো আলোর রথে।
কারণ পাহাড়সম বাধাও একদিন হার মানে,
যদি মানুষ অটল থাকে ঈমান আর প্রাণে।

ঝড়ের কাছে নত হলে নৌকা ডুবে যায়,
সাহস নিয়ে দাঁড়ালে তীরও ধরা দেয়।
জীবন মানেই তো সংগ্রামের গল্প লেখা,
অশ্রুর ভিতর দিয়েই হাসির পথ দেখা।

যে মানুষ কষ্টকে শক্তি বানাতে জানে,
সে- তো বিজয়ের মালা পরে প্রাণে।
যে পড়ে গিয়েও আবার উঠে দাঁড়ায়,
ইতিহাস একদিন তাকেই মনে রাখায়।

নিন্দুকেরা বলবে— “তুমি পারবে না আর,
স্বপ্নের পথে বসাবে হাজার দেয়াল-দ্বার।
কেউ হিংসা করবে, কেউ অবহেলা,
কেউ আবার ছড়াবে মিথ্যা বেদনার খেলা।

তবু তুমি মাথা উঁচু করে চলো,
রবের রহমতের দিকে চোখ মেলো।
কারণ মানুষের বিচার ক্ষণিকের হয়,
আল্লাহর দরবারে সত্যেরই জয়।

কত রাত কেঁদে কাটে নিঃশব্দ অন্ধকারে,
কত দীর্ঘশ্বাস হারিয়ে যায় বাতাসের ধারে।
তবু ফজরের আলো ঠিকই আসে শেষে,
আশার সূর্য আবার ওঠে হেসে।

একটি বীজও মাটির নিচে পড়ে থাকে,
চারদিকে অন্ধকার তাকে ঘিরে রাখে।
তবু সে হার মানে না নীরব ক্ষয়ে,
একদিন মহীরুহ হয় পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে।

তুমিও তেমনই ধৈর্য রাখো প্রাণে,
সাহস রেখো প্রতিটি সংগ্রামের টানে।
কারণ সময় কখনো একরকম রয় না,
দুঃখের নদীও চিরকাল বয়ে যায় না।

ঝুঁকি ছাড়া বড় কোনো স্বপ্ন পূরণ হয় না,
সংগ্রাম ছাড়া মানুষ পূর্ণ মানুষ হয় না।
যে ভয় পেয়ে পিছিয়ে পড়ে যায়,
সে কখনো বিজয়ের মুকুট পায় না।

হিসাব করে সাহস নিয়ে সামনে বাড়ো,
ভাঙা মনকে আবার নতুন করে গড়ো।
নিজেকে উন্নত করো জ্ঞান আর কর্মে,
দৃঢ় থাকো সততা আর সত্যের ধর্মে।

অন্যের অবহেলার জবাব প্রতিশোধ নয়,
নিজের সফলতাই সবচেয়ে বড় জয়।
যারা তোমাকে তুচ্ছ ভেবেছিল কভু,
একদিন তারাই অবাক হয়ে বলবে— “অদ্ভুত!”

মানুষের কষ্ট কেউ পুরো বুঝে না,
বুকের গভীর ক্ষত কেউ দেখে না।
তবু আকাশের মালিক সব দেখেন,
নীরব কান্নাগুলোও তিনি শোনেন।

হে আল্লাহ, তুমি ধৈর্য দাও,
ঝড়ের মাঝেও দৃঢ় থাকার শক্তি দাও।
ভাঙা হৃদয়ে নতুন আশার আলো দাও,
হতাশ প্রাণে আবার স্বপ্ন জাগাও।

যেন বঞ্চনা মানুষকে নিষ্ঠুর না বানায়,
অন্যায়ের জবাব অন্যায় দিয়ে না চায়।
বরং ক্ষমা, ধৈর্য আর প্রজ্ঞার আলোয়,
মানুষ চলুক সত্য কল্যাণের পালোয়।

হে রব, যারা আজ কষ্টে আছে,
তাদের জীবনে রহমতের বৃষ্টি নামাও কাছে।
যারা অবহেলায় দিন কাটায় নিরব,
তাদের মুখে ফুটিয়ে দাও সুখের হাসির রব।

কারণ তুমি চাইলে শূন্য হাতও ভরে যায়,
হারানো জীবনও নতুন পথ খুঁজে পায়।
তুমি চাইলে মরুভূমিতেও নদী বয়,
অন্ধকারের বুক চিরেও আলো উদয় হয়।

তাই ভয় নয়, হতাশা নয়,
বিশ্বাস হোক মানুষের পরিচয়।
প্রতিকূলতাকে পায়ের নিচে রেখে,
এগিয়ে চল ভবিষ্যতের ডাকে।

একদিন সব কান্না রূপ নেবে গানে,
সব কষ্ট হারাবে বিজয়ের টানে।
মানুষ বলবে— “সে হার মানেনি কভু,
আর রহমত বর্ষাবেন মহান প্রভু।

নিপীড়নের দীর্ঘ কালো রাত শেষে,
সফলতার সূর্য উঠবেই হেসে।
যে মানুষ আশা হারায় না প্রাণে,
জয় একদিন আসে তারই টানে।

আমিন।

***

বঞ্চনার ভারে নুয়ে পড়ে যদি প্রাণ,
তবু থেমে যেও না, রেখো অটুট মান।
কারণ ঝড়ের পরেই নির্মল আকাশ হাসে,
অন্ধকারের পরেই সূর্য ওঠে ভোরের বাতাসে।

নিপীড়নের আগুন জ্বালায় অন্তর,
অসহযোগিতার দেয়াল করে পথকে বন্ধ ঘর।
চারদিকে যখন কেবল অবহেলার সুর,
মানুষ তখন হয় নীরব, ক্লান্ত, ভীষণ দূর।

কেউ বোঝে না বুকের গভীর ক্ষত,
কেউ দেখে না চোখের জমানো নীরব রক্ত।
কেউ হাসে, কেউ ঠাট্টা করে,
কেউ স্বপ্নগুলো পায়ের নিচে মাড়িয়ে ধরে।

তবু হে পথিক, থেমো না তুমি,
জীবন মানেই তো সংগ্রামের ভূমি।
পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে হলে,
কাঁটার পথও পাড়ি দিতে চলে।

যে মানুষ পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়ায়,
সময়ের ইতিহাস তাকেই মনে রাখায়।
যে চোখ কেঁদেও স্বপ্ন হারায় না,
জীবনের যুদ্ধে সে কখনো হার মানে না।

নিন্দুকেরা বলবে— “অসম্ভব,
হিংসুকেরা করবে হৃদয় ক্ষতবিক্ষত সব।
তবু সাহস নিয়ে সামনে চলো,
আল্লাহর রহমতের দিকে মন মেলো।

কারণ মানুষের দরজা বন্ধ হতে পারে,
কিন্তু রবের দরজা খোলা থাকে সব দ্বারে।
মানুষ অবহেলা করতে পারে বারবার,
কিন্তু আল্লাহ কখনো করেন না পরিত্যাগ আর।

রাত যত গভীর হয় নীরব আঁধারে,
তত নিকটে আসে সুবহে সাদিকের দ্বারে।
তাই দুঃখকে ভয় নয়, শক্তি বানাও,
বঞ্চনার আগুনে নতুন সাহস জ্বালাও।

ঝুঁকি ছাড়া বড় স্বপ্ন পূরণ হয় না,
সংগ্রাম ছাড়া মানুষ পূর্ণ মানুষ হয় না।
যে ভয়কে জয় করে সামনে এগোয়,
জীবনের আসল বিজয় তারই হয়।

তুমি নিজেকে গড়ো জ্ঞান আর কর্মে,
দৃঢ় থাকো সততা আর সত্যের ধর্মে।
অন্যায়ের জবাব প্রতিশোধ নয়,
নিজের সফলতাই সবচেয়ে বড় জয়।

যারা আজ তোমাকে তুচ্ছ ভাবে,
কাল তারাই বিস্ময়ে তাকাবে।
যারা বলেছিল— “তুমি পারবে না,
একদিন তারাই বলবে— “ এক বিস্ময় জানা!”

একটি বীজ মাটির নিচে পড়ে থাকে,
অন্ধকার তাকে চারদিক থেকে ঢেকে রাখে।
তবু সে থামে না নীরব ক্ষয়ে,
একদিন মহীরুহ হয় পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে।

মানুষের জীবনও তেমনই হয়,
কষ্টের ভিতর দিয়েই জন্ম নেয় জয়।
ঝড়ের আঘাতে যে ভেঙে পড়ে না,
সফলতার মুকুট তার মাথাতেই শোভা পায় সোনা।

হে মানুষ, নিজের শক্তিকে চিনো,
হতাশার দেয়াল ভেঙে ফেলো দিনো।
অসহযোগিতা যদি পথ আটকে দেয়,
তবে সাহস তোমাকে নতুন পথ দেখায়।

যে মানুষ কষ্টকে শক্তিতে রূপ দেয়,
সময় তাকে সম্মানের আসন দেয়।
যে নীরবে ধৈর্য ধরে পথ চলে,
জীবনের ফুল তার হাতেই দোলে।

হে আল্লাহ, তুমি ধৈর্য দাও,
ঝড়ের মাঝেও অটল থাকার শক্তি দাও।
ভাঙা হৃদয়ে নতুন আশা জাগাও,
হতাশ প্রাণে রহমতের আলো ছড়াও।

যেন বঞ্চনা ঘৃণার জন্ম না দেয়,
অন্যায়ের জবাব অন্যায় হয়ে না রয়।
বরং ক্ষমা, ধৈর্য আর প্রজ্ঞার আলোয়,
মানুষ চলুক কল্যাণের পথের পালোয়।

হে রব, যারা অবহেলায় কাঁদে,
তাদের মুখে সুখের হাসি বাঁধে।
যারা নীরবে সহ্য করে ব্যথা,
তাদের জীবনে লিখে দাও শান্তির কথা।

কারণ তুমি চাইলে মরুভূমিতেও ফুল ফোটে,
হারানো জীবনও নতুন স্বপ্নে ছোটে।
তুমি চাইলে অন্ধকার ভেদ করে আলো আসে,
নিঃস্ব প্রাণেও আশার নদী ভাসে।

তাই ভয় নয়, হতাশা নয়,
বিশ্বাস হোক জীবনের পরিচয়।
প্রতিকূলতাকে পায়ের নিচে রেখে,
এগিয়ে চলো ভবিষ্যতের ডাকে।

একদিন সব কান্না রূপ নেবে গানে,
সব কষ্ট হারাবে বিজয়ের টানে।
মানুষ বলবে— “সে হার মানেনি কভু,
আর রহমত বর্ষাবেন মহান প্রভু।

নিপীড়নের কালো রাত শেষে,
সফলতার সূর্য উঠবেই হেসে।
যে মানুষ আশা হারায় না প্রাণে,
জয় একদিন আসে তারই টানে।

আমিন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ