Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ মে, ২০২৬ ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

জ্যাকুইনিয়া, সুন্দর ফুলের সহনশীল এক উদ্ভিদ

জ্যাকুইনিয়া (Jacquinia) সত্যিই অত্যন্ত চমৎকার, চিরসবুজ এবং এক অদ্ভুত সহনশীল শোভাবর্ধক উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Bonellia macrocarpa (পূর্বে Jacquinia macrocarpa) এবং এটি Primulaceae পরিবারের একটি উদ্ভিদ। মূলত মধ্য আমেরিকা, মেক্সিকো এবং ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের আদি নিবাসী হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের বৃক্ষপ্রেমীদের ছাদবাগান ও ল্যান্ডস্কেপিংয়ে এই গাছটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।এই সহনশীল ও দৃষ্টিনন্দন উদ্ভিদটির প্রধান বৈশিষ্ট্য ও যত্ন নেওয়ার নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:

অনন্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যআকৃতি ও বৃদ্ধি: এটি খুব ধীরগতিতে বেড়ে ওঠা একটি ছোট ঝোপালো বৃক্ষ। এর ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে প্রাকৃতিকভাবেই একটি সুন্দর গোলাকার রূপ নেয়।

তীক্ষ্ণ পত্রবিন্যাস: এর পাতাগুলো গাঢ় সবুজ, বেশ পুরু এবং চামড়ার মতো শক্ত। পাতার অগ্রভাগ বর্শার ফলার মতো সুচালো বা কাঁটার মতো তীক্ষ্ণ হয়।

ভ্রমাত্মক ফুল: এর ফুলগুলো আকারে বেশ ছোট (মাত্র ১ সেন্টিমিটার ব্যাস) এবং সাধারণত কমলা-লাল বা হলদেটে রঙের হয়। ফুলটির আসল পাপড়ি ৫টি হলেও, এর ভেতরের আরও ৫টি বন্ধ্যা পুংকেশর দেখতে পাপড়ির মতোই দেখায়। ফলে দূর থেকে মনে হয় ফুলটিতে ১০টি পাপড়ি আছে।
 চরম সহনশীলতা ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাপ্রতিকূল মাটি: জ্যাকুইনিয়া শুষ্ক, অতিরিক্ত লবণাক্ত এবং বালুময় মাটিতেও অবলীলায় বেঁচে থাকতে পারে।
পানি ধরে রাখার ক্ষমতা: এর শক্ত ও পুরু পাতা প্রস্বেদন (Moisture loss) রোধ করে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই এতে খুব বেশি পানির প্রয়োজন হয় না।

উপকূলীয় বন্ধু: লবণাক্ত বাতাস এবং তীব্র বাতাস সহ্য করার ক্ষমতার কারণে উপকূলীয় অঞ্চল বা সমুদ্র তীরবর্তী ল্যান্ডস্কেপিংয়ের জন্য এটি একটি আদর্শ গাছ।
ল্যান্ডস্কেপিং ও গৃহসজ্জায় ব্যবহার আদর্শ বেড়া ও বনসাই: ধীরগতির বৃদ্ধি এবং ঘন পত্রবিন্যাসের কারণে একে ছেঁটে সহজেই চমৎকার আকৃতি দেওয়া যায়। তাই এটি দিয়ে বাগানের সীমানা বেড়া (Hedge) বা চমৎকার বনসাই তৈরি করা সম্ভব।
ছাদবাগান ও বারান্দা: বড় টব বা ড্রামে করে বাড়ির প্রবেশপথে, বারান্দায় কিংবা ছাদবাগানে রাখলে এটি বাগানে এক ধরনের আভিজাত্য ও স্নিগ্ধতা নিয়ে আসে।
শুকনো ফুলের সুবাস: এর ফুল ও পাতা শুকিয়ে যাওয়ার পরও তাদের সুন্দর আকৃতি এবং হালকা মিষ্টি সুবাস ধরে রাখতে পারে। তাই অনেকে এটি দিয়ে ঘর সাজাতেও পছন্দ করেন।
গাছের যত্ন ও বংশবিস্তার 
আলো ও পানি: গাছটি পূর্ণ সূর্যালোকে সবচেয়ে ভালো থাকে। টবের মাটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে তবেই সামান্য পানি দিতে হবে।
বংশবিস্তার: সাধারণত ডাল কেটে কলম (Cutting) পদ্ধতিতে অথবা পাকা ফলের বীজের মাধ্যমে সহজেই এর বংশবিস্তার করা যায়।                

মন্তব্য করুন

ব্লগ