সহকারী অধ্যাপক
১৬ মে, ২০২৬ ০৭:১৮ পূর্বাহ্ণ
টাকা দিয়ে ফেরত পাওয়া ? - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
টাকা দিয়ে ফেরত পাওয়া ?
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
বন্ধুর মুখে মধুর বাণী,
অন্তরে কেন ছল?
ভরসা দিয়ে নিলো সবই,
ফিরে এলো না ফল।
কষ্টে ভাঙে বুকের ভেতর,
চোখে জমে জল,
হে দয়াময়! তুমি ছাড়া
কে মুছাবে জল?
মানুষ বলে — “ভালো লোক সে,
কত সুন্দর কথা!”
তাই কি তবে অন্যায়েরও
মিলবে নীরব ব্যাখ্যা?
ভালো কথা মুখে বললেই
ভালো হয় না মন,
হক মেরে যে হাসতে পারে
সে কেমন আপন?
আমি তো আর সোনা চাইনি,
চাইনি রাজ্য ধন,
নিজের কষ্ট ঘামের টাকাই
চেয়েছিলাম শুধু তখন।
বিশ্বাস দিয়ে খুলে দিলাম
হৃদয় ঘরের দ্বার,
সেই বিশ্বাস ভেঙে দিয়ে
করলো সর্বনাশ আর।
দিনের পরে দিন যে কেটে
বছর গেল বহু,
দেওয়ার নামে শুধু আশ্বাস,
মিললো না কিছু কভু।
ফোনে তালা, কথায় বাধা,
এড়িয়ে চলে আজ,
হাসিমুখে মানুষ ঠকায় —
কেমন অদ্ভুত সাজ!
হে আল্লাহ! তুমি তো জানো
অন্তরের আর্তনাদ,
রাতের বুকে লুকিয়ে রাখা
নীরব সব অভিযোগ।
মানুষ যদি ফিরেও যায়
বন্ধ করে দ্বার,
তোমার দরজা খোলা থাকে
সকাল-সন্ধ্যার পার।
তুমি তো রব অসহায়ের,
তুমি ভাঙা মন,
তুমি ছাড়া কে বুঝিবে আর
নিঃশব্দ ক্রন্দন?
টাকার সাথে নিয়ে গেছে
শান্তি আমার প্রাণ,
হে রহমতকারী ফিরিয়ে দাও
হারানো সম্মান।
আমি তো চাই না প্রতিশোধ,
চাই না কারো ক্ষতি,
শুধু আমার হকটা যেন
ফিরে পাই যথারীতি।
যে কষ্টে আজ ঘুম হারাম
বুক ভরা দীর্ঘশ্বাস,
তোমার কুদরত এক নিমিষে
করতে পারে নাশ।
কত মানুষ ভালোবেসে
ধোঁকা খেয়ে রয়,
বিশ্বাস নামে অন্ধ পথে
চলতে গিয়ে ক্ষয়।
তবু প্রভু! শেখাও আমায়
সবরের সে গান,
অন্ধকারের শেষে যেন
দেখি আলোর ভোরবেলা খান।
যে বন্ধু আজ মুখ ফিরিয়ে
অহংকারে হাঁটে,
তোমার হুকুম এলে প্রভু
সবই বদলাতে।
তুমি চাইলে পাষাণ হৃদয়
গলবে অশ্রুধারায়,
তুমি চাইলে হারানো হক
ফিরে আসবে ঘরায়।
হে রব! আমার কষ্টগুলো
তোমার কাছে খুলি,
নীরব রাতে সিজদা দিয়ে
চোখের পানি ঝুলি।
মানুষ যদি না-ই বোঝে
আমার মনের ভাষা,
তোমার কাছে রাখলাম আজ
শেষ ভরসার আশা।
যে টাকাতে ছিল আমার
স্বপ্ন বাঁচার রঙ,
সেই টাকাতে আজকে কেন
জীবন হলো ভঙ্গ?
হে আল্লাহ! তুমি দয়াময়,
তুমি ন্যায়ের আলো,
অন্যায়ের এই অন্ধকারে
তুমিই থেকো ভালো।
একদিন ঠিক সত্য জিতবে,
মিথ্যা হবে ক্ষয়,
অশ্রুভেজা দীর্ঘ রাতের
শেষে সকাল রয়।
আজকে আমি অসহায় এক,
তবু ভাঙিনি মন,
কারণ জানি — আসমানে রয়
ন্যায়ের অধিপতি জন।
তাই তো আজও হাত উঠিয়ে
ডাকি তোমার নাম,
“হে প্রভু! ফিরিয়ে দাও
হারিয়ে যাওয়া দাম।”
শুধু টাকা নয় গো প্রভু,
ফিরুক শান্তি প্রাণে,
এই দুঃখের মরুভূমিতে
ফুটুক সুখের টানে।
যদি কভু সে মানুষটি
ফিরে পায় বিবেক,
তোমার ভয়েই ফেরত দিক
আমার হকের লেখ।
আর যদি না ফেরে তবু
তুমি থেকো সাথ,
তোমার রহমতেই প্রভু
পার হবো সব রাত।
***
বন্ধু যদি সত্যিই বন্ধু হতো,
কাঁধে রাখতো হাত,
অসহায়ের দীর্ঘশ্বাসে
ভিজতো তারই রাত।
কিন্তু আজকে সেই মানুষটাই
নীরব পাষাণ হয়ে,
হাসিমুখে হক মেরে নেয়
বিবেক দূরে লয়ে।
মানুষ বলে — “ভালো উনি,
কত মিষ্টি বাণী!”
ভালো কথা বললেই কি
ভালো হয় প্রাণী?
মুখের হাসি, মিষ্টি ভাষণ
সবই যদি ঢাল,
তবে কেন অসহায়ের বুক
ভাঙে বারংবার?
হে প্রভু! তুমি দেখছো সবই,
গোপন কিছু নাই,
চোখের জলে ভিজে যাওয়া
আমার দীর্ঘশ্বাস তাই।
আমি তো কারো ধন লুটিনি,
করিনি প্রতারণা,
নিজের কষ্টের টাকাগুলো
চেয়েছি শুধু সানা।
বিশ্বাস করে দিয়েছিলাম
মন খুলে অবিরাম,
ভাবিনি সেই বিশ্বাসটাকে
করবে কেউ নিলাম।
বন্ধুত্বের নামে এসে
করলো হৃদয় ক্ষত,
হাসতে হাসতে কেড়ে নিলো
আমার সুখের রথ।
দিন যায়, মাস যায়,
বছর ঘুরে ফেরে,
দেওয়ার নামে আশার প্রদীপ
নিভে যায় অন্ধকার ঘেরে।
ফোনে ব্লক, কথায় এড়ানো,
কেমন কঠিন মন!
মানুষ কি আর মানুষ থাকে
মরে গেলে বিবেক-চেতন?
হে দয়াময়! আমি আজ
বড্ড ক্লান্ত প্রাণে,
অভিমানের পাহাড় জমে
নীরব রাতের টানে।
তোমার কাছেই বলছি শুধু
মনের সব আর্তি,
তুমি ছাড়া কে-ই বা শুনবে
এই দুঃখের ভারটি?
আমি জানি — তুমি ন্যায়ের রব,
তুমি হকের আলো,
অন্যায়ের দেয়াল যতই উঁচু
সত্য থাকে ভালো।
যে আমার হক আটকে রাখে
অহংকারের ঘরে,
তুমি চাইলে মুহূর্তে তার
হৃদয় কাঁদবে ঝরে।
হে আল্লাহ! ফিরিয়ে দাও
হারানো সেই ধন,
ফিরিয়ে দাও ভাঙা বুকের
হারিয়ে যাওয়া মন।
টাকার সাথে হারিয়ে গেছে
কত স্বপ্ন-ঘুম,
নীরব রাতে কষ্টগুলো
জ্বলে যেন ধূম।
কত আশা ছিলো মনে
সেই টাকাটা ঘিরে,
আজকে শুধু হাহাকারই
বুকে বাজে ফিরে।
যার হাতে দিলাম আমানত
বিশ্বাস ভরা প্রাণ,
সেই মানুষই দূরে সরে
করলো অবমান।
মানুষ দেখে বাহির শুধু,
দেখে না অন্তর,
কেউ যে কত কষ্ট বয়ে
চলছে নিরবধর।
ভালো কথা বলার আড়াল
যদি হয় প্রতারণা,
তবে সে হাসি বিষের মতো
দেয় হৃদয়ে যন্ত্রণা।
হে রব! তুমি বিচার করো,
তুমি সর্বজ্ঞানী,
কার অন্তরে কেমন আগুন
তুমি জানো টানি।
আমি শুধু চাই না প্রভু
কারো প্রতি ঘৃণা,
শুধু যেন ফিরে পাই
আমার হকের চিহ্না।
আজকে আমি অসহায় এক
দরজাহীন ঘরে,
মানুষগুলো পাশ কাটিয়ে
যাচ্ছে দূর সরে।
তবু আমি ভাঙবো না আর
তোমার ভরসাতে,
কারণ তুমি আছো প্রভু
অসহায়ের সাথে।
রাত গভীরে সিজদাতে আজ
চোখের পানি ঝরে,
“হে আল্লাহ! তুমি সাহায্য করো
এই ভাঙা অন্তরে।”
তুমি চাইলে শুকনো ডালে
ফুটে ওঠে ফুল,
তুমি চাইলে হারানো সুখ
ফিরে আসে কূল।
যে বন্ধু আজ ভুলে গেছে
পুরনো ভালোবাসা,
একদিন সে বুঝবে হয়তো
কষ্টের ভাষা।
তোমার ভয় যদি জাগে
তার অন্তরের মাঝে,
ফিরিয়ে দিক আমার আমানত
নম্রতারই সাজে।
আমি চাই না বদলা নিতে,
চাই না কারো ক্ষয়,
শুধু আমার অধিকারটা
ফিরে আসুক জয়।
এই পৃথিবীর বিচার যদি
দেরি করে খুব,
তোমার আদালত প্রভু
অত্যন্ত নির্ভুল।
একদিন ঠিক অশ্রুর পরে
হাসি ফুটবে মুখে,
আজকের এই বিষাদগুলো
হারাবে সুখে সুখে।
হে আল্লাহ! তুমি তো পারো
অন্ধকারে আলো,
আমার জীবন ভরে দিও
রহমতেরই ভালো।
তাই আজও হাত তুলি আমি
আকাশ পানে চেয়ে,
“হে প্রভু! ফিরিয়ে দাও
যা গেছে দূরে বয়ে।”
আর যদি না ফেরে কিছু
তবু দিও ধৈর্য,
তোমার প্রেমে বেঁচে থাকুক
আমার ভাঙা হৃদয়।
***
কষ্টের এই রাতগুলোতে
চোখে জমে নোনাজল,
বন্ধুত্বের ছায়ার নিচে
লুকিয়ে ছিল ছল।
যাকে ভেবে আপন মানুষ
খুলে দিলাম মন,
সেই মানুষই ভেঙে দিল
বিশ্বাসেরই বন।
হাসিমুখে কথা বলে,
মানুষ বলে “ভালো”,
তাই কি তবে অন্যায়েরও
জ্বলে না কোনো আলো?
মিষ্টি কথার আড়াল যদি
অমানুষের ঢাল,
তবে কেন অসহায়ের বুক
পুড়ে অবিরাল?
হে আল্লাহ! তুমি তো জানো
অন্তরের ইতিহাস,
কত কষ্ট চেপে রেখে
হাসি মুখের প্রকাশ।
কত আশা ছিলো মনে
সেই টাকাটার তরে,
আজকে শুধু দীর্ঘশ্বাস
ফিরে আসে ঘরে।
আমি তো কারো হক খাইনি,
করিনি প্রতারণা,
নিজের ঘামের টাকাগুলো
চেয়েছি শুধু সান্ত্বনা।
তবু কেন আজকে আমায়
হতে হলো লাঞ্ছিত?
বন্ধুত্বের নামে কেন
হৃদয় হলো বিষাক্ত?
যে মানুষটা ভালোবেসে
পাশে থাকার কথা,
সেই মানুষই কষ্ট দিয়ে
করলো নীরব ব্যথা।
ফোনে নীরব, কথায় তালা,
এড়িয়ে চলে দূরে,
বুকের মাঝে ঝড় ওঠে তাই
নিঃশব্দ অশ্রুস্রোতে।
হে প্রভু! তুমি দয়াময়,
তুমি ন্যায়ের রব,
অসহায়ের ভাঙা বুকে
তুমিই শেষ সব।
মানুষ যখন ফিরিয়ে দেয়
সহানুভূতির হাত,
তোমার রহম ছায়া হয়ে
জাগে দিন ও রাত।
তুমি তো পারো শুকনো প্রাণে
আশার ফুল ফুটাতে,
হারানো সুখ ফিরিয়ে এনে
ভাঙা মন জুড়াতে।
তাই তো আমি সিজদাতে আজ
চোখের পানি ঢালি,
“হে আল্লাহ! ফিরিয়ে দাও
হারানো সুখখানি।”
বন্ধুত্ব যদি ব্যবসা হয়
স্বার্থ যদি মূল,
তবে কেন মানুষ মানুষকে
বানায় এত ভুল?
বিশ্বাস নামের পবিত্র জিনিস
যদি ভাঙে বারবার,
তবে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ
থামবে কিসের ভার?
মানুষ শুধু বাহির দেখে,
ভেতর দেখে না,
কার বুকে কতটা ব্যথা
তা তো বোঝে না।
যে রাতে আমি কাঁদি চুপে
বালিশ ভিজে যায়,
সেই রাতের খবর শুধু
আমার রবই পায়।
হে আল্লাহ! তুমি বিচারক,
তুমি মহান দয়াল,
যে হক মেরে হাসে আজ
ভেঙে দিও তার জ্বাল।
তবে আমি চাই না প্রভু
কারো সর্বনাশ,
শুধু যেন ফিরে পাই
আমার ন্যায্য আশ।
আজকে আমি অসহায় এক,
নেই কোনো অবলম্বন,
তবু তোমার নাম নিয়েই
বেঁচে আছে এ জীবন।
কারণ জানি — রাতের শেষে
আসে সোনার ভোর,
দুঃখ শেষে রহমতেরই
খুলে যায় দ্বারঘর।
যে বন্ধু আজ ভুলে গেছে
পুরনো দিনের কথা,
একদিন হয়তো বুঝবে সে
অসহায়ের ব্যথা।
তোমার ভয় যদি জাগে
তার অন্তরের মাঝে,
ফিরিয়ে দিক আমানত সে
অনুতাপের সাজে।
হে রব! আমার চোখের জল
অমূল্য করে দিও,
এই বিষাদের অন্ধকারে
আলোর দিশা দিও।
যে টাকাতে স্বপ্ন ছিল
পরিবারের হাসি,
সেই টাকাটা ফিরিয়ে এনে
দূর করো উদাসী।
আমি জানি — তোমার কাছে
অসম্ভব কিছু নাই,
সমুদ্র যেমন ভাগ হয়
তোমার হুকুম পাই।
তাই তো আমি হাত উঠিয়ে
ডাকি নিরবধি,
“হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া
আমার কেউ-ই নই।”
যদি টাকা ফিরেও আসে
শুকরিয়া জানাবো,
আর যদি না-ও আসে তবু
সবর নিয়েই থাকবো।
কারণ তুমি আছো প্রভু
ভাঙা হৃদয় জুড়ে,
তোমার রহম বৃষ্টি হয়ে
ঝরে অন্তরজুড়ে।
একদিন ঠিক কষ্টগুলো
স্মৃতি হয়ে যাবে,
আজকের এই অশ্রুধারা
হাসির ফুল ফুটাবে।
হে দয়াময়! তোমার দরেই
রাখলাম সব ব্যথা,
তুমি ছাড়া এ দুনিয়াতে
কে-ই বা বুঝে কথা?
***
৪
৪ মন্তব্য