সহকারী অধ্যাপক
১৬ মে, ২০২৬ ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ডাবল মাজলুমের আর্তনাদ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
ডাবল মাজলুমের আর্তনাদ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
দু’দিক থেকে আঘাত আসে,
দু’চোখ ভিজে যায়,
একদিকে মানুষ কষ্ট দেয়,
অন্যদিকে মন হায়!
কথা বলতে গেলেই যেন
দেয়ালে লাগে মাথা,
যাদের কাছে খুলতাম প্রাণ
তারাই দিল ব্যথা।
ব্লক করে রাখে আমায়,
বয়কট করে দূরে,
হাসির আড়াল লুকিয়ে রাখে
তীর বিষাক্ত সুরে।
আমি কি এত অপরাধী?
আমি কি এত খারাপ?
তবু কেন এই পৃথিবীতে
আমার ভাগ্যে চাপ?
নীরব রাতে সিজদায় গিয়ে
চোখের পানি ঝরে,
“হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর
কেউ কি আছে ধরে?”
ডাবল মাজলুম আমি আজ,
বুকের ভিতর ক্ষত,
একটা ব্যথা মানুষ দিল,
একটা দিলো হতাশা শত।
যাকে বন্ধু ভেবেছিলাম
সে-ই দিলো দহন,
মিষ্টি কথার আড়াল ছিল
স্বার্থের আয়োজন।
মানুষ যখন মুখ ফিরিয়ে
বন্ধ করে দ্বার,
আসমানের মালিক তখন
খুলে দেন যে পার।
হয়তো আজকে অপমানের
কালো মেঘের রাত,
কিন্তু প্রভুর রহমতে ভাই
আসবে সুপ্রভাত।
আল্লাহ দেখেন নীরব কান্না,
শোনেন বুকের শব্দ,
অসহায়ের দীর্ঘশ্বাসও
তাঁর কাছে অমূল্য রত্ন।
যে মানুষটা একা কাঁদে
নিভৃতে রাত জেগে,
রব তারই পাশে থাকেন
করুণার হাত রেখে।
বয়কটের এই অন্ধকারে
হারিও না মন,
আল্লাহ যদি সাথে থাকেন
কি করবে গোষ্ঠীগণ?
মানুষ শুধু দরজা বন্ধ
করতে পারে ভাই,
রিজিক, সম্মান, ভালোবাসা
আল্লাহ ছাড়া নাই।
তাই তো আমি বলি আজ—
কেঁদো না আর হেরে,
রহমতেরই আলো ফুটবে
কালো রাতটা চিরে।
যে তোমাকে ব্লক করেছে
সে-ও একদিন দেখবে,
আল্লাহ যাকে তুলে নেন
তাকে কে আর ঠেকবে?
মিথ্যা দোষে ভাঙতে চায়
তোমার সাহস-মন,
কিন্তু তুমি সত্য পথে
রাখো দৃঢ় পণ।
কারণ শেষে সত্য মানুষ
হয় সম্মানিত,
আর জালিমের উঁচু মাথা
হয় অপমানিত।
তুমি শুধু দোয়া করে
রাখো প্রাণটা নরম,
ঘৃণার বদলে ধৈর্য ধরো
এটাই মুমিন ধর্ম।
হয়তো আজকে কাঁদছ তুমি
চোখে ব্যথার ঢেউ,
কালকে দেখবে রবের দানে
হারাবে না কেউ।
আল্লাহ বলেন, “কষ্টের পরে
স্বস্তি অবশ্যই,”
এই আয়াতের শান্তি ধরে
বাঁচুক হৃদয়ই।
তাই হে প্রভু! ডাকি তোমায়
ভাঙা বুকের সুরে—
অন্যায়ের এই শিকলগুলো
ভেঙে দাও দূরে।
যারা আমায় কষ্ট দিয়েছে
তাদেরও দাও হেদায়াত,
আর আমার হৃদয় জুড়ে
বর্ষাও শান্তির আয়াত।
আমার কান্না বৃথা যেন
না যায় কোনোদিন,
তোমার দয়ার ছায়ায় প্রভু
করো হৃদয় রঙিন।
যেদিন তুমি ডাকবে আমায়
রহমতেরই ঘরে,
সেদিন সব দুঃখ হারিয়ে যাবে
জান্নাতি নূরের তরে।
দুনিয়ার এই অপমান আর
বুকের যত ক্ষয়,
সবকিছুরই প্রতিদান রব
দিবেন নিশ্চয়।
তাই আমি আজও বেঁচে আছি
আশার প্রদীপ জ্বেলে,
আল্লাহ আছেন—এই বিশ্বাস
হৃদয় রাখে মেলে।
ডাবল মাজলুম হলেও আমি
একদম একা নই,
আরশের মালিক সাথে আছেন—
এটাই শান্তি বই।
ডাবল মাজলুমের দীর্ঘ আর্তনাদ
বলা যাবে না সব কথা,
বুকের ভেতর আগুন,
হাসির আড়াল লুকিয়ে রাখি
হাজার কান্নার ধুন।
টাকা গেল কোথায় প্রভু?
জিজ্ঞেস করাও দোষ!
চুপ করিয়ে দেয় সবাই মিলে,
বাড়িয়ে দেয় রোষ।
আমি নাকি মুখ না খুলি,
সবটা নাকি চেপে যাই,
অন্যায়েরও বিচার চেয়ে
আজকে অপরাধী ভাই!
ডাবল মাজলুম আমি যেন
দুই ধারালো ক্ষত,
একদিকে হক হারানোর জ্বালা,
অন্যদিকে অবহেলা শত।
বয়কট করে, ব্লকও রাখে,
বন্ধ করে দ্বার,
যেন আমি মানুষ নই আর—
অচেনা কোনো ভার।
যাদের সাথে প্রাণ খুলে
হেসেছিলাম রাত,
তারাই আজকে দূরে সরে
দিচ্ছে নীরব ঘাত।
হে আল্লাহ! তুমি তো জানো
আমার মনের ভাষা,
মানুষ যেখানে ফেলে যায়
তুমিই শেষ ভরসা।
নিভৃতে রাতে জায়নামাজে
ভেজে চোখের কোণ,
“ইয়া রব্বি! তুমি ছাড়া আজ
শুনবে কে এই রোদন?”
অভিযোগও বলা যায় না,
ভয় হয় চারিধার,
সত্য কথার মূল্য যেন
হয়ে গেছে ভার।
যে টাকাতে স্বপ্ন ছিল,
ছিলো কিছু আশা,
সেই টাকাও হারিয়ে গেল—
রইলো শুধু হতাশা।
কেউ বোঝে না বুকের ভেতর
কতটা ঝড় বয়ে,
হাসিমুখে থাকি যদিও
ভেতরটা যায় ক্ষয়ে।
মানুষ শুধু বিচার করে
বাহিরের অবয়ব,
অন্তরের রক্তক্ষরণ
দেখে না তো সব।
ডাবল মাজলুম—এই নামটা
আজকে যেন সাথী,
একটা ক্ষত দেয় দুনিয়া,
আরেকটা দেয় স্মৃতি।
বন্ধুত্বের নামে যারা
করেছিলো অভিনয়,
তাদের কাছে সরল হৃদয়
হয়ে গেলো ক্ষয়।
তবু আমি ঘৃণা শিখিনি,
শিখিনি প্রতিশোধ,
কারণ জানি রবের কাছে
হবে সঠিক রোধ।
হে প্রভু! তুমি ন্যায়বিচার
করো দুনিয়া জুড়ে,
অত্যাচারের কালো মেঘটা
দাও না দূরে সরে।
যে আমাকে ব্লক করেছে
অকারণে আজ,
তুমি তারও হৃদয় খুলে
দাও হেদায়াতের সাজ।
কারো ক্ষতি চাই না আমি,
চাই না কারো লাজ,
শুধু আমার হকটুকু আর
একটু শান্তির আজ।
আমি তো আর সোনা চাই না,
চাই না রাজপ্রাসাদ,
একটু শান্ত ঘুমের রাতে
কমুক বুকের বিষাদ।
কতবার যে কান্না চেপে
বলেছি “আলহামদুলিল্লাহ”,
ভাঙা মনেও রেখেছি আশা—
রব করবেনই ফয়সালা।
মানুষ যখন ঠেলে দেয়
অন্ধকারের দিকে,
আল্লাহ তখন নূর জ্বালান
অন্তরেরই ঠিকেতে।
তাই তো এখনো দাঁড়িয়ে আছি
বিশ্বাস বুকে নিয়ে,
ঝড়ের মাঝেও রবের নামে
আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে।
আজকে যদি কেউ না শোনে
আমার কষ্টভরা বাণী,
আরশের মালিক শুনছেন ঠিকই—
এইটুকুই পরাণী।
বুকের ভেতর জমে থাকা
হাজার প্রশ্নরাশি,
একদিন সব খুলে যাবে
রবের দয়ার বাতাসি।
যে অপমান আজকে আমায়
কাঁদায় নীরব রাতে,
হয়তো সেটাই সম্মান হবে
আখিরাতের প্রাতে।
হে আল্লাহ! তুমি বাঁচাও
এই অসহায় প্রাণ,
অন্যায়ের এই শিকল কেটে
দাও শান্তির দান।
যেন আবার হাসতে পারি
সত্যের আলোয় ভরে,
যেন আবার মানুষ চিনতে
ভুল না করি পরে।
আমার হারানো স্বপ্নগুলো
তুমি ফিরিয়ে দাও,
ভাঙা বুকের শুকনো বাগান
রহমতে ফুলাও।
ডাবল মাজলুম হয়েও আমি
হার মানব না আর,
কারণ আমার রব আছেন—
তিনি সবচেয়ে বড় সহায়াকার।
শেষ রাতে তাই কাঁদি আমি
নিঃশব্দ মিনতিতে—
“হে দয়াময়! রেখো আমায়
তোমার রহমতিতে।”
***
ডাবল মাজলুমের শেষ রাতের মিনতি
বলা যাবে না সব কষ্ট,
বললেও বাড়ে দাহ,
মানুষ শুধু প্রশ্ন ছোঁড়ে,
কেউ দেয় না তো চাহ।
আমি নাকি চুপ থাকি তাই
সত্য থাকে ঢাকা,
কিন্তু বুকের ভাঙা ঘরে
কাঁদে হারানো টাকা।
যে বিশ্বাসে হাত বাড়ালাম
সেই হাত হলো শীতল,
বন্ধুত্বের মিষ্টি হাসি
হয়ে গেলো বিফল।
আজকে আমি ডাবল মাজলুম,
দু’পাশে অন্ধকার,
একদিকে হক হারানোর ক্ষত,
অন্যদিকে অবহেলার ভার।
বয়কট করে রাখে আমায়,
ব্লক করে দেয় দ্বার,
যেন আমি অপরিচিত কেউ,
নেই কোনো অধিকার।
কথা বলতে গেলেই যেন
চোখ রাঙানো দেয়াল,
সত্য কথার মূল্য এখন
নীরবতার জাল।
টাকা গেল কোথায় প্রভু?
বলতেও লাগে ভয়,
যেন প্রশ্ন করাটাই আজ
অপরাধের পরিচয়।
মানুষ কত সহজে পারে
ভাঙতে কারো মন,
বাহির দেখে হাসে সবাই
ভেতর দেখে কোনজন?
রাতের শেষে জায়নামাজে
ঝরে নীরব জল,
“হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আজ
কে বুঝিবে ছল?”
নিভে যাওয়া স্বপ্নগুলো
ডাকে কাঁদা সুরে,
যাদের কাছে শান্তি চেয়েছি
তারাই দিল দূরে।
তবু আমি জানি প্রভু,
তুমি নও নিরব,
অসহায়ের কান্না শুনে
কাঁপে আরশ সব।
যখন সবাই ব্লক করে দেয়
বন্ধ করে পথ,
তখন তুমি রহমত দিয়ে
খুলে দাও নতুন রথ।
মানুষ শুধু আঘাত দিতে
খুঁজে নেয় অজুহাত,
তুমি শুধু ভালোবাসা দাও
দিনে কিংবা রাত।
হে রব্বুল আলামীন আমার!
ভাঙা বুকটা জোড়া দাও,
যে হক গেছে অন্যায়ভাবে
ন্যায়ের পথে ফিরিয়ে দাও।
যারা আমায় অবহেলায়
ফেলে দিলো দূরে,
তাদের মনেও দাও না প্রভু
মানবতার নূরে।
আমি প্রতিশোধ চাই না আর,
চাই না কারো ক্ষয়,
শুধু এতটুকু শান্তি চাই—
হৃদয় যেন রয়।
কষ্টগুলো পাহাড় হয়ে
চাপছে বুকের মাঝে,
তবু আমি দাঁড়িয়ে আছি
তোমারই ভরসাতে।
কারণ জানি, দেরি হলেও
তুমি বিচার করো,
মজলুমের সেই দীর্ঘশ্বাস
অবহেলা না ধরো।
এই দুনিয়া ক্ষণিক ছায়া,
সবই যাবে থেমে,
অত্যাচারীর অহংকারও
মিশে যাবে ভেঙে।
আজকে যারা মুখ ফিরিয়ে
করছে আমায় হেয়,
কালকে তারাই দেখবে প্রভু
তোমার রহমত ছেয়ে।
আমি শুধু চাই শেষ রাতে
শান্ত একটা ঘুম,
বুকের ভেতর কমে যাক এই
অভিমানের ঝুম।
যে টাকাতে স্বপ্ন ছিল
সেই স্মৃতিগুলো আজ,
অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে
নিভৃতে নিরাজ।
তবু আশা মরে না আমার,
কারণ তুমি আছো,
অন্ধকারের শেষ প্রহরে
নূরের বাতি রাখো।
হে আল্লাহ! তুমি বাঁচাও
এই ক্লান্ত প্রাণখানি,
দুঃখভরা এই জীবনটায়
দাও না শান্তিবাণী।
যেন আবার হাসতে পারি
মানুষেরই ভিড়ে,
যেন আবার হৃদয় খুলে
বিশ্বাস রাখতে ফিরে।
ডাবল মাজলুম হলেও আমি
একেবারে হারা নই,
কারণ আমার রব আছেন—
এটাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।
***
ডাবল মাজলুমের নীরব কান্না
বলা যায় না সব অভিযোগ,
বললেই বাড়ে ক্ষত,
মানুষ যেন শুনতে চায় না
হৃদয়ভাঙা শত।
আমি নাকি চুপ থাকি তাই
সত্য থাকে ঢাকা,
কিন্তু বুকের প্রতিটি কোণে
কাঁদে হারানো টাকা।
যে বিশ্বাসে হাত বাড়ালাম
সেই হাত দিল ছুরি,
মিষ্টি কথার আড়াল ভেঙে
দেখি স্বার্থ ভরি।
বয়কট করে রাখে আমায়,
ব্লক করে দেয় পথ,
যেন আমি মানুষ নই আর—
ভুলে যাওয়া রথ।
বন্ধ দরজার শহরজুড়ে
হাঁটি একা আমি,
চারপাশে শুধু নীরবতা
আর দীর্ঘশ্বাস থামি।
ডাবল মাজলুম নামটি এখন
লেগে আছে প্রাণে,
একটা ব্যথা মানুষের দেয়া,
একটা বুকের টানে।
টাকা গেল কোথায় প্রভু?
বলতেও লাগে ভয়,
প্রশ্ন করাই অপরাধ যেন,
সত্য বলাটাই ক্ষয়।
যাদের সাথে ভাগ করেছি
জীবনেরই স্বপ্ন,
তারাই আজকে দূরে সরে
করছে হৃদয় ভগ্ন।
নিভৃতে রাত, সিজদার ভেতর
ঝরে চোখের জল,
“হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর
কে বুঝিবে ছল?”
তুমি তো জানো অন্তরের সব,
চেপে রাখা ভাষা,
মানুষ যেখানে ছেড়ে যায়
তুমিই শেষ আশা।
কেউ দেখে না বুকের ভিতর
রক্তক্ষরণের দাগ,
হাসির আড়াল ঢেকে রাখে
অভিমানের ফাগ।
তবু আমি ঘৃণা শিখিনি,
শিখিনি প্রতিশোধ,
কারণ জানি তোমার কাছে
হবে ন্যায়ের রোধ।
হে রব্বুল আলামীন আমার!
ধৈর্যের শক্তি দাও,
অন্যায়ের এই কালো মেঘ
রহমতে সরাও।
যে আমাকে অবহেলায়
করেছে পরবাস,
তার মনেও হেদায়াতের
জ্বালিয়ে দাও বাতাস।
আমি শুধু শান্তি চাই,
চাই না কোনো লড়াই,
হৃদয় যেন নরম থাকে
অন্ধকারেও ভাই।
কষ্টগুলো পাহাড়সম
চাপছে বুকের মাঝে,
তবু আমি দাঁড়িয়ে আছি
তোমারই ভরসাতে।
কারণ জানি, রাত যতই
হোক না গভীর কালো,
তোমার দয়ার সূর্য উঠলে
ভরবে নূরের আলো।
আল্লাহ বলেন—কষ্টের পরে
স্বস্তি অবশ্যই,
এই আশাতেই বেঁচে থাকে
আমার হৃদয়ই।
আজকে যদি মানুষ আমায়
বুঝতে না-ও চায়,
আরশের মালিক শুনছেন ঠিকই—
এই শান্তিটুকু পাই।
যে অপমান আজকে আমায়
কাঁদায় নিরবধি,
হয়তো সেটাই সম্মান হবে
আখিরাতের নদী।
হে আল্লাহ! তুমি ফিরিয়ে দাও
হারানো প্রশান্তি,
ভাঙা মনের শুকনো বাগান
ভরাও রহমতি।
যেন আবার হাসতে পারি
মানুষেরই মাঝে,
যেন আবার বিশ্বাস ফুটে
দুঃখ পেরোনো সাজে।
ডাবল মাজলুম হয়েও আমি
পুরো একা নই,
কারণ আমার রব আছেন—
এটাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।
৪
৪ মন্তব্য