সহকারী অধ্যাপক
১৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০ পূর্বাহ্ণ
হে আল্লাহ, হক ফিরিয়ে দাও - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
হে আল্লাহ, হক ফিরিয়ে দাও
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
বন্ধু বলে যারে পাশে বসাই,
মনের দুয়ার খুলে সবই শোনাই,
সেই যদি একদিন ছলনার জালে
স্বপ্নগুলো নীরবে ভাঙতে চায়—
তবে বুকের ভিতর কান্না জমে,
নিভে যায় কত আশার আলো,
বিশ্বাসভাঙা সেই দুঃখ মানুষ
লুকিয়ে রাখে নিরালায় ভালো।
কিছু টাকা ছিল কষ্টের ঘাম,
রোদে পোড়া দিনের নীরব দাম,
ভবিষ্যতের স্বপ্ন গড়ার তরে
জমেছিল অল্প অল্প করে।
বন্ধুর হাতে দিলাম ভেবে—
“মানুষটা তো আপন প্রাণ”,
কে জানত তার হাসির নিচে
লুকিয়ে ছিল প্রতারণার গান!
বছর গেল, মাসও ফুরালো,
আশ্বাসগুলো বাতাসে হারালো,
আজ দিব, কাল দিব—বলে বলে
সময় শুধু ফাঁকি দিল চলে।
বৈঠকের পর বৈঠক বসে,
মিথ্যা কথা সাজায় বেশে,
ওয়াদার নামে শূন্য খাতা,
শুধুই ধোঁকা শেষের শেষে।
ফোনে এখন নীরবতা বাজে,
নাম্বারটাও ব্লকের মাঝে,
যে মানুষ একদিন ভাই ছিল খুব
আজ সে যেন অচেনা রূপ।
চোখের জলে রাত পেরোয়,
হৃদয় শুধু প্রশ্ন করে—
“মানুষ কেমনে এমন হয়?
বিশ্বাস কেমনে ভাঙে রে?”
তবু আমি আকাশ পানে
হাত দু’খানি তুলি রাতে,
হে দয়াময় মহান আল্লাহ!
তুমি আছো সকল সাথে।
কারো হক যে মেরে খায়,
সে কি কখনো শান্তি পায়?
অন্যায়ের সেই অন্ধকারে
বরকতের আলো কি জ্বলে যায়?
হে রব্বুল আলামীন!
তুমি তো দেখেছো সব,
কার চোখে জল জমেছে,
কার অন্তরে কত ক্ষত রব।
আমি কাউকে অভিশাপ দেই না,
শুধু চাই ন্যায়ের ফয়সালা,
আমার হক তুমি ফিরিয়ে দাও,
মুছে দাও বুকের জ্বালা।
যে টাকাতে ছিল সন্তানের আশা,
ছিল বৃদ্ধ বয়সের ভরসা,
ছিল সংসারের ছোট্ট স্বপ্ন,
ছিল জীবনের একটু ভাষা—
সেই হক যদি লুটে নেয় কেউ,
তুমি ছাড়া বিচার কে করে?
মানুষ ঘুমায় দরজা এঁটে,
তোমার আদালত জাগে রে।
হে আল্লাহ!
বন্ধুর অন্তর বদলে দাও,
তার হৃদয়ে ভয় জাগাও,
যেন সে বুঝে অন্যের হক
আগুন হয়ে জ্বলে দাও।
যে টাকা গেছে প্রতারণায়,
তা ফিরুক ন্যায়ের পথে,
তোমার রহমতের বৃষ্টিধারায়
শান্তি নামুক এই হৃদেতে।
দুনিয়ার আদালত দেরি করে,
কখনো বিচার হারায়ও রে,
কিন্তু তোমার বিচার মহান—
এক বিন্দুও ভুল না করে।
তাই তো আমি ভাঙা মনে
সিজদাতে আজ কাঁদি,
হে প্রভু! তুমি ছাড়া আর
কার কাছে যাই বলো নির্ভরশীল বাদী?
আমি জানি, রাত যত গভীর
ভোর তত কাছে আসে,
শুকনো মাটিও একদিন আবার
বৃষ্টির জলে হাসে।
আজকে আমার চোখে অশ্রু,
কাল হয়তো সুখের দিন,
তোমার রহমতে ফুটবে আবার
হারানো জীবনের রঙিন ঋণ।
যে বন্ধু আজ মুখ ফিরিয়েছে,
হিসাব একদিন হবেই তার,
মানুষ ফাঁকি দিলেও প্রভু
তোমার কাছে নেই অন্ধকার।
তুমি ন্যায়ের মালিক মহান,
তুমি সকল শক্তির উৎস,
তোমার ইশারায় পাহাড় নড়ে,
তোমার আদেশে খুলে বন্ধ দ্বার।
তাই আজও বলি কান্না ভেজা কণ্ঠে—
হে আল্লাহ! তুমি যথেষ্ট আমার,
মানুষ ছেড়ে গেলে তুমি তো আছো
দুঃখ রাতের শেষের অধিকার।
আমার হক তুমি ফিরিয়ে দাও,
হারানো শান্তি দাও ফিরায়ে,
যে মন আজ ভেঙে টুকরো টুকরো
তোমার রহমতে জুড়ে যাক আবার প্রভায়ে।
আর যদি দুনিয়াতে না-ই পাই সব,
তবু ঈমান যেন না হারাই,
কষ্টের মাঝেও তোমার উপর
পূর্ণ ভরসা রেখে যাই।
কারণ জানি—
দুনিয়ার ক্ষতি সাময়িক শুধু,
আখিরাতের পুরস্কার বড়,
সবরকারীদের জন্য রেখেছো তুমি
অশেষ রহমতের ঘর।
হে দয়াময়!
যে কেঁদে কেঁদে তোমায় ডাকে
তাকে খালি ফিরিও না,
ভাঙা হৃদয়ের নীরব ভাষা
অগ্রাহ্য করে যেয়ো না।
আমার প্রভু!
অন্যায়ের এই অন্ধ রাতে
ন্যায়ের সূর্য উঠাও আবার,
হক আদায়ের সুখবর দিয়ে
ভরিয়ে দাও অন্তর আমার।
***
হকের আর্তনাদ
কত বিশ্বাস ছিল মনে,
কত আপন ভাব,
বন্ধু বলে দিলাম তাকে
জীবনেরই চাপ।
কষ্টে গড়া টাকার থলি
রাখলাম তার হাতে,
ভাবিনি সে বিষ ঢালিবে
এমন মিষ্টি কথাতে।
দিন গড়ালো, মাসও গেল,
বছর পেরোয় ধীরে,
“আজকে দিব”, “কালকে দিব”—
মিথ্যা শুধু ফিরে।
বৈঠকের পর বৈঠক বসে
চায়ের কাপে ধোঁয়া,
হকের কথা উঠলেই শুধু
অজুহাতের ছোঁয়া।
কত রাতে ঘুম হারিয়ে
চেয়ে থাকি চাঁদে,
বন্ধুত্বের স্মৃতিগুলো
কাঁটার মতো বাঁধে।
একদিন যে ভাই ছিল খুব
আজ সে কেমন দূর,
ফোনে দিলে ব্লকের দেয়াল
বন্ধ করল সুর।
হে আল্লাহ! তুমি তো জানো
কত কষ্ট বুকে,
কত আশা ভেঙে গেছে
নীরব অশ্রুস্রোতে।
আমি তো তার ক্ষতি চাই না,
চাই না কোনো বদলা,
শুধু আমার হকটুকু ফেরাও,
মুছে যাক এই জ্বালা।
এই টাকাতে স্বপ্ন ছিল
সন্তানেরই মুখে,
এই টাকাতে ছিল আশা
দুঃখ যাবে সুখে।
এই টাকাতে ছিল ঘরের
ভাঙা চালার মেরামত,
ছিল বৃদ্ধ বয়সটাতে
একটু শান্তি-নির্ভরতা।
কিন্তু হায়! বিশ্বাসভাঙা
কত কঠিন দাহ,
মানুষ যখন মুখোশ পরে
চেনা হয় না চাহ।
হাসির আড়াল লুকিয়ে রাখে
স্বার্থের বিষদাঁত,
ভেতরজুড়ে ছলনার নদী
বাইরে মিষ্টি মাত।
তবু আমি হাল ছাড়িনি,
আকাশ পানে চাই,
কারণ আমার রব আছেন,
তিনি সবই জানেন ভাই।
কারো হক যে মেরে খায়
শান্তি কি সে পায়?
হারাম আগুন অন্তরে তার
নীরবে জ্বলে যায়।
হে দয়াময়! ন্যায়ের মালিক!
তোমার দরবার বড়,
ভাঙা হৃদয় নিয়ে এলাম
অশ্রু ভেজা ঘর।
মানুষ যদি মুখ ফিরায়
তুমি ফিরিও না,
অন্যায়ের এই আঁধার রাতে
আশার আলো নেভিও না।
সিজদাতে আজ কাঁদি প্রভু,
নাম ধরে তোমার,
তুমি ছাড়া কে শুনিবে আর
এই নিঃস্ব আর্তনাদ?
যে নিয়েছে ছলে বলে
আমার কষ্টের ধন,
তার অন্তরে জাগাও আবার
সত্য-ন্যায়ের মন।
যেন সে একদিন ফিরে এসে
লজ্জা ভেজা চোখে,
বলে—“ভাইরে, ভুল করেছি,
ক্ষমা করে দিও আমাকে।”
যেন ফেরে আমানত সব
অন্যায়ের পথ ছেড়ে,
মানবতার শেষ আলোটা
যেন না যায় মরে।
কারণ দুনিয়া ক্ষণিক মেলা,
আজ আছি কাল নাই,
টাকা-পয়সা, দম্ভ-অহংকার
কবর পর্যন্ত যায় নাই।
শুধু থেকে যায় কর্মফল
রবের মহা দরবারে,
যেখানে কোনো চালাকি আর
কাজে লাগে না রে।
কত মানুষ পথে বসে
হক মেরে খাওয়াতে,
কত চোখে জল জমে যায়
আপনজনের ছলনায়েতে।
বন্ধু যখন শত্রু হয়
কষ্ট তখন ভার,
বুকের ভেতর নীরব কান্না
ভাঙে অন্তরদ্বার।
তবু মুমিন আশা রাখে
রহমতেরই তরে,
শুকনো ডালে ফুল ফুটে যায়
আল্লাহ চাইলে পরে।
বন্ধ দরজাও খুলে যায়
তার ইশারাতে,
হারানো সুখ ফিরে আসে
অশ্রুভেজা রাতে।
হে আল্লাহ! তুমি যথেষ্ট
আমার জীবনে,
মানুষ যত দূরে যাক না
তুমি থেকো সনে।
আমার রিজিক, আমার সম্মান
তোমারই হাতে লেখা,
তোমার দয়া ছাড়া প্রভু
সবই শূন্য দেখা।
যে বন্ধু আজ ফোন কেটে
অচেনা সাজে রয়,
তোমার ভয় যদি জেগে ওঠে
পাথর হৃদয়ও ক্ষয়।
তুমি তারে হিদায়াত দাও,
সত্যের পথে আনো,
অন্যের হক ফিরিয়ে দিতে
তার অন্তর টানো।
আর যদি দেরি হয় প্রভু,
ধৈর্য দিও আমায়,
সবরের মাঝে ঈমান যেন
কখনো না হারায়।
কারণ জানি, প্রতিটি অশ্রু
তুমি গুনে রাখো,
ভাঙা মনের নীরব ভাষা
ভুলে কখনো না যাও।
আজকে আমার রাত অন্ধকার,
কালকে আসবে ভোর,
ন্যায়ের সূর্য উঠবেই আবার
কাটবে দুঃখ-ঘোর।
তাই তো আমি হাত উঠিয়ে
ডাকি বারংবার—
“হে আল্লাহ! আমার হক ফিরিয়ে দাও,
তুমিই মহান বিচার।”
দোয়া
হে প্রভু!
যে কষ্টে বুক ভেঙে যায়
সে কষ্ট হালকা করো,
যে মানুষ হক মেরে খায়
তার অন্তর নরম করো।
হারানো টাকা ফিরিয়ে দাও
রহমতের উপহার হয়ে,
আর এই দুঃখের অশ্রুগুলো
জান্নাতের কারণ হোক শেষে। আমিন।
***
ভাঙা বিশ্বাসের কান্না
বুকের ভিতর জমে আছে
নীরব কত ক্ষত,
হাসির আড়াল লুকিয়ে রাখি
অশ্রুভেজা রত্ন।
কেউ তো দেখে না ভিতরজুড়ে
দুঃখ কেমন জাগে,
বিশ্বাসভাঙা মানুষেরা
নীরব আগুনে পুড়ে থাকে।
বন্ধু ছিল প্রাণের চেয়ে,
আপন ছিল খুব,
তারই হাতে দিলাম সঁপে
বিশ্বাসভরা ডুব।
কষ্ট করে জমানো টাকা
ঘামের বিনিময়ে,
ভাবিনি সে ছল করবে
মিষ্টি কথার ছোঁয়ায়।
কত দিনের উপার্জন,
কত রাতের ঘুম,
কত চাওয়া জমে ছিল
সেই টাকারই কূলে।
একটু সুখের আশায় ছিল
ভবিষ্যতের ভরসা,
সন্তানের মুখে হাসি ফোটার
ছিল ছোট্ট আশা।
কিন্তু হঠাৎ কালো মেঘে
ঢেকে গেল দিন,
বন্ধুত্বের রঙিন আকাশ
হলো বিষাদলীন।
“আজকে দিব”, “কালকে দিব”—
শুনতে শুনতে ক্লান্ত,
ওয়াদাগুলো মরীচিকা যেন
প্রতিশ্রুতি সব ভ্রান্ত।
বৈঠকের পর বৈঠক বসে
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
হকের কথা উঠলেই শুধু
নতুন অজুহাত ছোঁয়া।
একদিন যে ভাই ছিল খুব
আজ সে অনেক দূর,
ফোনে দিলে ব্লকের দেয়াল
বন্ধ করে সুর।
রাতের বেলা একলা বসে
চোখে আসে জল,
কেন মানুষ এমন করে
স্বার্থে হয় বিকল?
যার জন্য প্রাণ খুলে দিলাম
সেই দিল আঘাত,
বিশ্বাসভাঙার এই ব্যথাতে
কাঁদে নিরব রাত।
হে আল্লাহ! তুমি তো জানো
অন্তরেরই ক্ষত,
কত কষ্টে বুকটা ভাঙে
হারালে আপন রত্ন।
আমি তো কারো ক্ষতি চাই না,
চাই না প্রতিশোধ,
শুধু আমার হকটুকু ফেরাও,
মুছে যাক এই রোধ।
তুমি ন্যায়ের মহান মালিক,
তুমি সকল জানো,
কার অন্তরে ছলনা লুকায়
কার চোখ ভিজে প্রাণে।
মানুষ যদি ফাঁকি দেয়ও
তুমি তো দাও না,
তোমার বিচারে এক কণাও
হারিয়ে যায় না।
হে রব্বুল আলামীন!
তুমি রহমতের সাগর,
ভাঙা মনের কান্নাগুলো
শুনো গভীর রাতভর।
যে টাকা গেছে প্রতারণায়
ফিরিয়ে দাও আবার,
তোমার রহমতের বৃষ্টিতে
ভরে উঠুক সংসার।
যে নিয়েছে অন্যের হক
তাকে হিদায়াত দাও,
তার অন্তরে সত্যের আলো
নতুন করে জ্বালাও।
যেন সে ফিরে আসে আবার
অনুতপ্ত প্রাণে,
ক্ষমা চেয়ে ফিরিয়ে দেয়
আমানত সম্মানে।
কারণ দুনিয়া ক্ষণিক শুধু,
আজ আছি কাল নাই,
অহংকার আর টাকা-পয়সা
কবর পর্যন্ত যায় নাই।
থেকে যায় শুধু কর্মফল
রবের দরবারে,
যেখানে কোনো চালাকি আর
চলবে না যে পরে।
কত মানুষ পথে বসে
বিশ্বাসঘাতকতায়,
কত মানুষ নীরব কাঁদে
আপনজনের ছলনায়।
বন্ধু যখন বদলে যায়
কষ্ট তখন ভার,
বুকের ভিতর ঝড় ওঠে
ভাঙে সুখের দ্বার।
তবু আমি আশা রাখি
রহমতেরই তরে,
শুকনো ডালেও ফুল ফোটে
আল্লাহ চাইলে পরে।
অন্ধকার রাত ফুরিয়ে গিয়ে
ভোরের সূর্য হাসে,
হতাশ হৃদয় শান্তি খুঁজে
রবেরই বিশ্বাসে।
হে আল্লাহ! তুমি যথেষ্ট
এই ভাঙা জীবনে,
মানুষ ছেড়ে দূরে গেলেও
তুমি থেকো সনে।
আমার রিজিক, আমার সম্মান
তোমার হাতে লেখা,
তোমার দয়া ছাড়া প্রভু
সবই শূন্য দেখা।
আজকে আমার চোখে অশ্রু,
কাল হয়তো হাসি,
আজকে বুকটা ভারে নুয়ে
কাল শান্তি ভাসি।
কারণ জানি, তুমি আছো
দুঃখ রাতের শেষে,
তোমার রহমত ফুটে ওঠে
অশ্রুভেজা হেসে।
তাই আজও হাত তুলেছি
নিভৃত রাতের শেষে,
বলছি শুধু—
“হে আল্লাহ! তুমি হক ফিরিয়ে দাও
রহমতের পরশে।”
দোয়া
হে দয়াময় প্রভু!
যে কষ্টে বুকটা ভেঙে যায়
সে কষ্ট সহজ করো,
যে মানুষ হক মেরে খায়
তার অন্তর নরম করো।
হারানো টাকা ফিরিয়ে দাও
হালাল রিজিক হয়ে,
আর এই চোখের অশ্রুগুলো
জান্নাতের ফুল হোক শেষে।
আমিন।
***
প্রতারণার বিষাদ ও রবের দরবার
কত আপন ভেবে ছিলাম,
কত বিশ্বাস দিয়ে,
বন্ধু বলে পাশে নিলাম
হৃদয় খুলে দিয়ে।
কষ্ট করে জমানো টাকা
রাখলাম তার হাতে,
ভাবিনি সে ছুরি মারবে
হাসিমাখা কথাতে।
সেই টাকাতে স্বপ্ন ছিল,
ছিল ঘরের সুখ,
ছিল মায়ের ওষুধ কেনা,
সন্তানের হাসিমুখ।
ছিল ভবিষ্যৎ গড়ার আশা,
ছিল একটু ভরসা,
আজকে সেসব স্মৃতির মতো
জ্বালায় বুকের ভাষা।
দিন যায় শুধু আশ্বাসেতে,
মাস যায় মিথ্যায়,
“আজকে দিব”, “কালকে দিব”—
সময় কেবল কাঁদায়।
বৈঠকের পর বৈঠক বসে
মিষ্টি কথার ঢেউ,
হকের কথা উঠলেই শুধু
হারিয়ে যায় সে কেউ।
ফোনে দিলে বন্ধ দরজা,
নাম্বার এখন ব্লক,
যে মানুষটা ভাই ছিল খুব
সে-ই দিল শোক।
কথাগুলো বুকের ভিতর
পাথর হয়ে রয়,
বিশ্বাসভাঙার ব্যথা মানুষ
সহজে কি সয়?
রাতের শেষে নীরব ঘরে
চোখের জলে ভাসি,
মানুষ কেন স্বার্থ পেলে
এত বদলে হাসি?
যার হাতে দিলাম আমানত
ভালোবেসে প্রাণ,
সেই কেন আজ ছলনার আগুনে
পুড়ায় অবিরাম?
হে আল্লাহ! তুমি তো জানো
অন্তরের আর্তি,
কার বুকভরা দীর্ঘশ্বাস
কার চোখভেজা স্মৃতি।
আমি তো তার সর্বনাশ
কখনো চাই না প্রভু,
শুধু আমার হক ফিরিয়ে দাও
করো না মনকে রুক্ষ।
তুমি ন্যায়ের মহাসাগর,
তুমি দয়ার নূর,
তোমার চোখে লুকায় না তো
কারো অন্তঃসুর।
মানুষ যদি মুখোশ পরে
প্রতারণা করে,
তোমার বিচারে একদিন সব
প্রকাশ হবে রে।
হে রব্বুল আলামীন!
তোমার কাছে চাই,
এই ভাঙা মন শান্তি পাক
তোমার রহমত পাই।
যে টাকা গেছে ছলনায়
ফিরিয়ে দাও আবার,
হারানো সুখ ফিরুক নেমে
আমার এই সংসার।
যে নিয়েছে অন্যের হক
তার হৃদয় নরম করো,
লোভের কালো অন্ধকার থেকে
সত্যের আলো ধরো।
যেন সে একদিন লজ্জাভরা
চোখে ফিরে আসে,
বলে—“ভাইরে, ভুল করেছি,
ক্ষমা করো ভালোবেসে।”
দুনিয়ার এই ক্ষণিক মেলায়
কেউ তো চিরদিন নয়,
টাকা-পয়সা, দম্ভ-অহংকার
কবরসাথে যায় কয়?
থেকে যায় শুধু কর্মের হিসাব
রবের দরবারে,
যেখানে কোনো চালাকি আর
চলবে না যে পরে।
বন্ধু যখন শত্রু হয়
কষ্ট তখন গভীর,
নীরব রাতে বুকের ভিতর
বয়ে যায় নদী নীর।
কত স্মৃতি কাঁটার মতো
বেঁধে রাখে প্রাণ,
বিশ্বাসভাঙা সেই যন্ত্রণায়
ঝরে অশ্রু গান।
তবু আমি আশা রাখি
রহমতেরই তরে,
শুকনো মাটিতেও ফুল ফোটে
আল্লাহ চাইলে পরে।
অন্ধকার যত ঘন হোক না
ভোর ঠিকই আসে,
দুঃখভেজা মনও একদিন
শান্তির আলো হাসে।
হে আল্লাহ! তুমি যথেষ্ট
এই ভাঙা জীবনে,
মানুষ ছেড়ে দূরে গেলেও
তুমি থেকো সনে।
আমার রিজিক, আমার সম্মান
তোমারই হাতে লেখা,
তোমার দয়া ছাড়া প্রভু
সবই শূন্য দেখা।
আজকে আমি কাঁদি বসে
নিভৃত রাত শেষে,
তোমার নামেই শান্তি খুঁজি
অশ্রুভেজা হেসে।
কারণ জানি, দেরি হলেও
তোমার বিচার সত্য,
অন্যায়ের দেয়াল ভেঙে
আসবে ন্যায়ের শক্ত।
হে দয়াময়!
ভাঙা বুকের দীর্ঘশ্বাস
তুমি বৃথা যেও না,
যে কেঁদে কেঁদে তোমায় ডাকে
তাকে ফিরিয়ে দিও না।
হারানো হক ফিরিয়ে দাও
হালাল রিজিক হয়ে,
এই চোখের সব অশ্রুগুলো
রাখো জান্নাতময় করে।
দোয়া
হে মহান আল্লাহ!
যে মানুষ অন্যের হক নিয়ে
অহংকারে পথ চলে,
তার অন্তরে হিদায়াত দাও
সত্যের আলো জ্বলে।
যে বুকভরা কষ্ট নিয়ে
রাতে তোমায় ডাকে,
তার জীবনে সুখের বারতা
রহমত হয়ে থাকুক।
আমিন।
৪
৪ মন্তব্য