সহকারী অধ্যাপক
১৫ মে, ২০২৬ ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
সৃষ্টির সিজদা ও ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
সৃষ্টির সিজদা ও ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
আসমানের বুকজুড়ে সূর্যের দীপ্তি,
চাঁদের কোমল আলোয় রাতের নীরব স্মৃতি।
সবই চলে মহান রবের নির্ধারিত হুকুমে,
একটুও ভুল নেই তাঁর গড়া নিখুঁত নিয়মে।
সূর্য ওঠে ভোরবেলা সোনালি আভা মেখে,
দিনকে ডাকে কর্মপথে আলোর বাঁশি বেজে।
চাঁদ আসে সন্ধ্যার পরে নরম শুভ্র রূপে,
মুগ্ধতা ছড়ায় নীরব রাতে আকাশভরা কূলে।
না তারা তাড়াহুড়া করে, না থামে মাঝপথে,
স্রষ্টার দেওয়া হিসাবমতো ঘোরে অবিরত রথে।
একটি সেকেন্ড এদিক-সেদিক হয় না কখনো আর,
এ কেমন শক্তি! এ কেমন রবের অপার অধিকার!
তারকারা ঝিকিমিকি করে রাতের কালো গায়ে,
নিভৃতে তারা সিজদা করে মহান প্রভুর ছায়ে।
বৃক্ষগুলো মাথা নত করে বাতাস যখন বয়,
নীরব ভাষায় বলে যেন— “আল্লাহ মহানময়”।
সবুজ পাতার কম্পন যেন জিকিরেরই সুর,
নদীর ঢেউয়ে ভেসে আসে “সুবহানাল্লাহ” নূর।
পাহাড়গুলো স্থির দাঁড়িয়ে তাসবীহ পড়ে চুপে,
মেঘেরা চলে আল্লাহরই আদেশ পেয়ে রূপে।
আকাশটাকে সমুন্নত করে তুলেছেন যিনি,
তাঁর কুদরতের সীমা খুঁজে পাবে না তো কেউই।
নীল গম্বুজ মাথার উপরে কী অপরূপ সাজ!
দেখলেই মন সিজদায় ঝুঁকে করে বিনয় কাজ।
আর তিনি দাঁড়িপাল্লা দিলেন ন্যায়ের প্রতীক করে,
যেন মানুষ জুলুম না করে ক্ষমতার অহংকারে।
ওজনে কম নয়, প্রতারণা নয়, নয় কোনো ছলনা,
সত্য ও ন্যায়ের পথেই হোক জীবনের চলনা।
কত মানুষ দুনিয়াতে ঠকায় ভাইকে হাসিমুখে,
মিষ্টি কথার আড়ালেতে বিষ ঢালে গোপন সুখে।
দাঁড়িপাল্লার শিক্ষা তারা ভুলে গিয়ে আজ,
অন্যায়ের প্রাসাদ গড়ে করে পাপের কাজ।
কিন্তু রব সব দেখেন নীরব আসমান পেরিয়ে,
মজলুমের কান্না পৌঁছে যায় আরশ কাঁপিয়ে।
এক ফোঁটা চোখের পানি হারায় না তো বৃথা,
ন্যায়ের মালিক আল্লাহ আছেন— এটাই বড় কথা।
সূর্য যদি নিয়ম ভোলে, থেমে যায় সব প্রাণ,
চাঁদ যদি পথ হারিয়ে ফেলে, নামে অন্ধকার ঘন।
তাইতো সৃষ্টির প্রতিটি জিনিস মানে রবের বাণী,
শুধু মানুষ অবাধ্য হয়ে বাড়ায় দুঃখখানি।
হে মানুষ! দেখ প্রকৃতিকে, শেখ তারই পাঠ,
সিজদাতে আছে শান্তি, তাওবাতেই মুক্তির ঘাট।
গাছ যেমন নত হয়ে রয় ঝড়ের মাঝেও স্থির,
তুমিও হও রবের পথে ধৈর্যশীল অধীর।
তারকারা ক্লান্ত হয় না রাত জেগে জ্বলে,
তেমনি তুমি সত্যের পথে থেকো অবিচল বলে।
সূর্য যেমন আলো বিলায় বিনিময়হীন প্রাণে,
মানুষ হয়েও ভালোবাসা ছড়াও দুনিয়াখানে।
দাঁড়িপাল্লা শুধু বাজারের ওজন মাপার নয়,
এটা ন্যায়-অন্যায়ের সীমারেখা, জীবনের পরিচয়।
কথায়, কাজে, আচরণেতে ভারসাম্য চাই,
অত্যাচারের আগুন থেকে বাঁচুক মানবগাঁই।
আল্লাহর সৃষ্টি অপার মহিমা, অপূর্ব তাঁর দান,
প্রতিটি কণায় ফুটে ওঠে রবের পরিচয় মহান।
চাঁদের আলো, সূর্যের তাপ, বৃষ্টির কোমল গান—
সবই যেন বলে উঠে, “আল্লাহ মহান! মহান!”
যে হৃদয় এই নিদর্শনে পায় না কোনো আলো,
সে তো নিজের হাতেই গড়ে অন্ধকারের কালো।
আর যে দেখে প্রতিটি ক্ষণে রবের রহমতের ছাপ,
তার জীবন ফুলের মতো সুবাসিত অনুপম মাপ।
তাই এসো সবাই মাথা নত করি প্রভুর দরবারে,
ন্যায় ও সত্য রাখি অটুট জীবনের প্রতিধ্বনিতে।
সূর্য-চাঁদের নিয়ম মেনে আমরাও চলি ঠিক,
সিজদাভরা হৃদয় নিয়ে হই জান্নাতের পথিক।
হে দয়াময়! তুমি মোদের অন্তর করো পবিত্র,
অন্যায়ের সব অন্ধকার হোক চিরতরে বিতাড়িত।
তারকা, বৃক্ষ, চাঁদ-সূর্যের মতো আমরাও হই নত,
তোমার প্রেমে কাটুক জীবন, হোক আখিরাত রত।
***
সূর্যের রথ চলে আকাশের বিস্তৃত পথ ধরে,
চাঁদের আলো ভেসে আসে নীলিমারই ঘর ভরে।
কোনো ভুল নেই, নেই কোনো ক্লান্তির দীর্ঘশ্বাস,
মহান রবের হুকুম মেনে চলছে বিশ্ব-আবাস।
ভোরের শিশির কাঁপে নরম সবুজ ঘাসের বুকে,
সূর্য উঠে আলোর মালা পরে পূর্বের সুখে।
পাখিরা গান গেয়ে বলে— “জাগো হে মানবজাতি,
প্রভুর দেওয়া এই জীবনেই লুকিয়ে আছে মুক্তি।”
চাঁদ যেন নীরব দরবেশ রাতের গগনজুড়ে,
তারকারা জিকির তোলে অন্ধকারের সুরে।
রাতের নীল চাদরের নিচে সৃষ্টির অপার মেলা,
সবাই সিজদায় নত হয়, শুধু মানুষ অবহেলা!
বাতাস যখন বৃক্ষশাখায় দোলে ধীরে ধীরে,
মনে হয় তারা সিজদাতে ঝুঁকে আছে নীরবে।
পাতার ফাঁকে ফাঁকে যেন তাসবীহেরই ধ্বনি,
“সুবহানাল্লাহ” উচ্চারিত হয় আপন মনে গণি।
নদীর ঢেউ কূল ছুঁয়ে কয় রবের মহিমা গান,
সমুদ্র গর্জে বলে উঠে— “মহান আমার রহমান!”
পাহাড়গুলো মাথা তুলে থেকেও কত বিনয়ী,
স্রষ্টার ভয়ে অন্তরে তাদের শ্রদ্ধাধারা বই।
আকাশ কত উঁচু করে তুলেছেন যিনি মহান,
নীলিমার ওই বিশাল গম্বুজ তাঁর কুদরতের নিদান।
কোথাও খুঁটি নেই, নেই কোনো দৃশ্যমান দেয়াল,
তবু কাঁপে না, ভেঙে পড়ে না— কী অপার জালাল!
তারপর তিনি দিলেন ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা হাতে,
যেন মানুষ সত্য মাপে জীবনের প্রতিপাতে।
ওজনে কম নয়, নয় কারো হক মেরে খাওয়া,
ন্যায়ের পথে চলাই হলো প্রকৃত শান্তি পাওয়া।
কিন্তু মানুষ ভুলে গিয়ে দাঁড়িপাল্লার মান,
লোভের নেশায় ডুবিয়ে ফেলে বিবেক ও ঈমান।
ভাইয়ের হক মেরে হাসে, দুর্বলকে দেয় আঘাত,
অন্যায়ের আগুন জ্বালিয়ে করে হৃদয় পাথরজাত।
কেউ জমায় ধন পাহাড়সম, তবু মেটে না ক্ষুধা,
কারো ঘরে অন্ন নেই, চোখে শুধুই দুঃখ-বিধা।
এই কি তবে দাঁড়িপাল্লার শিক্ষার সঠিক মান?
এ কেমন সভ্যতা গড়ে অহংকারী মানবপ্রাণ!
তবু আল্লাহ ধৈর্য ধরে সময় দেন বারবার,
তাওবার দরজা খোলা রাখেন অফুরন্ত অপার।
এক ফোঁটা অনুতাপও যদি ঝরে চোখের কোণে,
রহমতের বৃষ্টি নামে অন্ধকারের ক্ষণে।
সূর্য যদি থেমে যেত একটুখানি ক্ষণ,
পৃথিবীজুড়ে নেমে আসত ভয়াল অন্ধকার বন।
চাঁদ যদি হারাতো তার কক্ষপথের দিশা,
জোয়ারভাটা থেমে গিয়ে জমত মৃত্যুনিশা।
তাই তো সৃষ্টির প্রতিটি বস্তু মানে রবের বাণী,
শুধু মানুষ অহংকারে ভুলে যায় সে কাহিনী।
কখনো ক্ষমতার নেশায়, কখনো অর্থলোভে,
নিজের হাতে জ্বালায় আগুন নিজের সুখের ক্ষোভে।
হে মানুষ! তুমি কি দেখ না আকাশের ওই চাঁদ?
কেমন করে বিনয় নিয়ে ঘোরে অবিরাম সাধ।
সূর্যও কত শক্তিশালী, তবু সীমা মানে,
শুধু তুমি অবাধ্য হয়ে ডুবে থাকো গ্লানিতে?
গাছেরা ফল দেয় নীরবে, চায় না কোনো দাম,
নদী বয়ে তৃষ্ণা মেটায় সকাল, সন্ধ্যা, সন্ধান।
মেঘেরা বৃষ্টি ঝরায় বিনিময়ের আশা ছাড়া,
মানুষ হয়েও কেন তবে হৃদয় এত কড়া?
সিজদা মানে শুধু মাটিতে কপাল রাখা নয়,
সিজদা মানে অন্তরভরা প্রভুর প্রতি ভয়।
সিজদা মানে সত্য পথে অবিচল থাকা,
মিথ্যা ও জুলুম ছেড়ে ন্যায়ের আলো আঁকা।
দাঁড়িপাল্লা শুধু বাজারের ওজন মাপার তরে নয়,
এটা মানুষের বিবেক, চরিত্র, আমলের পরিচয়।
কথা বলার মাঝেও চাই ন্যায়ের ভারসাম্য,
কারো মনে কষ্ট দিয়ে নয় জীবনের সাম্রাজ্য।
মায়ের চোখের পানিরও আছে আল্লাহর কাছে দাম,
এতিম শিশুর দীর্ঘশ্বাসে কেঁপে ওঠে ধাম।
মজলুম যদি রাতের শেষে কাঁদে নীরব সুরে,
আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যায় তার ব্যথাভরা নূরে।
তারকারা জেগে থাকে শত শত বছর,
মানুষ কেন সত্যপথে হতে পারে না অটল ঘর?
সূর্য প্রতিদিন আলো বিলায় কোনো ক্লান্তি ছাড়া,
মানুষ কেন ভালোবাসা দিতে গিয়ে হারে?
হে রব! তুমি আমাদের অন্তর করো নরম,
হিংসা-বিদ্বেষ মুছে দাও, করো হৃদয় মরম।
দাঁড়িপাল্লার ন্যায়বিচার স্থাপন হোক প্রাণে,
মানুষ যেন মানুষকে আর কষ্ট না দেয় টানে।
আমরা যেন বৃক্ষসম হই বিনয়ে অবনত,
তারকার মতো জ্বলি সদা অন্ধকারে অম্লান রত।
সূর্যের মতো সত্য বিলাই সাহস ভরা প্রাণে,
চাঁদের মতো শান্তি ছড়াই ক্লান্ত মানবগাঁনে।
আকাশ দেখে যেন মনে পড়ে রবের মহিমা,
সমুদ্র দেখে জেগে ওঠে অন্তরেরই সীমা।
পাহাড় দেখে শিখি আমরা দৃঢ়তারই পাঠ,
সিজদা করে খুঁজি যেন জান্নাতেরই ঘাট।
দুনিয়ার সব সৌন্দর্য ক্ষণিকেরই ছায়া,
আখিরাতের শান্তির কাছে কিছুই নয় মায়া।
তাই তো মুমিন হৃদয় সদা প্রভুর পথে ধায়,
রহমতের আশায় বুক ভরে অশ্রু ঝরায়।
একদিন সূর্য নিভে যাবে, চাঁদও হবে মলিন,
তারকারা খসে পড়বে, থেমে যাবে দিন।
রবে শুধু আল্লাহরই অমর কুদরতের ডাক,
সেদিন কারো ধন-সম্পদ দেবে না কোনো ফাঁক।
তাই আজই ফিরে এসো প্রভুর নূরের পথে,
সত্য ও ন্যায়ের দীপ জ্বালো জীবনেরই রথে।
সিজদাভরা অন্তর নিয়ে কাটুক প্রতিটি ক্ষণ,
আল্লাহর প্রেমেই হোক জীবনের সমাপন।
হে রহমান! হে রহীম! তুমি করো দয়া,
অন্যায়ের অন্ধকারে যেন না হারাই মায়া।
সূর্য, চাঁদ, বৃক্ষ, তারা যেমন তোমার দাস,
তেমনি করে রেখো মোদের ঈমানভরা নিঃশ্বাস।
***
সূর্য চলে আপন কক্ষ সময়েরই বাঁধনে,
চাঁদও ঘোরে নির্ভুল পথে স্রষ্টার বিধানে।
নক্ষত্রেরা রাতের বুকে দীপ্ত আলো জ্বালে,
সবাই যেন সিজদাতে নত মহান রবের তালে।
ভোরের আকাশ রাঙিয়ে যখন সূর্য ওঠে ধীরে,
সোনালি আলো ছড়িয়ে পড়ে নদী, মাঠ আর নীড়ে।
পাখিরা সব গান গেয়ে কয়— “জাগো মানবজাতি!
রবের দেওয়া প্রতিটি ক্ষণ অমূল্য এক সম্পদভাঁটি।”
চাঁদের নরম শুভ্র আলো নেমে আসে রাতে,
ক্লান্ত হৃদয় শান্তি খোঁজে সেই কোমল প্রভাতে।
তারকারা সব জিকির তোলে নীরবতার ভাষায়,
মহান আল্লাহর গুণকীর্তন আকাশজুড়ে ভাসায়।
গাছের ডালে বাতাস এসে দোলে ধীরে ধীরে,
মনে হয় তারা সিজদাতে নত হয়েছে নীরবে।
পাতার কাঁপন যেন বলে— “আল্লাহু আকবার!”
প্রকৃতিজুড়ে ধ্বনিত হয় প্রভুরই অহংকার।
নদী বয়ে যায় কলকলিয়ে রহমতেরই সুরে,
সমুদ্র গর্জে ঘোষণা দেয় মহান রবের নূরে।
পাহাড়গুলো দাঁড়িয়ে থাকে দৃঢ় ঈমান নিয়ে,
তাসবীহ পড়ে নীরব মনে রবের ভয়ে দিয়ে।
আকাশ কত উঁচু করে রেখেছেন যিনি মহান,
নীলিমাভরা বিশাল গম্বুজ তাঁর কুদরতের নিদান।
কোনো স্তম্ভ নেই তবু তা টিকে আছে স্থির,
মানুষ দেখে বিস্ময় ভরে হয় অন্তরে অধীর।
তারপর দিলেন দাঁড়িপাল্লা ন্যায়ের প্রতীক রূপে,
যেন মানুষ সত্য মাপে প্রতিটি কাজের ধূপে।
ওজনে কম নয়, নয় প্রতারণা বা ছল,
সত্য ও ইনসাফেই গড়ুক মানবতার দল।
আজ কত মানুষ হাসিমুখে অন্যের হক খায়,
মিষ্টি কথার আড়ালে বিষ ঢেলে সুখ পায়।
ক্ষমতার অহংকারে ভুলে যায় রবের ভয়,
অন্যায়ের প্রাসাদ গড়ে ভাবে এটাই জয়।
কিন্তু আল্লাহ সবই দেখেন আরশের উচ্চতায়,
মজলুমের দীর্ঘশ্বাস পৌঁছে যায় গভীর ব্যথায়।
এক ফোঁটা চোখের পানি হারায় না তো বৃথা,
ন্যায়ের মালিক আল্লাহ আছেন— এটাই সান্ত্বনা।
সূর্য যদি নিয়ম ভেঙে থেমে যেত একদিন,
পৃথিবীজুড়ে নেমে আসত ধ্বংসের কালো ঋণ।
চাঁদ যদি হারিয়ে ফেলত তার চলার পথ,
অন্ধকারে ডুবে যেত দুনিয়ার প্রতিরথ।
তাই তো সৃষ্টির প্রতিটি বস্তু মানে রবের বাণী,
শুধু মানুষ অবাধ্য হয়ে বাড়ায় দুঃখখানি।
কখনো ধনের মোহে, কখনো মিথ্যা দম্ভে,
নিজের হাতে জ্বালায় আগুন আপন সুখের অন্তে।
হে মানুষ! দেখো গাছেরা কত বিনয়ী প্রাণ,
ফল দিয়ে যায় নীরবভাবে, চায় না প্রতিদান।
নদী শুধু বয়ে চলে তৃষ্ণা মেটাতে সদা,
মেঘেরা ঝরে দয়া হয়ে পৃথিবীরই কদা।
সূর্য আলো বিলায় কভু নেয় না কোনো দাম,
চাঁদও শীতলতা ছড়ায় বিনিময়হীন গ্রাম।
মানুষ হয়েও কেন তবে হৃদয় এত কঠিন?
কেন অন্যের কষ্ট দেখে থাকে না মন লীন?
সিজদা শুধু কপাল নত করার নামটি নয়,
সিজদা মানে অন্তরে থাকা আল্লাহভীতি ভয়।
সিজদা মানে সত্যপথে অটল থেকে যাওয়া,
মিথ্যা আর জুলুম ছেড়ে ন্যায়ের আলো চাওয়া।
দাঁড়িপাল্লা শুধু বাজারের হিসাব রাখার তরে নয়,
এটা মানুষের বিবেক, চরিত্র, আমলের পরিচয়।
কথা, আচরণ, ভালোবাসা— সবখানে চাই ভার,
অন্যায়ের বোঝা চাপিয়ে নয় কারো জীবনের দ্বার।
মায়ের অশ্রু, এতিম শিশুর কান্নাভরা রাত,
বিধবার বুকফাটা আর্তি, মজলুমের আঘাত—
সবই পৌঁছে যায় একদিন আরশের দরবারে,
আল্লাহ দেন ন্যায়বিচার নিখুঁত ভারসাম্যে।
তারকারা রাত জেগে থাকে শত শত বর্ষকাল,
মানুষ কেন সত্যপথে হয় না অবিচল?
সূর্য প্রতিদিন আলো দেয় ক্লান্তিহীন প্রাণে,
মানুষ কেন ভালোবাসা দিতে গিয়ে হারে?
হে প্রভু! তুমি হৃদয়গুলো করো কোমল নূরে,
হিংসা, লোভ আর বিদ্বেষ মুছে দাও অন্তরে।
দাঁড়িপাল্লার শিক্ষা যেন জীবনে করি মান,
সত্য ও ন্যায়ের পথে কাটুক আমাদের প্রাণ।
আমরা যেন বৃক্ষসম হই বিনয়ে অবনত,
তারকার মতো জ্বলি সদা আঁধারে অবিরত।
সূর্যের মতো সত্য ছড়াই সাহসী উচ্চারণে,
চাঁদের মতো শান্তি বিলাই দুঃখভরা প্রাণে।
আকাশ দেখে মনে জাগুক আল্লাহরই ভয়,
সমুদ্র দেখে অন্তর বলুক— “তিনি মহানময়!”
পাহাড় দেখে শিখি যেন দৃঢ় থাকার পাঠ,
সিজদাভরা হৃদয় নিয়ে চলি জান্নাতের ঘাট।
দুনিয়ার রূপ ক্ষণিকেরই, সবই হবে শেষ,
রবে শুধু আমল আর রবের রহমতের রেশ।
একদিন সূর্য নিভে যাবে, চাঁদ হারাবে আলো,
তারকারাও ঝরে পড়বে আকাশ ছেড়ে কালো।
সেদিন শুধু আল্লাহরই রাজত্ব হবে স্থির,
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা কিছুই করবে না অধীর।
তাই আজই ফিরে এসো প্রভুর নূরের দ্বারে,
তাওবার অশ্রু ঝরাও নীরব রাতের পারে।
ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা রাখো প্রতিটি কর্মমাঝে,
মানুষ হয়ে কষ্ট দিও না কারো অন্তরসাঁঝে।
সিজদাভরা প্রাণ নিয়ে কাটুক জীবনের ক্ষণ,
আল্লাহর প্রেমেই হোক আমাদের সমাপন।
হে রহমান! হে রহীম! দয়া করো প্রাণে,
অন্যায়ের অন্ধকারে যেন না হারাই টানে।
সূর্য, চাঁদ, তারা, বৃক্ষ যেমন তোমার দাস,
তেমনি করে রেখো মোদের ঈমানভরা নিশ্বাস।
***
সূর্য চলে নির্ধারি কক্ষপথের বাঁকে,
চাঁদও ঘোরে আপন ছন্দে রাতের নীল ফাঁকে।
একটুও নেই ভুলভ্রান্তি, নেই কোনো অবহেলা,
রবের দেওয়া নিয়ম মেনেই চলছে সৃষ্টি-মেলা।
ভোরের আকাশ রাঙিয়ে উঠে লালিমাভরা দিন,
সূর্যের আলোয় জেগে ওঠে মাঠ, নদী আর বিলীন।
শিশিরভেজা ঘাসের ডগায় মুক্তার মতো জল,
প্রকৃতিজুড়ে ফুটে ওঠে স্রষ্টারই অনল।
চাঁদ আসে সন্ধ্যার পরে স্নিগ্ধ শুভ্র বেশে,
ক্লান্ত হৃদয় শান্তি খোঁজে তার কোমল আবেশে।
তারকারা রাতের বুকে জ্বলে নীরব তানে,
তাসবীহ পড়ে মহান রবের অসীম মহিমাগানে।
গাছগুলোও সিজদা করে বাতাস দোলার ছলে,
পাতাগুলো জিকির তোলে নীরবতার তলে।
মনে হয় প্রতিটি ডাল বলছে আপন সুরে—
“আল্লাহ ছাড়া সত্য প্রভু নেই কোনো দূরে।”
নদীর ঢেউ কলকলিয়ে রহমতের গান গায়,
সমুদ্র গর্জন তুলে রবের মহিমা চায়।
পাহাড় দাঁড়িয়ে দৃঢ় মনে বিনয়ী এক প্রাণ,
তাসবীহ পড়ে নীরব হয়ে স্মরণ করে রহমান।
আকাশটাকে সমুন্নত করে রেখেছেন যিনি,
কী অপার তাঁর কুদরত! সীমা খুঁজে পাবে কি কেউই?
নীল গম্বুজ মাথার উপর স্তম্ভহীন দাঁড়ায়,
মানুষ দেখে বিস্ময়ভরে অন্তর কেঁপে যায়।
সূর্য যদি এক মুহূর্ত থেমে যেত হঠাৎ,
পৃথিবীজুড়ে নেমে আসত অন্ধকারের রাত।
চাঁদ যদি ভুলে যেত তার নির্ধারিত পথ,
জোয়ারভাটা থেমে গিয়ে ভেঙে পড়ত রথ।
তাই তো সৃষ্টির প্রতিটি বস্তু মানে রবের আইন,
শুধু মানুষ অবাধ্য হয়ে বাড়ায় গুনাহর ঋণ।
কখনো ধনের মোহে পড়ে, কখনো ক্ষমতার নেশায়,
নিজের হাতে আগুন জ্বালে আপন ঘরের শেষায়।
তারপর দিলেন দাঁড়িপাল্লা ন্যায়ের প্রতীক করে,
যেন মানুষ হক আদায়ে অটল থাকে ঘরে।
ওজনে কম নয়, নয় প্রতারণা বা ছল,
সত্য ও ইনসাফেই গড়ুক মানবতার দল।
আজ কত মানুষ ভাইয়ের হক মেরে সুখে হাসে,
মিষ্টি কথার আড়ালেতে বিষ ঢেলে সর্বনাশে।
লোভের আগুন জ্বালিয়ে রেখে ভুলে যায় পরিণাম,
দুনিয়ার ক্ষণিক লাভেই হারায় ঈমানধাম।
কিন্তু আল্লাহ সবই দেখেন আরশের ওপার হতে,
মজলুমের কান্না পৌঁছে যায় গভীর রাতের নীড়ে।
এক ফোঁটা অশ্রুও হারায় না ন্যায়ের মহাদ্বারে,
রবের বিচারে সব প্রকাশ পাবে হাশরেরই পারে।
দাঁড়িপাল্লা শুধু বাজারের ওজন মাপার নয়,
এটা মানুষের বিবেক, আমল, চরিত্রের পরিচয়।
কথা বলার মাঝেও চাই সত্যতার ভার,
কারো মনে কষ্ট দিয়ে নয় জীবনের অধিকার।
গাছেরা ফল দেয় নীরবে চায় না কোনো দাম,
নদী শুধু তৃষ্ণা মেটায় সকাল, দুপুর, সন্ধ্যাগ্রাম।
মেঘেরা বর্ষণ ঝরায় বিনিময়হীন প্রাণে,
মানুষ হয়েও কেন তবে কঠোরতা হৃদয়খানে?
সূর্য প্রতিদিন আলো বিলায় ক্লান্তিহীনভাবে,
চাঁদও শীতলতা ছড়ায় নীরবতার অভাবে।
তারকারা রাত জেগে থাকে শত সহস্র বছর,
মানুষ কেন সত্যপথে হতে পারে না অমর?
সিজদা শুধু মাটিতে কপাল রাখার নাম নয়,
সিজদা মানে অন্তরে থাকা আল্লাহভীতি ভয়।
সিজদা মানে সত্য পথে অবিচল থাকা,
মিথ্যা আর জুলুম ছেড়ে ন্যায়ের দীপ জ্বালানো।
পাহাড় দেখে শিখি যেন দৃঢ়তারই পাঠ,
নদী দেখে শিখি সদা চলার অমল ঘাট।
আকাশ দেখে মনে জাগে রবের মহিমা,
তারকারা শেখায় মোদের ধৈর্যের প্রতিমা।
হে মানুষ! প্রকৃতিকে দেখো, শিখো বিনয়ভরে,
সব সৃষ্টি রবের আদেশ মানে আপন তরে।
শুধু তুমি অহংকারে ডুবে থেকো না আর,
ফিরে এসো সত্যপথে, খোলো হৃদয়দ্বার।
দুনিয়ার এই চাকচিক্য ক্ষণিক মরীচিকা,
আখিরাতের শান্তির কাছে সবই তুচ্ছ দীক্ষা।
একদিন সূর্য নিভে যাবে, চাঁদও হবে ক্ষয়,
তারকারাও ঝরে পড়বে, থাকবে না কোনো ভয়।
সেদিন শুধু আল্লাহরই রাজত্ব হবে স্থির,
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা কিছুই করবে না ধীর।
যার হৃদয়ে ঈমান ছিল, সত্য ছিল প্রাণে,
সে-ই পাবে শান্তির ছায়া জান্নাতেরই টানে।
হে দয়াময়! অন্তরগুলো করো তুমি নরম,
হিংসা, লোভ, প্রতারণা মুছে দাও নিরন্তর।
দাঁড়িপাল্লার ন্যায়বিচার স্থাপন হোক প্রাণে,
মানুষ যেন ভালোবাসা ছড়ায় দুনিয়াখানে।
আমরা যেন বৃক্ষসম হই বিনয়ে অবনত,
তারকার মতো জ্বলি সদা আঁধারে অবিরত।
সূর্যের মতো সত্য বিলাই সাহসী উচ্চারণে,
চাঁদের মতো শান্তি ছড়াই দুঃখভরা প্রাণে।
তাওবার অশ্রু ঝরুক নীরব রাতের শেষে,
রহমতের দরজা খুলুক দয়ার স্নিগ্ধ রেশে।
সিজদাভরা হৃদয় নিয়ে কাটুক জীবনের ক্ষণ,
আল্লাহর প্রেমেই হোক আমাদের সমাপন।
হে রহমান! হে রহীম! দয়া করো প্রাণে,
অন্যায়ের অন্ধকারে যেন না হারাই টানে।
সূর্য, চাঁদ, তারা, বৃক্ষ যেমন তোমার দাস,
তেমনি করে রেখো মোদের ঈমানভরা নিশ্বাস।
-সূরাঃ আর-রাহমান আয়াতঃ৫-৬ মাদানী
***
৪
৪ মন্তব্য