Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ মে, ২০২৬ ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ

পানি যদি মাটির নিচে হারিয়ে যায়.. - মোঃ মুজিবুর রহমান


পানি যদি মাটির নিচে

হারিয়ে যায়..

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

বলো তো মানুষ, একটু ভেবে
কার দয়াতে বাঁচো?
কার ইশারায় নদীর বুকে
ঢেউয়ের গানটা শোনো?

কার আদেশে মেঘের ভেলায়
বৃষ্টি নামে ধীরে?
কার রহমতে শস্য ফলে
সবুজ মাঠের নীড়ে?

যে পানিটুকু হাতে নিয়ে
তৃষ্ণা মেটাও প্রাণে,
সেই পানির মালিক যিনি
রয়েছেন আসমানে।

আজ যে কূপে পানি ওঠে
ঝরনা বহে সুখে,
এক নিমিষে শুকিয়ে দিতে
পারেন তিনি রুখে।

মহান রবই প্রশ্ন করেন
ভেবে দেখেছ কি?
পানি যদি মাটির নিচে
হারিয়ে যায় ঠিকই,

তখন কে আর এনে দেবে
বহমান সেই ধারা?
কে মেটাবে তৃষ্ণার জ্বালা
মানুষ সারা সারা?”

হায়রে মানুষ! অহংকারে
কেন এতই ভুলো?
দুনিয়ার এই ক্ষণিক শক্তি
নিয়ে কেন ফুলে ওঠো?

এক ফোঁটা জল বন্ধ হলে
থেমে যাবে জীবন,
তবু কেন রবের পথে
হয় না অন্তর নতক্ষণ?

নদী, সাগর, খাল-বিল যত
সবই তাঁর দান,
তাঁর করুণায় পৃথিবীজুড়ে
বাঁচে কোটি প্রাণ।

পাহাড় চূড়ায় বরফ গলে
নদী নামে নীচে,
মহান আল্লাহ দয়া করে
পাঠান সবার পিছে।

মাঠের ধানে শিশির হয়ে
তিনি দেন যে পানি,
তৃষ্ণার্তের শুকনো মুখে
হাসি ফোটান তিনি।

যে কৃষক আজ মাঠে গিয়ে
ঘামে ভেজায় বুক,
পানির অভাব হলে তার
মুছে যেত সুখ।

যে জেলে ভাই নদীর বুকে
ভাসায় আপন জাল,
পানি ছাড়া নিঃস্ব হতো
তার জীবনের কাল।

শহরজুড়ে কলের পানি,
ঘরের ঠান্ডা ঝর্ণা,
সবই কিন্তু রবের দান
মানুষ শুধু ধারনা।

মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা
অমূল্য এই নেয়ামত,
মানুষ যদি বুঝত সত্য
করত না অবহেলাত।

পানি শুধু পানি নয় গো,
রহমতেরই চিহ্ন,
প্রতিটি ফোঁটা সাক্ষ্য দেয়
আল্লাহ মহান, মহান!

তৃষ্ণার কষ্ট কেমন কঠিন
মরুভূমির পথে,
একটু পানির আশায় মানুষ
কাঁদে দুঃখরথে।

তবু আমরা ভুলে যাই যে
এই নিয়ামত কার,
অহংকারে ডুবে থেকে
হই পাপের ভার।

হে মানুষ! আজ সিজদাতে যাও,
রবের শুকর করো,
যিনি তোমায় পানি দিলেন
তাঁরই পথে চলো।

কারখানা আর অট্টালিকা
কিছুই কাজে আসবে না,
এক ফোঁটা জল না থাকিলে
বাঁচার পথও রবে না।

ক্ষমতা, ধন, রাজত্ব যত
সবই ক্ষণিক খেলা,
পানির অভাব বুঝিয়ে দেবে
মানুষ কত বেলা।

তাই তো কুরআনের আহ্বান
ডাকে গভীর সুরে
রবকে চিনো, ফিরো তাঁরই
করুণাময় নূরে।

যে আল্লাহর হুকুমে আজি
নদী ছুটে যায়,
সেই আল্লাহ চাইলে আবার
সব শুকিয়ে যায়।

তাঁর রহমত ছাড়া মানুষ
অসহায় বড়ই,
মহান রবের দয়ার ছায়া
নেই যার অন্তরেই।

এসো সবাই মাথা নত করি
সেই রবের দ্বারে,
যিনি পানি দান করেন
মেঘের অশ্রুধারে।

তাঁরই নামে সকাল হোক,
তাঁরই নামে রাত,
তাঁর রহমতে সজীব হোক
মানবতার ঘাট।

হে আল্লাহ! শুকিয়ে যাওয়া
হৃদয়গুলো ভিজাও,
পাপের ধুলো ধুয়ে মুছে
ঈমান দিয়ে সাজাও।

যেমন তুমি মরা জমিনে
বৃষ্টি ঢেলে দাও,
তেমনি করে মৃত হৃদয়ে
হেদায়েত বর্ষাও।

পানির মতো স্বচ্ছ করো
আমাদের অন্তর,
তোমার প্রেমে জাগ্রত হোক
প্রতিটি মানবঘর।

দুনিয়ার সব নেয়ামতের
মূল যে তুমি রব,
তোমার দয়ায় বেঁচে আছে
আসমান আর সব।

তাই তো আজও নদীর জলে
শুনি নীরব বাণী
আল্লাহ ছাড়া কেউ দিতে পারে
না এক ফোঁটা পানি।

আমিন।

***

বল হে মানুষ, একটু থেমে
ভেবে দেখো প্রাণ,
কার দয়াতে বইছে নদী,
কারে গায় গান?

কার ইশারায় মেঘের ভেলায়
বৃষ্টি নামে ধীরে,
কার রহমতে সবুজ ফসল
হাসে মাঠের নীড়ে?

কার আদেশে ঝর্ণাধারা
পাহাড় বেয়ে নামে?
কার করুণায় পিপাসিত প্রাণ
শান্তি খুঁজে পায় থামে?

এক ফোঁটা জলসামান্য মনে,
তবু কত দামি!
পানিরই উপর ভর করে
বেঁচে আছে গ্রামই।

কুরআনের প্রশ্ন যেন
কাঁপায় অন্তরখানি
পানি যদি মাটির নিচে
হারিয়ে যায় জানি,

তবে বলো কে এনে দেবে
বহমান সেই ধারা?
কার হাতে আছে নিভিয়ে দেওয়ার
তৃষ্ণার হাহাকারা?”

মানুষ তখন বুঝবে গিয়ে
কত ক্ষুদ্র প্রাণ,
এক ফোঁটা জল ছাড়া যে
অচল বিশ্বভুবন।

অট্টালিকা, রাজপ্রাসাদ,
ক্ষমতারই ঢেউ,
পানির অভাব হলে শেষে
বাঁচাতে পারবে কে কেও?

যে নদী আজ ছুটে চলে
কলকল সুর তুলে,
রবের হুকুম ছাড়া কি সে
চলতে পারে খুলে?

যে মেঘ আজও আকাশ ভরে
বর্ষা আনে নেমে,
আল্লাহরই আদেশ ছাড়া
ঝরবে কি সে প্রেমে?

হে মানুষ! অহংকারে
কেন এতই ভুলো?
রবের দেয়া নেয়ামত পেয়ে
নিজেকেই বড় বলো!

একদিন যদি শুকিয়ে যায়
পুকুর, নদী, খাল,
কোথায় যাবে তোমার তখন
বিজ্ঞান, শক্তিজাল?

কত যন্ত্র, কত উন্নতি,
কত সভ্যতার গান
এক ফোঁটা জল তৈরি করতে
অক্ষম সব জ্ঞান।

যে কৃষক ভাই মাঠে গিয়ে
ঘামে ভেজায় বুক,
পানির অভাব হলে তার
মুছে যেত সুখ।

যে জেলে ভাই নদীর বুকে
ফেলে আপন জাল,
পানি ছাড়া থেমে যেত
তার জীবনের চাল।

যে শিশু আজ বৃষ্টিভেজা
পথে হাঁসে খেলে,
পানি ছাড়া কাঁদত সে যে
তৃষ্ণার আগুন জ্বেলে।

যে মা রাতে সন্তানেরে
পানি খাইয়ে ঘুমায়,
সেই পানিটুকু আল্লাহ ছাড়া
আর কে এনে দেয় হায়?

পানি শুধু নয়কো পানি
রহমতেরই দান,
প্রতিটি ফোঁটা সাক্ষ্য বহে
আছে মহান প্রাণ।

নদীর জলে জিকির শোনা,
বাতাস গায় সুর,
চাঁদ-সূর্যও সেজদা করে
মহান রবের নূর।

পাহাড় চূড়ায় বরফ গলে
নদী হয়ে নামে,
আল্লাহরই কুদরতে সব
চলে নিজ নিজ থামে।

যে পানি দিয়ে অজু করে
মুমিন পাঁচ ওয়াক্তে,
সেই পানিই ডাকছে যেন
ফিরে এসো সত্যে।

যে পানি দিয়ে রোজা ভাঙো
মাগরিবের বেলা,
সেই পানিতেই রহমতের
লুকিয়ে আছে মেলা।

যে পানি পড়ে মৃত জমিনে
ফোটায় নতুন ফুল,
সেই পানির মালিক যিনি
তাঁকে ভুলো না কূল।

আজকে যদি বৃষ্টি থামে
বছরের পর বছর,
শুকিয়ে যাবে পৃথিবীজুড়ে
জীবনেরই ঘর।

মরুভূমির উত্তাপ তখন
জ্বালাবে সব প্রাণ,
মানুষ শুধু কাঁদবে বসে
কোথায় পানির দান?”

তাই তো কুরআন বারেবারে
ডাকে মানুষজনে
ফিরে এসো মহান রবের
রহমতেরই সনে।

হে আল্লাহ! আমাদের মনে
শুকর দাও জাগিয়ে,
অহংকারের অন্ধকার সব
দাও তুমি মুছে দিয়ে।

যেমন তুমি মরা ধরায়
বর্ষাও বৃষ্টিধারা,
তেমনি করে ঈমান দাও
আমাদের অন্তরা।

পানির মতো নির্মল করো
আমাদের সব মন,
তোমার পথে কাটুক যেন
জীবনের প্রতিক্ষণ।

যে রব ছাড়া এক ফোঁটা জল
আসে না ধরাতে,
সেই রবেরই প্রেম জাগুক
প্রতিটি হৃদপাতে।

তাঁরই নামে সূর্য ওঠে,
তাঁরই নামে রাত,
তাঁর রহমতে সজীব থাকে
মানবতার ঘাট।

তাই তো নদীর কলতানে আজ
ভাসে নীরব বাণী
আল্লাহ ছাড়া কেউ দিতে পারে
না এক ফোঁটা পানি।

আমিন, ইয়া রহমান, ইয়া রহিম।

***

বল হে মানুষ, একটু ভেবে
কার রহমতে বাঁচো?
কার ইশারায় নদীর বুকে
ঢেউয়ের সুরটা শোনো?

কার আদেশে মেঘের ভেলায়
বৃষ্টি নামে ধীরে?
কার করুণায় সবুজ ফসল
হাসে মাঠের নীড়ে?

কার হুকুমে সূর্য ওঠে
আলোক ছড়ায় ভোরে?
কার রহমতে চাঁদের আলো
ঝরে নিশির কোরে?

যে পানিটুকু হাতে নিয়ে
তৃষ্ণা মেটাও প্রাণে,
সেই পানির মালিক যিনি
আছেন আরশখানে।

কুরআনের প্রশ্ন শুনে
কাঁপে হৃদয়খানি
পানি যদি লুকিয়ে যায়
মাটির গভীর টানি,

তবে বলো কে এনে দেবে
স্বচ্ছ বহমান ধারা?
কার শক্তিতে মিটবে তখন
তৃষ্ণার হাহাকারা?”

এক ফোঁটা জল থেমে গেলে
থেমে যাবে জীবন,
সব অহংকার ভেঙে হবে
মানুষ নিরুপায় তখন।

নদী, সাগর, খাল-বিল যত
সবই রবের দান,
তাঁর রহমতে পৃথিবীজুড়ে
বেঁচে কোটি প্রাণ।

যে নদী আজ ছুটে চলে
কলকল ধ্বনি তুলে,
আল্লাহরই হুকুম ছাড়া
চলতে পারে খুলে?

যে মেঘ আজ আকাশজুড়ে
বর্ষা হয়ে নামে,
মহান রবের আদেশ ছাড়া
ঝরবে কি সে থামে?

পাহাড় চূড়ার বরফ গলে
নদী হয়ে নামে,
রবের কুদরতের ইশারাতে
সবই চলে থামে।

যে কৃষক ভাই রোদে পুড়ে
ফলায় সোনার ধান,
পানির অভাব হলে তার
হারিয়ে যেত গান।

যে জেলে ভাই নদীর বুকে
ফেলে আপন জাল,
পানি ছাড়া বন্ধ হতো
তার জীবনের চাল।

যে রাখাল যায় মাঠের পথে
গাভী নিয়ে দূরে,
পানি ছাড়া শুকিয়ে যেত
ঘাসের সবুজ নূরে।

যে মা রাতে সন্তানেরে
পানি খাইয়ে ঘুমায়,
সেই পানিটুকু কে দিয়েছে?
ভাবলে হৃদয় কাঁদায়।

যে শিশু আজ বৃষ্টিভেজা
মাঠে খেলে সুখে,
পানি ছাড়া কান্না ভাসত
তার নিষ্পাপ মুখে।

পানি শুধু সাধারণ নয়
রহমতের নিদর্শন,
প্রতিটি ফোঁটা সাক্ষ্য বহে
আল্লাহ মহান।

নদীর জলে জিকির শোনা,
বাতাস গায় গান,
চাঁদ-সূর্যও সেজদা করে
মহান পরওয়ারদিগার।

তবু মানুষ ভুলে গিয়ে
অহংকারে মাতে,
রবের দেয়া নেয়ামতের
শুকরিয়া না গাঁথে।

আজকে যদি বৃষ্টি থামে
বছরের পর বছর,
শুকিয়ে যাবে শস্যক্ষেত্র,
ধূসর হবে ঘর।

পুকুর হবে শূন্য তখন,
মরবে নদীর ঢেউ,
ক্ষমতাবান মানুষগুলো
বাঁচাতে পারবে কেউ?

বিজ্ঞান যত উন্নতি করুক,
যন্ত্র হোক মহান,
এক ফোঁটা জল সৃষ্টি করা
মানুষের নয় জ্ঞান।

চাইলে আল্লাহ মুহূর্তেতে
লুকিয়ে নেবেন ধারা,
তখন শুধু কান্না ভাসবে
পৃথিবীজোড়া সারা।

হে মানুষ! এখনও সময়
ফিরে এসো রবের পানে,
সিজদা দিয়ে কেঁদে বলো
রাখো আমায় ঈমানখানে।

যে পানি দিয়ে অজু করে
মুমিন পাঁচ ওয়াক্তে,
সেই পানিই ডাকে যেন
ফিরে এসো সত্যে।

যে পানি দিয়ে রোজা ভাঙো
মাগরিবের বেলা,
সেই পানিতে রহমতেরই
অশেষ সুখের মেলা।

যে পানি পড়ে মৃত জমিনে
ফোটায় নতুন ফুল,
সেই পানির মালিক যিনি
তাঁকে ভুলো না কূল।

যেমন তুমি বৃষ্টি দিয়ে
জাগাও মৃত ধরা,
তেমনি করে ঈমান দাও
আমাদের অন্তরা।

পানির মতো স্বচ্ছ করো
আমাদের সব মন,
তোমার পথে কাটুক যেন
জীবনের প্রতিক্ষণ।

দুনিয়ার সব নেয়ামতের
তুমি মহান রব,
তোমার দয়ায় জেগে থাকে
তারকা, চাঁদ আর সব।

তাই তো নদীর কলতানে আজ
ভাসে নীরব বাণী
আল্লাহ ছাড়া কেউ দিতে পারে
না এক ফোঁটা পানি।

হে আল্লাহ! রহমত দিয়ে
ভরিয়ে দাও প্রাণ,
শুকিয়ে যাওয়া হৃদয়গুলো
করো ফুলের বাগান।

অহংকারের কালো মেঘ
মুছে দাও অন্তর হতে,
তোমার প্রেমে জাগ্রত রাখো
আমাদের প্রতি রতে।

তোমার দয়ায় বাঁচুক ধরা,
বাঁচুক সব প্রাণী,
তোমার রহমত ছাড়া প্রভু
নেই তো আর কেউ জানি।

আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।

-সূরাঃ আল-মুলক আয়াতঃ ৩০ মাক্কী


মন্তব্য করুন

ব্লগ