Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ মে, ২০২৬ ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সময়ের কসম - মোঃ মুজিবুর রহমান

সময়ের কসম

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

সময় বয়ে যায় নদীর জলের মতো,
ফিরে আসে না আর গতকালের ক্ষণ,
মানুষ ব্যস্ত দুনিয়ার মোহে,
ভুলে যায় আখিরাতের অনন্ত জীবন।

আল্লাহ তাআলা সময়ের কসম করে
দিলেন কঠিন এক সতর্ক বাণী
নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত সবাই,
যদি না থাকে ঈমানের টানই।



কত মানুষ হাসির আড়ালে
বুকভরা দুঃখ লুকিয়ে রাখে,
কত ধনী অট্টালিকায় থেকেও
শান্তির ছোঁয়া কখনো না পায় চোখে।

কত নামী, কত সম্মানী লোক,
পৃথিবীতে যাদের জয়জয়কার,
মৃত্যুর পরে শূন্য হাতে গিয়ে
দেখবে সবই ছিল ক্ষণিকের ধার।

যে সময় গেল অবহেলায়,
ফিরবে না তা হাজার ডাকেও,
যে যৌবন গেল পাপের নেশায়,
কাঁদলেও আর ফিরবে না চাওয়াতেও।

তাই তো মুমিন জাগে গভীর রাতে,
সিজদায় ফেলে চোখের পানি,
বলে হে প্রভু! তুমি ছাড়া
এই হৃদয়ের নেই তো আর কেউ জানি।

ঈমান হলো জীবনের আলো,
অন্ধকারে পথ দেখানো দীপ,
যার অন্তরে তাওহীদের শিখা,
সে হারালেও হয় না নিঃস্ব-দরিদ্র।

সৎকাজ হলো জান্নাতের বীজ,
ভালোবাসা আর দয়ার সুবাস,
মানুষের মুখে হাসি ফোটানোও
রবের কাছে অমূল্য এক আভাস।

যে মানুষ সত্য কথা বলে,
অন্যায় দেখে নীরব না রয়,
হক প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় থাকে সদা,
আল্লাহ তার উপর রহমত বর্ষায়।

আজ সত্য বলা কঠিন বড়,
মিথ্যার বাজার চারদিকে,
তবুও মুমিন ভয় পায় না,
থাকে অবিচল সত্যের দিকেই।

ধৈর্য কত মহামূল্য রতন,
বিপদে যার পরিচয় মেলে,
ঝড়ের মাঝেও যে হাসতে জানে,
সে- তো আল্লাহর প্রিয় হয়ে চলে।

বন্ধু যদি কষ্ট দেয় কখনো,
মানুষ যদি করে বঞ্চনা,
ধৈর্যের চাদর জড়িয়ে নিও,
আল্লাহ দেখেন সব গোপন যন্ত্রণা।

অভাব যখন দরজায় কড়া নাড়ে,
চোখে নামে অশ্রুর ঢেউ,
মুমিন তখনও আশা হারায় না,
কারণ তার রব আছেন নিকটেই ঢেউ।

সময়ের প্রতিটি ক্ষণ অমূল্য,
জীবন এক পরীক্ষার পথ,
আজ যে ভালো কাজ করে যাবে,
কাল সে- পাবে মুক্তির রথ।

কবরের নীরব অন্ধকার ঘরে
থাকবে না ধন কিংবা অহংকার,
শুধু ঈমান আর নেক আমল
হবে তখন সত্যিকার সম্বল তার।

তাই এসো সবাই সত্যের পথে,
হৃদয় করি পবিত্র নির্মল,
পরস্পরকে ধৈর্য শেখাই,
ভালোবাসায় করি জীবন উজ্জ্বল।

মসজিদের আযান ডাকছে প্রতিক্ষণ
এসো সফলতার পানে,
কত মানুষ শুনেও ফিরছে না,
ডুবে আছে দুনিয়ার টানে।

হে মহান আল্লাহ! তুমি দাও
ঈমানভরা প্রশান্ত হৃদয়,
সত্যের পথে অবিচল রাখো,
পাপ থেকে করো মোদের নির্ভয়।

সময়ের কসম! জীবন ক্ষণিক,
একদিন থেমে যাবে সব,
যে হৃদয়ে আছে রবের ভয়,
সেই হৃদয়ই পাবে আসল রব।

দুনিয়ার সুখ মরীচিকার মতো,
চোখ ধাঁধায় ক্ষণিক আলোয়,
আখিরাতের চিরশান্তির তুলনায়
সবই ম্লান হয়ে যায় কালো ছায়ায়।

তাই আজই ফিরে আসি প্রভুর ডাকে,
তওবার অশ্রু ঝরুক নয়নে,
ঈমান, আমল, সত্য আর ধৈর্যে
জীবন কাটুক রবের স্মরণে।

যেদিন ভাঙবে দুনিয়ার মেলা,
নিভে যাবে জীবনের প্রদীপ,
সেদিন শুধু সফল সে- হবে
যার হৃদয়ে ছিল ঈমানের নীড় গভীর।

***

সময়ে কসম!
সময় বড় নিষ্ঠুর পথিক,
কারো জন্য থামে না কখনো,
চলে যায় নীরব নদীর মতো
অজানা সাগরের পানে।
আজ যে শিশু মায়ের কোলে,
কাল সে বৃদ্ধ লাঠির ভর,
আজ যে প্রাসাদ গড়ে অহংকারে,
কাল সে শুয়ে থাকে মাটির ঘর।

দুনিয়ার রঙিন মেলা
মুগ্ধ করে মানবমন,
কেউ টাকার পিছে ছুটে,
কেউ খোঁজে সম্মান আর সিংহাসন।
কেউ ভুলে যায় রবের কথা,
কেউ ডুবে থাকে পাপের নেশায়,
কেউ ভুলে যায়
মৃত্যু দাঁড়িয়ে আছে
অতি নিকট ছায়ায়।

তাই তো আল্লাহ কসম করে
শুনালেন মহা সত্য বাণী
সব মানুষ ক্ষতির মাঝে,
যদি না থাকে ঈমানের পানি।
যারা আমল করে নেক,
সত্যের পথে ডাকে প্রাণ,
ধৈর্যের শিক্ষা দেয় পরস্পরে,
তারাই পাবে মুক্তির স্থান।

কী অপূর্ব এই দিশা!
কী গভীর এই আহ্বান!
ছোট্ট সূরার মাঝে লুকিয়ে আছে
জীবনের পূর্ণ জ্ঞান।

ঈমান হলো হৃদয়ের বাগান,
যেখানে ফুটে তাওহীদের ফুল,
যার অন্তরে ঈমান নেই,
সে যেন মরুভূমি নির্জন, ব্যাকুল।
ঈমান মানুষকে শেখায়
আল্লাহ আছেন সবখানে,
রাতের অন্ধকার কান্নাও
হারিয়ে যায় না তাঁর দরবারে।

কত মানুষ আছে পৃথিবীতে,
মুখে হাসি, অন্তরে ক্ষত,
কারো বন্ধু দিয়েছে আঘাত,
কারো আপনজন করেছে পর।
কারো ঘরে অভাবের ছায়া,
কারো চোখে অপমানের জল,
তবুও মুমিন আশা ছাড়ে না,
কারণ তার রব অশেষ দয়ালু, অমল।

গভীর রাতে তাহাজ্জুদের সিজদায়
যখন পড়ে অশ্রুধারা,
আকাশ কেঁপে ওঠে যেন
বান্দার মিনতি শুনে সারা।
সে বলে
হে আমার রব!
মানুষের কাছে হারালেও
তোমার কাছে যেন না হারি।

সৎকাজ হলো আলোয়ের পথ,
যা কবরেও দেয় প্রশান্তি,
এক মুঠো দান, একটুকু দয়া,
একটি হাসি তাও ইবাদত অগণিত।
ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া,
এতিমকে বুকে টেনে নেওয়া,
অসহায়ের চোখের পানি মোছা
এসবেই রবের সন্তুষ্টি পাওয়া।

আজ মানুষ বড় ব্যস্ত,
মোবাইলের ক্ষণিক আলোয়,
আখিরাত ভুলে ডুবে আছে
মিথ্যা সুখের কালো ছায়ায়।
কেউ নামাজ ফেলে ঘুমে,
কেউ কুরআন ভুলে গানে,
কেউ পাপকে সাজিয়ে রাখে
ফ্যাশনের নতুন টানে।

তবুও কিছু হৃদয় আছে
যারা এখনো কাঁদে গোপনে,
যারা চায় জান্নাতের পথ
রবের রহমতের ছায়াতলে।
তারা সত্যকে ভালোবাসে,
যদিও সত্য বলা কঠিন,
মিথ্যার ভিড়ে দাঁড়িয়ে থেকেও
হকের পথে থাকে অবিচল দিনদিন।

ধৈর্য
যেন জ্বলন্ত মরুভূমিতে
শীতল বৃষ্টির ছোঁয়া।
যার ধৈর্য আছে,
সে বিপদেও হারায় না আশা।
বন্ধু প্রতারণা করলে,
মানুষ অবহেলা করলে,
দারিদ্র্য দরজায় এলে,
মুমিন তখনও বলে
আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট।

কারণ সে জানে
রাত যত গভীর হয়,
ভোর তত নিকট আসে।
অন্ধকার যত দীর্ঘ হয়,
সূর্যের আলো তত উজ্জ্বল হাসে।

হে মানুষ!
সময়কে অবহেলা করো না,
প্রতিটি দিন একেকটি পৃষ্ঠা,
যেখানে লেখা হচ্ছে তোমার পরিণতি।
আজকের যৌবন কাল বার্ধক্য,
আজকের শক্তি কাল দুর্বলতা,
আজকের হাসি কাল স্মৃতি,
আজকের জীবন কাল নিস্তব্ধতা।

কবরের নীরব ঘরে
থাকবে না বন্ধু-বান্ধব,
থাকবে না টাকা-পয়সা,
থাকবে না পরিচয়ের গর্ব।
শুধু থাকবে ঈমান,
আর কিছু নেক আমল,
যা আলোকিত করবে
অন্ধকার কবরের পথচল।

তাই এসো
হৃদয় থেকে হিংসা মুছে ফেলি,
ক্ষমা করি শত্রুকেও,
মায়ের সেবা করি,
বাবার ক্লান্ত মুখে হাসি ফোটাই,
এতিমের মাথায় হাত রাখি,
মানুষকে ভালোবাসি আল্লাহর জন্যই।

মসজিদের মিনার থেকে
আযান ভেসে আসে প্রতিদিন
এসো সফলতার পথে!
কিন্তু কত মানুষ শুনেও
দুনিয়ার মোহে ঘুমিয়ে রয়।
হায়!
একদিন সময় শেষ হবে,
একদিন বন্ধ হবে নিশ্বাস,
একদিন সব মানুষ দাঁড়াবে
রবের মহা আদালতের আশপাশ।

সেদিন কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না,
পদ-পদবি হবে মূল্যহীন,
শুধু আল্লাহর রহমত আর নেক আমল
হবে মুক্তির একমাত্র জমিন।

হে মহান আল্লাহ!
আমাদের অন্তরে দাও খাঁটি ঈমান,
আমাদের চোখে দাও তওবার অশ্রু,
আমাদের জিহ্বায় দাও সত্যের ভাষা,
আমাদের অন্তরে দাও ধৈর্যের নূর।

দুনিয়ার ফিতনা থেকে রক্ষা করো,
অহংকার থেকে বাঁচাও,
হিংসা-বিদ্বেষ দূর করো,
পাপের অন্ধকার মুছে দাও।

যখন মৃত্যুর ফেরেশতা আসবে,
আমাদের অন্তর যেন থাকে শান্ত,
কালিমার আলোয় রাঙানো মুখে
যেন শেষ হয় জীবনের প্রান্ত।

সময়ের কসম!
সফল কেবল সে- হবে,
যে ঈমান নিয়ে বাঁচে,
সত্যকে আঁকড়ে ধরে,
সৎকাজে জীবন সাজায়,
আর ধৈর্যের আলো হাতে নিয়ে
অন্ধকার পৃথিবী পাড়ি দেয়।

দুনিয়ার সুখ ক্ষণিকের ছায়া,
আখিরাতই চিরস্থায়ী ঘর,
হে রব!
আমাদের সেই ঘরে দিও স্থান
যেখানে থাকবে না ভয়,
থাকবে না কান্না,
থাকবে না বিচ্ছেদ,
থাকবে শুধু শান্তি,
তোমার সন্তুষ্টি,
আর জান্নাতের অনন্ত নূর।

***

সময়ের কসম!
নদীর স্রোতের মতো সময় বয়ে যায়,
কারো জন্য থেমে থাকে না এক মুহূর্তও।
আজ যে শিশু মায়ের কোল জুড়ে হাসে,
কাল সে বৃদ্ধ হয়ে
স্মৃতির ভারে নুয়ে পড়ে।
আজ যে তরুণ শক্তির অহংকারে হাঁটে,
কাল তার চুলে নামে শুভ্র বার্ধক্য।
এভাবেই জীবন ক্ষয়ে যায়
অদৃশ্য ঘড়ির কাঁটায়।

মানুষ ব্যস্ত দুনিয়ার মোহে
কেউ সম্পদের নেশায়,
কেউ ক্ষমতার গর্বে,
কেউ নাম-যশের পিছনে দৌড়ায়।
কেউ ভুলে যায়,
এই পৃথিবী চিরস্থায়ী আবাস নয়;
জীবন কেবলই এক সফর,
একটি পরীক্ষা,
একটি ক্ষণিক ছায়া।

তাই তো মহান আল্লাহ
সময়ের কসম করে বললেন
মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত,
ধ্বংসের দিকে ধাবমান;
তবে তারা নয়,
যারা ঈমান আনে,
সৎকাজ করে,
মানুষকে সত্যের পথে ডাকে,
আর ধৈর্যের শিক্ষা দেয়।

কী গভীর এই আহ্বান!
কী অনন্ত বাণীর আলো!
একটি ছোট সূরার মাঝে
লুকিয়ে আছে মুক্তির মহাসমুদ্র।

ঈমান হলো হৃদয়ের সূর্য,
যার আলো নিভে গেলে
মানুষ ডুবে যায় অন্ধকারে।
ঈমান শেখায়
রাত যত দীর্ঘই হোক,
ফজরের আলো আসবেই।
মানুষ যত কষ্ট দিক,
আল্লাহ কখনো বান্দাকে ভুলে যান না।

কত মানুষ আছে,
হাসিমুখে পৃথিবী ঘুরে বেড়ায়,
কিন্তু বুকের ভেতর
রক্তক্ষরণ লুকিয়ে রাখে।
কারো বিশ্বাস ভেঙেছে আপনজন,
কারো স্বপ্ন হারিয়েছে দারিদ্র্যে,
কারো চোখ শুকিয়ে গেছে
অপেক্ষার দীর্ঘ প্রহরে।

তবুও মুমিন আশা হারায় না,
কারণ সে জানে
রবের দরবারে
এক ফোঁটা অশ্রুও অমূল্য নয়।
গভীর রাতে যখন
তাহাজ্জুদের সিজদায় কপাল ঝুঁকে পড়ে,
তখন ফেরেশতারাও শুনে
এক হৃদয়ের নীরব আর্তনাদ।

সে বলে
হে আল্লাহ!
মানুষ আমাকে বুঝুক বা না বুঝুক,
তুমি তো আমার অন্তর জানো।
সব হারিয়ে গেলেও
তোমার রহমত যেন না হারাই।

সৎকাজ হলো
জান্নাতের পথে জ্বলন্ত প্রদীপ।
একটি দান,
একটি ভালোবাসার বাক্য,
একজন ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া,
একজন অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো
এসবই আল্লাহর কাছে
অপরিসীম মূল্যবান।

আজ পৃথিবীতে
মিথ্যার বাজার জমজমাট।
সত্য বলা কঠিন,
হকের পথে চলা আরও কঠিন।
তবুও কিছু মানুষ আছে,
যারা ঝড়ের মাঝেও
সত্যের পতাকা ধরে রাখে।
মানুষ তাদের কষ্ট দেয়,
উপহাস করে,
তবুও তারা থামে না।

কারণ তারা জানে
দুনিয়ার প্রশংসা ক্ষণিক,
কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি চিরস্থায়ী।

ধৈর্য
যেন উত্তাল সাগরে
নৌকার একমাত্র পাল।
যার ধৈর্য নেই,
সে সামান্য ঢেউয়েই ডুবে যায়।
কিন্তু যে আল্লাহর উপর ভরসা রাখে,
সে ঝড়ের মাঝেও বলে
আমার রব যথেষ্ট।

বন্ধু প্রতারণা করলে,
মানুষ অবহেলা করলে,
অভাব দরজায় কড়া নাড়লে,
তবুও মুমিন ধৈর্যের চাদর জড়িয়ে নেয়।
কারণ সে জানে
আল্লাহর সাহায্য খুব নিকটে।

আজ কত যুবক
পাপের নেশায় হারিয়ে যাচ্ছে,
মোবাইলের আলোয়
আখিরাত ভুলে বসে আছে।
সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন,
কিন্তু মানুষ ভাবে
এখনো তো অনেক সময় আছে!

হায়!
মৃত্যু কখনো বয়স দেখে আসে না।
কবরের দরজা
ধনী-গরিব কাউকে ছাড় দেয় না।
একদিন নিভে যাবে
সব অহংকারের প্রদীপ,
থেমে যাবে দুনিয়ার কোলাহল,
নিস্তব্ধ হয়ে যাবে
সব রঙিন আয়োজন।

সেদিন কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না,
না সম্পদ, না ক্ষমতা, না পরিচয়।
শুধু ঈমান আর নেক আমল
হবে মুক্তির আশ্রয়।

তাই এসো
হৃদয় থেকে হিংসা দূর করি,
মিথ্যা ত্যাগ করি,
ক্ষমা করতে শিখি।
মায়ের চোখের জল মুছে দিই,
বাবার ক্লান্ত মুখে হাসি ফোটাই,
এতিমের মাথায় স্নেহের হাত রাখি,
অসহায়ের পাশে দাঁড়াই।

কারণ মানুষ হয়ে
মানুষকে ভালোবাসাই
সত্যিকারের ইবাদত।

মসজিদের মিনার থেকে
আযান ভেসে আসে প্রতিদিন
এসো সফলতার পথে!
কিন্তু কত হৃদয়
দুনিয়ার মোহে ঘুমিয়ে থাকে।
কত মানুষ জানে না,
এই আযানের মাঝেই
লুকিয়ে আছে মুক্তির ডাক।

হে মহান আল্লাহ!
আমাদের অন্তরে দাও খাঁটি ঈমান,
আমাদের চোখে দাও তওবার অশ্রু,
আমাদের জিহ্বায় দাও সত্যের ভাষা,
আমাদের অন্তরে দাও ধৈর্যের আলো।

অহংকার থেকে বাঁচাও,
হিংসা থেকে বাঁচাও,
পাপের অন্ধকার থেকে
আমাদের দূরে রাখো।
যখন মৃত্যুর ফেরেশতা আসবে,
আমাদের মুখে যেন থাকে কালিমার নূর।

সময়ের কসম!
সফল কেবল সে-,
যে ঈমান নিয়ে বাঁচে,
সৎকাজে জীবন সাজায়,
সত্যকে আঁকড়ে ধরে,
ধৈর্যকে সাথী বানায়,
আর প্রতিটি নিঃশ্বাসে
রবের সন্তুষ্টি খোঁজে।

দুনিয়ার সুখ মরীচিকার মতো,
চোখ ধাঁধিয়ে দেয় ক্ষণিক আলোয়;
কিন্তু আখিরাতের শান্তি
অনন্ত, অবিনশ্বর, চিরসুন্দর।

হে প্রভু!
আমাদের সেই জান্নাত দিও
যেখানে থাকবে না ভয়,
থাকবে না দুঃখ,
থাকবে না বিচ্ছেদ,
থাকবে না বঞ্চনা।
থাকবে শুধু শান্তি,
তোমার সন্তুষ্টি,
আর অনন্ত নূরের আলো।

***Top of FormBottom of Form

মন্তব্য করুন

ব্লগ