Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ মে, ২০২৬ ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ: আবেগের দাসত্ব থেকে মুক্তির পথ


​আবেগের প্রবল জোয়ারে অনেক সময় আমাদের বিবেক আর বুদ্ধির বাঁধ ভেঙে যায়। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো অনুভব করা, কিন্তু সেই অনুভূতি যখন আমাদের চালকের আসনে বসে পড়ে, তখনই জীবনের শৃঙ্খলা নষ্ট হতে শুরু করে। আমরা অনেক সময় রাগের বশবর্তী হয়ে এমন কথা বলে ফেলি বা অতি উৎসাহে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, যার মাশুল দিতে হয় দীর্ঘকাল। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা মানে আবেগকে বিসর্জন দেওয়া নয়, বরং আবেগের লাগাম নিজের হাতে রাখা। যখন আপনি বুঝতে শিখবেন যে আপনার চারপাশের পরিস্থিতি বা মানুষের আচরণ আপনার মানসিক শান্তি নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখে না, তখনই আপনি প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হতে পারবেন।

​মনস্তাত্ত্বিকরা মনে করেন, যেকোনো তীব্র আবেগের প্রাথমিক উত্তেজনা খুব অল্প সময় স্থায়ী হয়। এই সংকটময় মুহূর্তটুকু যদি ধৈর্য ধরে পার করে দেওয়া যায়, তবে মস্তিষ্ক পুনরায় যৌক্তিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা ফিরে পায়। কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে একটু সময় নেওয়া বা নীরবতা পালন করা হলো আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ। এটি আমাদের ব্যক্তিত্বকে যেমন দৃঢ় করে, তেমনি অন্যের চোখে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে। নিজের ভেতরের অস্থিরতাকে চিনতে পারা এবং সেটিকে শান্তভাবে গ্রহণ করার মাধ্যমেই আত্মমর্যাদা গড়ে ওঠে।

​পরিশেষে, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো নিজের চিন্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা। আমাদের নেতিবাচক চিন্তাই মূলত নেতিবাচক আবেগের জন্ম দেয়। তাই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে ইতিবাচক ও গঠনমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখলে আবেগ আমাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। যে মানুষ নিজের মনের গতিরোধ করতে জানে, প্রতিকূল পরিবেশও তার কাছে নতজানু হয়। সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপনের জন্য আবেগের বশবর্তী না হয়ে বিবেকের আলোয় পথ চলাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য। মনে রাখবেন, পৃথিবী তাকেই সমীহ করে যে নিজেকে জয় করতে শিখেছে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ