Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ মে, ২০২৬ ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান হিসেবে সরোজিনী নাইডু বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের প্রতীক।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত, কবি, সমাজসংস্কারক ও প্রখ্যাত বক্তা সরোজিনী নাইডু উপমহাদেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম। তিনি “ভারতের কোকিল” নামে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর পৈতৃক শিকড় ছিল  ঐতিহাসিক জনপদ বিক্রমপুরে। এজন্য বিক্রমপুরবাসী গর্বের সঙ্গে তাঁকে নিজেদের কৃতি সন্তান হিসেবে স্মরণ করে।


জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

সরোজিনী নাইডুর জন্ম ১৮৭৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের হায়দরাবাদে। তাঁর পিতা অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও সমাজসংস্কারক। 


তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার ব্রাহ্মণ গাঁও গ্রামে। পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে গ্রামটি বহু বছর আগে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ঐ গ্রামের একমাত্র স্মৃতিটুকু বয়ে বেড়াচ্ছে ঝাউটিয়া গ্রামে ব্রাহ্মণগাঁও বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির গা ঘেঁষে উত্তাল পদ্মা নদী বহমান যেকোনো সময় আবার নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে সেই শঙ্কায় ভিতর দিয়েই তাদের স্মৃতি বিজড়িত এ বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়ে আসছে।


 সরোজিনী নাইডুর রত্নগর্ভা মা বরদাসুন্দরী দেবী ছিলেন একজন কবি ও সাহিত্যপ্রেমী নারী। 

সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা পরিবেশেই সরোজিনীর শৈশব গড়ে ওঠে।

শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। মাত্র বারো বছর বয়সে তিনি ইংরেজিতে দীর্ঘ কবিতা রচনা করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইংল্যান্ডে যান এবং কিংস কলেজ লন্ডন ও গার্টন কলেজ, কেমব্রিজে অধ্যয়ন করেন।


সাহিত্যজীবন

সরোজিনী নাইডু ছিলেন ইংরেজি ভাষার একজন শক্তিমান কবি। তাঁর কবিতায় ভারতীয় প্রকৃতি, প্রেম, দেশাত্মবোধ ও মানবতার কথা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—

The Golden Threshold

The Bird of Time

The Broken Wing


তাঁর কবিতার সুরেলা ভাষা ও আবেগময় প্রকাশভঙ্গির জন্য তাঁকে “Nightingale of India” বা “ভারতের কোকিল” বলা হতো।


ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা

সরোজিনী নাইডু শুধু কবিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাহসী নেত্রী। মহাত্মা গান্ধী, জহরলাল নেহেরু এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ-এর মতো নেতাদের সঙ্গে তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।


তিনি নারীশিক্ষা, নারী অধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। ১৯২৫ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম ভারতীয় নারী সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে স্বাধীন ভারতের প্রথম নারী রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বিক্রমপুরের সঙ্গে সম্পর্ক ঐতিহাসিক বিক্রমপুর বহু জ্ঞানী-গুণী মানুষের জন্মভূমি। সরোজিনী নাইডুর পূর্বপুরুষদের শিকড় এই অঞ্চলে প্রোথিত ছিল। তাই বিক্রমপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের আলোচনায় তাঁর নাম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে বিক্রমপুর শুধু রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক নয়, এটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মনীষীদেরও জন্মভূমি।


মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৯৪৯ সালের ২ মার্চ সরোজিনী নাইডু মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম এবং নারীজাগরণের আদর্শ আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, দেশপ্রেমিক ও মানবতার কণ্ঠস্বর।


বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান হিসেবে সরোজিনী নাইডু বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের প্রতীক। তাঁর জীবন আমাদের শিক্ষা দেয়— জ্ঞান, সাহস ও দেশপ্রেম মানুষকে ইতিহাসে অমর করে।

সংগৃহীত 

মন্তব্য করুন

ব্লগ