সহকারী অধ্যাপক
১৪ মে, ২০২৬ ০৭:২২ পূর্বাহ্ণ
আখিরাতের সফলতাই প্রকৃত সফলতা - মোঃ মুজিবুর রহমান
আখিরাতের সফলতাই প্রকৃত সফলতা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
দুনিয়ার এই রঙিন মেলায়
হাসি-কান্নার ভিড়ে,
কেউবা উঠে সাফল্যের চূড়ায়
কেউ পড়ে যায় নীড়ে।
কেউ গড়ে বড় অট্টালিকা,
টাকার পাহাড় তোলে,
কেউবা আবার ঋণের ভারে
নিভে যায় চোখের জ্বলে।
ব্যবসাতে লোকসান হলে
হৃদয় ভেঙে কাঁদে,
বিশ্বাসীজন মাথা নত করে
রবের দয়ার সাধে।
মানুষ ভাবে— “সবই শেষ!”
হারিয়ে গেছে মান,
কিন্তু মুমিন জানে অন্তরে—
আল্লাহ আছেন মহান।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক জীবন
পরীক্ষারই মাঠ,
এখানে শুধু ধৈর্য ধরে
চলতে হয় দিনরাত।
আজকে যে জন পথে বসে
চোখে কষ্টের ছাপ,
হয়তো সে-ই আখিরাতে
পাবে জান্নাতের চাপ।
আর যে ব্যক্তি দুনিয়াজুড়ে
খ্যাতি কুড়ায় বেশ,
আখিরাতে ঈমানহারা—
সে-ই ব্যর্থ শেষ।
কত মানুষ হাসিমুখে
সফলতার গান,
অন্তরজুড়ে শুকিয়ে গেছে
ঈমানেরই প্রাণ।
নামাজ নেই, নেই তো সিজদা,
নেই আল্লাহর ভয়,
দুনিয়ার সব পেয়েও শেষে
শান্তি কোথায় কয়?
ক্ষমতার সেই বড় মসনদ
ধুলায় হবে মিশে,
রূপের অহংকারও একদিন
হারাবে কালো নিশে।
কবর যখন ডাকবে এসে
বন্ধ হবে শ্বাস,
টাকা-পয়সা, বন্ধু-স্বজন
কেউ হবে না পাশ।
সেদিন শুধু আমলগুলো
দাঁড়াবে সাথে রয়,
যা করেছি রবের তরে
তাই-ই হবে জয়।
দুনিয়ার সব কৃতকার্যতা
মুহূর্তে যাবে ফুরায়,
আখিরাতে ফেল করলে ভাই
কোনো লাভ না তায়।
সোনার গাড়ি, বড় ব্যবসা,
অঢেল ধনের ঢেউ,
রবের কাছে ঈমান ছাড়া
কাজে আসবে নেউ।
তাই তো মুমিন কাঁদে রাতে—
“হে আল্লাহ দয়াময়!
দুনিয়ার সব না-ইবা পেলাম,
আখিরাতে দিও জয়।”
লোকসানে যে সবর করে
রাখে আল্লাহ ভরসা,
তার হৃদয়ে নেমে আসে
রহমতেরই বরষা।
অভাব যখন ঘিরে ধরে
চারদিক অন্ধকার,
মুমিন তখন সিজদায় বলে—
“রব! তুমি সহায়কার।”
মানুষ যত দূরে সরে
বন্ধুরা দেয় ক্ষত,
আল্লাহ তখন বান্দার কাছে
থাকেন অতি নিকট।
দুনিয়ার এই ব্যর্থতাগুলো
হয়তো রহমত লুকায়,
কষ্ট দিয়ে রব বান্দাকে
আখিরাতের পথে ডাকায়।
কত ধনী পথে হারায়
অহংকারের নেশায়,
কত গরিব জান্নাত পায়
সবরভরা আশায়।
তাই হে মানুষ! ভুলে যেয়ো না
এই জীবনের মানে,
দুনিয়া শুধু সফরখানা
থাকার ঘর না জানে।
আজকে তুমি কাঁদছো বলে
হতাশ হয়ো না,
আল্লাহ যদি সাথে থাকেন
হারিয়ে যাও না।
দুনিয়ার ক্ষণিক পরাজয়
শেষ পরাজয় নয়,
আখিরাতে সফল হওয়াই
মুমিন জীবনের জয়।
যে হৃদয়ে তাকওয়া জাগে
সেই হৃদয় ধনী,
রবের প্রেমে ভেজা জীবন
সবচেয়ে আলোকময়ী।
তাই চল সবাই ঈমান নিয়ে
সৎপথ ধরে ধীরে,
যেন শেষে জান্নাত মিলে
রবের রহম নীরে।
হে মহান রব! দাও আমাদের
সবরভরা প্রাণ,
দুনিয়ার মোহ ভুলিয়ে দিয়ে
করো আখিরাতের জ্ঞান।
ব্যবসার ক্ষতি, দুঃখ-বেদনা
যেন ভাঙতে না পারে,
ঈমান নিয়ে মৃত্যুর পথে
ডেকে নিও তোমার দ্বারে।
শেষ নিশ্বাসে মুখে যেন
থাকে কালিমার বাণী,
আর জান্নাতে দিও ঠাঁই
হে দয়াময় মহানি।
আমিন।
***
দুনিয়ার এই ক্ষণিক ঘরে
কত স্বপ্ন ভাঙে,
কেউবা হেসে পথ চলে যায়
কেউ অশ্রুধারায় রাঙে।
কেউ ব্যবসায় লাভের আশায়
দিনরাত করে যুদ্ধ,
হঠাৎ করেই লোকসান এসে
ভেঙে দেয় সব বুদ্ধ।
কেউ বিশ্বাসে টাকা দিয়ে
পায় প্রতারণার ক্ষত,
আপন মানুষ মুখ ফিরিয়ে
বাড়ায় দুঃখ শত।
অর্থ মার খেয়ে মানুষ কত
নিভৃতে কাঁদে রাতে,
হৃদয়ভাঙা দীর্ঘশ্বাস
মিশে যায় নীরব প্রাতে।
কেউবা ঋণের বোঝা টেনে
হাঁপিয়ে ওঠে প্রাণ,
তবুও মুখে হাসি রেখে
লুকায় বুকের টান।
কিন্তু মুমিন জানে অন্তরে—
এ দুনিয়া ক্ষণিক,
আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন
পরীক্ষা নেন অধিক।
দুনিয়ার এই ব্যর্থতাগুলো
শেষ ব্যর্থতা নয়,
আখিরাতে সফল হওয়াই
মুমিন জীবনের জয়।
আজকে যারে ব্যর্থ দেখে
হাসে সারা দুনিয়া,
হয়তো কাল সে-ই পাবে
জান্নাতেরই ছোঁয়া।
আর যে ব্যক্তি দুনিয়াজুড়ে
খ্যাতি-ধনে বড়,
রবের ডাকে সাড়া না দিয়ে
অহংকারে জড়—
তার প্রাসাদ, তার ক্ষমতা
সবই হবে শেষ,
কবরপথে একা মানুষ
ফুরাবে জীবনের রেশ।
সেদিন কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স
কাজে আসবে না,
গাড়ি-বাড়ি, বন্ধু-স্বজন
কেউ পাশে রবে না।
সেদিন শুধু নামাজ-রোজা
সবর আর ঈমান,
মানুষটাকে বাঁচাবে ভাই
রবের দরবার খান।
কত ধনী দুনিয়াজুড়ে
সুখের অভিনয় করে,
অন্তরভরা অশান্তিতে
রাত কাটে অন্ধকারে।
আবার কত গরিব মানুষ
শুকনো রুটির সাথে,
আলহামদুলিল্লাহ বলে
শান্তিতে ঘুম রাতে।
এই দুনিয়া সফরখানা
স্থায়ী কোনো ঘর নয়,
আজকে যারে আপন ভাবো
কাল সে-ও পর হয়।
বন্ধু সেজে কত মানুষ
বিশ্বাস ভেঙে দেয়,
স্বার্থ ফুরালে চেনা মুখও
অচেনা হয়ে যায়।
তবুও মুমিন সিজদাতে গিয়ে
রবের কাছে কয়—
“হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া
আমার আপন কেউ নয়।”
কষ্ট যখন বুকের মাঝে
ঝড় তোলে নিরন্তর,
আল্লাহর নাম নিলে তখন
শান্ত হয় অন্তর।
ব্যর্থতার এই অশ্রুগুলো
বৃথা কখনো নয়,
সবরের বিনিময়ে বান্দা
রবের নৈকট্য লয়।
লোকসানে যে ধৈর্য ধরে
হারাম পথে না যায়,
আল্লাহ তার রিজিকের দ্বার
অদৃশ্যে খুলে দেয়।
মানুষ ভাবে— “সব শেষ!”
ভেঙে গেছে আশা,
কিন্তু আল্লাহ চাইলে আবার
ফুটে সুখের ভাষা।
দুনিয়ার সব কৃতকার্যতা
যদি ঈমানহীন,
তবে সে জীবন মরুভূমি
শূন্য ও রঙ্গহীন।
নামাজহীন বড় সফলতা
আসলে বড় হার,
আখিরাতে ফেল করলে ভাই
কোথায় মুক্তিদ্বার?
তাই তো জ্ঞানী মুমিন ব্যক্তি
কাঁদে গভীর রাতে,
“হে রব! রেখো ঈমান অটুট
মৃত্যুর শেষ প্রাতে।”
চোখের জলের দোয়াগুলো
হারায় না তো কভু,
আল্লাহ শুনেন বান্দার ব্যথা
দয়াময় সেই প্রভু।
কবর যখন ডাকবে হঠাৎ
বন্ধ হবে শ্বাস,
তখন শুধু নেক আমলই
হবে একমাত্র আশ।
সেদিন যারা দুনিয়াতে
করেছিল অহংকার,
তাদের মুখে থাকবে শুধু
অনুতাপের ভার।
আর যারা দুঃখ সয়ে
রবের পথে রয়,
তাদের জন্য জান্নাত হবে
অনন্ত সুখময়।
হে মানুষ! ভুলে যেয়ো না
জীবনের আসল মানে,
দুনিয়ার সুখ মরীচিকা
মিশে যাবে টানে।
আখিরাতের সফলতাই
চূড়ান্ত সফলতা,
রবের সন্তুষ্টি ছাড়া
সবই ব্যর্থতা।
তাই চল সবাই সত্যপথে
তাকওয়া নিয়ে বাঁচি,
লোভ-অহংকার দূরে ঠেলে
মানবতার কাছে যাচ্ছি।
হে মহান আল্লাহ! দাও আমাদের
খাঁটি ঈমান দান,
দুনিয়ার মোহ ভুলিয়ে দিয়ে
করো আখিরাতমুখী প্রাণ।
ব্যবসার ক্ষতি, দুঃখ-বেদনা
যেন ভাঙতে না পারে,
তোমার রহম আঁকড়ে ধরে
চলি যেন তোমার দ্বারে।
শেষ নিশ্বাসে মুখে যেন
থাকে কালিমার সুর,
জান্নাতুল ফিরদাউস দিও
করো জীবন নূর।
দুনিয়ার সব ব্যর্থতার পর
যদি পাই তোমার প্রেম,
তবে সেই জীবনই হবে
সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত হেম।
আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।
***
দুনিয়ার পথে চলতে গিয়ে
কত মানুষ হারে,
কেউবা পড়ে ঋণের ফাঁদে
কেউ অশ্রুধারা ঝরে।
ব্যবসাতে বড় ক্ষতি হয়ে
ভেঙে পড়ে মন,
বিশ্বাস করে টাকা দিয়ে
পায় শুধু শূন্যতা ক্ষণ।
অর্থ মেরে আপন মানুষ
ফিরে না আর পিছে,
স্বার্থ শেষে বদলে যায়
চেনা মুখও নিছে।
দিনের শেষে ক্লান্ত মানুষ
চুপটি করে রয়,
হৃদয়ভাঙা দীর্ঘশ্বাসে
নীরব রাতও কাঁদে সয়।
তবুও মুমিন আশা রাখে
রবের অশেষ দয়ায়,
কারণ সে জানে— এই দুনিয়া
ক্ষণিক ছায়ার ছায়া।
আজকে যাকে ব্যর্থ দেখে
হাসে দুনিয়ার লোক,
হয়তো সে-ই আখিরাতে
পাবে সুখের শোক।
আর যে ব্যক্তি ধন-সম্পদে
গড়েছে সোনার ঘর,
আল্লাহভীতি ছাড়া যার
অন্তর হয়েছে পর—
তার সেই সুখ মরুভূমির
মরীচিকার মতন,
কবরপথে সব হারিয়ে
হবে নিঃস্ব জীবন।
দুনিয়ার এই চাকচিক্য
একদিন যাবে ফুরায়,
ক্ষমতা আর অহংকারও
ধুলোর সাথে ঝরায়।
সেদিন শুধু ঈমান হবে
জীবনেরই আলো,
নেক আমলের সুবাস হবে
অন্ধকারে ভালো।
মানুষ যত ধনী হোক না
সোনা-রুপার ঢেউ,
রবের কাছে ঈমান ছাড়া
কাজে আসবে নেউ।
নামাজ ছাড়া বড় সফলতা
আসলে বড় হার,
আখিরাতে ফেল করলে ভাই
বন্ধ হবে দ্বার।
দুনিয়ার সব অর্জন যদি
আল্লাহবিহীন হয়,
তবে সে জীবন বাইরে হাসি
ভেতরে শুধু ক্ষয়।
কত মানুষ হাসিমুখে
অভিনয় করে সুখ,
অন্তরজুড়ে ভয় আর শূন্য
বুকের গভীর দুখ।
আবার কত গরিব মানুষ
শুকনো ভাতে রয়,
তবুও মুখে “আলহামদুলিল্লাহ”
বলেই শান্তি লয়।
দুনিয়ার এই ব্যর্থতাগুলো
রহমতেরই দান,
কষ্ট দিয়ে রব বান্দাকে
করেন পরীক্ষান।
লোকসানে যে ধৈর্য ধরে
হারাম পথে না যায়,
আল্লাহ তার জন্য পরে
রহমতের দর খোলায়।
মানুষ ছেড়ে দূরে গেলে
রব থাকেন কাছে,
অন্ধকারের গভীর রাতে
নূরের প্রদীপ নাচে।
বন্ধু সেজে যারা এসে
বিশ্বাস ভেঙে দেয়,
রবের দরবারে তাদেরও
একদিন হিসাব হয়।
এই দুনিয়া সফরখানা
স্থায়ী কোনো ঘর নয়,
আজকে যারে আপন ভাবো
কাল সে-ও পর হয়।
তাই হে মানুষ! জেগে ওঠো
ভুলে থেকো না আর,
আখিরাতের সফলতাই
জীবনের আসল সার।
কবর যখন ডাকবে হঠাৎ
থামবে জীবনের গান,
টাকা-পয়সা কেউ যাবে না
যাবে শুধু আমল খান।
সেদিন যদি নেকি থাকে
উজ্জ্বল হবে মুখ,
আর গুনাহের বোঝা হলে
বাড়বে শুধু দুখ।
তাই তো মুমিন রাত জেগে
চোখের জলে কয়—
“হে আল্লাহ! তোমার রহম
ছাড়া বাঁচার নয়।”
দুনিয়ার এই লাভ-লোকসান
সবই ক্ষণিক ধোঁকা,
আখিরাতের সফলতাই
প্রকৃত মুক্তিলোকা।
যে হৃদয়ে তাকওয়া থাকে
সেই হৃদয় ধনী,
রবের প্রেমে ভেজা জীবন
সবচেয়ে আলোকময়ী।
কষ্ট যদি আসে জীবনে
হতাশ হয়ো না,
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে
সত্যপথ ছাড়ো না।
কারণ দুঃখের পরেই আসে
রহমতেরই ভোর,
অশ্রুর পরে ফুটে ওঠে
সুখের নূরঘোর।
হে মহান রব! দাও আমাদের
সবরভরা প্রাণ,
দুনিয়ার মোহ ভুলিয়ে দিয়ে
করো নেকির দান।
ঈমান যেন অটুট থাকে
মৃত্যুর শেষ ক্ষণ,
কালিমাতে রাঙাও প্রভু
আমাদের জীবন।
জান্নাতুল ফিরদাউস দিও
করো হৃদয় নূর,
তোমার রহম ছাড়া প্রভু
সবই অন্ধ সুর।
দুনিয়ার সব ব্যর্থতার পর
যদি পাই তোমার সান্নিধান,
তবে সেই জীবনই হবে
সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান।
আমিন, ইয়া রহমান, ইয়া রাহিম।
***
৪
৪ মন্তব্য