Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ মে, ২০২৬ ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সৃষ্টির নীরব সিজদা - মোঃ মুজিবুর রহমান


সৃষ্টির নীরব সিজদা

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

তারকারা নীরব রাতে
আকাশজুড়ে জ্বলে,
মহান রবের হুকুম মেনে
ঘোরে আপন ছলে।

চাঁদ-সূর্যও নিয়ম ধরে
একটুও না থামে,
স্রষ্টার দেওয়া দায়িত্বেতে
অটল প্রতিক্ষণে।

বৃক্ষগুলো মাথা নত করে
দাঁড়িয়ে পথপাশে,
অক্সিজেনের দেয় বিলিয়ে
মানুষ বাঁচায় হাসে।

তৃণলতা আর সবুজ বন
নিঃশব্দ সেবা দেয়,
কোনোদিনও ক্লান্ত হয়ে
প্রতিদান কিছু চায় নে।

পাখিরা সব ফজর বেলায়
তাসবীহ গেয়ে যায়,
নদীর জলে ঢেউয়ের সুরে
রবের মহিমা গায়।

পর্বতগুলো স্থির হয়ে
আল্লাহর ভয়ে রয়,
সমুদ্রও তার সীমা মেনে
হুকুম ছাড়া না বই।

সৃষ্টি যত আসমান জমিন
সিজদাতে মগ্ন আজ,
শুধু মানুষ ভুলে যায় কেন
রবের দেওয়া কাজ?

আশরাফুল মাখলুক হয়েও
কেন অহংকার?
কেন আমরা গুনাহ করে
ভাঙি রবের দ্বার?

গাছের ডালে ফলের ভার,
তবু মাথা নত,
মানুষ একটু ধন পেলেই
হয়ে যায় কত কঠিনচিত্ত!

তারকারা সব জ্বলে রাতে
কখনো করে না মানা,
মানুষ কেন নাফরমানির
তুলে বিদ্রোহী গানা?

একটু সুখ আর দুনিয়ার মোহ
ভুলিয়ে দেয় সব পথ,
নামাজ ছেড়ে ব্যস্ত মানুষ
গুনাহে করে রত।

অথচ কবর অন্ধকার,
হাশরের দিন কঠিন,
রবের সামনে দাঁড়াতে হবে
হারাবে দুনিয়ার ঋণ।

গাছেরা তো অক্সিজেন দেয়
মানুষ বাঁচার তরে,
মানুষ কেন মানুষ হয়ে
আগুন জ্বালে ঘরে?

লতাপাতা ঝড়ে গেলেও
অভিযোগ কিছু নাই,
মানুষ সামান্য কষ্ট পেলেই
ধৈর্য ধরে না ভাই।

হে মহান রব! তুমি দয়াময়,
ক্ষমা কর অপরাধ,
নাফরমানির কালো দাগে
ভরে গেছে হৃদয় আজ।

সিজদাতে আজ ঝুঁকুক প্রাণ,
চোখে ঝরুক জল,
তোমার পথে ফিরতে চাই
ভেঙে দুনিয়ার ছল।

তারকার মতো অনুগত কর,
বৃক্ষের মতো নত,
তোমার প্রেমে ভরিয়ে দাও
অন্তর অবনত।

নফস-শয়তান দূরে সরাও,
দাও তাকওয়ার আলো,
তোমার পথে চলতে গিয়ে
না হই যেন কালো।

ফুল যেমন সুবাস বিলায়
নিজে থাকে নীরব,
আমরাও তেমনি মানুষ হয়ে
হই যেন সদা নম্র।

অহংকারের বিষাক্ত আগুন
পুড়িয়ে দেয় মন,
তোমার ভয় আর ভালোবাসায়
শান্ত হোক জীবন।

রাতের আকাশ সাক্ষী হয়ে
বলুক সবার তরে
যে রব সৃষ্টি করেছেন সব,
ফিরে যাও তাঁর ঘরে।

হে আল্লাহ! তুমি কবুল কর
এই দুর্বল বান্দারে,
সিজদাভরা জীবন দিও
ইমানের আলোধারে।

যেদিন হবে শেষ নিশ্বাস
থামবে দুনিয়ার গান,
সেদিন যেন ঠোঁটে থাকে
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ধ্বনিমান।

আমীন।

***

মহাসৃষ্টির সিজদা

তারকারা নীল আকাশজুড়ে
নীরব আলো জ্বালে,
মহান রবের আদেশ মেনে
ঘুরে আপন কক্ষে চলে।

চাঁদটা যখন জোছনা ঢালে
পৃথিবীরই বুকে,
সেও যেন রবের প্রেমে
সিজদাতে আছে নত মুখে।

সূর্য ওঠে পূর্ব দিগন্তে
সময়েরই টানে,
এক মুহূর্ত দেরি না করে
রবের বিধান মানে।

বাতাস এসে ক্লান্ত প্রাণে
শীতল পরশ বুলায়,
অদৃশ্য সেই সেবার ভেতর
রবের নিদর্শন ঝলকায়।

সবুজ গাছের প্রতিটি পাতা
তাসবীহ পড়ে চুপে,
অক্সিজেন বিলিয়ে দেয়
মানবতার রূপে।

তৃণলতা মাটির বুকে
নত হয়ে রয়,
আল্লাহরই আনুগত্যে
নিজ কর্ম করে জয়।

ফুলেরা হাসে সুবাস ছড়িয়ে
কারো কাছে কিছু না চেয়ে,
মানুষ কেন অহংকারে
ভালোবাসা যায় হারিয়ে?

পাখিরা সব ফজর বেলায়
ডাকে সুমধুর সুরে,
হে মানুষ! জেগে ওঠো আজ,
ফিরে চলো নূরের ঘরে।

নদী বয়ে যায় অবিরত
অন্তহীন গন্তব্যে,
রবের হুকুম ছাড়া সে তো
এক পা- যায় না অন্যপথে।

পর্বতগুলো বিশাল দেহে
নত হয়ে দাঁড়িয়ে,
মহান প্রভুর মহিমাতে
ভীত হৃদয়ে রয়েছে।

সমুদ্র তার সীমার মাঝে
অবনত বিনয়ে,
মানুষ শুধু সীমা ভাঙে
নফসেরই বিজয়ে।

আসমানের প্রতিটি তারা
সিজদাতে ব্যস্ত আজ,
মানুষ কেন ভুলে থাকে
রবের দেওয়া কাজ?

আশরাফুল মাখলুক হয়েও
কেন এতো দাম্ভিকতা?
কেন সামান্য ধন পেয়ে
জাগে মিথ্যা বড়ত্বতা?

গাছের ডালে ফল ধরিলে
শাখা হয়ে যায় নত,
মানুষ একটু ক্ষমতা পেয়ে
হয়ে ওঠে কঠিনচিত্ত।

লতাপাতা শুকিয়ে গেলেও
নালিশ কিছু করে না,
মানুষ সামান্য কষ্টে পড়ে
সবর ধরে না।

একটু সুখের মোহে পড়ে
হারাই সঠিক পথ,
নামাজ ছেড়ে গুনাহ করি
অন্তর হয় রুগ্ন রত।

অথচ মৃত্যু দরজাতে
নীরব পায়ে আসে,
রাজা-ভিখারি সবাই তখন
একই মাটির পাশে।

কবরের ঘর অন্ধকার,
নেই দুনিয়ার সাথি,
শুধু আমল পাশে থাকবে
নিভে গেলে প্রাণের বাতি।

হে মানুষ! দেখো বৃক্ষরাজি
কেমন সেবা করে,
নিজে রোদে দাঁড়িয়ে থেকেও
ছায়া দেয় অন্য তরে।

নদী নিজের তৃষ্ণা না মিটিয়ে
পৃথিবী ভরায় জলে,
মানুষ কেন স্বার্থ নিয়ে
শুধু নিজের কথাই বলে?

তারকারা সব রাত জেগে
আকাশ পাহারা দেয়,
মানুষ কেন হিংসা নিয়ে
অন্যের সুখ কেঁড়ে নেয়?

হে মহান রব! তুমি দয়াময়,
ক্ষমা কর গুনাহ,
অহংকারের কালো ধোঁয়ায়
অন্ধ হয়েছে দৃষ্টিপথ।

সিজদাতে আজ ঝরে পড়ুক
অশ্রুভেজা প্রাণ,
তোমার পথে ফিরতে চাই
হে দয়াময় রহমান।

তারকার মতো অনুগত কর,
চাঁদের মতো পবিত্র,
গাছের মতো উপকারী কর,
কর অন্তর নির্মল চিত্র।

ফুলের মতো সুবাস ছড়াই
মানুষেরই তরে,
ঘৃণা-হিংসা ভুলে গিয়ে
ভালোবাসা দিই ভরে।

নফস-শয়তানের ধোঁকা হতে
রাখো আমায় দূরে,
তোমার ভয় আর ভালোবাসা
জাগুক হৃদয়জুড়ে।

যেন কুরআন হয় হৃদয়ের আলো,
নামাজ হয় প্রাণ,
তোমার জিকিরে কাটুক জীবন
হোক ইমানি গান।

রাতের শেষে ফজর যেমন
আনে আলোর বাণী,
তাওবা তেমনি মুছে দিক
গুনাহের কালো পানি।

যেদিন হবে শেষ সিজদা
থামবে জীবনের রথ,
সেদিন যেন ঠোঁটে থাকে
আল্লাহই আমার একমাত্র পথ।

হে আল্লাহ! কবুল করো
এই দুর্বল মিনতি,
সৃষ্টির মতো অনুগত কর
দাও জান্নাতের গতি।

আমীন।

***

তারকারা রাতের বুকে
নিভৃতে আলো জ্বালে,
রবের হুকুম মান্য করে
ঘুরে আপন কক্ষে চলে।

চাঁদটা যখন জোছনা ঢেলে
পৃথিবী ভরিয়ে দেয়,
সেও যেন সিজদার ভাষায়
রবের মহিমা কয়।

সূর্য প্রতিদিন সময়মতো
আলো নিয়ে আসে,
একটুও সে অলস নয়
নিজ দায়িত্বে ভাসে।

সবুজ গাছের পাতায় পাতায়
নীরব তাসবীহ ঝরে,
অক্সিজেন বিলিয়ে দিয়ে
মানুষ বাঁচায় তরে।

তৃণলতা মাথা নিচু
মাটির বুকে রয়,
স্রষ্টার দেওয়া দায়িত্বেতে
নম্রতা খুঁজে লয়।

ফুলেরা সুবাস বিলিয়ে
নেই কোনো অহংকার,
মানুষ কেন সামান্য পেয়ে
হয়ে ওঠে দাম্ভিকার?

পাখিরা সব ফজর বেলায়
রবের জিকির গায়,
মানুষ কেন ঘুমের ঘোরে
নামাজ ভুলে যায়?

নদীর ঢেউ তাসবীহ পড়ে
সাগরেরই তীরে,
মানুষ কেন গুনাহ নিয়ে
হারায় অন্ধ নীড়ে?

পর্বতগুলো মাথা নত
মহান রবের ভয়ে,
মানুষ কেন সীমা ভেঙে
অহংকারে রয়ে?

সমুদ্র তার সীমার মাঝে
অবনত বিনয়ী,
মানুষ শুধু নফসের টানে
হয়ে পড়ে গর্বী।

আসমানের প্রতিটি তারা
সিজদাতে মগ্ন রয়,
মানুষ কেন নাফরমানির
অন্ধ পথে ক্ষয়?

আশরাফুল মাখলুক হয়েও
ভুলি কেন পরিচয়?
স্রষ্টার দেওয়া অমূল্য জীবন
গুনাহে কেন ক্ষয়?

গাছের ডালে ফল ধরিলে
নত হয়ে যায় শাখা,
মানুষ একটু ধন পেলেই
অহংকারে ফাঁকা।

লতাপাতা শুকিয়ে গেলেও
অভিযোগ কিছু নাই,
মানুষ সামান্য কষ্টে পড়ে
ধৈর্য রাখতে না চায়।

একটু সুখের মোহে পড়ে
ভুলে যাই রবের নাম,
দুনিয়ারই ক্ষণিক মেলায়
হারাই সত্যধাম।

অথচ মৃত্যু নীরব পায়ে
দাঁড়িয়ে আছে দ্বারে,
কবর ডাকে প্রতিদিনই
অজানা অন্ধকারে।

হাশরের সেই ময়দানেতে
নেই কোনো আপনজন,
শুধু আমল সাথী হবে
শেষ হবে সব আয়োজন।

হে মানুষ! শেখো বৃক্ষ হতে
কেমন সেবা দেয়,
নিজে রোদে দাঁড়িয়ে থেকেও
অন্যকে ছায়া দেয়।

নদী শেখায় দানশীলতা,
আকাশ শেখায় বিশালতা,
তারকারা শেখায় আনুগত্য,
সিজদা শেখায় বিনয়তা।

হে মহান রব! ক্ষমা করো
আমাদের সব গুনাহ,
নাফরমানির অন্ধকারে
ঢেকে গেছে দৃষ্টিপথ।

সিজদাতে আজ নত হোক
অহংকারী প্রাণ,
তোমার প্রেমে ভরে উঠুক
ইমানভরা গান।

তারকার মতো অনুগত কর,
চাঁদের মতো শান্ত,
গাছের মতো উপকার কর,
করো হৃদয় কান্ত।

ফুলের মতো সুবাস ছড়াই
মানুষেরই তরে,
হিংসা-ঘৃণা দূরে সরিয়ে
ভালোবাসা দিই ভরে।

নফস-শয়তানের কালো ফাঁদ
থেকে বাঁচাও মোরে,
তোমার ভয় আর রহমত
রাখো অন্তরজুড়ে।

যেন নামাজ প্রাণের আলো,
কুরআন হৃদয় সুর,
তোমার পথে কাটুক জীবন
হোক অন্তর ভরপুর।

রাতের শেষে ফজর যেমন
আনে নতুন দিন,
তাওবা তেমনি ধুয়ে দিক
গুনাহের কালো ঋণ।

যেদিন হবে শেষ সিজদা
থামবে দুনিয়ার গান,
সেদিন যেন ঠোঁটে থাকে
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ধ্বনিমান।

আমীন।

***

মন্তব্য করুন

ব্লগ