Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ মে, ২০২৬ ০৬:০২ অপরাহ্ণ

বন্ধুত্বের ছদ্মবেশে লুট - মোঃ মুজিবুর রহমান

বন্ধুত্বের ছদ্মবেশে লুট

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

বন্ধু আমার টাকাকড়ি
ছুরি মেরে নেয়নি কভু,
মিষ্টি কথার জাল বিছিয়ে
করেছে আমায় বশ।
হাসিমুখে পাশে বসে
বলত কত আশা,
ভাই তুমি তো আপন মানুষ,
তুমিই আমার ভরসা।

বিশ্বাস দিয়ে গড়া ঘরে
ঢুকল নীরব চোর,
বন্ধুত্বের সুবাস মেখে
করল অন্তর ভোর।
আমি ভেবেছি আপন মানুষ,
দুঃখে হবে সাথি,
কিন্তু শেষে বুঝলাম সে
স্বার্থলোভী মতি।

টাকার কথা উঠল যখন
চোখের ভাষা বদল,
ভদ্র মুখের আড়াল ফুঁড়ে
বেরোল বিষের দল।
চাইতে গেলে ভয়ংকর রূপ,
কঠিন দম্ভ ভরা,
যে মানুষটা বন্ধু ছিল
আজ সে কেন পরা?

এদিকে আমি লোনের বোঝা
কাঁধে বয়ে যাই,
কিস্তির টাকা জোগাড় করতে
নিদ্রাহীন রাত পাই।
বাজার খরচ, টিফিন, ঔষধ,
চিন্তা ঘিরে রয়,
হাসির আড়াল ভেঙে পড়ে
বুকের ভিতর ক্ষয়।

মানুষ শুধু কথার ফুলে
কত স্বপ্ন বোনে,
সময় এলেই চিনে নেবে
কে আপন, কে ক্ষণে।
স্বার্থের আগুন জ্বললে পরে
বন্ধুত্ব যায় মরে,
মায়ার নদী শুকিয়ে গিয়ে
পাথর পড়ে ঘরে।

হে আল্লাহ! তুমি তো জানো
মনের গোপন ক্ষত,
দিনের পরে দিন যে আমার
বাড়ছে দুঃখ শত।
আমি দুর্বল, আমি অসহায়,
চোখে অশ্রুধারা,
তুমি ছাড়া এই দুনিয়াতে
নেই তো কেহ আর।

যে টাকাগুলো কষ্ট করে
রক্তঘামে গড়া,
সেগুলো আজ অন্য হাতে
হয়েছে পথহারা।
হে রব আমার! ফিরিয়ে দাও
হারানো সেই ধন,
অন্যায়ের এই কালো মেঘে
দাও না আলোর মন।

তুমি ন্যায়ের মহান মালিক,
তুমিই সেরা বিচার,
মজলুমের এই কান্নাধ্বনি
শোনো বারেবার।
যে করেছে ছলনা করে
বিশ্বাসেরই ক্ষতি,
তার অন্তরে জাগাও আবার
মানবতার গতি।

বন্ধুত্ব যদি হয় প্রতারণা
লোভের কালো ফাঁদ,
তবে সে তো বিষের পেয়ালা
মুখে মাখা স্বাদ।
চেনা মুখের আড়ালেতে
লুকায় কত শত্রু,
হাসির মাঝে বিষ ঢেলে দেয়
ভেঙে হৃদয়পত্র।

আজকে আমি শিখে গেছি
জীবন বড় কঠিন,
সবাই বন্ধু হয় না কভু
সবাই নয় রঙিন।
কেউবা আসে স্বার্থ নিয়ে
কেউবা শুধু নিতে,
কষ্ট পেলে হারিয়ে যায়
ফিরে নাহি দিতে।

তবু আমি ভাঙব না আর
হারব নাকো হায়,
আল্লাহ যদি সাথে থাকেন
অন্ধকারও ক্ষয়।
দুঃখ শেষে শান্তির আলো
আসবেই একদিন,
অশ্রুভেজা এই জীবনে
ফুটবে সুখের ঋণ।

হে আল্লাহ! তুমি দয়াময়,
তুমিই ভরসাস্থল,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগাও
করো জীবন সফল।
যে টাকা আজ দূরে গেছে
ফিরিয়ে দাও আবার,
মজলুম হৃদয় শান্তি পাক
খুলুক রহমতের দ্বার।

আল্লাহ তুমি ন্যায়বিচারে
সবার ঊর্ধ্বে মহান,
তোমার দরেই রাখলাম আজ
আমার সব আর্তনাদ।
বন্ধুর ছদ্মবেশে যারা
করেছে হৃদয় ক্ষয়,
তোমার হুকুম এক নিমিষে
সবই বদলে যায়।

***

বন্ধুত্বের মুখোশে বিষের দংশন

বন্ধু আমার ছুরি মেরে
রক্ত ঝরায় নাই,
মিষ্টি কথার ফাঁদ পেতে সে
হৃদয় ভাঙতে চায়।
বিশ্বাস নামে সোনার সেতু
নিজ হাতে গড়িলাম,
সেই সেতুতেই আগুন জ্বেলে
আমায় ফেলে গেল দাম।

কত সন্ধ্যা চায়ের টেবিল,
কত সুখের হাসি,
আজকে সেসব স্মৃতি যেন
বুকের ভেতর ফাঁসি।
ভাই বলে যে কাঁধে রাখত
মায়াভরা হাত,
টাকার লোভে সেই মানুষই
করল সর্বনাশ।

বন্ধুত্বের সুবাস মেখে
এসেছিল যে কাছে,
অন্তরে তার লুকিয়ে ছিল
স্বার্থেরই নাচে।
আপন সেজে হৃদয় ঘরে
জ্বালিয়েছে আগুন,
এখন দেখি সেই আগুনে
পুড়ছে জীবনভূমি।

চাইতে গেলে বদলে যায়
চোখের ভাষা ক্ষণে,
ভদ্রতার মুখোশ খুলে
বিষ ঝরে তার মনে।
যে মানুষটা নম্র ছিল
আজ সে ভয়ংকর,
দম্ভভরা কঠিন মুখে
দেখায় বিষের ঘর।

এদিকে আমি ধার-দেনাতে
জীবন করি পার,
কিস্তির টাকায় ঘুম হারিয়ে
ভাঙে বুকের ভার।
বাজারখরচ, ভাতের চিন্তা,
সন্তানের টিফিন,
চারদিকে শুধু অন্ধকার
হারিয়েছে রঙিন।

রাতের পরে রাত কেটে যায়
হিসেব মিলাই বসে,
কত মানুষ টাকা চেয়ে
দাঁড়িয়ে থাকে শেষে।
কেউ বোঝেনা বুকের ভিতর
কত ব্যথার ঢেউ,
হাসিমুখে বেঁচে থাকি
অন্তর জানে কেউ?

হে আল্লাহ! তুমি তো দেখো
চোখের নোনা জল,
মানুষ যখন মুখ ফিরায়
তুমিই শেষ সম্বল।
আমি দুর্বল, আমি অসহায়,
ভাঙা ডানার পাখি,
তোমার রহম ছাড়া প্রভু
কোথায় শান্তি রাখি?

যে টাকাগুলো কষ্ট করে
জমিয়েছিলাম আমি,
রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে
দিনরাতের দামি।
সেগুলো আজ হারিয়ে গিয়ে
করছে হৃদয় ক্ষত,
প্রতিটি নিশ্বাসে আজ
বেজে ওঠে শোকগাথা।

হে রব! তুমি ফিরিয়ে দাও
আমার হকের ধন,
অন্যায়ের এই আঁধার রাতে
জ্বালো ন্যায়ের মন।
যে নিয়েছে ছলনা করে
বন্ধুত্বের ছায়ায়,
তার বিবেকে সত্যের আলো
একটু হলেও জ্বালায়।

বন্ধুত্ব যদি লোভে মেশে
থাকে শুধু স্বার্থ,
তবে সেটা মরুভূমির
মিথ্যা জলের অর্থ।
দূর থেকে যা নদী মনে হয়
কাছে গেলে শূন্য,
এমন বন্ধু জীবনে যেন
না আসে আর পুন্য।

কত মানুষ কাছে আসে
মিষ্টি ভাষার ফুলে,
সময় এলেই চিনে নেওয়া
বড় কঠিন কূলে।
দুঃখ এলে অনেকে শুধু
অজুহাতে সরে,
স্বার্থ ফুরালে সম্পর্কগুলো
ধুলোর মতো ঝরে।

তবু আমি ভাঙবো না আর,
হার মানব না হায়,
আল্লাহ যদি সাথে থাকেন
দুঃখ কেটে যায়।
অন্ধকারের গভীর রাতে
যেমন আসে ভোর,
তেমনি সুখও একদিন ঠিক
করবে হৃদয় ভর।

আজকে আমার চোখের পানি
আকাশ ছুঁয়ে যায়,
মজলুম হৃদয় নীরব কাঁদে
কেউ খবর না পায়।
হে দয়াময়! এই আর্তনাদ
রেখো না বিফলে,
শান্তির ছায়া দাও না প্রভু
ক্লান্ত জীবনের তলে।

মানুষ যখন প্রতারণায়
বিশ্বাস ভাঙে চুপে,
তখন বুঝি আপন মানুষ
কত কম এই রূপে।
তবু আমি ঘৃণা নয়, শুধু
ন্যায়ের আশা করি,
তোমার দরবারে বিচার রেখে
দুঃখ ভুলতে চাই।

যে বন্ধু আজ শত্রু সেজে
হাসছে বুকের ক্ষয়ে,
সে- একদিন বুঝবে প্রভু
কর্ম কাকে কয়।
কারো হক মেরে কভু তো কেউ
শান্তি পায় না শেষে,
অন্যায়ের আগুন নিজেকেই
পুড়িয়ে ফেলে শেষে।

হে আল্লাহ! তুমি মহান,
তুমি দয়ার সাগর,
তোমার হুকুমে ভাঙা প্রাণে
ফুটে আশার ঘর।
হারানো সেই টাকাগুলো
ফিরিয়ে দাও আবার,
দুঃখভেজা জীবনটাতে
ফুটুক সুখের হার।

মজলুম হৃদয় তোমার দরেই
রেখেছে সব ব্যথা,
তুমি ছাড়া এই পৃথিবীতে
নেই তো আর পথটা।
বন্ধুত্বের ছদ্মবেশে
যারা দিল আঘাত,
তোমার ন্যায়ে একদিন ঠিক
মিটবে সব হিসাব।

***

বিশ্বাসভাঙা বন্ধুর কাছে হারানো জীবন

বন্ধু আমার শত্রু হলো
হাসিমাখা মুখে,
বুকের ভিতর ছুরি চালায়
ভালোবাসার সুখে।
ছলনামাখা মিষ্টি কথায়
করল আমায় বশ,
বিশ্বাসটাকে পুঁজি করে
করল সর্বনাশ।

কত আপন ভেবে তাকে
খুলেছি মনের দ্বার,
ভাবিনি সে লুটে নেবে
স্বপ্ন আমার আর।
চায়ের কাপে গল্প করে
কত রাত যে গেল,
সেই মানুষটাই টাকার নেশায়
হৃদয় ভেঙে দিল।

বন্ধুত্বের সুবাস মেখে
এসেছিল যে ঘরে,
আজকে দেখি বিষের কাঁটা
লুকিয়ে ছিল ওরে।
মায়ার ভাষা, হাসির আড়াল,
সবই ছিল ফাঁকি,
স্বার্থ ফুরায়, মানুষ বদলায়
শিখলাম জীবন বাকি।

টাকা চাইলেই বদলে যায়
চোখের চাহনি তার,
নম্র মুখের আড়াল ভেঙে
জেগে ওঠে অহংকার।
যে বলত ভাই, পাশে আছি
দিনরাত নিরন্তর,
আজ সে কেন ভয়ংকর রূপে
করছে অন্তর জ্বর?

এদিকে আমি ধার-কর্জে
ডুবে যাই প্রতিক্ষণ,
কিস্তির চাপে ভাঙছে বুক
হারিয়ে সুখস্বপ্ন।
বাজার করতে ভয় লাগে আজ,
শূন্য হয়ে থলি,
টিফিন খরচ, সংসার চিন্তা
জ্বালায় অন্তর জ্বলি।

কত রাত যে ঘুম হারিয়ে
হিসাব মেলাই চুপে,
কোথা থেকে দেবো টাকা
ভাবি বসে রূপে।
কেউ দেখে না বুকের ভিতর
জমানো দীর্ঘশ্বাস,
হাসিমুখে থাকি তবু
ভাঙে অন্তরবাস।

মানুষ চেনা বড় কঠিন
এই স্বার্থের ভবে,
কেউবা আসে মায়ার বেশে
স্বার্থসিদ্ধি রবে।
দুঃখ এলে সরে যায় তারা
ধোঁয়ার মতো দূর,
স্বার্থ পেলেই আপন সেজে
করবে মনের সুর।

হে আল্লাহ! তুমি তো জানো
আমার নীরব কান্না,
দিনের পরে দিন যে বাড়ে
হৃদয়ভাঙা যন্ত্রণা।
আমি দুর্বল, আমি ক্লান্ত,
অসহায়ের দল,
তুমি ছাড়া এই পৃথিবীতে
নেই তো কোনো বল।

যে টাকাগুলো কষ্ট করে
জমিয়েছিলাম আমি,
রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে
ছিল জীবনের দামি।
আজকে সেগুলো হারিয়ে গিয়ে
করছে হৃদয় ক্ষয়,
প্রতিটি নিশ্বাসে শুধু
দুঃখের সুর বয়।

হে রব আমার! ফিরিয়ে দাও
আমার হকের ধন,
মজলুমের এই দীর্ঘশ্বাস
শুনো অনুক্ষণ।
যে নিয়েছে প্রতারণায়
বন্ধুত্বের ছলে,
তার বিবেকে সত্যের আলো
জাগাও অন্তরতলে।

বন্ধুত্ব যদি স্বার্থমাখা
মিথ্যা হাসির ফুল,
তবে সেটা মরীচিকারই
প্রতারিত এক কূল।
দূর থেকে যা নদী মনে হয়
কাছে গিয়ে শূন্য,
এমন বন্ধুর ছায়া যেন
না আসে আর পুন্য।

আজকে আমি শিখে গেছি
জীবন কঠিন খুব,
সবাই বন্ধু নয় গো সাথী
কেউবা লুকায় রূপ।
কেউবা আসে নিতে শুধু
দিতে জানে না,
সময় এলেই মুখ ফিরিয়ে
চলে যায় নির্দ্বিধা।

তবু আমি হারব না আর
ভাঙব না নিরাশায়,
আল্লাহ যদি সাথে থাকেন
দুঃখ কেটে যায়।
অন্ধকারের গভীর রাতে
যেমন আসে ভোর,
তেমনি সুখও একদিন ঠিক
আসবে হৃদয় ভর।

চোখের জলে জায়নামাজে
করি নীরব দোয়া,
হে আল্লাহ! তুমি ফিরিয়ে দাও
হারানো সেই ছোঁয়া।
যে টাকাগুলো অন্য হাতে
আজ হয়েছে বন্দী,
তোমার হুকুমে ফিরুক আবার
মিটুক জীবনের ঋণই।

মজলুমের আর্তনাদ কভু
ব্যর্থ হয় না প্রভু,
তোমার দরবার ন্যায়ের আলো
চিরসত্যের রূপ।
বন্ধুর ছদ্মবেশে যারা
করেছে হৃদয় ক্ষত,
তোমার বিচারে একদিন ঠিক
মিটবে সব হিসাবপত্র।

হে দয়াময়! তুমি মহান,
তুমি রহমতের নূর,
তোমার করুণায় শুকনো প্রাণে
ফুটুক আশার সুর।
আমার দুঃখ, আমার কষ্ট
রাখলাম তোমার দর,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগাও
করো জীবন ভর।

***

বন্ধুত্বের সুবাসে লুকানো বিষ

বন্ধু আমার ছুরি হাতে
আঘাত করেনি বুকে,
হাসিমাখা মিষ্টি কথায়
ডুবিয়েছে দুঃখসুখে।
বিশ্বাস নামে সোনার চাবি
নিজ হাতে দিলাম,
সেই বিশ্বাস ভেঙে দিয়ে
নিঃস্ব আমায় করল দাম।

কত সন্ধ্যা গল্পে কেটেছে
চায়ের কাপে হাসি,
আজকে সেসব স্মৃতিগুলো
হৃদয় জুড়ে ফাঁসি।
ভাই বলে যে বুকে টানত
মায়ার কোমল সুরে,
সেই মানুষটাই স্বার্থ নিয়ে
ফেলে গেল দূরে।

বন্ধুত্বের সুবাস মেখে
এসেছিল যে ঘরে,
অন্তরে তার লোভের আগুন
জ্বলছিল অন্তরে।
আপন সেজে কৌশলে সে
করল হৃদয় জয়,
সুযোগ বুঝে লুটে নিল
জীবনের সঞ্চয়।

টাকার কথা তুলতেই আজ
বদলে গেল মুখ,
চোখের ভেতর আগুন জ্বলে
ভয়ংকর তার রূপ।
যে মানুষটা নম্র ছিল
মায়াভরা স্বরে,
আজকে দেখি অহংকারে
দাঁড়িয়ে আছে ঘরে।

এদিকে আমি লোনের চাপে
হারাই দিনের ঘুম,
কিস্তির বোঝা বুকের উপর
নামায় বিষণ্ন ঝুম।
বাজারখরচ, টিফিন চিন্তা,
খাবার জোটে কষ্টে,
হাসির আড়াল ভেঙে পড়ে
নিঃশব্দ কান্নার রাস্তে।

রাতের পরে রাত যে কেটে
হিসেব মিলাই চুপে,
কোথা থেকে দেবো টাকা
ভাবি শুধু রূপে।
মানুষ শুধু বাইরে দেখে
হাসিমাখা মুখ,
অন্তরে যে ঝড় বয়ে যায়
তা বোঝে না সুখ।

কত মানুষ আসে কাছে
আপন সেজে হেসে,
স্বার্থ ফুরালেই সরে যায়
ধোঁয়ার মতো ভেসে।
দুঃখ এলে কজন থাকে
ধরতে হাতটি চুপে?
বেশিরভাগই হারিয়ে যায়
অজুহাতের রূপে।

হে আল্লাহ! তুমি তো জানো
আমার বুকের ক্ষত,
দিনের পরে দিন যে বাড়ে
অসহায়ের ব্যথা শত।
আমি দুর্বল, আমি ক্লান্ত,
নেই যে কোনো বল,
তুমি ছাড়া এই দুনিয়াতে
নেই তো আর সম্বল।

যে টাকাগুলো রক্তঘামে
করেছিলাম জোগাড়,
রোদে পুড়ে, ঘাম ঝরিয়ে
ছিল জীবনের ভার।
আজকে সেগুলো হারিয়ে গিয়ে
জ্বালায় বুকের আগুন,
প্রতিটি নিশ্বাসে যেন
বেজে ওঠে শোকধ্বনন।

হে রব! তুমি ফিরিয়ে দাও
আমার হকের ধন,
মজলুম হৃদয় কাঁদছে শুধু
শুনো অনুক্ষণ।
যে নিয়েছে ছলনা করে
বন্ধুত্বের ছলে,
তার অন্তরে সত্যের আলো
জাগাও অন্তরতলে।

বন্ধুত্ব যদি স্বার্থমাখা
মিথ্যা রঙিন ফুল,
তবে সেটা মরুভূমির
প্রতারণার কূল।
দূর থেকে যা নদী মনে হয়
কাছে গেলে শূন্য,
এমন বন্ধুর মায়া যেন
না আসে আর পুন্য।

আজকে আমি বুঝে গেছি
জীবন বড় কঠিন,
সবাই বন্ধু নয় গো সাথী
সবাই নয় রঙিন।
কেউবা আসে নিতে শুধু
দিতে জানে না,
সময় এলেই মুখ ফিরিয়ে
চলে যায় নির্দ্বিধা।

তবু আমি ভাঙবো না আর
হার মানবো না হায়,
আল্লাহ যদি সাথে থাকেন
দুঃখ কেটে যায়।
অন্ধকারের গভীর রাতে
যেমন নামে ভোর,
তেমনি সুখও একদিন ঠিক
আসবে হৃদয় ভর।

চোখের জলে জায়নামাজে
করি নীরব দোয়া
হে আল্লাহ! ফিরিয়ে দাও
হারানো সেই ছোঁয়া।
যে টাকাগুলো অন্য হাতে
আজ হয়েছে বন্দী,
তোমার হুকুমে ফিরুক আবার
মিটুক জীবনের ঋণই।

মজলুমের এই দীর্ঘশ্বাস
যাবে না বিফলে,
তোমার ন্যায়ের দরবার প্রভু
সত্য রাখে জ্বলে।
বন্ধুর ছদ্মবেশে যারা
করেছে হৃদয় ক্ষয়,
তোমার বিচারে একদিন ঠিক
সব হিসাবই হয়।

হে দয়াময়! তুমি মহান,
তুমি রহমতের নূর,
তোমার করুণার ছোঁয়ায় প্রভু
ফুটুক আশার সুর।
আমার কষ্ট, আমার কান্না
রাখলাম তোমার দর,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগাও
করো জীবন ভর।

***

মন্তব্য করুন

ব্লগ