সহকারী অধ্যাপক
১২ মে, ২০২৬ ০৬:০১ অপরাহ্ণ
মাজলুমের আর্তনাদ - মোঃ মুজিবুর রহমান
মাজলুমের আর্তনাদ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
অত্যাচারের কালো ধোঁয়ায়
ঢেকে গেছে ভুবন,
নীরব রাতে কান্না ভাসে
ভাঙে কত স্বপন।
শিশু কাঁদে, নারী কাঁদে,
কাঁদে অসহায় প্রাণ,
বিধবার চোখ জলে ভেজে
হারায় সুখের গান।
পুরুষ কাঁদে বুক চাপিয়ে
অভিমানের ভারে,
নিঃশব্দে সে আগুন পুড়ে
জীবনযুদ্ধ হারে।
কারো ঘরে ভাতের অভাব,
কারো ঘরে ভয়,
কারো বুকে বিশ্বাস ভাঙার
অসহ্য ক্ষত রয়।
অন্যায়ের এই দাপট দেখে
কাঁপে ধরণী আজ,
ক্ষমতাবান জুলুম করে
লুটে মানুষের লাজ।
শিশুর মুখে ক্ষুধার কান্না,
মায়ের চোখে জল,
মানবতার বুকের ভেতর
জমে দুঃখের দল।
হে মহান রব, তুমি দেখো
মাজলুমেরই ক্ষত,
তোমার দয়ার দরিয়াতে
ডুবে যাক সব শোক।
তুমি ছাড়া কে-ই বা আছে
ভাঙা প্রাণের সাথী?
অন্ধকারে তুমি ছাড়া
নেই তো কোনো বাতি।
হে আল্লাহ, দাও না মুক্তি
জুলুমের এ রাত,
তোমার নূরে আলোকিত হোক
পৃথিবীর সব পথ।
বিধবার মুখে হাসি ফুটুক,
অনাথ পাক ঠাঁই,
অসহায়ের কষ্টগুলো
তোমার রহম চাই।
যারা করে জুলুম-অবিচার
ক্ষমতারই জোরে,
হেদায়েত দাও তাদের তুমি
সত্যের সঠিক ঘোরে।
না শুনিলে যদি তারা
মানবতার ডাক,
তোমার কঠিন পাকড়াও যেন
ভাঙে তাদের শাখ।
কত মানুষ রাতের শেষে
ঘুমোতে পারে না,
ক্ষুধা, দুঃখ, অপমানেতে
বাঁচার শক্তি না।
কত মা যে সন্তানেরে
বুকে নিয়ে কাঁদে,
কত পিতা লুকায় অশ্রু
ভাঙা হৃদয় বাঁধে।
হে রাব্বুল আলামিন তুমি
সবই দেখো ঠিক,
মনের মাঝে জমে থাকা
নিঃশব্দ আর্তচিৎকার লিখ।
তুমি ন্যায়ের মহা বিচারক,
তুমিই শান্তিদাতা,
তোমার দয়ায় ফুটে ওঠে
মৃত প্রাণের গাথা।
দাও না আবার ভালোবাসা
মানুষে মানুষে,
হিংসা-ঘৃণা দূরে যাক সব
শান্তি আসুক ঘরে।
মসজিদ ভরে জিকির হোক,
হৃদয় ভরে নূর,
মানবতার জয়ধ্বনিতে
কাঁপুক দিগন্তপুর।
কেউ যেন আর কাঁদতে না হয়
অবহেলার তরে,
ভালোবাসা ছড়িয়ে যাক
প্রতিটি অন্তরে।
হে আল্লাহ, এই দুনিয়াটায়
ইনসাফ কায়েম করো,
মাজলুমদের চোখের পানি
রহমতে তুমি ঝরো।
দুঃখভরা পৃথিবীটাকে
করো জান্নাতসম,
মানবতার পতাকা ওড়ুক
সত্য হোক অবিরাম।
আমরা সবাই হাত তুলে আজ
করি আকুল মিনতি—
“হে দয়াময়, রক্ষা করো
মানবতার গতি।”
তোমার দয়ার ছায়ার নিচে
শান্তি পাক প্রাণ,
মুক্তি পাক সব নির্যাতিত—
এই হোক আরজান।
আমিন বলে কাঁদে আজকে
ভাঙা হৃদয়খানি,
ইয়া রাব্বাল আলামিন তুমি
শুনো সবার বাণী।
আসমান আর জমিনজুড়ে
উঠুক নূরের ধ্বনি—
“জুলুমমুক্ত হোক পৃথিবী,
বাঁচুক মানবজীবনী।”
আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।
***
মাজলুমের কান্না ও মুক্তির ফরিয়াদ
মোঃ মুজিবুর রহমান
জুলুমের আগুন জ্বলে আজ
পৃথিবীর ঘরে ঘরে,
মানবতার কান্নার সুর
ভাসে নীরব স্বরে।
আকাশ আজ ভারী হয়ে
শুনে অসহায় রোদন,
বাতাসজুড়ে জমে আছে
হাজার প্রাণের ক্রন্দন।
শিমু কাঁদে পথের ধারে
হারিয়ে সুখ-ছায়া,
নারীর বুকে জমে থাকে
দুঃখভরা মায়া।
বিধবার চোখ অশ্রুভেজা
রাত্রি কাটে জেগে,
ভাঙা ঘরে দীর্ঘশ্বাস
নিভে যায় ধীরে ধীরে।
পুরুষ কাঁদে বুকের ভেতর
লুকিয়ে শত ক্ষত,
হাসির আড়াল ভাঙা হৃদয়
কাঁদে নিরবত।
কত শিশুর খালি পেটে
জমে ক্ষুধার আগুন,
কত মায়ের চোখের জলে
ডুবে যায় ফাগুন।
ক্ষমতাবান অন্যায় করে
দাপট ভরা হাসি,
সত্য আজকে কাঁদছে বসে
মিথ্যার কাছে দাসী।
মানবতার বুকের উপর
চলে নিষ্ঠুর ছুরি,
দয়া-মায়া হারিয়ে গেছে
স্বার্থেরই সুরে।
হে মহান রব! তুমি তো
দেখো সবই ঠিক,
কার হৃদয়ে কেমন ব্যথা
কার অন্তরে দগ্ধ শিখ।
তুমি ছাড়া এই দুনিয়ায়
কে-ই বা আপন হয়?
সবাই যখন দূরে সরে
তুমিই ভরসাময়।
হে আল্লাহ! মাজলুমদের
চোখের জল মুছে দাও,
দুঃখভরা অন্তরগুলো
রহমতে ভরে দাও।
যে বিধবা রাত জেগে আজ
চেয়ে থাকে পথ,
তার জীবনে শান্তির ফুল
ফুটিয়ে দাও শত।
যে অনাথের মাথার উপর
নেই তো ছায়াটুকু,
তোমার রহম ছড়িয়ে দিও
মুছে যাক সব দুঃখ।
যে পুরুষটি সংসারের তরে
নীরব ব্যথা সয়,
তোমার দয়ার পরশ পেয়ে
তারও জীবন রয়।
যে নারীরা অপমানের
আগুন বুকে পুড়ে,
তাদের তুমি মর্যাদা দাও
সম্মানিত সুরে।
হে দয়াময়! অন্যায়ের
ভেঙে দাও সব বাঁধ,
সত্যের পথে ফিরিয়ে আনো
অহংকারী সাধ।
যারা জুলুম করে মানুষে
ক্ষমতারই নেশায়,
হেদায়েত দাও তাদের তুমি
সত্যের আলোর দেশায়।
না শুনিলে সত্যবাণী
না মানিলে ন্যায়,
তোমার কঠিন পাকড়াও যেন
অত্যাচারী পায়।
রাত্রি শেষে সুবহে সাদিক
যেমন আলো আনে,
তেমনি করে শান্তির নূর
আসুক বিশ্বপ্রাণে।
মসজিদজুড়ে উঠুক ধ্বনি—
আল্লাহু আকবার,
মানুষ যেন মানুষ হয়ে
ভালোবাসে আবার।
ধনী-গরিব ভেদ ভুলে
ধরে ভ্রাতার হাত,
মানবতার বাগান জুড়ে
ফুটুক প্রেমের রাত।
ঘৃণা, হিংসা, লোভের আগুন
নিভে যাক চিরতরে,
ইনসাফেরই সোনার আলো
জ্বলুক ঘরে ঘরে।
হে আল্লাহ! শান্তি দাও
এই ভাঙা সমাজে,
অবিচারের কালো ছায়া
মুছে যাক আজকে।
কারাগারে বন্দী যারা
অন্যায়েরই শিকার,
তাদের তুমি মুক্তি দাও
হও না দয়াহার।
যে কৃষকের ঘাম ঝরে যায়
ফসলহীন মাঠে,
তার মুখে দাও হাসির আলো
রিজিক দিও সাথে।
যে শ্রমিকের রক্তমাখা
দিন কাটে নিরবে,
তার জীবনে সুখের নদী
বইয়ে দিও ভবে।
হে রাব্বুল আলামিন! তুমি
ক্ষমার সাগর মহান,
তোমার দয়ার এক ফোঁটাতেই
বদলায় দুনিয়াখান।
তাই তো আজি দুই হাত তুলে
করি আকুল মিনতি—
মাজলুমদের রক্ষা করো
দাও শান্তির গতি।
পৃথিবীটা ভরে উঠুক
সত্য-ন্যায়ের আলোয়,
মানুষ যেন মানুষ চিনে
ভালোবাসার ঢালোয়।
শিশুর মুখে হাসি ফুটুক
ভাঙুক দুঃখ-শোক,
তোমার রহম বর্ষিত হোক
লোক থেকে লোক।
আসমানের ফেরেশতারা
বলুক আমিন ধ্বনি,
জুলুমমুক্ত হোক ধরাতল
বাঁচুক মানবজীবনী।
তোমার নূরে আলোকিত হোক
প্রতিটি প্রাণের পথ,
দুনিয়া জুড়ে শান্তি নামুক
মুছে যাক সব ক্ষত।
আমরা সবাই কাঁদি আজ
তোমার দরবারে—
“হে আল্লাহ! নাজাত দাও
এই দুঃখের ভারে।”
আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন
***
আর্তমানবতার ফরিয়াদ
মোঃ মুজিবুর রহমান
পৃথিবীর বুক আজ ভারী হয়ে
শুনে কান্নার সুর,
অত্যাচারের বিষাক্ত ছোঁয়ায়
নিভে যায় কত নূর।
শিমুর চোখে অশ্রুর নদী,
নারীর বুকে ক্ষত,
পুরুষ কাঁদে নীরব ব্যথায়
ভাঙে অন্তর শত।
বিধবার ঘর নিঃস্ব আজকে
নেই তো সুখের ছায়া,
দীর্ঘশ্বাসে রাত পোহায়
বুকে জমে মায়া।
অসহায়ের আর্তনাদে
কাঁপে আকাশ-বাতাস,
মানবতার বুকের ভেতর
জমে কষ্টের শ্বাস।
হে মহান রব! তুমি তো জানো
কার কত বেদনা,
কারো মুখে হাসি থাকলেও
বুকে লুকায় যন্ত্রণা।
কত শিশু ক্ষুধার জ্বালায়
কাঁদে রাতের শেষে,
কত মায়ের অশ্রুধারা
ঝরে নীরব বেশে।
কত পিতা রক্ত ঝরিয়ে
গড়ে সুখের ঘর,
তবু তারই ভাগ্যে জোটে
অবহেলার পর।
অন্যায়েরই কালো ছায়া
ঢেকেছে মানবতা,
ক্ষমতালোভী নিষ্ঠুর হাতে
হারায় ন্যায্যতা।
হিংসা-ঘৃণার আগুন জ্বলে
প্রতিটি জনপদে,
ভালোবাসা হারিয়ে গেছে
স্বার্থেরই রথে।
হে আল্লাহ! তুমি রহমান,
তুমিই দয়ার সাগর,
তোমার রহম ছাড়া প্রভু
সবই আজকে পাথর।
মাজলুমদের কান্নাগুলো
তোমার কাছে রাখি,
তোমার দয়ার ছায়ার নিচে
শান্তির আলো আঁকি।
যে নারী আজ অপমানের
ভার বয়ে চলে,
তুমি তারই সম্মান রক্ষা
করো অনুকূলে।
যে বিধবা একাকী বসে
গুনে দুঃখের রাত,
তার হৃদয়ে ফুটিয়ে দিও
সবরেরই প্রভাত।
যে পুরুষটি সংসারের তরে
নিভৃতে কাঁদে আজ,
তার কপালে লিখে দিও
সুখের সোনার সাজ।
যে অনাথের মাথার উপর
নেই তো ছাদের ছায়া,
তোমার রহম ঢেলে দিও
মুছে যাক নিরাশা।
যে শ্রমিকের ঘামে ভেজা
প্রতিটি দিনরাত,
তার ঘরেও সুখের বাতি
জ্বালাও অবিরত।
যে কৃষকটি মাঠে পুড়ে
ফসল ফলায় প্রাণে,
তার জীবনেও বরকত দাও
রহমতেরই টানে।
হে দয়াময়! যারা করে
জুলুম নিরন্তর,
তাদের হৃদয় বদলে দাও
সত্যের আলোকঘর।
যদি তারা না ফেরে আর
মানবতার পথে,
তোমার কঠিন বিচার দিও
ন্যায়ের মহারথে।
হে রব! তুমি ইনসাফ দাও
অত্যাচারিত প্রাণে,
সত্য যেন মাথা তুলে
দাঁড়ায় বিশ্বময় প্রাণে।
মিথ্যার কালো মেঘ সরিয়ে
সত্যের সূর্য ওঠুক,
অন্ধকারের প্রতিটি পথ
নূরের আলো ছুঁক।
মানুষ যেন মানুষ হয়ে
ভালোবাসতে শেখে,
হিংসা-ঘৃণা দূরে ঠেলে
সত্যের পথে দেখে।
মসজিদভরা জিকির হোক
আল্লাহু আকবার,
মানবতার জয়ধ্বনিতে
মুখর হোক সংসার।
ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের হাত
বন্ধনেরই ডোর,
ভালোবাসার সুবাস ছড়াক
প্রতিটি ঘরদোর।
কেউ যেন আর না কাঁদে
অন্যায়েরই চাপে,
কেউ যেন আর না হারায়
স্বপ্ন দুঃখের শাপে।
হে আল্লাহ! পৃথিবীজুড়ে
শান্তির বৃষ্টি দাও,
অত্যাচারের বিষাক্ত আগুন
চিরতরে নিভাও।
কারাগারে বন্দী যারা
অবিচারের শিকার,
তোমার রহমে মুক্তি পাক
ভাঙুক দুঃখের ভার।
অসহায়ের মুখে ফুটুক
আবার নতুন হাসি,
মানবতার বাগানজুড়ে
ফুটুক প্রেমের বাতাসি।
তোমার নূরে আলোকিত হোক
প্রতিটি প্রাণের দ্বার,
দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে যাক
রহমতেরই জোয়ার।
আমরা আজি হাত তুলে সব
করি আকুল দোয়া—
“হে আল্লাহ! বাঁচাও সবাইকে,
মুছে দাও সব ক্ষয়।”
মাজলুমদের দাও নাজাত,
দাও মুক্তির পথ,
দুনিয়া ও আখেরাতে
মুছে দিও ক্ষত।
আসমান জুড়ে উঠুক ধ্বনি—
“ইয়া রহমান! ইয়া রব!”
জুলুমমুক্ত হোক ধরাতল
শান্তি নামুক সব।
আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।
***
৪
৪ মন্তব্য