সহকারী অধ্যাপক
১২ মে, ২০২৬ ০৫:৩০ অপরাহ্ণ
জান্নাতের অন্তরায়২ - মোঃ মুজিবুর রহমান
জান্নাতের অন্তরায়২
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
কুফর, শিরক, অহংকার—
অন্তর জুড়ে ক্ষত,
মানুষ তখন পথ হারিয়ে
হয় যে দিশাহীন রথ।
মুখে যতই হাসি ফুটুক,
চোখে থাকুক জ্যোতি,
রবের ভয় না থাকলে ভাই
নিভে যায় সব গতি।
অহংকারের বিষের আগুন
জ্বালায় অন্তরখান,
নিজেকে বড় ভাবতে গিয়ে
হারায় সত্য জ্ঞান।
ইবলিসও তো এই দোষেতে
হলো চির অভিশাপ,
একটি সিজদা না করাতে
জুটল লাঞ্ছার চাপ।
শিরক হলো কালো মেঘের
ভয়াল অন্ধকার,
তাওহীদের সেই নির্মল চাঁদ
ঢাকে বারংবার।
কুফর যেন মরুভূমির
দাহন জ্বালা হাওয়া,
হেদায়াতের ফুল শুকিয়ে
দেয় যে পাপের ছাওয়া।
লোভের নেশা, মিথ্যা কথা,
হিংসা আর প্রতারণা,
মানুষকে যে দূরে সরায়
রহমতের ঠিকানা।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক মোহে
কত মানুষ মাতে,
আখিরাতের কঠিন হিসাব
ভুলে থাকে রাতে।
ক্ষমতারই বড়াই করে
অন্যেরে দেয় ব্যথা,
জানে না সে একদিন সব
হবে মাটির সাথে।
বন্ধু সেজে ছলনা করে
কত মুখোশধারী,
অন্তরে যার বিষের নদী
বাহিরে প্রেম ভারী।
কেউবা আবার নামাজ ছেড়ে
ঘুমে কাটায় বেলা,
কেউবা পাপের স্রোতে ভেসে
হাসে হেলা-খেলা।
হে দয়াময় মহান আল্লাহ!
রাখো মোদের বাঁচায়,
এই সকল গুনাহ হতে
নাও হেফাজত ছায়ায়।
অন্তর হতে দূর করো রব
শিরকের কালো দাগ,
তাওহীদের নূরে ভরিয়ে দাও
প্রাণের প্রতিটা ভাগ।
অহংকারের পাষাণ হৃদয়
করো বিনয় ভরা,
অশ্রুভেজা সিজদায় যেন
কাটে নিশি সারা।
দাও এমন এক পবিত্র মন
মানুষ ভালোবাসে,
যে মন শুধু তোমার ভয়ে
চোখের পানি হাসে।
দাও তাকওয়ার নির্মল পোশাক,
এখলাসভরা প্রাণ,
সত্য পথে চলার শক্তি
আর নেক আমল দান।
মিথ্যা যেন মুখে না আসে,
না জাগে হিংসার আগুন,
অন্যায়ের পথে না যাই কভু
যতই আসুক ঝড়-বৃষ্টি-ধুন।
কবরের ঘর আলোকিত করো
কুরআনেরই নূরে,
হাশরের মাঠে রেখো মোদের
আরশের ছায়াতলে দূরে।
শেষ নিশ্বাসে দিও মোদের
কালিমারই সুর,
ঈমান ভরা হৃদয় নিয়ে
হই যেন গোরে নূর।
মিজানের পাল্লা ভারী করো
নেক আমলের দানে,
ক্ষমা করো গোপন পাপ
তোমার রহমতখানে।
যেদিন কাঁদবে দুনিয়ার মানুষ
ভয়ে কাঁপবে প্রাণ,
সেদিন যেন পাই আমরা
তোমার ক্ষমার দান।
ডেকো মোদের প্রিয় বান্দা
বলে স্নেহভরে,
“এসো আজ জান্নাতবাসী
রহমতেরই ঘরে।”
সিদরাতুল মুনতাহার ছায়ায়
হোক মোদের বাস,
হাউজে কাউসারের পানি খেয়ে
মিটুক প্রাণের পিয়াস।
ফিরদাউসের স্নিগ্ধ বাগে
হোক চির ঠিকানা,
নবী-ওলী-শহীদদের সাথে
কাটুক সুখের গাঁথা।
না থাকুক আর কষ্ট কোনো,
না থাকুক ভয়-ব্যথা,
রবের দীদার পেয়ে যেন
ভরে ওঠে অন্তরটা।
হে আল্লাহ! এই দোয়া মোদের
করো তুমি কবুল,
কুফর-শিরক-অহংকার হতে
রাখো চির আকুল।
তোমার প্রেমে হৃদয় ভরে
কাটুক জীবনকাল,
জান্নাতুল ফিরদাউস দিও—
এই মোদের আরজ-হাল।
আমিন।।
***
কুফর, শিরক, অহংকার—
মানব হৃদয় ক্ষয়,
এই তিন বিষে ডুবে গেলে
শান্তি কোথায় রয়?
অন্তর জুড়ে কালো ধোঁয়া,
নিভে ঈমান-দীপ,
হেদায়াতের ফুল শুকিয়ে
কাঁদে নীরব নীড়।
মানুষ তখন ভুলে যায় যে
রবের অশেষ দান,
নিজেকে সে বড় ভাবিতে
হারায় সত্য জ্ঞান।
অহংকারের মিথ্যা মুকুট
মাথায় যারা পরে,
দয়াময়ের করুণা হতে
দূরে সরে পড়ে।
ইবলিসও তো দম্ভ করেই
হারাল সুখের ঠাঁই,
একটি সিজদা না করাতে
অভিশাপে ভাই।
শিরকের বিষ ধীরে ধীরে
খায় অন্তরের ফুল,
তাওহীদের সেই নির্মল আলো
করে দেয় যে ভুল।
কুফর যেন ঘন আঁধারের
ভয়ংকর এক রাত,
যে রাতে আর জ্বলে না ভাই
হেদায়াতের বাত।
লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ,
মিথ্যা কথার ঢেউ,
এইসব পাপে ডুবে গিয়ে
শান্তি পায় না কেউ।
কেউ অর্থ পেয়ে ভুলে যায় যে
গরিবেরও হক,
ক্ষমতারই নেশায় পড়ে
করছে জুলুম শখ।
কেউ নামাজকে তুচ্ছ ভেবে
ঘুমে কাটায় কাল,
কেউ গুনাহে ডুবে ডুবে
ভাঙে জীবনের তাল।
বন্ধু সেজে ছদ্মবেশী
কত মানুষ আসে,
মুখে মধু, অন্তরে বিষ
প্রতারণার ফাঁসে।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক সুখে
মানুষ কত মশগুল,
আখিরাতের কঠিন দিনের
করে না তো ভুল?
কবর ঘরে একলা যখন
থামবে জীবনের গান,
সেদিন শুধু কাজে লাগবে
নেক আমল আর ঈমান।
হাশরের সেই ভয়াল মাঠে
থাকবে না কেউ সাথ,
নেকির আলো যার কাছে আছে
সেই পাবে মুক্তির পথ।
হে মহান রব! দয়া করে
রাখো মোদের বাঁচিয়ে,
কুফর-শিরক-অহংকার হতে
রাখো দূরে সরিয়ে।
অন্তর ভরে দাও তাকওয়া,
দাও বিনয়ের নূর,
তোমার প্রেমে কাঁদুক হৃদয়
হোক আত্মা ভরপুর।
মিথ্যা যেন মুখে না আসে,
না জাগে হিংসা-রাগ,
ক্ষমা করার মহৎ গুণে
রাঙাও প্রাণের বাগ।
দাও এমন এক নরম হৃদয়
মানুষ যেথা হাসে,
অসহায়ের কান্না শুনে
যে হৃদয় পাশে আসে।
দাও এখলাস, দাও সহীহ নিয়ত,
দাও আমলের ফুল,
তোমার পথে চলতে গিয়ে
না করি কোনো ভুল।
কুরআনেরই আলো দিয়ে
ভরাও অন্তরখান,
রাসূল প্রেমে উজ্জ্বল হোক
মোদের প্রতিপ্রাণ।
শেষ নিশ্বাসে দিও মোদের
কালিমার উচ্চারণ,
ঈমানভরা হৃদয় নিয়ে
হোক দুনিয়া বিসর্জন।
মুনকার-নাকির প্রশ্ন যখন
আসবে কবরপারে,
তোমার রহম সাথী হোক
সেই কঠিন অন্ধকারে।
পুলসিরাতের ভয়াল পথে
রাখো মোদের ঠিক,
তোমার নূরে পার করিয়ে
দাও সফলতার দিক।
মিজানের পাল্লা ভারী করো
নেক আমলের ভারে,
ক্ষমা করে নিও মোদের
রহমতেরই দ্বারে।
হাউজে কাউসারের শীতল পানি
পান করিও হায়,
প্রিয় নবীর উম্মত হয়ে
যেন লজ্জা না পাই।
জান্নাতের সেই চিরসবুজ
শান্তিময় উদ্যান,
ফিরদাউসের ছায়াতলে
হোক মোদের স্থান।
যেখানে নেই কষ্ট-বেদনা,
নেই কোনো ভয়-শোক,
রবের দীদার পেয়ে যেখানে
পূর্ণ হবে লোক।
নবী, সিদ্দীক, শহীদ, সালেহ—
থাকবো সবার সাথে,
চিরসুখের অনন্ত জীবন
রহমতেরই পথে।
হে আল্লাহ! কবুল করো
মোদের কান্নার সুর,
পাপের কালো মেঘ সরিয়ে
দাও হেদায়াত নূর।
কুফর, শিরক, অহংকার হতে
রাখো মোদের দূর,
জান্নাতুল ফিরদাউস দিও—
এই তো প্রাণের নূর।
আমিন।।
***
কুফর, শিরক,অহংকার—
এই তিন কালো বিষ,
মানব হৃদয় পুড়িয়ে দেয়
নষ্ট করে দিশ।
ঈমানের সেই নির্মল আলো
নিভে যায় ধীরে ধীরে,
হেদায়াতের ফুল ঝরে পড়ে
পাপের বিষের নীড়ে।
মানুষ তখন ভুলে যায় যে
সবই রবের দান,
নিজের শক্তি, নিজের জ্ঞানেই
করতে থাকে গর্বগান।
অহংকারের মিথ্যা পাহাড়
দাঁড়ায় বুকের মাঝে,
বিনয়হীন সেই অন্তর
রহমত কেমনে সাজে?
ইবলিসও তো অহংকারে
হারালো সুখলোক,
একটি সিজদা না করাতে
জুটল লাঞ্ছা-শোক।
শিরকের সেই ভয়াল আগুন
জ্বালায় অন্তরখান,
তাওহীদের পবিত্র বাগান
হয়ে যায় বিরান।
কুফর যেন আঁধার রাতে
কালো মেঘের ঢেউ,
যে আঁধারে হেদায়াতের পথ
খুঁজে পায় না কেউ।
লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ,
মিথ্যা কথার জাল,
এইসব পাপে ডুবে গিয়ে
হারায় জীবনের তাল।
দুনিয়ার এই চাকচিক্যে
মগ্ন থাকে মন,
আখিরাতের কঠিন দিনের
রাখে না স্মরণ।
কেউ টাকারই দম্ভে মাতে,
কেউ ক্ষমতার নেশায়,
অন্যায়েরই সিঁড়ি বেয়ে
জুলুম করে হেসায়।
বন্ধু সেজে প্রতারকেরা
কাছে এসে রয়,
মুখে মধু, অন্তরে বিষ—
চিনে না সহজে কেউ।
নামাজ ছেড়ে গাফিল মানুষ
ঘুমে কাটায় কাল,
কুরআনেরই আলো ছাড়া
অন্ধ হয়ে চাল।
হে দয়াময় মহান আল্লাহ!
রাখো মোদের বাঁচিয়ে,
কুফর-শিরক-অহংকার হতে
দাও দূরে সরিয়ে।
অন্তর ভরে দাও তাকওয়া,
দাও বিনয়ের নূর,
তোমার প্রেমে ভিজুক প্রাণ
হোক আত্মা ভরপুর।
মিথ্যা যেন মুখে না আসে,
না জাগে হিংসা-রাগ,
অন্যায়ের পথ হতে মোদের
রাখো বহু ভাগ।
দাও এমন এক নরম হৃদয়
অসহায়ের সাথী,
মানুষ দেখে শান্তি পাবে
ভালোবাসার বাতি।
এখলাসভরা নেক আমলে
ভরিয়ে দাও প্রাণ,
সহীহ নিয়ত, সুন্দর চরিত্র
করো মহীয়ান।
কুরআনেরই আলো দিয়ে
রাঙাও অন্তরপুর,
রাসূল প্রেমে উজ্জ্বল হোক
জীবনেরই সুর।
শেষ নিশ্বাসে কালিমা দিও
রহমতেরই ছায়া,
ঈমান নিয়ে বিদায় যেন
হয় দুনিয়ার মায়া।
কবর ঘরে একলা যখন
থামবে দেহের শ্বাস,
তোমার রহম সাথী হোক
মিটুক সকল পিয়াস।
মুনকার-নাকির প্রশ্ন যখন
ঘিরে ধরবে হায়,
তোমার নূরেই সহজ হোক
সেই কঠিন দায়।
হাশরের সেই ভয়াল দিনে
কাঁপবে সব প্রাণ,
সেদিন যেন পাই আমরা
তোমার ক্ষমার দান।
পুলসিরাতের সূক্ষ্ম পথে
রাখো মোদের ঠিক,
তোমার নূরে পার করিয়ে
দাও মুক্তির দিক।
মিজানের পাল্লা ভারী করো
নেক আমলের ভারে,
ক্ষমা করে নিও মোদের
রহমতেরই দ্বারে।
হাউজে কাউসারের শীতল পানি
পান করাবা হায়,
প্রিয় নবীর উম্মত হয়ে
যেন লজ্জা না পাই।
সিদরাতুল মুনতাহার ছায়ায়
হোক মোদের বাস,
ফিরদাউসের চিরসবুজে
মিটুক প্রাণের পিয়াস।
যেখানে নেই মৃত্যু-ভয়,
নেই কোনো হাহাকার,
রবের দীদার পেয়ে যেখানে
ভরে সুখের দ্বার।
নবী, সিদ্দীক, শহীদ, সালেহ—
থাকবো সবার সাথে,
চিরশান্তির জান্নাতি সুখ
রহমতেরই পথে।
হে আল্লাহ! কবুল করো
মোদের কান্নাধ্বনি,
পাপের কালো মেঘ সরিয়ে
দাও হেদায়াত ধ্বনি।
কুফর, শিরক, অহংকার হতে
রাখো মোদের দূর,
জান্নাতুল ফিরদাউস দিও—
এই প্রাণের সুর।
আমিন।।
৪
৪ মন্তব্য