Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ মে, ২০২৬ ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ

ইহ-পরকালের সফলতার পাথেয় - মোঃ মুজিবুর রহমান


ইহ-পরকালের সফলতার পাথেয়

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

দুনিয়ার এই ক্ষণিক পথে
মানুষ কত দৌড়ায়,
স্বার্থ, লোভ আর মোহের নেশায়
সত্যপথও হারায়।
কেউবা গড়ে অট্টালিকা,
কেউবা সুনাম চায়,
কেউবা আবার অন্যের হক
নিজের করে খায়।

কিন্তু শেষে নিঃশব্দ রাতে
যখন জীবন থামে,
রয় না কিছু দুনিয়ার ধন
নাম, যশ কিংবা নামে।
সঙ্গে শুধু চলবে তখন
আমলভরা খাতা,
যেমন বুনেছি দুনিয়ার ক্ষেতে
তেমন ফলের প্রথা।

তাই তো হে মন! জাগো এবার,
ফিরে চলো নূরে,
ঈমান নামের দীপ জ্বালাও
অন্তরেরই সুরে।
ঈমান হলো জীবনের প্রাণ,
আত্মার শান্তি-ছায়া,
ঈমান ছাড়া মানুষ যেন
দিকহারা এক নাওয়া।

যার হৃদয়ে ঈমান থাকে
সে হারায় না পথ,
ঝড় এলে সে ভাঙে না আর
রয় অবিচল রথ।
আল্লাহর প্রতি গভীর ভরসা
তাকে রাখে স্থির,
অন্ধকারেও খুঁজে সে পায়
হিদায়াতের নীর।

শুধু মুখে দাবি করলে
পূর্ণ হয় না কাজ,
নেক আমলের ফুলে ফুটে
ঈমানেরই সাজ।
নামাজ, রোজা, দান-সদকা
সত্য কথার বাণী,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো
মানবতার টানি।

এক ফোঁটা জল তৃষ্ণার্ত মুখে
হাসি ফোটানো দান,
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগানো
অমূল্য এক প্রাণ।
নেক আমলের ছোট্ট বীজও
হয় না কখন ক্ষয়,
আল্লাহর দরবারে তার
পুরস্কার অক্ষয়।

তাকওয়া হলো অন্তর জুড়ে
আল্লাহভীতির আলো,
গোপন ঘরেও পাপ এড়িয়ে
সত্যটাকেই ভালো।
মানুষ দেখে বাহির শুধু,
রব দেখেন মন,
তাই তো মুত্তাকী বান্দারাই
পায় রহমতের ক্ষণ।

রাতের আঁধার, নিরব ঘরে
যে কাঁদে রব ডেকে,
তার হৃদয়ে প্রশান্তির নদী
বয়ে চলে থেকে থেকে।
দুনিয়ার ভয় তাকে দমায় না,
হারায় না সে মান,
কারণ তার অন্তর জুড়ে
আল্লাহরই স্থান।

এখলাস ছাড়া আমল যত
সবই শূন্য খোলস,
মানুষ দেখে বাহবা দিলেও
আখিরাতে সর্বনাশ।
নিয়ত যদি খাঁটি না হয়
মলিন হয় সব রং,
রিয়ার আগুন পুড়িয়ে ফেলে
সওয়াবভরা ঢং।

তাই করো কাজ রবের তরে
লোক দেখানো নয়,
গোপন দানের অশ্রুবিন্দু
আল্লাহ সবচেয়ে চয়।
নিভৃত রাতে সিজদা দিয়ে
যে বান্দা কাঁদে চুপে,
তার নাম লেখা হয় যে গিয়ে
রহমতেরই রূপে।

সচ্চরিত্রের মিষ্টি সুবাস
মানুষকে টানে,
কঠিন হৃদয় নরম হয়ে
ভালোবাসা আনে।
হাসিমুখে কথা বলা,
ক্ষমা করা বারবার,
এসব গুণেই মানুষ হয়
সবার কাছে আদর।

রাসূলের পথ সচ্চরিত্র,
মায়া, দয়া, লাজ,
অন্যায়েরও বদলা দিতেন
ক্ষমার মধুর সাজ।
কাঁটার জবাব ফুল দিয়ে যিনি
জয় করেছেন মন,
তাঁর উম্মত হয়েও কেন
জ্বালি হিংসার ক্ষণ?

মিথ্যা, গীবত, হিংসা, অহং
অন্তর করে কালো,
মানুষরূপী দেহের ভেতর
জ্বলে পাপের আলো।
এসব ছেড়ে সত্য পথে
চলো হে মানবজাতি,
ইহকালেও মিলবে শান্তি
পরকালেও মুক্তি।

বন্ধুর সাথে ভালো ব্যবহার,
পিতা-মাতার মান,
এতিম-মিসকিনের মুখে হাসি
এসব বড় দান।
কারো মনে কষ্ট না দিয়ে
নরম ভাষায় চলো,
দুনিয়াটা ক্ষণিকের মেলা
ভালোবাসা ঢলো।

আজ যে শক্তি, আজ যে দম্ভ
কালই হবে শেষ,
কবর ঘরে একা মানুষ
হারায় দুনিয়ার রেশ।
সঙ্গে যাবে না ধন-সম্পদ
না যাবে সম্মান,
সঙ্গে যাবে ঈমান আর
নেক আমলের গান।

হাশরের সেই ভয়াল দিনে
সূর্য যখন কাছে,
মানুষ তখন দিশেহারা
ভয় আর ঘামে ভাসে।
সেদিন শুধু সফল তারা
যাদের অন্তর পবিত্র,
যাদের জীবন কেটেছে হয়ে
সত্য, সুন্দর, চরিত্র।

জান্নাত তখন ডাকবে হেসে
এসো আমার কাছে,
দুনিয়াতে যে রবের পথে
কষ্ট সয়ে বাঁচে।
চিরশান্তির ছায়াতলে
থাকবে তারা সুখে,
না থাকবে ভয়, না থাকবে দুঃখ
আনন্দ ভরা মুখে।

তাই হে মানুষ! সময় থাকতে
ফিরে চলো আজ,
ঈমান, তাকওয়া, নেক আমলে
রাঙাও জীবনের সাজ।
এখলাসভরা সহীহ নিয়ত
রাখো অন্তরজুড়ে,
সচ্চরিত্রের আলো ছড়াও
পৃথিবীরই বুকে।

আল্লাহ যেন দান করেন
পবিত্র হৃদয়খানি,
নেক আমলে ভরে ওঠুক
আমার-তোমার প্রাণী।
ইহকালে শান্তির জীবন,
পরকালে জান্নাত,
এই হোক মোদের চাওয়া শুধু
রবের নিকট নাজাত।
আমীন।

***

এই দুনিয়া ক্ষণিকের মেলা,
স্বপ্নভাঙা এক ভোর,
আজ যে হাসে সুখের নেশায়
কালই হবে চোর।
মায়ার বাঁধন, ধনের মোহে
মানুষ দিশেহারা,
অহংকারে ভুলে যায় সে
কোথায় শেষের ধারা।

কেউ তো গড়ে সোনার প্রাসাদ,
কেউ সম্মানের ঢেউ,
কেউবা আবার অন্যের হক
কেড়ে নিয়ে খেই।
ক্ষমতারই নেশায় মাতে,
অন্যায় করে সুখে,
ভুলে যায় যে হিসাব হবে
কবরেরই মুখে।

এই পৃথিবীর চাকচিক্য সব
মেঘের মতো ক্ষণ,
আজকে আছে, কালকে নেই
এটাই জীবনের ধ্বনন।
যে দেহ নিয়ে অহংকারে
চলে বুকটা ফুলে,
একদিন তা মাটির নিচে
নিঃশব্দে যাবে ঢলে।

তখন পাশে থাকবে না আর
বন্ধু কিংবা ভাই,
ধন-সম্পদের পাহাড় গড়েও
কেউ সাথী হবে নাই।
সঙ্গে শুধু যাবে তখন
আমলভরা খাতা,
জীবনভর যা করেছি
তাই হবে প্রাপ্তি-ব্যথা।

তাই তো হে মন! জেগে ওঠো,
সময় আছে আজ,
ঈমান দিয়ে সাজাও প্রাণের
ভাঙাচোরা সাজ।
ঈমান হলো জানের আলো,
আত্মার প্রশান্তি,
ঈমান ছাড়া জীবন যেন
মরুভূমির ক্লান্তি।

ঈমান মানুষকে শেখায় শুধু
রবের উপর ভরসা,
অন্ধকারেও পথ দেখায়
হিদায়াতের ভাষা।
যার অন্তরে ঈমান থাকে
সে হয় দৃঢ় প্রাণ,
ঝড়-তুফানেও টলে না সে
রাখে রবের মান।

ঈমান শুধু মুখের বুলি
এটা মোটেও নয়,
ঈমান মানে রবের আদেশ
জীবনজুড়ে বয়ে।
সত্য পথে অবিচল থাকা,
পাপ থেকে দূরে,
আল্লাহর ভয় হৃদয়ে নিয়ে
চলা নূরের সুরে।

নেক আমল সেই বৃক্ষ যেন
ফলে ভরা ডাল,
যার ছায়াতে শান্তি মেলে
ইহকাল-পরকাল।
নামাজ মানুষ শুদ্ধ করে,
রোজা শেখায় ধৈর্য,
দান-সদকা দূর করে দেয়
হৃদয়ের সব দৈন্য।

একটি হাসি, একটি সান্ত্বনা,
এক ফোঁটা ভালোবাসা,
এগুলোও যে নেক আমল
শেখায় দ্বীনের ভাষা।
অসহায়ের হাতটি ধরা,
এতিম মুখে হাসি,
এসব গুণেই মানুষ পায়
রহমতেরই বাঁশি।

রাতের শেষে ফজর বেলায়
যে ওঠে রব ডেকে,
তার অন্তরে শান্তির নদী
বয়ে চলে থেকে থেকে।
সিজদাভেজা চোখের পানি
হারায় না কখনো,
আল্লাহর দরবারে সেগুলো
অমূল্য রতন যেনো।

তাকওয়া হলো অন্তরজুড়ে
আল্লাহভীতির ফুল,
যা মানুষকে পাপের পথে
যেতে করে ভুল।
নির্জন ঘরে, গোপন স্থানে
যে পাপ ছেড়ে দেয়,
রবের ভয়ে চোখের পানি
নিভৃতে ঝরে যায়।

মানুষ দেখে বাহিরখানা,
রব দেখেন মন,
তাই তো মুত্তাকী বান্দারাই
পায় জান্নাতের ক্ষণ।
দুনিয়ার ভয়, রাজা-বাদশাহ
তাকে টলাতে পারে না,
কারণ তার হৃদয়জুড়ে
আল্লাহ ছাড়া কেউ না।

এখলাস যদি না থাকে ভাই
আমল হবে শূন্য,
লোক দেখানো ইবাদতে
মিলবে না কিছু গুণ্য।
রিয়ার আগুন আমল পুড়িয়ে
করবে ছাইভস্ম,
বাহবা পেলেও আখিরাতে
হবে শুধু কষ্ট।

তাই করো কাজ রবের তরে
নির্ভেজাল নিয়তে,
মানুষ যেন প্রশংসা দেয়
সেটা না থাক চিতে।
গোপন দান আর নীরব কান্না
আল্লাহ বেশি চেনেন,
অন্তরের সেই পবিত্রতা
রব নিজেই দেখেন।

সহীহ নিয়ত জীবনজুড়ে
আনে রহমতের ঢেউ,
ছোট্ট কাজও বড় হয়ে যায়
নিয়ত খাঁটি লে।
এক গ্লাস পানি দান করাও
হয়ে যায় মহৎ,
যদি থাকে আল্লাহভীতি
আর আন্তরিক রত্ন।

সচ্চরিত্রের সুবাস ছড়ায়
ফুলের মতো ধীরে,
কঠিন মানুষ নরম হয়ে
ভালোবাসে ফিরে।
হাসিমুখে কথা বলা,
ক্ষমা করা বারবার,
এগুলোতেই মুমিন মানুষ
হয় সবার আদর।

রাসূল ছিলেন উত্তম আদর্শ,
দয়ার সাগর মহান,
অন্যায়েরও জবাব দিতেন
ক্ষমার ফুলদান।
তাঁর জীবনের প্রতিটি ক্ষণ
সচ্চরিত্রের দিশা,
তাঁর উম্মত হয়েও কেন
হিংসায় জ্বলে নিশা?

মিথ্যা, গীবত, অহংকারে
অন্তর হয় কালো,
হিংসা-বিদ্বেষ মানুষটাকে
পাপের পথে চালো।
অন্যের দোষ খুঁজতে গিয়ে
নিজেকেই হারাই,
ভুলে যাই যে হিসাবের দিন
সামনেই চলে ভাই।

পিতা-মাতার সেবা করা
জান্নাত পাওয়ার দ্বার,
প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়াও
নেক কাজ অপার।
অসহায়ের পাশে দাঁড়াও,
ভাঙা মনকে জুড়ো,
মানবতার এই শিক্ষাতে
জীবন করো বড়।

বন্ধুত্ব যদি সত্য হয়
থাকবে না প্রতারণা,
স্বার্থ ছাড়া ভালোবাসাই
হবে হৃদয়খানা।
কারো মনে কষ্ট দিয়ে
হাসি ফুটে না ভাই,
ক্ষমা আর নম্র ব্যবহারে
শান্তি নেমে পাই।

আজকে যারা ক্ষমতার নেশায়
অন্যায় করে যায়,
কাল কবরের অন্ধকারে
একাই কাঁদতে চায়।
সেখানে নেই দম্ভের ভাষা,
নেই কোনো অহংকার,
শুধু আমল সামনে এসে
করবে বিচারধার।

হাশরের সেই ভয়াল দিনে
সূর্য মাথার কাছে,
মানুষ তখন ঘামে ডুবে
আতঙ্কভরা আছে।
সেদিন শুধু সফল তারা
যাদের অন্তর পবিত্র,
ঈমান, আমল, তাকওয়াভরা
সত্য সুন্দর চরিত্র।

জান্নাত তখন ডাকবে হেসে
এসো আমার দ্বারে,
দুনিয়াতে যারা কেঁদেছিল
রবেরই প্রেমধারে।
সেখানে নেই দুঃখ-কষ্ট,
নেই কোনো ভয়ভীতি,
চিরশান্তির অনন্ত সুখ
আর আল্লাহর প্রীতি।

তাই হে মানুষ! সময় থাকতে
ফিরে চলো নূরে,
ঈমান দিয়ে হৃদয় সাজাও
কুরআনেরই সুরে।
নেক আমলের বীজ বুনে দাও
জীবনের প্রতিক্ষণ,
তাকওয়া দিয়ে রক্ষা করো
নিজের অন্তরমন।

এখলাসভরা সহীহ নিয়ত
রাখো প্রাণের মাঝে,
সচ্চরিত্রের আলো ছড়াও
মানবতার সাজে।
দুনিয়ার সুখ ক্ষণিকেরই,
আখিরাত চিরকাল,
তাই তো প্রস্তুত হও সবাই
সেই অনন্তকাল।

আল্লাহ যেন দান করেন
ঈমানভরা প্রাণ,
নেক আমলে ভরে উঠুক
আমার-তোমার জ্ঞান।
তাকওয়ার ছায়া হৃদয়ে রেখে
চলি সত্যপথে,
ইহকালেও শান্তি মিলে
পরকালেও রথে।

শেষ নিশ্বাস যখন এসে
থামিয়ে দেবে গান,
ঠোঁটে যেন থাকে তখন
কালিমারই টান।
কবর যেন ফুলের বাগান
হয়ে যায় সেদিন,
হাশরের মাঠে রহমত মিলে
মুছে যায় সব ঋণ।

এই হোক মোদের চাওয়া শুধু
রবের নিকট নাজাত,
ইহকালে শান্তির জীবন,
পরকালে জান্নাত।
ঈমান, আমল, তাকওয়ার আলো
জ্বালো প্রাণের দ্বারে,
আল্লাহ যেন রাখেন মোদের
সৎকর্মীদের দলে।
আমীন।

***

দুনিয়ার এই রঙিন মেলায়
মানুষ আসে যায়,
কেউবা হাসে সুখের নেশায়
কেউ অশ্রুতে ভায়।
স্বপ্ন নিয়ে গড়ে সবাই
সুখের সোনার ঘর,
হঠাৎ করে মৃত্যুর ডাকে
ভেঙে যায় সে পর।

কত মানুষ ধনের মোহে
হারায় সত্যপথ,
অন্যায়েরই রাজপথ ধরে
চলে দিবসরাত।
ক্ষমতারই গর্ব বুকে
মানবতা যায় মরে,
অসহায়ের কান্নার ধ্বনি
আকাশ ভেদে ঝরে।

কেউবা আবার নামের নেশায়
ভুলে রবের ভয়,
মিথ্যা, ছল আর প্রতারণায়
নিজেকেই ক্ষয়।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক সুখে
আখিরাত ভুলে যায়,
কবরের সেই নীরব ঘর
ভাবনায়ও না চায়।

অথচ যখন মৃত্যু এসে
দাঁড়াবে শিয়রে,
বন্ধু-স্বজন সরে যাবে
নিঃশব্দ অন্ধকারে।
সাথে শুধু থাকবে তখন
আমলভরা দিন,
পাপ-পুণ্যের হিসাব কেবল
হবে সেদিন ঋণ।

তাই হে মানুষ! ঘুম ভেঙে আজ
ফিরে চলো নূরে,
ঈমান নামের প্রদীপ জ্বালো
হৃদয়েরই সুরে।
ঈমান হলো জানের আলো,
জীবনেরই প্রাণ,
ঈমান ছাড়া অন্তর যেন
শূন্য মরুভূমি খান।

ঈমান মানুষকে শেখায় শুধু
আল্লাহরই ভয়,
সত্য পথে অবিচল থাকা
পাপ থেকে ক্ষয়।
যার অন্তরে ঈমান জাগে
সে হয় দৃঢ়চিত্ত,
ঝড় এলেও হারায় না পথ
রাখে মনকে শুদ্ধ।

রাতের শেষে ফজর বেলায়
যে উঠে রব ডাকে,
তার হৃদয়ে শান্তির নদী
নিভৃতে বয়ে থাকে।
সিজদাভেজা অশ্রুবিন্দু
হারায় না কখনো,
আরশ কাঁপে বান্দার ডাকে
রহমতেরই ক্ষণও।

নেক আমল ফুলের মতো
সুবাস ছড়ায় প্রাণে,
মানুষকে তা শান্তি দেয়
দুঃখমাখা টানে।
নামাজ মানুষ শুদ্ধ করে,
রোজা শেখায় ধৈর্য,
দান-সদকা হৃদয় হতে
দূর করে সব দৈন্য।

একটি হাসি, মিষ্টি কথা,
ক্ষুধার্ত মুখে ভাত,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো
এসব বড় ইবাদত।
ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগানো
মহৎ আমল ভাই,
মানুষ যদি মানুষ হতো
দুঃখ কোথাও নাই।

তাকওয়া হলো অন্তরজুড়ে
আল্লাহভীতির আলো,
গোপন ঘরেও পাপ এড়িয়ে
সত্যটাকেই ভালো।
মানুষ দেখে বাহিরখানা,
রব দেখেন মন,
তাই তো মুত্তাকী বান্দারাই
পায় সফলতার ক্ষণ।

নির্জন রাতে যে কাঁদে
হে আল্লাহ! বলে,
তার হৃদয়ের অন্ধকারও
নূরের আলো জ্বলে।
দুনিয়ার ভয় তাকে টলাতে
কখনো পারে না,
কারণ তার অন্তরজুড়ে
রব ছাড়া কেউ না।

এখলাস ছাড়া আমল যত
শুকনো পাতার ঢেউ,
লোক দেখানো ইবাদতে
কোনো লাভই নেই।
মানুষ যদি বাহবা দেয়
তবুও লাভ কই?
আখিরাতে শূন্য হবে
যদি রিয়া রয়।

তাই করো কাজ একনিষ্ঠ মনে
রবের সন্তুষ্টিতে,
গোপন দান আর নীরব কান্না
রাখো অন্তরেতে।
নিয়ত যদি খাঁটি থাকে
ছোট্ট কাজও বড়,
একফোঁটা জল দান করাও
হয়ে যায় অমর।

সহীহ নিয়ত জীবনজুড়ে
আনে শান্তির ঢেউ,
ভালোবাসার প্রতিটি কাজ
হয়ে যায় মহিমাময়।
আল্লাহ শুধু কাজ দেখেন না,
দেখেন মনের ভাষা,
অন্তর যদি পবিত্র থাকে
মিলে রহমতের আশা।

সচ্চরিত্র ফুলের মতো
মানুষ টানে কাছে,
মায়া, দয়া, নম্র আচরণ
হৃদয় জুড়িয়ে আছে।
হাসিমুখে কথা বলা,
ক্ষমা করা বারবার,
এসব গুণেই মানুষ পায়
সম্মান অপার।

রাসূল ছিলেন চরিত্রে শ্রেষ্ঠ
মানবতার দীপ,
অন্যায়েরও জবাব দিতেন
ক্ষমার ভাষা লিখ।
কাঁটার বদলে ফুল বিলিয়ে
জয় করেছেন মন,
তাঁর উম্মত হয়েও কেন
হিংসা রাখি গোপন?

মিথ্যা, গীবত, অহংকারে
অন্তর হয় কালো,
হিংসা-বিদ্বেষ আগুন হয়ে
পুড়িয়ে দেয় ভালো।
অন্যের দোষ খুঁজতে গিয়ে
নিজেকেই হারাই,
হিসাবের সেই কঠিন দিনের
ভয়টুকুও নাই।

পিতা-মাতার সেবা করা
জান্নাতেরই দ্বার,
এতিম-মিসকিন ভালোবাসা
নেক আমল অপার।
প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়াও
দ্বীনের বড় শিক্ষা,
মানবতার হাত বাড়ালে
মুছে যায় সব দুঃখ।

বন্ধুত্ব যদি সত্য হয়
থাকবে না প্রতারণা,
স্বার্থ ছাড়া ভালোবাসাই
হবে হৃদয়খানা।
কারো মনে কষ্ট দিয়ে
সুখ পাওয়া যে মিথ্যা,
ক্ষমার মাঝেই লুকিয়ে থাকে
শান্তির মহাসত্য।

আজকে যারা দম্ভভরে
অন্যায়ের গান গায়,
কাল কবরের অন্ধকারে
একাই কাঁদতে চায়।
সেখানে নেই ধন-সম্পদ,
নেই ক্ষমতার জোর,
শুধু আমল সামনে এসে
করবে বিচার ঘোর।

হাশরের সেই ভয়াল দিনে
সূর্য মাথার কাছে,
মানুষ তখন ঘামে ডুবে
আতঙ্কমাখা আছে।
সেদিন শুধু সফল তারা
যাদের অন্তর পবিত্র,
ঈমান, আমল, তাকওয়াভরা
সত্য সুন্দর চরিত্র।

জান্নাত তখন ডাকবে হেসে
এসো আমার দ্বারে,
দুনিয়াতে যারা কেঁদেছিল
রবের ভালোবাসায় রে।
সেখানে নেই মৃত্যু-কষ্ট,
নেই কোনো ভয়ভীতি,
চিরশান্তির অফুরন্ত সুখ
আর আল্লাহর প্রীতি।

তাই হে মানুষ! সময় থাকতে
ফিরে চলো আজ,
ঈমান দিয়ে হৃদয় সাজাও
কুরআনেরই সাজ।
নেক আমলের বীজ বুনে দাও
জীবনের প্রতিক্ষণ,
তাকওয়ার ছায়া রাখো জুড়ে
নিজের অন্তরমন।

এখলাসভরা সহীহ নিয়ত
রাখো প্রাণের মাঝে,
সচ্চরিত্রের আলো ছড়াও
মানবতার সাজে।
দুনিয়ার সুখ ক্ষণিকেরই,
আখিরাত চিরকাল,
তাই তো প্রস্তুত হও সবাই
সেই অনন্তকাল।

শেষ নিশ্বাস যখন এসে
থামিয়ে দেবে গান,
ঠোঁটে যেন থাকে তখন
কালিমারই টান।
কবর যেন ফুলের বাগান
হয়ে যায় সেদিন,
হাশরের মাঠে রহমত পেয়ে
মুছে যাক সব ঋণ।

আল্লাহ যেন দান করেন
পবিত্র হৃদয়খানি,
ঈমান-আমলে ভরে ওঠুক
আমার-তোমার প্রাণী।
ইহকালে শান্তির জীবন,
পরকালে জান্নাত,
এই হোক মোদের শেষ প্রার্থনা
রবের নিকট নাজাত।

ঈমান হোক পথের আলো,
তাকওয়া হোক ঢাল,
নেক আমলে রঙিন হোক
জীবনেরই কাল।
সচ্চরিত্র সুগন্ধ হয়ে
ছড়িয়ে পড়ুক ধরা,
আল্লাহ যেন রাখেন মোদের
নেককারদের সেরা

আমীন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ