সহকারী শিক্ষক
১১ মে, ২০২৬ ০৯:১০ অপরাহ্ণ
বাকা ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জমাটবদ্ধ শৃঙ্খলা!
বাকা ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জমাটবদ্ধ শৃঙ্খলা!
এই তো সেদিন! এই তো! কদিন আগেই—হ্যাঁ, কদিন আগেই এক বিকেলে গিয়েছিলাম বাকা ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর মাঠে। ঠিক শেষ বিকেলের একটু আগে। বেশ বড়ো মাঠ, পুরোনো ঐতিহ্যবাহী প্রাইমারি স্কুল। ব্রিটিশ শাসনের পরবর্তী সময়ে, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি যেন ইতিহাস আর শিক্ষার এক অনন্য স্মারক। পাশেই মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যার যাত্রা শুরু ১৯৬৮ সালে, যুদ্ধেরও আগে।
প্রাইমারি বিদ্যালয়ে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে আছেন একজন অত্যন্ত উন্নত মানসিকতার মানুষ। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর আন্তরিক আপ্যায়ন সত্যিই মুগ্ধ করেছে। খেলার মাঝেও, খেলা শেষে—সবখানেই ছিল আন্তরিকতা আর সৌহার্দ্যের ছাপ। সম্মান জানাতে ইচ্ছে হয়েছিল বারবার।
আর আজ আবারও সেখানে পা রাখলাম। যেন এক রাজকীয় প্রশান্তির স্পর্শ পেলাম! ৮টি পদের বিদ্যালয়, কর্মরত ৭ জন শিক্ষক; যদিও একজন ছুটিতে ছিলেন। তবুও ৬ জনের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের কর্মচাঞ্চল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। জোদ্দার সালাম স্যার, আলাউদ্দিন গোলদার স্যার, অনুপম ঘোষ স্যার, জয়ন্তী আপা, শিরিনা আপা আর ছোট বোন দেবশ্রী—সবাই মিলে যেন একটি পরিবার, একটি শক্তিশালী টিম।
বিদ্যালয়ের প্রতিটি কার্যক্রম আমার মন ছুঁয়েছে। শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা—সবকিছুতেই ছিল এক অসাধারণ সমন্বয়। কোথাও কোনো অবহেলা নেই, নেই কোনো বিশৃঙ্খলা। সবাই কতটা কেয়ারিং, কতটা দায়িত্বশীল—তা না দেখলে বোঝানো কঠিন।
মনে হলো, অবসরে যাওয়া প্রিয় ব্যক্তিত্ব লুৎফর রহমান স্যারের গড়ে যাওয়া সাম্রাজ্যের শক্ত ভিত্তিই আজও এই বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ যেন এখনো প্রতিটি দেয়ালে, প্রতিটি মানুষের কাজে জীবন্ত হয়ে আছে।
সত্যিই, এই বিদ্যালয় আমার মন ছুঁয়েছে। আবারও কোনো একদিন হঠাৎ করেই হানা দেব সেই প্রাণবন্ত প্রিয় ক্যাম্পাসে।
৪
৪ মন্তব্য