Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ মে, ২০২৬ ১০:০৭ অপরাহ্ণ

প্রতারকের দেমাগ, মজলুমের আর্তনাদ মোঃ মুজিবুর রহমান



প্রতারকের দেমাগ, মজলুমের আর্তনাদ

মোঃ মুজিবুর রহমান

বন্ধু সেজে এলো কাছে
হাসিমুখে প্রাণ,
কথার মায়ায় বেঁধে নিল
বিশ্বাসেরই টান।

চায়ের কাপে গল্প জমে
বৈঠক রাতদিন,
কালকে দেব, “পরশু দেব”—
চলল মিথ্যা ঋণ।

টাকার কথা তুললেই সে
মুখটা করে বাঁকা,
উল্টো আবার দাপট দেখায়
কেমন বুকের ফাঁকা!

একদিন যে ভাই বলত
তুমি আমার প্রাণ,
আজকে দেখি চোখ রাঙিয়ে
করে অপমান।

আমার ঘামে রোজগার করা
টাকাগুলো সব,
লোভের আগুন জ্বালিয়ে নিয়ে
করল হৃদয় রব।

রাতের পরে রাত যে কাটে
নিঃশব্দ কান্নাতে,
ঘুম হারিয়ে চেয়ে থাকি
অন্ধকারের পথে।

বুকের মাঝে চাপা ব্যথা
কারে গিয়ে কই?
মানুষ চিনি বন্ধু ভেবে
মানুষ পেলাম কই!

দুঃখগুলো পাহাড় হয়ে
চাপছে বুকের পর,
স্বার্থ ছাড়া অনেক মানুষ
চিনে না আর ঘর।

তবু আমি হাত তুলেছি
আসমানের পানে,
হে আল্লাহ তুমি ছাড়া আর
কেউ কি আছে জানে?

আমি দুর্বল, আমি অক্ষম
ভাঙা হৃদয় লয়ে,
তুমি ছাড়া কে দাঁড়াবে আর
মজলুমেরই হয়ে?

তুমি মহান, তুমি সক্ষম
তোমার বিচার সত্য,
এক নিমিষে ফিরিয়ে দিতে
পারো হারানো সম্পদ।

যে করেছে ছলনার খেলা
বন্ধুত্বের নামে,
তার অন্তরে হিদায়াত দাও
ন্যায়ের আলো থামে।

আর যদি সে জুলুম করেই
ফিরতে না চায় আর,
তোমার হাতে দিলাম নালিশ
তুমি হও বিচার।

কারণ তুমি দেখছ সবই
নীরব রাতের ক্ষত,
চোখের জলের প্রতিটি ফোঁটা
তোমার কাছে রত্ন।

হয়তো আজকে দুঃখ আমার
অসহায়ের দিন,
তবু জানি ধৈর্যধারী
হারবে না কোনোদিন।

মিথ্যার দেমাগ বেশিদিন আর
থাকবে নাকো ভাই,
অন্যায়ের সেই অট্টালিকা
একদিন ভেঙে যায়।

টাকা শুধু কাগজ নয় তো
ঘামের দামে কেনা,
একটি টাকায় জড়িয়ে থাকে
কত কষ্ট বোনা।

যার হৃদয়ে ভয় নেই মোটে
রবের বিচারের,
সে- শুধু মানুষ ঠকায়
অহংকারের ভার।

তাই বলি আজ সকল মানুষ
শুনো মনের কথা
বিশ্বাস ভাঙা আগুনসম
পোড়ায় সারাজীবন ব্যথা।

বন্ধু হয়ে ছুরি মারার
চেয়ে বড় পাপ?
হাসির আড়াল বিষ লুকানো
মানবতার শাপ।

তবু আমি ভাঙব না আর
রবের ভরসাতে,
আল্লাহ আছেনএই আশাতে
বাঁচি দিনরাতে।

হয়তো আজকে শূন্য হাতে
নিঃস্ব আমি ভাই,
তবু আমার রবের ভাণ্ডার
কখনো শূন্য নাই।

একদিন ঠিক সত্যের সূর্য
উঠবে রক্তিম ভোরে,
মজলুমের সেই চাপা কান্না
হাসি হয়ে যাবে পরে।

তাই হে আল্লাহ শক্তি দাও
সবর করার প্রাণ,
হালাল পথে বাঁচতে যেন
না হারাই ঈমান।

যে টাকা আজ হারিয়ে গেছে
তুমি ফিরিয়ে দাও,
না হয় তার চেয়েও উত্তম
রিজিক আমায় দাও।

দুনিয়ার সব দরজা যখন
বন্ধ হয়ে যায়,
রহমতের দরজা খুলে
তুমি পাশে দাঁড়াও।

এই ভরসায় বাঁচি আমি
এই ভরসায় পথ
আল্লাহ আছেন, তাই তো এখন
বেঁচে আছে রথ।

***



বিশ্বাসভাঙার আর্তনাদ

বন্ধু সেজে এলো কাছে
হাসিমাখা মুখ,
মিষ্টি কথার জালে বেঁধে
করল হৃদয় সুখ।

চায়ের আড্ডা, গল্প, হাসি
কত আপন ভাব,
কে জানিত সেই মানুষটাই
করবে শেষে দাব!

প্রয়োজনের কথা শুনে
বলল, “ভাই, দাও
কয়দিন পরে টাকাগুলো
হাসিমুখে পাও।

বিশ্বাস করে দিলাম টাকা
ভাইয়ের মতো জেনে,
ভাবিনি সে পাল্টে যাবে
স্বার্থের আগুনে।

দিন যায়, মাস যায় পরে
বাড়ে শুধু ভয়,
টাকার কথা তুললেই সে
অন্য মানুষ হয়।

আজকে দেব, “কালকে দেব”—
শুধু মিথ্যা কথা,
বৈঠকের পর বৈঠক চলে
বাড়ে বুকের ব্যথা।

চোখে তখন দেমাগ ভরা
কথায় বিষের ঢেউ,
যে মানুষটা বন্ধু ছিল
চিনতে পারি নে আর কেউ।

উল্টো আবার রাগ দেখিয়ে
করে কত অপমান,
মনে হয় যেন টাকাগুলো
চাইতে গিয়েই পাপ মহান!

আমার ঘামের প্রতিটি ফোঁটা
জড়ানো সেই টাকায়,
কষ্টগুলো আগুন হয়ে
নিঃশব্দে আমায় খায়।

রাতের পরে রাত যে কাটে
ঘুমহীন অন্ধকারে,
চোখের পানি বালিশ ভেজায়
নিঃসঙ্গ দীর্ঘশ্বাসে।

স্ত্রীর মুখে চিন্তার রেখা
সন্তানেরও চাহনি,
অভাব এসে নীরব ঘরে
ফেলে বিষণ্ন বাণী।

কখনো মনে প্রশ্ন জাগে
মানুষ এত বদল?
স্বার্থ ফুরালেই কি তবে
ভালোবাসাও অচল?

বন্ধুত্ব কি শুধু মুখের
মিষ্টি মায়ার গান?
ভেতরে শুধু হিসাব-নিকাশ
স্বার্থেরই টান?

তবু আমি হাত তুলেছি
আসমানের পানে,
কারণ আমার রব আছেন
সবকিছুই জানেন।

হে আল্লাহ! আমি দুর্বল,
আমি বড় অক্ষম,
তুমি ছাড়া কে শুনবে আর
এই হৃদয়ের ক্রন্দন?

তুমি মহান, তুমি রাজা
আরশের অধিপতি,
তোমার হুকুম ছাড়া চলে না
একটি ধূলিকণাটি।

যে টাকা আজ অন্যায়ভাবে
রয়েছে তার ঘরে,
তোমার ইশারায় ফিরতে পারে
এক নিমিষের তরে।

তুমি চাইলে পাহাড় ভেঙে
নদী হতে পারে,
মৃত হৃদয় আলো পেয়ে
ফুলের মতো ঝরে।

তুমি চাইলে জালিম হৃদয়
নরম হয়ে যায়,
অহংকারের অট্টালিকা
মাটির সাথে মিশায়।

হে দয়াময়! ফিরিয়ে দাও
আমার হকের ধন,
না হয় দাও তার চেয়েও বড়
বরকতের জীবন।

কারণ তুমি রিযিকদাতা
সকল কিছুর রব,
তোমার ভাণ্ডার অফুরন্ত
শেষ হবে না সব।

আমি জানি জুলুম করে
কেউ বাঁচে না শেষে,
অন্যায়ের আগুন একদিন
নিজ বুকেই মেশে।

আজকে যারা দেমাগ দেখায়
ক্ষমতারই জোরে,
কালকে তাদের মাথা নত
হবে কবরঘরে।

টাকার নেশা, মিথ্যা হাসি
সবই ক্ষণিক খেলা,
শেষ বিচারে সত্য মানুষ
পাবে শান্তি মেলা।

তাই হে মন, ধৈর্য ধরো
কেঁদো না নিরাশে,
আল্লাহ যখন পাশে আছেন
ভয় কিসের আসে?

মজলুমের সেই চোখের পানি
আকাশ ছুঁয়ে যায়,
রবের দরবার কাঁপিয়ে দিয়ে
ন্যায়ের ফয়সালা চায়।

একদিন ঠিক সত্যের আলো
ফুটবে ভোরের মতো,
হারানো সেই সুখের পাখি
ফিরবে নীরব ক্ষত।

হয়তো আজকে কষ্ট আমার
অন্ধকারের রাত,
তবু জানি সূর্য উঠবে
শেষ হবে আঘাত।

বন্ধু নামে ছদ্মমানুষ
যতই ছলনা করুক,
আল্লাহর সেই ন্যায়ের পাল্লা
কখনো ভুল না হোক।

এই দুনিয়া পরীক্ষার ঘর
স্থায়ী নয় কেউ,
আজকে রাজা, কালকে মাটি
এটাই সত্য ঢেউ।

তাই আমি আর ভাঙব না গো
রবের ভরসাতে,
সবর নিয়ে পথ চলিব
ইমান বুকের সাথে।

হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী
আমার নীরব ক্ষত,
তুমি ছাড়া এই দুনিয়াতে
নেই তো আপন মত।

যে বন্ধু আজ ছুরি মেরেছে
বিশ্বাসেরই বুকে,
তার হৃদয়ে হিদায়াত দাও
রাখো সত্য সুখে।

আর যদি সে ফিরতে না চায়
অহংকারের পথে,
তবে তুমি বিচার কোরো
তোমার ন্যায়ের রথে।

আমি শুধু চাই শান্তি,
হালাল রিযিক, সুখ
তোমার রহম ছায়ার নিচে
মুছে যাক সব দুঃখ।

এই দোয়া নিয়ে বাঁচি আমি
দিনের পরে দিন
আল্লাহ আছেন”—এই ভরসায়
শান্ত হয় অন্তরঋণ।

***





ছদ্মবন্ধুর ছলনা মজলুমের প্রার্থনা

বন্ধু সেজে এল যে মানুষ
হাসি ভরা মুখে,
কত আপন কথা বলত
নরম মায়ার সুখে।

চায়ের কাপে গল্প জমত
রাত পেরোনো হাসি,
কাছে বসে স্বপ্ন বুনত
ভরসা ভালোবাসি।

বলত আমায়
তুমি ভাইরে, আপন আমার প্রাণ,
তোমার মতো সত্য মানুষ
পাই না কোনো খান।

বিশ্বাস করে বুকের ভেতর
দিলাম তারে ঠাঁই,
কে জানিত সেই মানুষটাই
বিষের নাগিন ভাই!

একদিন সে কাঁদো কাঁদো
কণ্ঠ ভেঙে কয়
বড় বিপদ, একটু সাহায্য
করো যদি হয়।

মানবতার টানে তখন
দিলাম হাতে ধন,
ভাবিনি সে টাকাগুলো
করবে হরণ।

দিন গেল আর মাসও গেল
বদলে গেল রূপ,
বন্ধুত্বের মুখোশ খুলে
দেখাল বিষের ধূপ।

টাকার কথা তুললেই সে
হাসে বাঁকা ঠোঁটে,
কালকে দেব, “পরশু দেব”—
মিথ্যা কথার জোটে।

শুধু বৈঠক, শুধু আড্ডা,
শুধু আশার বাণী,
হিসাব চাইলেই চোখ রাঙায়
দেখায় দেমাগখানি।

উল্টো আবার গলার জোরে
করে কত রাগ,
মনে হয় যেন টাকা চাওয়া
অপরাধের দাগ!

যে মানুষটা মাথায় হাত
রেখে বলত ভাই,
আজকে দেখি সেই মানুষটার
চোখে মায়া নাই।

আমার ঘামের প্রতিটি ফোঁটা
মিশে ছিল যে ধনে,
সেই টাকাটা লুটে নিয়ে
হাসে আপন মনে।

কত কষ্টে জমাই টাকা
দিনের পরে দিন,
কেউ কি জানে অভাব কাকে
করেছে রঙহীন?

সন্তানের মুখ চেয়ে আমি
চাপি বুকের ব্যথা,
নীরব রাতে দীর্ঘশ্বাসে
ভেঙে পড়ে কথা।

স্ত্রীটি শুধু চেয়ে থাকে
চোখে অশ্রু ভরা,
বুঝতে পারে সংসারজুড়ে
নামছে দুঃখ-ঝড়া।

রাতের পরে রাত যে কাটে
ঘুমহীন বিষাদে,
চোখের পানি ঝরে নীরব
সিজদারই চাঁদে।

মানুষ চিনি বন্ধু ভেবে
ভুল করেছি হায়,
বাহিরে শুধু মিষ্টি হাসি
ভেতরটা বিষময়।

বন্ধুত্বের নামের আড়াল
কত ছদ্মবেশী,
সুযোগ পেলেই বিশ্বাস কেটে
হয় যে সর্বনেশী।

তবু আমি ভাঙি না গো
আশা বুকের মাঝে,
কারণ আমার রব আছেন
সকল দুঃখ সাঁজে।

হে আল্লাহ! আমি দুর্বল,
আমি বড় ক্লান্ত,
জুলুম সয়ে বুকের ভেতর
হয়েছি আজ শান্ত।

তুমি ছাড়া কে শুনবে আর
এই নীরব কান্না?
তুমি ছাড়া কে মুছাবে
বুকের পোড়া জ্বালা?

তুমি মহান, তুমি রাজা,
আরশেরই নূর,
তোমার হুকুম ছাড়া চলে
না তো ক্ষুদ্র ধূল।

তুমি চাইলে মরুভূমিতে
ফুটে ওঠে ফুল,
তুমি চাইলে কঠিন পাথর
হয়ে যায় আকুল।

তুমি চাইলে হারানো ধন
ফিরে আসে ঘরে,
তুমি চাইলে দুঃখভরা
জীবন হাসি ঝরে।

হে দয়াময়! ফিরিয়ে দাও
আমার হকের ধন,
না হয় দাও তার বদলে
বরকতের জীবন।

যে নিয়েছে অন্যায় করে
আমার চোখের জল,
তার হৃদয়ে হিদায়াত দাও
ভাঙুক মিথ্যার দল।

আর যদি সে দেমাগ নিয়ে
ফিরতে না চায় আর,
তোমার আদালতে দিলাম
সব অভিযোগ ভার।

কারণ তুমি ন্যায়ের মালিক
অসীম ক্ষমতাধর,
মজলুমের সেই দীর্ঘশ্বাস
পৌঁছে যায় তোমার ঘর।

আজকে যারা টাকার নেশায়
অহংকারে মাতে,
কালকে তারা নিঃস্ব হবে
মাটির অন্ধ রাতে।

দুনিয়ার এই ক্ষমতাগুলো
ক্ষণিক মরীচিকা,
কবর হলে থেমে যাবে
দেমাগেরই দাপিকা।

বন্ধু হয়ে বিশ্বাস ভাঙা
বড় কঠিন পাপ,
এই আগুনে জ্বলে শেষে
নিজের জীবন চাপ।

তবু আমি বদদোয়া নয়
হিদায়াতই চাই,
মানুষ যেন মানুষ হয়ে
ফিরে আসে ভাই।

কারণ আমি জানি প্রভু
সবরকারীর সাথি,
ধৈর্যের ফল একদিন ঠিক
হবে সুখের বাতি।

আজকে আমার শূন্য পকেট
ভাঙা বুকের গান,
তবু আমার রবের কাছে
অশেষ সম্ভাবন।

তিনি চাইলে রাতের পরে
আসবে নতুন ভোর,
হারানো সুখ ফিরে পাবে
অশ্রুভেজা ঘর।

তাই হে মন, ভেঙে পড়িস
না তুই দুঃখ পেয়ে,
আল্লাহ আছেন আকাশজুড়ে
রহমতেরই নেয়ে।

এই পৃথিবী ক্ষণিক সফর
স্থায়ী নাহি কেউ,
আজকে হাসি, কালকে কাঁদি
এই তো জীবনের ঢেউ।

যে করেছে জুলুম আজ
ভুলে গেছে ভয়,
রবের ন্যায়ের সামনে গিয়ে
রক্ষা কোথায় হয়?

একদিন ঠিক হিসাব হবে
ফুটবে সত্য আলো,
মজলুমের এই কান্নাগুলো
হবে শান্ত ভালো।

তাই আমি আজ হাত তুলেছি
রবের দরবারে
হে আল্লাহ! তুমি আছো,
হারাইনি এখনো হারে।

যে টাকা আজ হারিয়ে গেছে
তুমি ফিরিয়ে দাও,
না হয় তার চেয়েও উত্তম
রিযিক আমার চাও।

সবর দিয়ে বাঁচতে শেখাও
হালাল পথে রব,
দুনিয়া ছেড়ে যেন যাই
নিয়ে পবিত্র সব।

এই দোয়া আর এই ভরসায়
বাঁচে মনের প্রাণ
আল্লাহ আছেন, তাই তো এখন
বেঁচে আছে ঈমান।

***





বছরের পর বছর বৈঠক

মজলুম হৃদয়ের রক্তঝরা

বন্ধু সেজে এসেছিল সে
হাসিমাখা মুখ,
কথার ফুলে ভরিয়ে দিত
অন্তরেরই সুখ।

একসাথে কত স্বপ্ন বোনা,
কত গল্প-রাত,
বিশ্বাস যেন পাহাড়সম
ছিল অবিরত।

বলত আমায়
তুমি ছাড়া আপন কেহ
এই দুনিয়ায় নাই,”
আমি তখন বুক খুলে দেই
সরল বিশ্বাসে ভাই।

একদিন সে বিপদ বলে
চোখের পানি ফেলে,
কাঁপা গলায় সাহায্য চায়
মিথ্যা আবেগ মেলে।

মানবতার টানে তখন
দিলাম হাতে ধন,
ভাবিনি সে সেই টাকাতে
করবে প্রতারণ।

দিন গেল আর মাসও গেল,
পেরিয়ে গেল সাল,
টাকা চাইলেই বৈঠক শুধু
অজুহাতের জাল।

আজকে হবে, “কালকে হবে
শুধু মিথ্যা বাণী,
বছরজুড়ে শুনতে শুনতে
পুড়ল প্রাণখানি।

চায়ের দোকান, আড্ডাখানা,
মিষ্টি কথার ঢেউ,
হিসাব চাইলেই চোখ রাঙিয়ে
চেনা লাগে নে আর কেউ।

উল্টো আবার দাপট দেখায়
দেমাগ ভরা সুর,
মনে হয় যেন টাকা চাওয়া
হয়ে গেছে বড় গুনাহর নূর!

যে মানুষটা ভাই বলিত
কাঁধে রাখত হাত,
আজকে দেখি সেই মানুষটার
চোখে অহংকারের রাত।

আমার ঘামের প্রতিটি ফোঁটা
মিশে ছিল যে ধনে,
সেই টাকাটা লুটে নিয়ে
হাসে আপন মনে।

কত কষ্টে জমাই টাকা
রোদে পুড়ে ভাই,
অভাব কাকে পোড়ায় ভেতর
সে কি সবাই জানে হায়?

সন্তানের মুখের হাসি
চেয়ে থাকি চুপ,
ভাঙা ঘরে দুঃখ নামে
নিঃশব্দ কালো রূপ।

স্ত্রীর চোখে প্রশ্ন জাগে
কবে ফিরবে ধন?”
আমি শুধু দীর্ঘশ্বাসে
লুকাই ক্রন্দন।

রাতের পরে রাত যে কাটে
নিঃসঙ্গ অন্ধকারে,
ঘুম হারিয়ে বসে থাকি
চোখের জলের ধারে।

কখনো মনে প্রশ্ন জাগে
মানুষ এত বদল!
স্বার্থ শেষেই ভালোবাসা
হয়ে যায় কি অচল?

বন্ধুত্ব কি শুধু তবে
অভিনয়ের নাম?
মুখে মধু, অন্তরে বিষ
কেমন অবিরাম!

মানুষ চিনি বন্ধু ভেবে
করেছি যে ভুল,
সাপকে বুকে পুষে রাখার
মতো হয়েছে কূল।

তবু আমি ভেঙে পড়ি না
আশা বুকের মাঝে,
কারণ আমার রব আছেন
সকল দুঃখ সাঁজে।

হে আল্লাহ! আমি দুর্বল,
আমি বড় অক্ষম,
তুমি ছাড়া কে শুনবে আর
হৃদয়ের এই ক্রন্দন?

তুমি মহান, তুমি রাজা,
আরশ তোমার নূর,
তোমার ইশারা ছাড়া চলে
না তো ক্ষুদ্র ধূল।

তুমি চাইলে শুকনো ডালে
ফুটে ওঠে ফুল,
তুমি চাইলে কঠিন পাথর
হয়ে যায় ব্যাকুল।

তুমি চাইলে হারানো ধন
ফিরে আসে ঘরে,
তুমি চাইলে দুঃখভরা
জীবন হাসি ঝরে।

হে দয়াময়! ফিরিয়ে দাও
আমার হকের ধন,
না হয় দাও তার চেয়েও বড়
বরকতের জীবন।

যে নিয়েছে অন্যায় করে
আমার চোখের জল,
তার অন্তরে ভয় দাও প্রভু
ভাঙুক মিথ্যার দল।

আর যদি সে অহংকারে
ফিরতে না চায় আর,
তোমার হাতে দিলাম নালিশ
তুমি হও বিচার।

কারণ তুমি ন্যায়ের মালিক
অসীম ক্ষমতাধর,
মজলুমের দীর্ঘশ্বাস
পৌঁছে যায় তোমার ঘর।

আজকে যারা দেমাগ নিয়ে
মানুষ ঠকায় হেসে,
কালকে তারা নিঃস্ব হবে
নিজের আগুনে পুড়ে শেষে।

দুনিয়ার এই অর্থ-ক্ষমতা
ক্ষণিক মরীচিকা,
কবর হলে থেমে যাবে
দেমাগেরই দাপিকা।

বন্ধু হয়ে বিশ্বাস ভাঙা
বড় কঠিন পাপ,
এই আগুনে জ্বলে শেষে
নিজের জীবন চাপ।

তবু আমি বদদোয়া নয়
হিদায়াতই চাই,
মানুষ যেন মানুষ হয়ে
ফিরে আসে ভাই।

কারণ আমি জানি প্রভু
সবরকারীর সাথি,
ধৈর্যের ফল একদিন ঠিক
হবে সুখের বাতি।

আজকে আমার শূন্য পকেট
ভাঙা বুকের গান,
তবু আমার রবের কাছে
অশেষ সম্ভাবন।

তিনি চাইলে রাতের পরে
আসবে নতুন ভোর,
হারানো সুখ ফিরে পাবে
অশ্রুভেজা ঘর।

তাই হে মন, ভেঙে পড়িস
না তুই দুঃখ পেয়ে,
আল্লাহ আছেন আকাশজুড়ে
রহমতেরই নেয়ে।

একদিন ঠিক সত্যের সূর্য
উঠবে রাঙা ভোরে,
মজলুমের সব কান্নাগুলো
হাসি হবে পরে।

যে টাকা আজ হারিয়ে গেছে
তুমি ফিরিয়ে দাও,
না হয় তার চেয়েও উত্তম
রিযিক আমায় দাও।

সবর দিয়ে বাঁচতে শেখাও
হালাল পথের রব,
দুনিয়া ছেড়ে যেন যাই
নিয়ে পবিত্র সব।

এই দোয়া আর এই ভরসায়
বেঁচে থাকে প্রাণ
আল্লাহ আছেন”—এই আশাতেই
জাগে নতুন গান।

***

বৈঠকের পর বৈঠক

প্রতারণার অন্ধকারে মজলুম হৃদয়ের আর্তনাদ

বন্ধু সেজে এল যে মানুষ
চোখে মায়ার ঢেউ,
মিষ্টি কথার ছায়া মেখে
করল আপন কেউ।

হাসিমুখে কাঁধে হাত রেখে
বলত দিনের পর
তুমি ছাড়া সত্য বন্ধু
পাইনি জীবনভর।

চায়ের কাপে গল্প হতো
স্বপ্নভরা রাত,
বিশ্বাস যেন নদীর জলের
অবিরামই মাত।

একদিন সে কষ্টভরা
কণ্ঠে বলল ধীরে
ভাইরে আমার বড় বিপদ,
দাঁড়াও পাশে নীরে।

মানবতার টানে তখন
দিলাম সঞ্চয় ধন,
ভাবিনি সে সেই টাকাতে
করবে প্রতারণ।

দিন পেরিয়ে মাসও গেল
শেষে গেল সাল,
টাকা চাইলেই বৈঠক শুধু
অজুহাতের জাল।

আজকে দেব, “কালকে দেব”—
মিথ্যা আশার বাণী,
বছরজুড়ে শুনতে শুনতে
পুড়ল প্রাণখানি।

টাকার কথা তুললেই সে
হাসে বাঁকা ঠোঁটে,
উল্টো আবার দেমাগ দেখায়
বিষ মেশানো রোষে।

যে মানুষটা ভাই বলিত
ভালোবাসার সুরে,
আজকে দেখি চোখ রাঙিয়ে
অহংকারে ঘুরে।

শুধু বৈঠক, শুধু আড্ডা,
শুধু কথার ফুল,
হিসাব চাইলেই মনে হয়
করেছি ভীষণ ভুল।

আমার ঘামের প্রতিটি ফোঁটা
মিশে ছিল যে ধনে,
সেই টাকাটা লুটে নিয়ে
হাসে আপন মনে।

কত রোদে পুড়ে আমি
জমাই টাকার দান,
অভাব কাকে পোড়ায় ভেতর
বুঝে না অবিবেক প্রাণ।

সন্তানের মুখ চেয়ে আমি
চাপি বুকের ব্যথা,
স্ত্রীর চোখে নীরব প্রশ্ন
ভেঙে দেয় সব কথা।

রাতের পরে রাত যে কাটে
ঘুমহীন অশ্রুতে,
নিঃশব্দে মন কেঁদে ওঠে
অসহায়ের সুরেতে।

কখনো মনে প্রশ্ন জাগে
মানুষ এত বদল?
স্বার্থ ফুরালেই কি তবে
ভালোবাসা অচল?

বন্ধুত্ব কি মুখের বুলি?
অভিনয়ের রঙ?
ভেতরে শুধু হিসাব-নিকাশ
স্বার্থেরই ঢঙ!

মানুষ চিনি বন্ধু ভেবে
করেছি কত ভুল,
বুকের মাঝে সাপ পুষেছি
ফুল ভেবে আকুল।

তবু আমি ভাঙি না গো
রবের ভরসাতে,
কারণ আমার আল্লাহ আছেন
নীরব কান্নাতে।

হে আল্লাহ! আমি দুর্বল,
আমি বড় অক্ষম,
তুমি ছাড়া কে শুনবে আর
হৃদয়ের এই ক্রন্দন?

তুমি মহান, তুমি রাজা,
আরশ তোমার নূর,
তোমার হুকুম ছাড়া চলে
না তো ক্ষুদ্র ধূল।

তুমি চাইলে শুকনো ডালে
ফুটে ওঠে ফুল,
তুমি চাইলে পাষাণ হৃদয়
হয়ে যায় ব্যাকুল।

তুমি চাইলে হারানো ধন
ফিরে আসে ঘরে,
তুমি চাইলে দুঃখভরা
জীবন হাসি ঝরে।

হে দয়াময়! ফিরিয়ে দাও
আমার হকের ধন,
না হয় দাও তার চেয়েও বড়
বরকতের জীবন।

যে নিয়েছে অন্যায় করে
আমার চোখের জল,
তার অন্তরে ভয় দাও প্রভু
ভাঙুক মিথ্যার দল।

আর যদি সে অহংকারে
ফিরতে না চায় আর,
তোমার হাতে দিলাম নালিশ
তুমি হও বিচার।

কারণ তুমি ন্যায়ের মালিক
অসীম ক্ষমতাধর,
মজলুমের দীর্ঘশ্বাস
পৌঁছে যায় তোমার ঘর।

আজকে যারা দেমাগ নিয়ে
মানুষ ঠকায় হেসে,
কালকে তারা নিঃস্ব হবে
নিজের আগুনে পুড়ে শেষে।

দুনিয়ার এই অর্থ-ক্ষমতা
ক্ষণিক মরীচিকা,
কবর হলে থেমে যাবে
দেমাগেরই দাপিকা।

বন্ধু হয়ে বিশ্বাস ভাঙা
বড় কঠিন পাপ,
এই আগুনে জ্বলে শেষে
নিজের জীবন চাপ।

তবু আমি বদদোয়া নয়
হিদায়াতই চাই,
মানুষ যেন মানুষ হয়ে
ফিরে আসে ভাই।

কারণ আমি জানি প্রভু
সবরকারীর সাথি,
ধৈর্যের ফল একদিন ঠিক
হবে সুখের বাতি।

আজকে আমার শূন্য পকেট
ভাঙা বুকের গান,
তবু আমার রবের কাছে
অশেষ সম্ভাবন।

তিনি চাইলে রাতের পরে
আসবে নতুন ভোর,
হারানো সুখ ফিরে পাবে
অশ্রুভেজা ঘর।

তাই হে মন, ভেঙে পড়িস
না তুই দুঃখ পেয়ে,
আল্লাহ আছেন আকাশজুড়ে
রহমতেরই নেয়ে।

একদিন ঠিক সত্যের সূর্য
উঠবে রাঙা ভোরে,
মজলুমের সব কান্নাগুলো
হাসি হবে পরে।

যে টাকা আজ হারিয়ে গেছে
তুমি ফিরিয়ে দাও,
না হয় তার চেয়েও উত্তম
রিযিক আমায় দাও।

সবর দিয়ে বাঁচতে শেখাও
হালাল পথের রব,
দুনিয়া ছেড়ে যেন যাই
নিয়ে পবিত্র সব।

এই দোয়া আর এই ভরসায়
বেঁচে থাকে প্রাণ
আল্লাহ আছেন”—এই আশাতেই
জাগে নতুন গান।


মন্তব্য করুন

ব্লগ