Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ মে, ২০২৬ ০২:৩৬ অপরাহ্ণ

কাঁচা আম খাওয়ার সঠিক সময়

কাঁচা আম শুধু লবণ দিয়ে খেতেও লাগে বেশ। শুধু স্বাদে নয় গুণেও ভরপুর কাঁচা আম, যা সবুজ আম নামেও পরিচিত।

কাঁচা আমে রয়েছে প্রাকৃতিক শীতলীকরণ বৈশিষ্ট্য যা ‘হিটস্ট্রোক’ বা তাপ সম্পর্কিত যে কোনো অবস্থা থেকে রক্ষা করতে পারে। শরীরকে শীতল ও সতেজ বোধ করায়।

প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে কাঁচা আম খাওয়া বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ, হজমে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

গরমের সময় শরীর ঠাণ্ডা রাখতে ও পানিশূন্যতা রোধে কাজ করে কাঁচা আম। যারা ওজন কমাতে চাচ্ছেন তারাও খাদ্যতালিকায় এই আম রাখতে পারেন। কারণ এতে রয়েছে কম ক্যালরি ও পর্যাপ্ত ফাইবার বা আঁশ যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে এবং অতিরিক্ত খাওয়া প্রতিরোধ করে।

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কাঁচা আম উপকারী। প্রচুর পরিমাণে ফোলেইট থাকে, ১০০ গ্রামে ৪৩ মাইক্রোগ্রাম। যা গর্ভাবস্থায় ‘নিউরাল টিউব (এনটিডি)’ ক্রটি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

এছাড়া কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে ‘ভিটামিন এ’ রয়েছে যা চুল ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি, ১০০ গ্রামে ৩৬.৪ গ্রাম। এই ভিটামিন ঠাণ্ডা লাগা, কাশির মতো বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

কাঁচা আমে থাকা ভিটামিন বি-থ্রি, নায়াসিন- হৃদরোগের ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। আরও রয়েছে পটাসিয়াম যা প্রচণ্ডা গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে পারে।

এছাড়া গরমে অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে সোডিয়াম, ক্লোরাইড এবং লৌহ বের হয়ে যায়। এসময় কাঁচা আমের শরবত খেলে এই ঘাটতি দূর হয়।

কাঁচা আম শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে লিভার মানে যকৃতের কার্যকারিতা উন্নত করে।

পাকা আমের তুলনায় এর গ্লাইসেমিক সূচক কম। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।

কাঁচা আমের পেস্ট ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক হয় মসৃণ ও উজ্জ্বল।


১০০ গ্রাম পরিমাণ কাঁচা আম থেকে মিলবে


শক্তি: ৬০ কিলোক্যালরি


কার্বোহাইড্রেইট: ১৪.৯৮গ্রাম


প্রোটিন: ০.৮২ গ্রাম


চর্বি: ০.৩৮ গ্রাম


আঁশ: ১.৬গ্রাম


ভিটামিন সি: ৩৬.৪গ্রাম


ভিটামিন ই: ১.১২ মিলিগ্রাম


ভিটামিন এ: ১০৮২ আইইউ


পটাসিয়াম: ১৬৮ মিলিগ্রাম


ম্যাগনেসিয়াম: ১০ মিলিগ্রাম


ক্যালসিয়াম: ১১ মিলিগ্রাম


লোহা বা আয়রন: ১৬০ মাইক্রোগ্রাম


ফসফরাস: ১৪ মিলিগ্রাম


সোডিয়াম: ১ মিলিগ্রাম


ভিটামিন বি৩: ৬৬৯ মাইক্রেগ্রাম


ভিটামিন বি৬: ১১৯ মাইক্রোগ্রাম


ফোলেইট: ৪৩ মিলিগ্রাম


ভিটামিন কে: ৪.২ মিলিগ্রাম

কাঁচা আম যেভাবে খাওয়া উপকারী

কাঁচা আমের টুকরা সালাদ, চাটনি বা ঝুরি ঝুরি করে খাওয়া যায়।

এছাড়া স্বাদের জন্য আমের ওপর লবণ এবং মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

টক স্বাদের জন্য আমের টুকরোগুলোর ওপর কিছু লেবুর রস দিতে পারেন। এছাড়া কাঁচা আমের শরবতও দারুণ।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আম ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে। না হলে কীটনাশকের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি থাকে।

কাঁচা আম নাড়াচাড়া এবং কাটার ফলে কিছু লোকের ত্বকে জ্বালা হতে পারে যা ‘কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস’ হিসেবে পরিচিত। এতে মুখ ও ঠোঁটের চারপাশে ত্বক ফুলে যেতে পারে।

কাঁচা আমে টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড এবং সিট্রিক অ্যাসিডের কিছু অংশ থাকে। যে কারণে গলাজ্বলা করতে পারে। কিছু লোকের বদহজম হয়, বিশেষ করে যারা কাঁচা আম বেশি খেলে।

কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে। এজন্য কাঁচা আম খাওয়ার পরে খেয়াল করতে হবে শরীরে কোনও প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি-না।

কাঁচা আমে উচ্চ পরিমাণে অ্যাসিড থাকায় দাঁতে ক্ষয়, দাঁতের এনামেল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

যাদের ‘আইবিএস’ বা পাকস্থলীর সমস্যা আছে তারা প্রচুর পরিমাণে কাঁচা আম খেলে পেট ফাঁপা বা পরিপাকতন্ত্রে নানান সমস্যা হতে পারে। কারণ এতে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে আঁশ।

কাঁচা আম খাওয়ার পরপরই পানি পান করা যাবে না।

যাদের অ্যাসিডি সংক্রান্ত সমস্যা আছে তাদের পরিমিত খাওয়া উচিত।

কাঁচা আম খাওয়ার পরিমাণ

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দৈনিক এক থেকে দুপ কাপ কাঁচা আম খেতে পারেন, যা ১৫০ থেকে ৩৩০ গ্রাম হয়।

তবে শারীরিক অবস্থা ভেদে খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে ও কমাতে হতে পারে।

কাঁচা আম খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়

হজমশক্তি ভালো থাকতে ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে দিনের বেলায় কাঁচা আম খাওয়া ভালো। কারণ কাঁচা আম একটি অ্যাসিডিক ফল যা কিছু লোকের ক্ষেত্রে রাতে খেলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন- বদহজম, ডায়রিয়া ইত্যাদি।

মন্তব্য করুন

ব্লগ