একজন সহকারী শিক্ষক এর গল্প :
একটি শান্ত গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষক এস এম তারিকুল ইসলাম প্রিন্স। তিনি শুধু একজন শিক্ষকই নন, শিক্ষার্থীদের প্রিয় অভিভাবক এবং সহকর্মীদের অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর বিশ্বাস ছিল— একটি বিদ্যালয়ের প্রকৃত উন্নয়ন হয় ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে।
প্রতিদিন সকালবেলা বিদ্যালয়ে সবার আগে উপস্থিত হন। বিদ্যালয়ের মাঠ পরিষ্কার আছে কিনা, ফুলের গাছগুলো ঠিক আছে কিনা, শিক্ষার্থীরা সময়মতো এসেছে কিনা—সবকিছু নিজে খেয়াল রাখেন। শিশুদের হাসিমুখ দেখলেই যেন তাঁর দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
একদিন বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়তে শুরু করল। অনেক শিক্ষক ভাবলেন, তারা হয়তো আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু প্রিন্স স্যার বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে বসে গল্প করলেন, তাদের সমস্যার কথা শুনলেন। জানতে পারলেন, অনেকেই পারিবারিক সমস্যার কারণে ঠিকমতো পড়তে পারছে না।
এরপর তিনি বিদ্যালয়ে “আনন্দময় পাঠদান” কার্যক্রম শুরু করলেন। গান, গল্প, কবিতা ও খেলাধুলার মাধ্যমে পাঠদান শুরু হলো। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীরা আবার বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠল। যেসব শিশু একসময় ক্লাসে চুপচাপ বসে থাকত, তারাই এখন হাত তুলে উত্তর দিতে শুরু করল।
শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, সহকর্মীদের প্রতিও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ। কোনো শিক্ষক সমস্যায় পড়লে তিনি পাশে দাঁড়াতেন। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কিংবা সাংস্কৃতিক আয়োজনে তিনি নেতৃত্ব দেন অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে।
এক বর্ষার দিনে বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে ডুবে যায়। অনেকেই ভাবলেন, হয়তো বিদ্যালয় কয়েকদিন বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু প্রিন্স স্যার শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের নিয়ে নিজেই মাঠ পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়লেন। তাঁর এই কাজ দেখে গ্রামের মানুষও এগিয়ে এলো। অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয়ের পরিবেশ আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একদিন বলেছিলেন,
“একজন সহকারী শিক্ষক হয়েও প্রিন্স স্যার যেভাবে বিদ্যালয়কে নিজের পরিবারের মতো ভালোবাসেন, সেটাই প্রকৃত নেতৃত্বের উদাহরণ।”
সময়ের সাথে সাথে বিদ্যালয়ের ফলাফল ভালো হতে লাগল। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়ে গেল এবং অভিভাবকদের আস্থা আরও দৃঢ় হলো। সবাই বুঝতে পারল, নেতৃত্ব শুধু পদবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নেতৃত্ব থাকে মানুষের কাজ, সততা ও মানবিকতায়।
আজও সকল শিক্ষার্থীরা ভালোবাসার সাথে স্মরণ করে এস এম তারিকুল ইসলাম প্রিন্স-কে। কারণ তিনি শিখিয়েছেন— একজন শিক্ষক চাইলে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে একটি বিদ্যালয়, এমনকি একটি সমাজও বদলে দিতে পারেন।
৪
৪ মন্তব্য