Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ মে, ২০২৬ ০৬:০২ পূর্বাহ্ণ

হযরত ওমর (রাঃ) এর খেলাফত কাল কেমন ছিল
হযরত ওমর (রাঃ)-এর খেলাফতকাল (৬৩৪-৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ) ইসলামের ইতিহাসে সুশাসন, ন্যায়বিচার, ব্যাপক সাম্রাজ্য বিস্তার এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এক সোনালী অধ্যায়। তিনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং তার ১০ বছর ৬ মাসের শাসনামলে ইসলামী রাষ্ট্র এক বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছিল। 
Wikipedia +3
ওমর (রাঃ)-এর খেলাফতকালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সুবিচার ও ন্যায়পরায়ণতা (আল-ফারুক):
  • ওমর (রাঃ) ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্যকারী হিসেবে 'ফারুক' উপাধিতে ভূষিত ছিলেন।
  • তার শাসনামলে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে শাসকরাও আইনের ঊর্ধ্বে ছিলেন না।
  • তিনি নিজে রাতের আঁধারে ছদ্মবেশে ঘুরে প্রজাদের অভাব-অভিযোগ দেখতেন। 
    arjicc +2
২. ব্যাপক সাম্রাজ্য বিস্তার:
  • তার সময়েই পারস্য (সাসানীয় সাম্রাজ্য) এবং বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ মুসলিমদের অধীনে আসে।
  • জেরুজালেম, সিরিয়া, মিশর, ফিলিস্তিন, ইরাক এবং পারস্যের বিশাল এলাকা ইসলামী খেলাফতের অন্তর্ভুক্ত হয়। 
৩. কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা:
  • তিনি সর্বপ্রথম 'আমিরুল মুমিনীন' উপাধি গ্রহণ করেন।
  • বায়তুল মাল (রাষ্ট্রীয় কোষাগার): তিনি বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা করেন, যার মাধ্যমে যাকাত, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ এবং করের টাকা সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করা হতো।
  • জনকল্যাণ: বৃদ্ধ, অনাথ এবং দরিদ্রদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেন। 
    Al-Furqaan Foundation +1
৪. প্রশাসনিক সংস্কার:
  • তিনি বিশাল সাম্রাজ্যকে বিভিন্ন প্রদেশে ভাগ করেন এবং দক্ষ ওয়ালী (গভর্নর) ও বিচারক (কাজী) নিয়োগ করেন।
  • ভূমি জরিপ এবং খাজনা আদায়ের সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন প্রবর্তন করেন।
  • হিজরি সন: ওমর (রাঃ)-এর আমলেই ইসলামের দ্বিতীয় বর্ষ অর্থাৎ হিজরি সনের প্রবর্তন করা হয়।
  • সামরিক বাহিনীর জন্য আলাদা নিবন্ধন বা 'দিওয়ান' প্রবর্তন করেন। 
    Al-Furqaan Foundation +1
৫. সরল জীবনযাপন:
  • বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর শাসক হয়েও তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তার কাপড়ে তালি থাকত এবং তিনি মাটির ঘরে ঘুমাতেন। 
    arjicc
৬. পরামর্শভিত্তিক শাসন (মজলিসে শূরা):
  • প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি মজলিসে শূরার সদস্যদের (যেমন: উসমান, আলী, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)) সাথে পরামর্শ করতেন। 
মৃত্যু:
২৩ হিজরীর ২৬শে জিলহজ্জ ফজরের নামাযে ইমামতি করার সময় আবু লুলুয়া নামক এক ব্যক্তির বিষাক্ত ছুরিকাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে শাহাদাত বরণ করেন। 
Wikipedia +1
সংক্ষেপে, হযরত ওমরের (রাঃ) শাসনকাল ছিল ন্যায়বিচার, কঠোর শৃঙ্খলা এবং প্রজাকল্যাণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা ইতিহাসে "ওমরের ন্যায়বিচার" হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
মন্তব্য করুন

ব্লগ