প্রভাষক
০৮ মে, ২০২৬ ০৯:৫১ অপরাহ্ণ
বিশ্বসাহিত্যে এক জ্যোতির্ময় প্রানপুরুষ"রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "
আজ ২৫ শে বৈশাখ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শুভ জন্মদিন।
ঋজু শালপ্রাংশু দেহের অধিকারী
পাক-ভারত উপমহাদেশের যে নন্দিত মহা মনীষী নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রূপে আজো বিশ্বের সারস্বত সমাজে চির উজ্জ্বল তারকা রূপে দেদীপ্যমান -তিনি বাংলা সাহিত্য ও শিল্পাঙ্গনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জ্ঞানের বিচিত্র পথে তাঁর পদচারণা এক মহাবিস্ময়ের বিষয়। রবীন্দ্রনাথ যেন ভারত আত্নার মূর্ত প্রতীক।বৈদিক ঋষির ন্যায় ছিল তাঁর প্রজ্ঞা।বাল্মিকী -বেদব্যাস-কালিদাসের ন্যায় ছিল তাঁর কবি হৃদয়। আর ছিল গ্যায়েটে-তলস্তয়ের ন্যায় তাঁর সুগভীর সমাজ চেতনা।রবীন্দ্রনাথের ভাবের অঙ্গন অতলান্ত গভীর। মানুষের চিরন্তন সুখ-দুঃখ, মিলন-বিরহ,আনন্দ -বেদনার সাথে তাঁর কবিতা ও গান যেন একাকার হয়ে মিশে আছে। তাই বলা যায়, আমরা রবীন্দ্রনাথের ভাব তরঙ্গে অবগাহন করি,তাঁর চিন্তাধারায় চিন্তা করি।তাঁর সুরে গান গাই।তাঁর ভাষায় কথা বলি।আমরা রবীন্দ্রনাথে মরি ও বাঁচি। তাই সত্যেন্দ্রনাথের ভাষায়, "যে ভাবই ওঠে প্রাণের মাঝে তোমার গানে সকলই আছে"।
রবীন্দ্রনাথ প্রথাগত শিক্ষার বাইরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে শিক্ষার প্রসারে শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি শুধু মাত্র একজন সাহিত্যকই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন আধুনিক বাঙালি মনন ও সংস্কৃতির নির্মাতা। সাহিত্য, দর্শন, সঙ্গীত, ভ্রমনবিলাস, প্রবন্ধ,উপন্যাস ও নাটক সহ বিচিত্র শাখায় বিচরণ ছিল।আমাদের জগৎ সংসারের ছোট -খাটো বিরহ-মিলন সুখ-দুঃখের ঘটনাগুলো বাস্তবতার সাথে কল্পনার ছায়া দিয়ে পাঠকের মনে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
রবীন্দ্রনাথের নারী চিন্তা ছিল অত্যন্ত প্রগতিশীল,মানবিক ও সময়োপযোগী। "স্ত্রীর পত্র" গল্পে মৃণাল চরিত্রটির মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন নারী কেবল "মেজো বউ" বা সংসারের সেবিকা নয়;তার নিজস্ব সত্তা ও মতামত আছে। নারীর প্রথাগত রূপের প্রশংসা করার পাশাপাশি তাদের বুদ্ধি ও প্রতিভার বিকাশকে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। "চোখের বালি " উপন্যাসের বিনোদিনী চরিত্রের মাধ্যমে তিনি নারীর তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও বুদ্ধিমত্তাকে তুলে ধরেছেন। রবীন্দ্রনাথের মতে নারীর শিক্ষা ও মনের স্বাধীনতা পুরুষদের মতোই জরুরি। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্ট নারী শুধু মমতাময়ী, কোমলমতি, স্নেহশীল কিংবা প্রেমিকা নয় বরং অনেক সময়েই সেই সব নারী চরিত্র নীতির প্রশ্নে আপোষহীন।
যতটুকু জানা যায়, তিনি মোট বারো বার বিশ্ব ভ্রমন করেন। ১৯১৬-১৯১৭ সালে জাপান ও মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে সফর করেন এবং সেখানে সাম্রাজ্যবাদ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কতগুলো বক্তৃতা দেন।এই বক্তৃতাগুলি সংকলিত হয় তাঁর "ন্যাশনালিজম"( ১৯১৭) গ্রন্থে।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় রবীন্দ্রনাথ সক্রিয়ভাবে ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করেন।তিনি" রাখি বন্ধন" উৎসবের মাধ্যমে হিন্দু -মুসলিম ঐক্যের ডাক দেন এবং আমার সোনার বাংলা গানটি রচনা করেন।
১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে ব্রিটিশ বাহিনীর নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে তিনি ব্রিটিশ সরকারকে তীব্র ধিক্কার জানান। লর্ড চেমসফোর্ডকে লেখা চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ এই ঘটনাকে "মানব জীবনের নির্বিচার বলিদান " বলে নিন্দা করেন। রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বাধীনতার চেয়ে শিক্ষা ও আত্মনির্ভরশীলতার মাধ্যমে দেশ গঠন করা বেশি প্রয়োজন। তাঁর সৃষ্ট সাহিত্য ও চিন্তা নিয়ে বলতে দ্বিধা নেই যে, রবীন্দ্রনাথ সকল দেশের, সকল কালের, সকল মানুষের জীবনের তীর্থভূমি।
৪
৪ মন্তব্য