Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ মে, ২০২৬ ০৯:৩০ অপরাহ্ণ

ধৈর্য্যের পরীক্ষা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা!

ধৈর্য্যের পরীক্ষা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা! 

পৃথিবীর সবচেয়ে সহ্যশীল ও ধৈর্য্যের পেশাগুলোর একটি নিঃসন্দেহে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা।

শিক্ষার প্রথম হাতেখড়ি শুরু হয় প্রাক-প্রাথমিকের ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের দিয়ে। বয়স মাত্র ৪+! কেউ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে হাসে, কেউ হঠাৎ দৌড়ে চলে যায় এদিক-ওদিক, কেউ আবার এক মুহূর্তে এটা ধরে তো পরক্ষণেই ওটা! যেন ছোট ছোট রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি—এক সেকেন্ডও স্থির নেই।

এই দুরন্ত, চঞ্চল, নিষ্পাপ শিশুদের নিয়েই শুরু হয় শিক্ষার প্রথম যাত্রা। আর সেই যাত্রার প্রথম পথপ্রদর্শক হচ্ছেন প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষক। তাই এই পৃথিবীর সবচেয়ে ধৈর্যশীল মানুষদের একজন তারা।

অনেকে ভাবেন, “আরে, ছোট বাচ্চাদের আবার পড়ানো কী!”

কিন্তু সত্যি বলতে, পড়ানো নয়—একবেলা শুধু সামলে রাখার সাহস থাকলেই বোঝা যাবে এই কাজ কতটা কঠিন!

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন যেন নালিশের এক আলাদা জগৎ।

রহিমার নালিশ, তারপর শ্রেয়ার অভিযোগ, এরপর রিফাতের কান্না—“স্যার, ও আমাকে ধাক্কা দিয়েছে!”

ঘণ্টা বাজার আগ পর্যন্ত চলতেই থাকে এই ছোট ছোট অভিযোগ, অভিমান আর কান্না। মনে হয়, একদিন হয়তো স্কুলে “নালিশ বোর্ড” বসাতে হবে!

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রতিটি শিক্ষার্থীর পারিবারিক ও মানসিক পরিবেশ আলাদা। কেউ আদরে বড় হয়েছে, কেউ অবহেলায়; কেউ সাহসী, কেউ ভীতু। তাই শুধু বইয়ের নীতিকথা দিয়ে তাদের গড়ে তোলা যায় না। দরকার অসীম ধৈর্য, মমতা, ভালোবাসা আর মানবিকতা।

অন্যান্য পেশায় এক বছরে যত মানসিক পরিশ্রম হয়, অনেক সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে তা এক সপ্তাহেই সামলাতে হয়। তবুও দিনের শেষে এই ছোট ছোট কোমলমতি শিশুর হাসিই সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।

সাহস থাকলে একদিন চলে আসুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই প্রাণচঞ্চল পৃথিবীতে।

তখন বুঝবেন—শিশুদের মানুষ করার এই সংগ্রাম শুধু একটি চাকরি নয়, এটি ভালোবাসা, ধৈর্য আর আত্মত্যাগের এক মহৎ দায়িত্ব।

মন্তব্য করুন

ব্লগ