সহকারী অধ্যাপক
০৭ মে, ২০২৬ ০৬:১৩ অপরাহ্ণ
আল্লাহর বিচার মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
আল্লাহর বিচার
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
দুনিয়ার মেলা বড় অদ্ভুত রে ভাই,
হাসিমুখে মানুষ কত ছলনা সাজায়।
মুখে মধু ঝরে, অন্তরে বিষধর,
স্বার্থের আগুনে পুড়ে মানবঘর।
কেউ টাকা কুড়ায় মিথ্যার পাহাড়ে,
কেউ সুখ খোঁজে অন্যের অশ্রুধারে।
কেউ ক্ষমতার নেশায় অন্ধ হয়ে যায়,
মানুষের হক মেরে প্রাসাদ গড়ে তায়।
কিন্তু সময় নীরব হলেও বোবা নয়,
প্রতিটি হিসাব লেখা থাকে নির্ভয়।
আজ যে জালিম, কাল কাঁদিবে একা,
বিচারের দিন হবে না কিছু ঢাকা।
মিথ্যা বড় চতুর, বড়ই ভয়ংকর,
হাসতে হাসতে করে হৃদয় ছারখার।
প্রথমে সে আসে আপন রূপ লয়ে,
পরে জীবন ডুবায় কালো অন্ধকার সয়ে।
একটু লাভের আশে মানুষ যখন,
সত্যকে বিকিয়ে করে পাপ অর্জন,
তখন বিবেক কাঁদে নীরব রাতজুড়ে,
আত্মা যেন জ্বলে আগুনেরই চূড়ে।
মিথ্যার রুটিতে বরকত নাহি রয়,
বাহিরে সুখ হলেও অন্তরে ভয়।
চোখে ঘুম আসে না গভীর নিশিতে,
পাপ এসে দাঁড়ায় মনের আঙিনাতে।
অন্যায়ের মসনদ যত উঁচুই হোক,
আল্লাহর বিচারে একদিন হবে লোক।
জালিমের হাসি বেশিদিন টেকে না,
অহংকার শেষে মাটিতেই মিশে যায় না।
কেউ শ্রমিকের ঘাম চুরি করে খায়,
কেউ এতিমের হক লুটে সুখ পায়।
কেউ ক্ষমতার দম্ভে মানুষ পিষে মারে,
কেউ দুর্বল দেখে বিষ ঢালে সংসারে।
ভাবিছে সে বড্ড শক্তিশালী আজ,
তার নামে কাঁপে শহর কিংবা গাঁজ।
কিন্তু কবরের ঘর বড় নির্জন,
সেখানে মরে যায় সব পরিচয়-গৌরব।
রাতের অন্ধকারে এক মা কাঁদে,
অন্যায়ের আঘাতে বুক ভাঙে ফাঁদে।
এক এতিম চেয়ে থাকে শূন্য থালায়,
জালিম তখন সুখে সোনার প্রাসাদ গড়ায়।
কিন্তু হায়! সেই চোখের পানি,
আরশ কাঁপায়—শোনে দয়াময় প্রাণী।
মজলুমের দোয়া ফিরিয়ে যায় না,
আল্লাহর দরবারে হারিয়ে যায় না।
যে দীর্ঘশ্বাস উঠে ভাঙা বুক হতে,
তা বজ্র হয়ে নামে জালিমের পথে।
আজ না হোক কাল বিচার হবেই,
অত্যাচারীর মুকুট ধুলায় রবে ভাই।
আজ যার প্রাসাদ কাল তার মায়া।
টাকা, গাড়ি, খ্যাতি, ক্ষমতার নেশা,
মৃত্যুর দরজায় সব হয় শেষা।
কবর ডাকে নীরব ভাষায় প্রতিদিন,
“মানুষ! ভুলে যেও না শেষ ঠিকানাহীন।”
তবু মানুষ দৌড়ে মিথ্যার পিছে,
পরকালের কথা পড়ে থাকে নিচে।
সাদা কাপড় হবে শেষ পরিচয়,
সাথে যাবে না ধন, না কোনো জয়।
যে হাতে অন্যায় লিখেছিলি তুই,
সেই হাত কাঁপিবে হিসাবের বই।
একদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে,
সবাই কবর ছেড়ে দাঁড়িয়ে রবে।
রাজা আর ভিখারি একই কাতারে,
কেউ পালাতে পারিবে না সেদিন আরে।
হাতে হাতে আমলনামা উড়িবে,
কারো মুখ আনন্দে, কারো ভয়ে কাঁপিবে।
যে অন্যায় করে সুখে ছিল দুনিয়ায়,
সে কাঁদিবে আগুনের কঠিন ছায়ায়।
যে মিথ্যার পথে বানিয়েছিল ঘর,
তার চারপাশ হবে আগুনেরই পর।
যে মানুষের হক ফিরিয়ে দেয় নাই,
সেদিন তার পাশে দাঁড়াবে কে ভাই?
মানুষ লুকাতে পারে দুনিয়ার চোখ,
কিন্তু অন্তর জানে সত্যের শোক।
রাতে নির্জনে বিবেক যখন কাঁদে,
তখন সুখও বিষ হয়ে হৃদয়ে বাঁধে।
হারাম রুজিতে শান্তি থাকে না,
অশ্রুর ওপর সুখ টেকে না।
যে ভাত এতিমের হক মেরে আনে,
সে ভাত আগুন হয়ে পুড়ে প্রাণে।
অন্যায় করে কেউ বড় হয় না,
পাপের অট্টালিকা টিকে রয় না।
সত্য হয়তো ধীরে হাঁটে পথ ধরে,
তবু শেষ বিজয় সত্যেরই ঘরে।
তবুও হে মানুষ! আশা হারাস না,
রহমতের দরজা এখনো বন্ধ না।
যদি চোখ ভিজে অনুতাপের জলে,
আল্লাহ ক্ষমা করেন আপন কৃপাবলে।
ফিরে আয় সত্যের নির্মল পথে,
মানুষের হক ফিরিয়ে দে হাতে হাতে।
ভাঙা হৃদয়ে যদি ভালোবাসা দিস,
আল্লাহও তোকে রহমতে ঢাকিবে নিশ্চয়ই।
আজই বদলে যা, সময় বেশি নাই,
মৃত্যুর ডাক কবে আসে কে জানে ভাই।
দুনিয়ার লাভে পরকাল হারাস না,
মিথ্যার আগুনে জীবন পোড়াস না।
মিথ্যার জয় ক্ষণিকের ধোঁয়া,
সত্যের আলো নিভে যায় না কভুয়া।
অন্যায়ের রাজ্য যত বড় হোক,
বিচারের আগুনে হবে সব শোক।
পার্থিব স্বার্থ মরীচিকার জল,
ধরতে গেলেই বাড়ে শুধু ছল।
ইহকাল-পরকাল দুটোই হারায়,
যে অন্যায়ের পথে সুখ খুঁজে বেড়ায়।
তাই হে মানুষ! জাগো এবার,
সত্যের পথেই মুক্তির দ্বার।
মানুষের হক রক্ষা কর প্রাণে,
তবেই শান্তি মিলবে দুই জাহানে।
***Top of FormBottom of Form
৪
৪ মন্তব্য