Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ মে, ২০২৬ ০৪:৩৯ অপরাহ্ণ

মহানবী সা: এর স্বপ্নের সেই ভয়াল সফর - মোঃ মুজিবুর রহমান

মহানবী সা: এর

স্বপ্নের সেই ভয়াল সফর

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

রাত ছিল নীরব খুব, ঘুমে ঢাকা ধরণী,
তারারাও থেমে ছিল, স্তব্ধ ছিল গগনী।
হঠাৎ এল দুই জন, নূরের মতো মুখ,
ডাক দিল মধুর সুরে
চলুন হে প্রিয় রাসূল, দেখাই আখিরাতের দুখ।

তিনি উঠলেন ধীরে ধীরে, আল্লাহর নামে ভর,
অদৃশ্য এক সফর শুরু, রহস্য ভরা পথঘর।
সঙ্গে দুই ফেরেশতা, গম্ভীর তাদের চোখ,
সামনে খুলে যেতে লাগল গোপন বিচারলোক।

দেখলেন এক মানুষ শুয়ে, নিথর মাটির পরে,
পাশে আরেক ভয়ংকর লোক দাঁড়িয়ে কঠিন ভঙ্গিমায় ঘিরে।
হাতে বিশাল পাথরখণ্ড, অন্ধকারের ছায়া,
এক আঘাতে চূর্ণ হলো মাথাভেঙে গেল মায়া।

রক্ত ঝরে, খুলী ফেটে, কাঁপে নীরব রাত,
পাথর গড়িয়ে দূরে পড়ে, ফিরে আসে আবার হাত।
আবার মাথা ঠিক হয়ে যায়, আবার ভাঙে সেই,
অবিরাম সেই শাস্তি দেখে কেঁপে ওঠেন তিনি।

তিনি বললেন
সুবহানাল্লাহ! কোন লোক?”
ফেরেশতা বলে
চলুন সামনে, খুলবে রহস্যের শোক।

মিথ্যার আগুন**

এরপর গেলেন আরেক স্থানে, ভয়ংকর এক দৃশ্য,
একজন শুয়ে, আরেকজন দাঁড়িয়ে নিষ্ঠুর নিষ্প্রভ নিষ্ঠ।
লোহার আঁকড়া হাতে তার, বিদ্ধ করে মুখ,
ঠোঁট চিরে মাথা পর্যন্তভয়াবহ সেই দুখ।

নাক কেটে চোখ চিরে দেয়, কানে উঠে ক্ষত,
পুনরায় ঠিক হয় সবই, আবার শুরু ব্যথা।
রাসূল বললেন বিস্ময়ে
কারা শাস্তিভোগী?”
ফেরেশতা বলল ধীরে
চলুন, সামনে আরও বাকি।

ব্যভিচারের আগুন**

চুলার মতো এক গহ্বর, তপ্ত আগুন জ্বলে,
ভেতর হতে আর্তনাদ উঠে ভয়ের ঝড় তোলে।
উঁকি দিয়ে দেখলেন তিনি উলঙ্গ নারী-পুরুষ,
আগুন এলেই চিৎকারে কেঁপে ওঠে আকাশ।

লজ্জাহীন দেহ তাদের আগুনে জ্বলে যায়,
পাপের নেশা শেষ হয়েছে, বিচার এবার চায়।
রাসূল কাঁপা কণ্ঠে বললেন
কারা অভাগা?”
উত্তরে ফেরেশতা শুধু
চলুন সামনে, হবে জানা।

সুদের নদী***

এরপর দেখা লাল নদী, রক্ত যেন জল,
সেখানে এক লোক সাঁতার কাটে, ভীষণ তার ছল।
তীরে দাঁড়ায় আরেক ব্যক্তি, পাথর ভরা থলি,
সাঁতার কেটে এলেই সে মুখে ঢুকায় ঢিলি।

গিলতে থাকে কঠিন পাথর, ব্যথায় ছটফট,
তবু আবার সাঁতরায় সে, মুক্তি নেই মোটে।
রাসূল জিজ্ঞেস করলেন
কার কঠিন পরিণাম?”
ফেরেশতা বলল
সামনে খুলবে তার নাম।

জাহান্নামের প্রহরী**

দেখলেন পরে ভয়ংকর এক বিকৃত কুশ্রী মুখ,
আগুন ঘিরে ছুটে বেড়ায়, ভয়ংকর তার সুখ।
জ্বলন্ত আগুন উসকে দেয়, চোখে আগুনের রাগ,
চারিদিকে ধোঁয়া আর শিখা, কাঁপে সব আকাশ।

কে ?”—জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
উত্তর এল ধীর
মালিক, জাহান্নামের দারোগা, ভয়ংকর তার নীর।

ইবরাহীম (.) শিশুদের বাগান**

হঠাৎ খুলল শান্ত এক দেশ, সবুজ বাগানখানি,
ফুলে ফুলে ভরা যেন জান্নাতি সুবাস আনি।
মাঝখানে এক দীর্ঘ পুরুষ, আকাশ ছুঁয়েছে শির,
চেহারাতে শান্তির আলো, হৃদয় করে স্থির।

চারপাশেতে অগণিত সব নিষ্পাপ শিশু হাসে,
কেউ খেলাতে মগ্ন হয়ে ফুলের পিছে ভাসে।
রাসূল জিজ্ঞেস করেন
কে তিনি? কারা শিশুর দল?”
ফেরেশতা বলে
ইবরাহীম (.), আর এরা ফিতরাতের ফল।

মুশরিকদের শিশুরাও?”
প্রশ্ন এল সহসা।
রাসূল বললেন
হ্যাঁ, তারাও পায় রহমতের আশা।

সোনা-রূপার নগরী**

তারপর তারা উঠতে লাগল উঁচু স্বর্গের পথে,
দেখলেন এক মহানগর দীপ্ত সোনার রথে।
সোনা-রূপার ইট দিয়ে গড়া অদ্ভুত প্রাসাদ,
যেন নূরের ঝর্ণাধারা, শান্তিময় আবাস।

দরজা খুলে ভেতরে গেলে এল কিছু লোক,
অর্ধেক দেহ অপূর্ব সুন্দর, অর্ধেক ভীষণ শোক।
তাদের বলা হলো
যাও, নদীতে ডুব দাও।
দুধের মতো শুভ্র জলে ধুয়ে ফেলল দাগ।

ফিরে এলে বদলে গেছে তাদের সব অবয়ব,
মুছে গেছে কুশ্রী অংশ, সৌন্দর্যে ভরা রব।
ফেরেশতা বলল তখন
এরা সেই মানবদল,
যারা সৎ আর অসৎ মিলিয়ে কাটিয়েছে জীবনকাল।
আল্লাহ শেষে ক্ষমা করে দিয়েছেন তাদের প্রাণ,
রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন পরম মহান।

: জান্নাতের প্রাসাদ**

উপরে তাকিয়ে দেখলেন তিনি শুভ্র এক প্রাসাদ,
সাদা মেঘের মতো যেন জান্নাতি অবসাদ।
ফেরেশতা বলল ধীরে
হে নবী, আপনার ঘর।
তিনি বললেন
যেতে দাও আমায় তবে, খুলে দাও দর।

তারা বলল
সময় আসবে, ঢুকবেন আপনি তায়,
আজ শুধু দেখানো হলো, ফিরে যেতে হয়।

শাস্তির ব্যাখ্যা**

এরপর খুলল গোপন কথা, রহস্য গেল ভেঙে

কুরআন ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকা

যে মাথা পাথরে চূর্ণ হয় বারবার কঠিন আঘাতে,
সে কুরআন পেয়েও ভুলেছে, সালাত ছাড়ে রাতে।

মিথ্যাবাদী

যার মুখ চিরে ভয়াবহ শাস্তি দেওয়া হয়,
সে মিথ্যা ছড়াত দুনিয়াজুড়ে, মানুষ বিভ্রান্ত হয়।

ব্যভিচারী

চুলার আগুনে যারা জ্বলে, নগ্ন লজ্জাহীন,
দুনিয়াতে তারা করেছিল ব্যভিচারের ঋণ।

সুদখোর

রক্ত নদীতে পাথর গিলে কাঁদে যে অসহায়,
সুদে যারা মানুষের হক খেয়েছে নির্দয়।

মালিক ফেরেশতা

আগুন ঘিরে কঠিন মুখে দাঁড়ানো যে জন,
জাহান্নামের দারোগা সেমালিক ফেরেশতা তখন।

ইবরাহীম (.)

শিশুদের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা মহান সেই পুরুষ,
তিনি খলিলুল্লাহ ইবরাহীমশান্তির আলোকবর্ষ।

মিশ্র আমলকারীরা

অর্ধেক সুন্দর, অর্ধেক কালো যাদের ছিল দেহ,
ভালো-মন্দ মিলিয়েছিল যারা জীবনের গেহ।
শেষে আল্লাহ রহম করে ধুয়ে দিলেন পাপ,
ক্ষমার সাগর কত বড়নেই তার কোন মাপ।

: হে মানুষ, জেগে ওঠো**

হে মানুষ! সময় অল্প, মৃত্যু খুবই নিকট,
আজ যে হাসে দুনিয়াতে, কাল সে হবে নিঃশব্দ।
কুরআন আঁকড়ে ধরো সবাই, সালাতে হও স্থির,
মিথ্যা, সুদ আর ব্যভিচার করো চিরতরে পরিহার।

কারণ কবরের অন্ধকারে সাথে যাবে আমল,
ধন-সম্পদ, দুনিয়ার গৌরবসবই হবে বিফল।
যে হৃদয়ে আল্লাহভীতি, সে- সফল জন,
আখিরাতের শান্তির পথে সেই পাবে আশ্রয়স্থান।

তাই আজই ফিরে এসো রবের দয়ার দ্বারে,
ক্ষমার সাগর উন্মুক্ত তাঁর অশেষ অনুগ্রহধারে।
রাসূলের সেই স্বপ্ন আজ সতর্কবার্তা দেয়
দুনিয়া ক্ষণিক, আখিরাতই চিরস্থায়ী ঠাঁই।

Top of Form

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ