প্রভাষক
০৭ মে, ২০২৬ ০৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
বাংলা সাহিত্যে যুগ বিভাগ
বাংলা সাহিত্যকে তিনটি যুগে বিভক্ত করা হয়েছে। ১.প্রাচীন যুগ
২.মধ্য যুগ
৩.আধুনিক যুগ
এছাড়াও সাহিত্য বিচারে "অন্ধকার যুগ" নামে আরেকটি যুগ আমাদের পরিলক্ষিত হয়।যা রাজনৈতিক কারনে কিছু সময়ের জন্য সাহিত্য চর্চা বা লিখন বন্ধ ছিল। এ সময়টা ছিল মধ্য যুগের প্রাথমিক পর্যায়ে ।
১.প্রাচীন যুগ:
বাংলা সাহিত্যে প্রাচীন যুগের "সাহিত্য নিদর্শন হলো "চর্যাপদ "।
প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে এটি উদ্ধার করেন।চর্যাপদের আসল নাম "চর্যাচর্যবিনিশ্চয় "। এটি একটি নীতি শাস্ত্র।এতে
সাড়ে ৪৬ টি পদ পাওয়া গেছে ,২৩ নম্বর পদ খন্ডিত।এতে সংগৃহীত মোট পদ ছিল ৫১টি।পদকর্তা ২৪ জন।সর্বাধিক পদ লিখেন কাহ্নপা:১৩টি।দ্বিতীয় ভুসুকু পার ৮টি।এতে প্রবাদ আছে ৬টি।পদকর্তাগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লুইপা,কাহ্ন পা,ভুসুকু পা,সবরী পা,সরহ পাদ,কুক্করী পাদ,টেন্ডন পাদ প্রমুখ।
তুর্কী মতান্তরে সেন আক্রমনকারীদের ভয়ে পন্ডিত গণ তাদের পুঁথি নিয়ে নেপালে পালিয়ে গিয়ে শরনার্থী হয়েছিলেন তাই এটি নেপালে পাওয়া যায়।
এটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায়" বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ" থেকে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।
বাংলা, হিন্দি, মৈথিলী,উড়িয়া,অসমীয়া ভাষাভাষীরা এটি তাদের নিজ নিজ ভাষার বলে দাবি করেন। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ'র ভাষাকে রহস্যময় ও দুর্বোধ্য ভাষারীতির কারণে "সন্ধ্যা ভাষা বা আলো-আঁধারি ভাষা" নামে নামকরণ করেন।
এটি এমন এক হেয়ালি ভাষা যার শব্দের উপরিগত অর্থের আড়ালে গভীর আধ্যাত্নিক বা নিগূঢ় অর্থ লুকিয়ে থাকে। এটি সাধক কবিদের গোপন সাধন পদ্ধতি প্রকাশের একটি রুপ।এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। এটি বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধনসঙ্গীত।
মোহাম্মদ জিয়াদ হোসেন
প্রভাষক,বাংলা
৪
৪ মন্তব্য