Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ মে, ২০২৬ ০৭:৩৫ অপরাহ্ণ

মরণ থেকে হাশর - মোঃ মুজিবুর রহমান

মরণ থেকে হাশর

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মরণ একদিন আসবেই নীরব ছায়ার মতো,
কবর ডাকে ধীরে ধীরেঅচেনা এক রথ।
হাশরের ময়দান হবেকাঁপবে সব প্রাণ,
সেদিন বাঁচাবে শুধুআমল আর ঈমান।

তাই আজই ঠিক করোহৃদয়ের ঠিকানা,
এক আল্লাহ ছাড়া নেই কারোই মানা।
শিরকের অন্ধকার ছিঁড়ে ফেলো আজ,
তাওহীদের আলোয় গড়ো জীবনের সাজ।

নামাজ হোক জীবনের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো,
প্রতিটি সিজদায় বলো—"হে রব, তুমি যথেষ্ট!"
রোজা, যাকাত, হজযদি থাকে সাধ্য,
এগুলোই বানাবে আখিরাতের পথ সহজ।

গুনাহ হলে সাথে সাথে কেঁদে ফেলো চুপে,
"
আস্তাগফিরুল্লাহ" বলো অন্তরের রূপে।
তাওবার অশ্রু ঝরুক গভীর রাতের বেলা,
রহমতের দরজা তখন খুলে যায় মেলা।

কুরআনের আয়াতে খুঁজে নাও পথ,
সুন্নাহর ছায়ায় কাটাও জীবনের রথ।
রাসূলের পথে যে চলে নির্ভয়ে,
সে তো বাঁচবেইরবের রহমতে নিশ্চয়ে।

মানুষের হক কখনো করো না নষ্ট,
এক ফোঁটা জুলুমও হবে ভয়াবহ কষ্ট।
মা-বাবার সেবা হোক জান্নাতের চাবি,
আত্মীয়-স্বজন হোক ভালোবাসার সাথী।

সত্য বলো সবসময়, রাখো আমানত,
অহংকার ভেঙে ফেলোহোক হৃদয় নরম।
দোয়া, জিকির, দরুদে ভরাও প্রতিক্ষণ,
এগুলোই আনবে মনে জান্নাতের স্পন্দন।

শেষে যখন নামবে কবরের অন্ধকার,
নূরের আলো হবে তোমার একমাত্র দ্বার।
হাশরের মাঠে যখন কাঁপবে দিগন্ত,
নেক আমলই দেবে তোমায় চির শান্ত।

***

শোনো হে মানুষ, সময় বড়ই কম,
দুনিয়ার খেলায় হারিও না দম।
মরণ দাঁড়িয়ে আছে দরজার ওপার,
ডাকছে নিরবে—“এসো আমার দ্বার

এক আল্লাহ ছাড়া নেই কারোই স্থান,
এই বিশ্বাসেই জাগুক প্রাণ।
শিরকের ছায়া করো দূর বহুদূর,
তাওহীদের আলো করুক হৃদয় ভরপুর।

ফজরের আলোয় শুরু হোক দিন,
নামাজে জাগুক আত্মার রিনিঝিন।
সিজদার মাঝে লুকিয়ে যে শান্তি,
তা পায় না কোনো দুনিয়ার ভ্রান্তি।

পাপের বোঝা যতই হোক ভার,
তাওবার দরজা খোলা অপরিসীম দ্বার।
কেঁদে বলো—“হে রব, করো মাফ”,
তিনি তো দয়ালু, ক্ষমাই যার স্বভাব।

আয়াতের মাঝে আছে জীবনের দিশা,
যে বুঝে সে পায় চিরকালের আশা।
সুন্নাহর পথে যে রাখে পা,
তার জন্যই জান্নাতের দিশা খোলা।

মানুষের হক বড়ই কঠিন হিসাব,
এখানে চলবে না কোনো অজুহাত।
এক ফোঁটা জুলুমঅন্ধকার রাত,
ফেরত দিতে হবেসেদিনের প্রভাত।

সত্যের আলোয় সাজাও জীবন,
অহংকার ভেঙে করো হৃদয় পবন।
আমানত রাখো, হও বিশ্বস্ত,
এই গুণেই মানুষ হয় শ্রেষ্ঠ।

 “সুবহানাল্লাহ”—আকাশে বাজে,
আলহামদুলিল্লাহ”—প্রাণে সাজে।
দরুদে ভরে উঠুক হৃদয়ের গান,
এই সুরেই মিলে জান্নাতের মান।

নামবে যখন মাটির কোলে শরীর,
থেমে যাবে সব দুনিয়ার নকশা-নির্মাণ ধীর।
তখন তোমার সাথী হবে শুধু আমল,
নেক কাজই দেবে নূরের সম্বল।

সূর্য যখন কাছে, ঘাম যখন সাগর,
মানুষ দৌড়াবেখুঁজবে আশ্রয় ঘর।
সেদিন ছায়া দেবে শুধু সেইজন,
যার আমল ছিল আল্লাহর জন্য গঠন।

যার পাল্লা ভারী নেক আমলে,
সে হাসবে চির সুখের আলোয় ফলে।
জান্নাত ডাকবে—“এসো আমার কোলে”,
শান্তির নদী বইবে তার হৃদয়ের তলে।

তাই হে প্রিয়, আজই বদলাও পথ,
সময় যে ফুরায়জীবন ক্ষণভঙ্গুর রথ।
কুরআন-সুন্নাহ হোক তোমার দিশা,
তবেই পাবে আখিরাতে চির শান্তির আশা।

আমিন।


মন্তব্য করুন

ব্লগ