সহকারী অধ্যাপক
০৬ মে, ২০২৬ ০৭:২৯ পূর্বাহ্ণ
বন্ধুর মুখোশ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
বন্ধুর মুখোশ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
বন্ধু ছিল, কাছে ছিল, হাসি ভরা দিন,
মনের কথা বলতাম, ছিল না কোনো ঋণ।
হঠাৎ একদিন নিলো সে কৌশলে সব টাকা,
বৈঠকের পর বৈঠক—ফিরে এলো না একটাকাও।
কথা দিল, সময় চাইল—ছিল শুধু ছলনা,
চোখের সামনে ভাঙল বিশ্বাসের স্বপ্নভরা বর্ণনা।
টাকা চাইলে উল্টো সে দেখায় দেমাগ,
বন্ধুত্ব আজ বোঝা হয়ে বুকের ভেতর আগুনের দাগ।
রাত জাগি, ঘুম হারাম—চোখে শুধু জল,
হৃদয়ের ভিতর জমে কষ্টেরই দল।
হে আল্লাহ! তুমি দেখো, আমি কত অসহায়,
তুমি ছাড়া এই দুঃখ কে বা বুঝে হায়?
আমি দূর্বল, আক্ষম—তুমি শক্তির সাগর,
হারানো হক ফিরিয়ে দাও, তুমি ন্যায়ের আগর।
যে নিয়েছে অন্যায়ভাবে, তারে তুমি বুঝাও,
আমার হক তুমি প্রভু—ন্যায়ের পথে ফিরাও।
***
ছিল এক বন্ধু—বিশ্বাসের আলো,
হাসি আর গল্পে কেটেছে ভালো।
একসাথে পথ, একসাথে স্বপ্ন,
মনে হতো—এই তো আপন সম্পদ।
কথার ভেতরে লুকালো ছল,
চোখে মায়া, অন্তরে কল।
একদিন বলল—“দরকার কিছু টাকা,”
বন্ধুত্বের টানে দিলাম নির্ভাবনা।
দিন যায়, মাস যায়—ফিরে না কিছু,
বৈঠকের নামে শুধু ফাঁকা পিছু।
প্রশ্ন করলে হাসে, দেয় নতুন ছল,
মিথ্যার জালে জড়িয়ে পড়ে মন।
একদিন চাইলাম নিজের হক,
সে তখন দেখায় অহংকারের মুখ।
“সময় হবে”—এই তার বুলি,
কিন্তু আচরণে আগুন জ্বলি।
রাত জাগি আমি, নিঃশব্দ কান্না,
ভেতরে জমে শুধু যন্ত্রণা।
বিশ্বাস ভাঙার শব্দ বড় কঠিন,
মনের ভিতর যেন ঝড়ের দিন।
হে আল্লাহ! তুমি সবই জানো,
অন্যায়ের হিসাব তুমি রাখো।
আমি যে দূর্বল, তুমি তো মহান,
ন্যায়ের দরজা তুমি করো উন্মোচন।
“আমার হক তুমি ফিরিয়ে দাও,
যে অন্যায় করেছে, তাকে বুঝাও।”
নীরব রাতে দোয়া উঠে আকাশে,
চোখের জলে লেখা প্রার্থনা ভাসে।
বোঝলাম আমি—মানুষ নয় ভরসা,
আসল ভরসা আল্লাহর দয়া-বরষা।
ধৈর্য ধরি, অন্যায় ছাড়ি,
ন্যায়ের পথে থাকি দাঁড়িয়ে দৃঢ় করি।
যে আজ দেমাগ দেখায়, করে গর্ব,
কাল তারই হবে কঠিন সর্বনাশ।
হকের টাকা ফিরবে একদিন,
আল্লাহর বিচার—নেই কোনো ঋণ।
আজকের কষ্ট কাল হবে জয়,
অন্যায়ের শেষ—ন্যায়েরই হয়।
ধোঁকার আঁধার ভেঙে একদিন,
আলো আসবে—রহমতের দিন।
শিরোনাম: “ধোঁকার আঁধার থেকে ন্যায়ের আলো”
👉 ভয়েস শুরু (নিম্ন, ধীর, ভারী)
(বিরতি ২ সেকেন্ড)
বন্ধু ছিল…
(হালকা বিরতি)
খুব কাছের বন্ধু…
👉 কণ্ঠে নরম স্মৃতি
হাসি ভাগ করতাম…
স্বপ্ন ভাগ করতাম…
বিশ্বাস করতাম—
(জোর দিয়ে)
অন্ধভাবে!
👉 ভয়েস একটু ভারী হবে
একদিন—
সে বলল,
“ভাই, একটু দরকার…”
আমি দিলাম…
কারণ—
সে ছিল বন্ধু।
👉 বিরতি (৩ সেকেন্ড)
👉 কণ্ঠে ধীরে ধীরে কষ্ট
দিন গেল…
সাল গেল…
বৈঠক হলো…
আরও বৈঠক…
কিন্তু—
(তীব্র)
টাকা আর ফিরল না!
👉 কণ্ঠে ক্ষোভ
চাইলাম হক—
পেলাম দেমাগ!
চাইলাম সত্য—
পেলাম অভিনয়!
👉 বিরতি (২ সেকেন্ড, নিচু স্বর)
রাতগুলো এখন—
ঘুমহীন…
চোখ ভেজা…
বুক ভাঙা…
👉 ধীরে ধীরে আধ্যাত্মিক টোন
হে আল্লাহ…
(বিরতি)
আমি দুর্বল…
আমি অসহায়…
👉 কণ্ঠে গভীর আবেদন
তুমি তো মহান!
তুমি তো ন্যায়ের মালিক!
আমার হক—
(জোর দিয়ে)
তুমি ফিরিয়ে দাও!
👉 কণ্ঠে শক্তি আসবে
যে অন্যায় করেছে—
তাকে তুমি বুঝাও!
👉 চূড়ান্ত অংশ (আশাবাদী, দৃঢ়)
কারণ আমি জানি—
আজ না হোক…
কাল না হোক…
(জোর দিয়ে)
ন্যায় আসবেই!
👉 শেষ লাইন (ধীর, শক্ত)
ধোঁকার রাত ভেঙে—
আলোর সকাল হবেই…
(শেষে ৩ সেকেন্ড নীরবতা)
🎥 Scene 1: (অন্ধকার, ধীর পিয়ানো সুর)
👉 ক্যামেরা: নিচু আলো, একা বসে থাকা মানুষ
🎤 ভয়েস (নিম্ন, ধীর):
“বন্ধু ছিল…”
(বিরতি)
“খুব কাছের…”
🎥 Scene 2: (ফ্ল্যাশব্যাক, উজ্জ্বল আলো)
👉 হাসি, গল্প, একসাথে সময় কাটানো
🎤
“হাসি ভাগ করতাম…
বিশ্বাস করতাম—অন্ধভাবে…”
🎥 Scene 3: (আলো ধীরে কমে যাবে)
🎤
“একদিন বলল—
‘ভাই, একটু দরকার…’”
👉 হাত বাড়িয়ে টাকা দেওয়া
🎥 Scene 4: (সময় পেরোনোর মন্টাজ)
👉 ক্যালেন্ডার পাতা উল্টানো
🎤
“দিন গেল… মাস গেল…
বৈঠক হলো…
কিন্তু টাকা—ফিরল না…”
🎥 Scene 5: (কঠিন মুখ, দেমাগ)
🎤 (তীব্র)
“চাইলাম হক—
পেলাম দেমাগ!”
🎥 Scene 6: (রাত, একা, চোখে পানি)
🎤 (ভাঙা কণ্ঠ)
“রাতগুলো এখন ঘুমহীন…”
🎥 Scene 7: (আকাশের দিকে হাত উঠানো)
🎤 (গভীর আবেগ)
“হে আল্লাহ…
আমি দুর্বল… তুমি মহান…”
🎥 Scene 8: (আলো ধীরে বাড়বে)
🎤 (দৃঢ়)
“আমার হক—তুমি ফিরিয়ে দাও!”
৪
৪ মন্তব্য