সহকারী অধ্যাপক
০৫ মে, ২০২৬ ০৯:৪৭ অপরাহ্ণ
সত্যের পথের ডাক মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
সত্যের পথের ডাক
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
আলো নেমে আসে কিতাবের বাণী,
সত্যের দীপ জ্বলে প্রাণে অম্লানই।
পূর্বের সব সত্যের সাক্ষী হয়ে,
নতুন দিশা দেয় অন্ধকার ছোঁয়ে।
ফয়সালা করো ন্যায়ের পথে,
মনের খেয়াল নয়, সত্যের সাথে।
প্রবৃত্তির ঢেউ যতই টানে,
সত্যের আলো রাখো প্রাণে।
প্রত্যেকের জন্য পথ আলাদা,
শরীয়তের রঙে জীবন বাধা।
এক হতে পারত সবাই যদি,
কিন্তু পরীক্ষা আছে তাই স্রষ্টার বিধি।
তাই ছুটে চলো ভালো কাজের পানে,
প্রতিযোগিতা হোক নেকির টানে।
শেষে সবাই ফিরবো তাঁরই কাছে,
মতভেদ সব মিটবে ন্যায়ের মাঝে।
***
যখন পৃথিবী ঢেকে যায় অন্ধকারে,
মিথ্যার ছায়া নামে মানুষের দ্বারে,
তখনই আসে বাণী আকাশ ছুঁয়ে—
কিতাবের আলো সত্য নিয়ে।
এই কিতাব শুধু অক্ষরের নয়,
এ যে জীবনের পথচলার ভয়মুক্ত স্রোত।
পূর্বের সব কিতাবের সাক্ষী হয়ে,
এ আসে সত্যের শপথ নিয়ে।
“ফয়সালা করো, ন্যায়ের আলোয় দাঁড়িয়ে,
না মনের ইচ্ছায়, না লোকের কথায় ভেসে।”
কারণ সত্য একটাই—
যা আল্লাহ দিয়েছেন,
তার বাইরে পথ মানেই বিভ্রান্তির দিশা।
মানুষ চায় নিজের মত,
নিজের স্বার্থ, নিজের লাভ—
কিন্তু সত্য চায় আত্মসমর্পণ,
চায় হৃদয়ের নিঃশর্ত দান।
মনের ভেতর ঝড় ওঠে—
লোভ, অহংকার, ভয় আর কামনা,
সবাই টানে আলাদা পথে।
কিন্তু সেই কিতাব বলে—
“থেমো না, ভেঙে পড়ো না,
সত্যের পথে থাকো দৃঢ়।”
প্রবৃত্তি যদি হয় আগুন,
তবে ঈমান তার জল,
যে আগুন নেভায়, শান্ত করে মন।
সবাই এক রকম নয়,
সবাই এক পথে চলে না—
কারও পথ সরল, কারও বাঁকা।
এই ভিন্নতাই পরীক্ষা—
কে সত্যে অটল থাকে,
কে হারিয়ে যায় নিজের ছায়ায়।
আল্লাহ চাইলে এক করতেন সবাইকে,
কিন্তু ভিন্নতা দিয়ে দেখেন—
কে এগিয়ে যায় ভালো কাজের প্রতিযোগিতায়।
এ দুনিয়া এক ময়দান,
এখানে দৌড় চলে নিরবধি—
কিন্তু সে দৌড় ধন-সম্পদের নয়,
সে দৌড় নেক আমলের।
কে আগে বাড়ায় সাহায্যের হাত,
কে আগে মুছে অন্যের কান্না,
কে আগে দাঁড়ায় সত্যের পক্ষে—
সেই তো বিজয়ী এই দৌড়ে।
একদিন থেমে যাবে সব পথ,
বন্ধ হবে জীবনের সব হিসাব।
তখন ফিরতে হবে—
একই ঠিকানায়, একই দরবারে।
সেখানে নেই কোনো লুকোচুরি,
নেই কোনো অজুহাত—
সব প্রকাশ পাবে, সব জানা হবে।
যা নিয়ে ছিল মতভেদ,
যা নিয়ে ছিল বিতর্ক,
সব মিটে যাবে ন্যায়ের বিচারে।
তাই হে মানুষ—
সত্যকে আঁকড়ে ধরো,
প্রবৃত্তির দাস হয়ো না।
ভিন্ন পথেও থাকো দৃঢ়,
ভালো কাজে এগিয়ে চলো দ্রুত,
কারণ সময় কম, পথ দীর্ঘ।
শেষে তুমি ফিরবে—
তোমার রবের কাছেই,
যিনি জানেন সব, দেখেন সব।
***
দৌড়াও মানুষ, দৌড়াও সবাই,
ভালো কাজেই হোক প্রতিযোগিতাই।
ধন-সম্পদ নয়, নয় অহংকার,
নেকির পথেই হোক জীবনের অঙ্গার।
কে আগে বাড়ায় সাহায্যের হাত,
কে আগে মুছে অন্যের রাত,
কে আগে দাঁড়ায় সত্যের পক্ষে—
সেই তো জিতে যায় নীরব রক্ষে।
শেষে তো ফিরতে হবে এক ঠিকানায়,
সব পথ মিশে যাবে এক দরবারে যায়।
আল্লাহর কাছে খুলবে সব হিসাব,
লুকানো কিছু থাকবে না আর কোনো বাবদ।
যা নিয়ে ছিল এত তর্ক-বিতর্ক,
যা নিয়ে ছিল বিভ্রান্তির ফর্ক—
সেদিন সব হবে স্পষ্ট প্রকাশ,
সত্য পাবে চূড়ান্ত বিকাশ।
এই দুনিয়া এক বিশাল মাঠ,
এখানে চলছে অদৃশ্য দৌড়ের হাতছানি।
কেউ দৌড়ায় সম্পদের পিছে,
কেউ ক্ষমতার নেশায় হারায় প্রাণখানি।
কিন্তু এক কণ্ঠ ভেসে আসে—
নীরব, অথচ প্রবল আহ্বান—
“দৌড়াও, তবে নেকির পথে,
সেখানেই লুকানো আসল সম্মান।”
এ প্রতিযোগিতা ভিন্ন এক রকম,
এখানে নেই হিংসা, নেই হানাহানি।
এখানে যে এগোয়, সে টানে অন্যকে—
মানবতার সেতু গড়ে অনুক্ষণখানি।
কে আগে দেবে ক্ষুধার্তকে অন্ন,
কে আগে ছুঁয়ে দেবে ভাঙা মন,
কে আগে বলবে সত্যের কথা—
সেই তো এগিয়ে, সেই তো গুণীজন।
দুনিয়ার জৌলুস ক্ষণিকের আলো,
চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, তারপর ফিকে।
কিন্তু নেকির আলো নেভে না কখনো,
থাকে চিরকাল হৃদয়ের ঠিক ঠিকানাতে।
মানুষ ভুলে যায়, ব্যস্ততায় ডুবে,
ভুলে যায় তার ফেরার পথ।
তবুও সময় থেমে থাকে না—
নিয়ে যায় ধীরে শেষের রথ।
একদিন হঠাৎ থেমে যাবে সব,
চুপ হয়ে যাবে দৌড়ের মাঠ।
তখন আর সুযোগ থাকবে না,
না কোনো অজুহাত, না কোনো পাঠ।
সবাই ফিরবে—
একই দিকে, একই স্রোতে,
আল্লাহর দরবারে দাঁড়াবে সব,
নিজ নিজ কাজের ফল নিয়ে হাতে।
সেদিন খুলবে সব গোপন দরজা,
হৃদয়ের ভেতর যা ছিল লুকানো।
যে সত্যকে চাপা দিয়েছিলে তুমি,
তা হবে সবার সামনে জানানো।
যে বিষয়ে ছিল মতের বিভেদ,
যা নিয়ে ছিল তর্কের ঢেউ—
সেই সব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর
মিলবে সেদিন, নিঃসংশয়ে।
তখন বুঝবে মানুষ—
কী ছিল আসল, কী ছিল মিথ্যা,
কিসে ছিল ক্ষতি, কিসে ছিল জয়ের রথ।
কিন্তু আফসোসের সময় থাকবে না আর,
ফিরে যাওয়ার পথ হবে বন্ধ—
শুধু ফল থাকবে, শুধু বিচার,
শুধু সত্যের অটল বন্ধন।
তাই আজই ঠিক করো পথ—
কোথায় দৌড়াবে, কিসের পিছে?
ক্ষণিক সুখের মরীচিকায়,
নাকি চিরস্থায়ী শান্তির দিকে?
দৌড়াও—
নেকির জন্য, সত্যের জন্য, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
কারণ শেষ গন্তব্য একটাই—
আর সেই পথের হিসাব হবে নিশ্চিত।
***
শোনো মানুষ—
এই জীবন থেমে থাকার জন্য নয়,
এ জীবন এক দৌড়, এক পরীক্ষা, এক যাত্রা।
তুমি দাঁড়িয়ে আছো দুই পথের মাঝে—
একদিকে ক্ষণিক সুখের মোহ,
অন্যদিকে চিরস্থায়ী শান্তির আলো।
এক কণ্ঠ ডাকে—
নীরবে, অথচ বজ্রের মতো শক্তি নিয়ে—
“দৌড়াও! তবে নেকির পথে দৌড়াও!”
এ দৌড় অন্য রকম—
এখানে হারিয়ে গেলেও জেতা যায়,
যদি তুমি অন্যকে এগিয়ে দাও।
এখানে প্রথম হওয়া মানে—
অন্যের কষ্ট কমানো,
অন্যের চোখে হাসি ফোটানো।
যে আগে বাড়ায় সাহায্যের হাত,
সে-ই সবার আগে পৌঁছে যায়—
মানবতার সোনালি সিঁড়িতে।
দুনিয়া তোমাকে থামাতে চাইবে—
দেখাবে স্বপ্ন, দেবে লোভ,
বলবে— “এইটুকুই যথেষ্ট।”
কিন্তু সত্য বলে—
“না, পথ এখানেই শেষ নয়!”
তুমি চলতে থাকো, থেমো না।
কারণ যা দেখছো—
তা শুধু মায়া, ক্ষণিকের ছায়া,
যা একদিন মিলিয়ে যাবে সময়ের স্রোতে।
মানুষ ভুলে যায়—
সে কোথা থেকে এসেছে, কোথায় যাবে।
ভুলে যায়—এই দুনিয়া চিরস্থায়ী নয়।
হাসি-কান্না, জয়-পরাজয়—
সবই একদিন থেমে যাবে,
শুধু থেকে যাবে কর্মের ছাপ।
তবুও মানুষ ব্যস্ত—
অস্থায়ী সুখের পেছনে দৌড়ে,
স্থায়ী শান্তিকে ফেলে রেখে।
একদিন—
হঠাৎ সব থেমে যাবে।
না কোনো পূর্বঘোষণা,
না কোনো প্রস্তুতির সময়—
শুধু এক নিঃশব্দ ডাক।
তখন তুমি ফিরবে—
একাই, একেবারে একা,
তোমার রবের দরবারে।
সেদিন খুলে যাবে সব পর্দা—
যা তুমি লুকিয়েছিলে,
যা তুমি ভুলে যেতে চেয়েছিলে।
প্রতিটি কাজ, প্রতিটি কথা,
প্রতিটি ইচ্ছা, প্রতিটি নিয়ত—
সব হবে স্পষ্ট, উন্মুক্ত, অস্বীকারহীন।
যা নিয়ে ছিল মতভেদ,
যা নিয়ে ছিল দ্বন্দ্ব—
সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তখন।
তখন বুঝবে—
কেন ডাকা হয়েছিল নেকির পথে,
কেন বলা হয়েছিল— “প্রতিযোগিতা করো।”
কারণ এটাই ছিল সুযোগ—
নিজেকে প্রমাণ করার,
নিজেকে গড়ার, নিজেকে বাঁচানোর।
কিন্তু সময় তো আর ফিরে আসে না…
আজ—
এই মুহূর্তেই তোমার সামনে সুযোগ।
তুমি কি দৌড়াবে নেকির পথে?
নাকি থেমে যাবে প্রবৃত্তির কাছে?
তুমি কি সত্যকে গ্রহণ করবে?
নাকি মায়ার কাছে হার মানবে?
তাই শোনো—
সময় এখনো আছে।
দৌড়াও—
ভালো কাজের দিকে,
মানবতার দিকে,
আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে।
কারণ—
শেষ গন্তব্য একটাই…
(বিরতি)
আর সেখানে—
সব হিসাব হবে,
এই জীবন থেমে থাকার নয়—
এ এক দৌড়।
কিন্তু এ দৌড় ধন-সম্পদের নয়,
এ দৌড় নেক আমলের।
এখানে জয় মানে—
মানুষের উপকার, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো,
আর শেষ পর্যন্ত—
রবের সন্তুষ্টি অর্জন করা।
দৌড়াও—
এক অদৃশ্য কণ্ঠ ডাকে নিরবধি।
কানে শোনা যায় না,
তবু হৃদয়ে বাজে প্রতিধ্বনি।
“দৌড়াও ভালো কাজে,
দৌড়াও সত্যের পথে”—
এই ডাকেই শুরু হয়
মানুষের আসল যাত্রাতে।
এখানে নেই ধাক্কাধাক্কি, নেই হিংসা,
এখানে জয় মানে—অন্যকে তোলা।
যে আগে সাহায্য করে,
সে-ই সবার আগে এগোয়।
যে আগে সত্য বলে,
সে-ই সবার আগে জিতে যায়।
দুনিয়া এক রঙিন মরীচিকা—
দেখতে সুন্দর, ভেতরে শূন্য।
লোভ বলে— “আরও চাও”
অহংকার বলে— “তুমিই বড়”
কিন্তু সত্য বলে—
“সব ফেলে একদিন যেতে হবে।”
মানুষ ভুলে যায়—
সে এসেছে, আবার ফিরবে।
এই হাসি, এই কান্না,
এই অর্জন, এই ব্যর্থতা—
সবই সময়ের কাছে ক্ষণস্থায়ী।
একদিন—
সব থেমে যাবে।
তুমি, আমি, সবাই—
ফিরে যাবো সেই এক ঠিকানায়।
কেউ সাথে থাকবে না,
শুধু থাকবে নিজের কাজ।
যা লুকানো ছিল—
সব প্রকাশ পাবে।
প্রতিটি কাজ, প্রতিটি কথা,
প্রতিটি নিয়ত—
সব হিসাবের খাতায় লেখা।
তখন বুঝবে—
কেন বলা হয়েছিল, “প্রতিযোগিতা করো।”
কারণ এটাই ছিল সুযোগ—
নিজেকে গড়ার, নিজেকে বাঁচানোর।
তাই আজই সিদ্ধান্ত নাও—
তুমি কোন পথে দৌড়াবে?
নেকির পথে?
নাকি ক্ষণিক সুখের মোহে?
কারণ—
শেষ গন্তব্য একটাই।
দৌড়াও…
সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে…
(বিরতি)
কারণ—
ফিরতে তো হবেই…
**
৪
৪ মন্তব্য