Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ মে, ২০২৬ ০৮:৪৩ অপরাহ্ণ

সচেতন নাগরিক বা সুনাগরিক

একজন সচেতন নাগরিক বা সুনাগরিক কেবল একটি রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানার বাসিন্দা নন, বরং তিনি রাষ্ট্রের উন্নয়ন, শৃঙ্খলা ও সুশাসনের অন্যতম প্রধান কারিগর। সচেতন নাগরিকের গুণাবলি ও দায়িত্বগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
১. অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতাএকজন সচেতন নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে তার প্রাপ্য অধিকারগুলো (যেমন: কথা বলার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, আইনি সুরক্ষা) সম্পর্কে যেমন জানেন, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি তার অর্পিত দায়িত্বগুলোও গুরুত্বের সাথে পালন করেন । তিনি জানেন যে, কর্তব্য পালন ছাড়া অধিকার ভোগ করা অসম্ভব ।
২. রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সচেতনতাভোটাধিকার প্রয়োগ: তিনি নিয়মিত ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং কোনো প্রলোভন বা গুজবে কান না দিয়ে যোগ্য ও সৎ প্রার্থী নির্বাচনে সচেতন থাকেন।জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা সম্পর্কে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং ভুলের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনা বা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করেন ।
৩. আইন মান্যতা ও সামাজিক শৃঙ্খলাআইন মেনে চলা: ট্রাফিক আইন থেকে শুরু করে দেশের প্রচলিত সকল আইন মেনে চলেন, যা সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখে ।
কর প্রদান: রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কাজ সচল রাখতে তিনি নিয়মিত ও সততার সাথে কর বা খাজনা পরিশোধ করেন ।
৪. দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নৈতিকতাসচেতন নাগরিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকেন। তিনি নিজে দুর্নীতিমুক্ত থাকেন এবং সমাজের দুর্নীতি প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর মতো সংগঠনের মাধ্যমে অনেক নাগরিক দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে অংশ নেন ।
৫. সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্বপরিবেশ রক্ষা: যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা, গাছ লাগানো এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধ করা একজন সচেতন নাগরিকের নিয়মিত অভ্যাস ।গুজব প্রতিরোধ: তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তিনি কোনো তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করেন না বা শেয়ার করেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি দায়িত্বশীল আচরণ করেন ।
৬. পরোপকার ও দেশপ্রেমতিনি সর্বদা দেশের মঙ্গলের কথা ভাবেন এবং বিপদে অন্য নাগরিকদের সাহায্য করেন। দেশের স্বার্থ রক্ষায় তিনি আপসহীন এবং সর্বদা জাতীয় ঐক্য বৃদ্ধিতে সচেষ্ট থাকেন ।একজন সচেতন নাগরিকের এই গুণাবলিই একটি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও বৈষম্যহীন করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ