সহকারি সুপার
০৩ মে, ২০২৬ ০৭:৪০ অপরাহ্ণ
সহকারি সুপার
শিশু মনে ধর্ম জাগাও
“ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুর-ই অন্তরে” । আজকের শিশু আগামী দিনের দেশ, জাতি, ও সমাজের পরিচালক। সেই সমাজের পরিচালকদের হতে হবে বহুমূখী গুণে গুনাণ্বিত। মানব চরিত্রের ভাল গুণ আচার-আচরণ, কৃষ্টি-কালচার অর্জনের উত্তম ও প্রধান মাধ্যম হলো ধর্মীয় জ্ঞান তথা ঐশী জ্ঞান। আর ঐশী জ্ঞানের ধারক-বাহক, শিক্ষক হচ্ছেন নবী ও রাসুল (স) গণ।
মনে পড়ে গেল একজন বিখ্যাত মনীষীর কথা তিনি বলেছিলেন যে, তুমি যদি তোমার সন্তানকে তিনটি আর (R) শিক্ষা দাও ( Reading ) রিডিং, ( Writing ) রাইটিং, ( Arithmatic ) আরিথম্যাটিক তথা পড়া, লেখা ও গণিত শিক্ষা দাও তাহলে তার পাশাপাশি আরেকটি ৪র্থ আর (R ), (Religion) বা ধর্ম শিক্ষা না দাও, তাহলে তার কাছ থেকে ৫ম আরেকটি আর (R ) পাবে আর তা হলো ( Rascal ) রাস্কেল বা বদমাশ।
ধর্ম শিক্ষায় আল কোরআনঃ পবিত্র কোরআনে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার ব্যাপারে অসংখ্য তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে সুরা লোকমানে আয়াত ( ১৬-১৯) এ শিশুদের ব্যাপারে সুন্দর ও চমৎকার ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যা শিশুদের জন্য ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার সনদ বলা যেতে পারে। যেমনঃ
১৬। “হে বৎস কোন বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমানও হয় অতঃপর তা যদি থাকে পাথরের গর্ভে অথবা আকাশে অথবা যমিনের নীচে, আল্লাহ তাকে এনে হাজির করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ গোপনভেদ জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন। ১৭। হে বৎস নামাজ কায়েম করো, এবং বিপদে আপদে সবর করো , এটা নিশ্চয় সাহসিকতার কাজ। ইয়৬ ১৮। অহংকার বশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্ব ভরে পদচারণ করো না, নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন নাত। ১৯। পদচারনায় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো এবং কন্ঠ স্বর নিচু করো , নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর”।
ধর্ম শিক্ষায় আল হাদীসঃ সার্বিক দিক বিবেচনা করে ইসলাম ধর্মে শিশুদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা দানের জন্য অত্যধিক তাগিদ দেয়া হয়েছে । বিশ্বনবী (স) এরশাদ করেন “তোমরা সন্তানদের স্নেহ করো, তাদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো এবং তাদের সদাচরণ ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও” (জামে আত-তিরমিজি) । আরেক হাদিসে নবী (স) বলেন, “বাবার পক্ষ হতে সন্তানের প্রতি উত্তম উপহার হলো শিক্ষা” (জামে আত-তিরমিজি)। অন্য হাদিসে আছে “নৈতিক শিক্ষা মা-বাবার উপর সন্তানের অধিকার” (বায়হাকি)।
শিশুদের বাল্যকাল থেকেই ধর্মিয় শিক্ষা জাগ্রত করা উচিত। আহলে বাইতের সদস্য ইমাম বাকের (র) বলেছেন “তিন বছর বয়সে শিশুদেরকে কালেমায়ে তাওহীদ শিখাও, আর চার বছর বয়সে নবিজি (স) এর নবুইয়্যতের পরিচয় তুলে ধরো। ...আর সাত বছর বয়সে অজু ও নামাজ শিখাও”।
ছোট বেলা থেকেই শিশুকে ইতিহাসের সত্য কাহিনী, গল্প ইত্যাদী শুনানো উচিত। মোটামোটি চার বছর বয়স হতে শিশুরা কৌতুহলী হয়ে উঠে। এই সময় শিশুরা নানাবিধ প্রশ্ন করতে থাকে। তার জানার ইচ্ছা জাগ্রত হয়। এমন কি সে বলতে পারে আল্লাহ কোথায়? তাকে দেখা যায় না কেন? তখন শিশুকে সাবলিল ভাবে জবাব দিতে হবে যে, আল্লাহ অবস্থান করেন আরশে আ’জিমে, এবং তার ইলিম সর্বত্র বিরাজমান। এবং তিনি সর্ব শক্তিমান। উদাহরন স্বরূপ বলা যায়- বান্দাহর স্বাভাবিক জ্ঞানে যদি টেলিভিশনের পর্দায় একই ব্যাক্তি বা অনুষ্ঠান কে পৃথিবীর নানান জায়গায় দেখা যায় তেমনি ভাবে আল্লাহর ইলিম সর্বত্র বিরাজমান। অনুরূপ ভাবে আমরা তাপ, বিদ্যুৎ, বাতাস এগুলো চোখে দেখি না বরং আমরা অনুভব করি, তেমনি ভাবে আল্লাহর অস্তিত্ব অনুভব করা যায়। তাছাড়া আরেকটি উদাহরণ দেয়া যায় যে, কিছু চিনি বা মিছরির টুকরা যদি একটি কাচের জগে গলানো হয় তা পানির সাথে যেমনি ভাবে মিশে যায় চিনি দেখা যায় না। অথচ এই পানিতে চিনির অস্তিত্ব আছে ঠিক কিন্তু তা দেখা যায় না তেমনি ভাবে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে ঠিক কিন্তু তা চর্ম চোখে দেখা যায় না।
তবে খেয়াল রাখা রাখা উচিত যে, এই সময় শিশুদেরকে সহজ – সাবলিল ভাবে উত্তর দেয়া উচিত কখনো কঠিন ভাবে বিজ্ঞান, গণিত, মানতিকের যুক্তি দিয়ে বুঝানো থেকে বিরিত থাকা উচিত।
হিফজুল কোরআনঃ শৈশবেই শিশুদের কোরআন হিফজের উদ্দ্যোগ নেয়া উচিত। কারণ এই বয়সেই শিশুদের মুখস্থ বিদ্যা বেশি স্থায়ী হয়। এ সময় শিশুরা যা শিখে তা পাথরের খোদাই করা লেখার মত স্থায়ী হয়ে থাকে। মানুষের বয়স যখন বাড়ে তখন স্বরণ শক্তি ও মুখস্থ বিদ্যার ক্ষমতা হ্রাস পায়।
সংস্কৃতিঃ এ সময় শিশুদের ধর্মীয় সংগীত, কবিতা, ছড়া ইত্যাদী বলতে ও শিখতে আগ্রহী করে তুলতে হয়। মসজিদে, নামাজে, দোয়ার মজলিশে, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে শিশুদের শরিক করা উচিত। মাঝে মধ্যে আত্মীয় স্বজনদের বাসায়/বাড়িতে , পার্কে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া। এতে শিশু মনে উদারতা জন্মে।
দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনাঃ শিশুরাই যেহেতু দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দিবে তাই তাদের নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে চীনা দার্শনিক কুনফুসিয়াস যথার্থই বলেছেন যে, “যদি তোমার পরিকল্পনা ১ এক বছরে জন্য হয় তাহলে ধান গাছ লাগাও, যদি তোমার পরিকল্পনা ১০ দশ বছরের জন্য হয় তাহলে গাছ/বৃক্ষ লাগাও, আর যদি তোমার পরিকল্পনা ১০০ একশ বছরের জন্য হয় তাহলে শিশুদেরকে সু-শিক্ষিত করো”।
আমাদের আজকের শিশুরাই আগামী দিনে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী, ডাক্তার, প্রকৌশলী, সরকারী কর্মকর্তা, শ্রমিক, কৃষক হিসেবে দেশ ও জাতির কান্ডারীর ভূমিকা পালন করবে। তাদের সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেমই হবে আদর্শ, উন্নত জাতি গঠনের প্রধান সম্বল।
শাহীন আলম
সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা, শিক্ষক বাতায়ন।
কামিল, মাস্টার্স, এমএড।
সহকারী সুপার
সিলেট পাল্প এন্ড পেপার মিলস আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা
উপজেলাঃ ছাতক, জেলাঃ সুনামগঞ্জ।
৪
৪ মন্তব্য