সহকারী অধ্যাপক
০৩ মে, ২০২৬ ০৫:৩২ অপরাহ্ণ
নিরাপত্তার মানুষ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
নিরাপত্তার মানুষ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মুসলিম সে—নামের মাঝে শুধু নয় তার পরিচয়,
তার চলনে, তার বলায়, শান্তিরই স্রোত বই।
তার হাতে নেই আঘাত, নেই কোনো ক্ষতির ছায়া,
তার মুখে নেই কটু কথা—ভালোবাসাই মায়া।
পাশের মানুষ হাসে যখন, সে থাকে নির্ভার,
কারণ জানে—এই মানুষটি নয় কোনো আঘাতের ভার।
তার কাছে নিরাপদ সবাই, ভীতির নেই স্থান,
তার হৃদয়ে জাগে শুধু দয়ার অফুরান।
আমি হবো তেমন মানুষ—নিজেকে দিই শপথ,
আমার দ্বারা কভু না হোক কারো জীবনে ক্ষত।
কথা হবে কোমল আমার, কাজ হবে পবিত্র,
মানবতার পথে চলাই হবে আমার চরিত্র।
মুসলিম মানে শান্তি ছড়ায়, নয় কোনো বিভাজন,
তার জীবনই সাক্ষ্য দেয়—এটাই সত্য ধর্মপথের গঠন।
শান্তির পথের যাত্রী**
মুসলিম নামটি শুধু উচ্চারণ নয়,
এ এক দায়িত্ব—এক গভীর পরিচয়।
হাতে তার নিরাপত্তা, মুখে তার দয়া,
তার চলার পথেই ছড়ায় আলোর মায়া।
সে বলে—
“আমি কারো ভয়ের কারণ হবো না,
আমার ছায়ায় কেউ কাঁপবে না।
আমার মুখে থাকবে না বিষের ছোঁয়া,
আমার হাতে হবে না অন্যায় বোনা।”
🌙 সর্গ ৩: সমাজের আয়না
চারপাশে যখন অন্ধকার বাড়ে,
মানুষ মানুষকে আঘাত করে,
তখনই মুসলিম দাঁড়ায় দৃঢ় হয়ে—
শান্তির পতাকা উঁচু করে।
তার কথা শোনে শিশুরা হেসে,
বৃদ্ধরাও পায় সান্ত্বনা,
কারণ সে জানে—
মানুষের নিরাপত্তাই তার আসল সাধনা।
সবচেয়ে বড় জিহাদ—নিজের সাথে লড়াই,
রাগকে দমন, অহংকে হারানোই বড় বিজয়।
মুখে কটু কথা এলেও থামে সে তখন,
কারণ জানে—একটি শব্দই করতে পারে ক্ষতিগ্রস্ত জীবন।
তার দয়া শুধু মুসলিমে সীমাবদ্ধ নয়,
সব মানুষের প্রতিই তার ভালোবাসা রয়।
কারণ সে শিখেছে—
মানবতা ছাড়া ধর্ম পূর্ণ হয় না,
মানুষ বলে—
“এই তো প্রকৃত মুসলিমের রূপ!”
যার ছোঁয়ায় নেই ভয়, নেই কোনো ক্ষূপ।
তার জীবনে প্রতিফলিত হয় হাদিসের বাণী,
সে-ই তো আসল সফল, সে-ই আসল জ্ঞানি।
শেষে সে বুঝে—
ধর্ম মানে শুধু ইবাদত নয়,
মানুষের মনে শান্তি দেওয়া—এটাই সবচেয়ে বড় জয়।
তার জীবন হয় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত,
যেখানে ভালোবাসাই শেষ সত্য।
মুসলিম সেই—
যার হাতে কেউ কাঁদে না,
যার মুখে কেউ আঘাত পায় না।
যে নিজে নিরাপদ থাকে।
আর অন্যকেও নিরাপদ রাখে—
সেই তো সত্যিকার ঈমানদার মানুষ।
***
নিরাপত্তার মানুষ”
মুসলিম সেই ব্যক্তি—
যার হাত ও মুখের আক্রমণ থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ।”
এই সংক্ষিপ্ত বাণীর ভেতরেই লুকিয়ে আছে
একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন—
মানবতা, সংযম, দয়া, এবং নিরাপত্তার পথ।
এই মহাকাব্য সেই পথেরই যাত্রা—
অন্ধকার থেকে আলোয়,
আঘাত থেকে মমতায়,
নিজ থেকে সমগ্র মানবতায়।
***
মুসলিম নাম শুধু নয়—এ এক দীপ্তি,
আচরণে ফুটে ওঠে তার প্রকৃত সৃষ্টি।
হাতে তার নিরাপত্তা, মুখে মিষ্টি বাণী,
তার জীবনই যেন হাদিসের বাণী।
সে বলে—
“আমার দ্বারা কভু কারো ক্ষতি না হোক,
আমার কথায় কারো হৃদয় না ভাঙুক।”
এই শপথে শুরু তার পথচলা,
নিজেকে গড়ার এক নতুন দোলা।
সমাজ যখন কাঁপে অন্যায়ের ভারে,
মানুষ মানুষকে আঘাত করে অকারণে,
তখন সে দাঁড়ায় নীরব শক্তি হয়ে—
শান্তির আলো জ্বালে নিজের হৃদয়ে।
রাগ যখন জ্বলে আগুনের মতো,
সে তখন থামে—ধৈর্যের সাথে।
কারণ সে জানে—
নিজেকে জয় করাই বড় জিহাদ,
এতেই লুকিয়ে জীবনের আসল সাধ।
একটি কথা পারে ভাঙতে মন,
আবার গড়তেও পারে সম্পর্কের বন্ধন।
তাই সে বেছে নেয় কোমল ভাষা,
যেখানে নেই আঘাত—আছে শুধু আশা।
তার হাত কারো ক্ষতির জন্য নয়,
বরং সাহায্যের জন্য সদা প্রস্তুত রয়।
সে জানে—
একটি স্পর্শও দিতে পারে শান্তি,
বা ডেকে আনতে পারে অনন্ত ক্লান্তি।
নীরবতা শেখায় কখন থামতে হয়,
রাগের আগুন নিভে ধৈর্যে শান্তি রয়।
দয়ার নদী বয়ে চলে অন্তর ভরে,
মানবতার ডাকে সে এগিয়ে পড়ে।
ভুল হলে সে চায় ক্ষমার পথ,
হৃদয় রাখে পরিষ্কার, নেই কোনো ক্ষত।
শয়তান ডাকলেও সে ফিরে আসে,
ঈমানের আলো তাকে রাখে পাশে।
একাকীত্বে সে খুঁজে নিজের রূপ,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে হয় দৃঢ় রূপ।
ন্যায়ের পথে চলে অবিচল প্রাণ,
ভালোবাসায় জিতে নেয় সবার প্রাণ।
চরিত্র তার দীপ্তিময় আলো,
মানুষ তার কাছে পায় ভরসার ভালো।
দুনিয়ার মোহ তাকে টানে না আর,
মৃত্যুর স্মরণে হয় সে সতর্ক বারবার।
বিচারের দিন যখন সামনে আসে,
তার আমল তখন আলো হয়ে ভাসে।
আল্লাহর করুণায় ভরে তার প্রাণ,
জান্নাতের পথে এগিয়ে যায় সে অবিরাম।
শেষে সে পায় চূড়ান্ত সফলতা—
একটি জীবন, পূর্ণ শান্ততা।
তার গল্প হয়ে থাকে দৃষ্টান্ত,
যেখানে ভালোবাসাই শেষ সত্য।
মুসলিম সেই—
যার হাতে কেউ আঘাত পায় না,
যার মুখে কেউ কষ্ট পায় না।
যে নিজে নিরাপদ থাকে,
আর অন্যকেও নিরাপদ রাখে—
সেই তো প্রকৃত মানুষ,
সেই তো সফল বিশ্বাসী।
***
মুসলিম নাম শুধু নয়—এ জীবন জ্বালা,
আচরণে ফুটে তার সত্যেরই জ্বালা।
হাতে তার শান্তি, মুখে মিষ্টি বাণী,
চলনে সে লিখে দেয় হাদিসের কাহিনী।
সে বলে—“হে হৃদয়! রাখ নিজেকে শুদ্ধ,
তোর দ্বারা যেন না হয় কারো ক্ষত-বিদ্ধ।”
শপথ নিয়ে চলে সে নীরব প্রত্যয়ে,
নিজেকে গড়ার পথে অটল প্রত্যয়ে।
সমাজ যখন ভাঙে হিংসার আঘাতে,
মানুষ মানুষকে হারায় নিজের হাতে,
সে তখন দাঁড়ায় শান্তির মিনার হয়ে,
অন্ধকার ভেদে আলো ছড়ায় বয়ে।
রাগ যখন জ্বলে ওঠে আগুনের ঢেউ,
সে তখন থামে—নিভায় নিজের ঢেউ।
নিজেকে জয় করাই শ্রেষ্ঠ বিজয়,
এতেই লুকায় জীবনের মহাময়।
কথা একটি তীর—হৃদয়ে করে ক্ষত,
আবার সেই কথা—ভরায় ভালোবাসার রথ।
তাই সে বেছে নেয় কোমল উচ্চারণ,
যেখানে শান্তি—সেখানে তার অবস্থান।
তার হাত কখনো আঘাতের নয়,
বরং সাহায্যে সদা প্রস্তুত রয়।
একটি স্পর্শে দিতে পারে প্রশান্তি,
তাই সে রাখে হাতে করুণার কান্তি।
নীরবতা অনেক সময় শ্রেষ্ঠ উত্তর,
যেখানে কথা বাড়ায় শুধু অন্ধকার।
সে শেখে কখন থামতে হয়,
এই নীরবতাতেই শান্তি রয়।
রাগ যেন আগুন—সব কিছু পোড়ায়,
বিবেকের আলোও নিভিয়ে ফেলে যায়।
সে তাই ধৈর্যের জলে নিভায় সে আগুন,
নিজেকে বাঁচায়—রক্ষা করে গুণ।
ধৈর্য এক নদী—গভীর ও শান্ত,
এর স্রোতে ভেসে যায় দুঃখের অন্ত।
সে এই নদীতে রাখে নিজ প্রাণ,
তাই তার জীবনে থাকে অবিরাম জ্ঞান।
তার দয়া সীমাবদ্ধ নয় কোনো গণ্ডিতে,
সব মানুষের জন্য—সব অবস্থাতে।
কারণ সে জানে—মানবতা বড়,
এতেই ঈমানের সৌন্দর্য গড়ে।
মানুষের কষ্টে সে কাঁদে নীরবে,
সাহায্যের হাত বাড়ায় অকুণ্ঠ ভবে।
মানবতার ডাক সে ফেলে না কভু,
এই পথেই পায় সে সত্যের রভু।
ভুল তো মানুষেরই স্বভাবজাত,
ক্ষমা করাই করে তাকে মহৎ।
সে ভুল মেনে নেয়, ক্ষমা চায় প্রাণে,
ক্ষমা করে দেয়—আলোর টানে।
হৃদয় যদি হয় কলুষে ভরা,
তবে জীবনও হয় অন্ধকার ধরা।
সে তাই হৃদয় রাখে নির্মল,
যেন তাতে জ্বলে ঈমানের ফল।
কুমন্ত্রণা আসে নানান রূপে,
মিথ্যার সাজে, লোভের কূপে।
সে তখন স্মরণ করে রবের নাম,
আর ফিরে আসে সত্যের ধাম।
জীবন এক পরীক্ষা—প্রতিক্ষণ,
ঈমান যাচাই হয় প্রতিটি ক্ষণ।
সে দৃঢ় থাকে প্রতিটি ঘূর্ণিতে,
কারণ সে জানে—জয় সত্যপথেই।
একাকীত্বে সে নিজেকে খুঁজে পায়,
ভিড়ের মাঝেও যে হারিয়ে যায়।
নীরব রাতে সে নিজেকে গড়ে,
আত্মার সাথে কথা বলে ঘরে।
অন্যায় দেখে সে চুপ থাকে না,
সত্যের পথে ভয় পায় না।
তার কণ্ঠে উঠে ন্যায়ের ডাক,
অন্ধকারে জ্বালে আলোর ফাঁক।
ন্যায়ের পথ কখনো সহজ নয়,
কাঁটা ভরা পথে চলতে হয়।
তবু সে হাঁটে দৃঢ় পদে,
কারণ সত্যই তার হৃদয়ে।
শেষে জিতে ভালোবাসার শক্তি,
ঘৃণা হারায়—মুছে যায় ভক্তি।
মানুষ ফিরে আসে মমতার পথে,
শান্তি নামে হৃদয়ের রথে।
একজন মানুষ বদলালে ধীরে,
সমাজ বদলায় তারই নীড়ে।
সে হয়ে ওঠে পরিবর্তনের দিশা,
আলো ছড়ায় দিক দিশা।
চরিত্র তার জ্বলজ্বলে নূর,
দেখে মানুষ হয় মুগ্ধ ভরপুর।
তার জীবনই এক উদাহরণ,
সত্যের পথে অটল কারণ।
মানুষ তার কাছে পায় নিরাপত্তা,
ভরসার ছায়া, ভালোবাসার ব্যাখ্যা।
কারণ সে দেয় না কভু আঘাত,
তার মাঝে নেই কোনো বিভ্রান্ত।
সে ছড়ায় শান্তি—কথায় ও কাজে,
মানুষ খুঁজে পায় স্বস্তি তার মাঝে।
তার উপস্থিতি এক প্রশান্তি,
যেন মরুভূমিতে জলের কান্তি।
দুনিয়ার মোহ তাকে টানে না আর,
সে দেখে এগুলো ক্ষণস্থায়ী ভার।
তার দৃষ্টি থাকে চিরন্তন পানে,
যেখানে শান্তি অনন্ত গানে।
মৃত্যুর কথা সে ভোলে না কভু,
এটাই তাকে রাখে সৎ রভু।
প্রতিটি কাজে রাখে হিসাব,
কারণ সামনে আছে চূড়ান্ত জবাব।
যেদিন হবে সব হিসাবের দিন,
কাঁপবে হৃদয়—ভেঙে যাবে ঋণ।
তাই সে প্রস্তুত আজ থেকেই,
সৎকর্মে ভরে প্রতিটি দিকই।
আল্লাহর দয়া—অসীম, অগাধ,
তারই ভরসায় চলে সব সাধ।
সে জানে—ক্ষমা পাবেই একদিন,
যদি থাকে অন্তরে সত্যের ঋণ।
জান্নাত তার চূড়ান্ত ঠিকানা,
শান্তির ঘর—চিরস্থায়ী মানা।
এই আশাতেই চলে সে পথ,
ত্যাগ করে সব মিথ্যা রথ।
শেষে সে পায় সাফল্যের আলো,
জীবন হয় তার পূর্ণ ভালো।
কারণ সে রক্ষা করেছে মানবতা,
এই তো জীবনের আসল সফলতা।
শেষে বলা হয় একটাই কথা—
“যার দ্বারা নেই কারো ব্যথা,
যার মুখে নেই কোনো আঘাত,
সেই তো মুসলিম—সত্যের প্রভাত।”
নিজে হও নিরাপদ, অন্যকেও রাখো—
এই পথেই শান্তি, এই পথেই থাকো।
হাত ও মুখ যদি হয় পবিত্র,
তবেই জীবন হবে আলোকিত চিত্র।
***
৪
৪ মন্তব্য