প্রভাষক
০৩ মে, ২০২৬ ০৬:০১ পূর্বাহ্ণ
কোন বৃষ্টিতে কই মাছ ডাঙায় উঠে আসে
কই মাছের বৃষ্টিতে ডাঙায় উঠে আসার বিষয়টি মূলত তাদের একটি বেঁচে থাকার লড়াই এবং সহজাত প্রাকৃতিক আচরণ। নিচে এর বিস্তারিত কারণ ও প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো:
১. নতুন পানির প্রতি আকর্ষণ (রিওট্যাক্সিস)কই মাছের একটি সহজাত প্রবৃত্তি হলো পানির স্রোতের বিপরীতে চলা, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় রিওট্যাক্সিস (Rheotaxis) বলা হয় । ভারী বৃষ্টির সময় যখন পুকুর বা জলাশয় উপচে পানি বাইরের নিচু জমি বা উঠানের দিকে গড়িয়ে যায়, তখন কই মাছ সেই স্রোত অনুভব করে এবং স্রোত বরাবর উজান বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করে । গ্রামীণ ভাষায় একে 'মাছ উজানো' বলা হয় ।
২. অক্সিজেন ও খাদ্যের সন্ধানেঅক্সিজেন: দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হলে পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিতে পারে। বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন বেশি থাকে, যা মাছকে আকৃষ্ট করে। তবে অনেক সময় বৃষ্টির ফলে জলাশয়ের তলার জৈব পদার্থ পচে অক্সিজেনের ঘাটতিও হতে পারে, তখন মাছ ডাঙায় উঠে আসে সরাসরি বাতাস থেকে শ্বাস নেওয়ার জন্য ।খাদ্য: বৃষ্টির পর মাটির গর্ত থেকে কেঁচো, উইপোকা বা বিভিন্ন ছোট পোকামাকড় বের হয়ে আসে। এই সহজলভ্য খাবারের লোভেও তারা ডাঙার দিকে ধাবিত হয়।
৩. প্রজনন ও নতুন আবাসস্থলবর্ষাকাল কই মাছের প্রজননের সময়। বৃষ্টির পানির নতুন স্রোত তাদের ডিম ছাড়ার জন্য উদ্দীপ্ত করে । তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এক জলাশয় থেকে অন্য জলাশয়ে যেতে এই বৃষ্টির সময়কেই বেছে নেয়, কারণ ভেজা মাটিতে তাদের চলাফেরা করা সহজ হয়।
৪. ডাঙায় বেঁচে থাকার কৌশল (ল্যাবিরিন্থ অর্গান)কই মাছ অন্য মাছের মতো শুধু ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয় না। তাদের মাথায় 'ল্যাবিরিন্থ অর্গান' (Labyrinth organ) নামক একটি বিশেষ অতিরিক্ত শ্বসন অঙ্গ থাকে। এর মাধ্যমে তারা বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে, যার ফলে ডাঙায় তারা প্রায় ৬ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়।
৫. ডাঙায় চলাফেরা করার সক্ষমতাকই মাছের পাখনা এবং কানকোর (Gill cover) পাশের কাঁটাগুলো বেশ শক্ত। তারা এই শক্ত পাখনা ও কানকো ব্যবহার করে মাটির ওপর 'হাঁটতে' বা লাফিয়ে চলতে পারে। এ কারণেই তাদের ইংরেজিতে 'Climbing Perch' বলা হয় ।
৪
৪ মন্তব্য