প্রভাষক
০৩ মে, ২০২৬ ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
হেদায়েতের পথে অবিচল থাকার উপায়
হেদায়েতের পথে অবিচল থাকা বা ইসলামের পরিভাষায় ‘ইসতিকামাহ’ অর্জনের জন্য কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিচে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. আল্লাহর কাছে দোয়ায় আকুলতাহেদায়েত সম্পূর্ণ আল্লাহর দান, তাই এটি ধরে রাখতে তাঁর সাহায্য অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে বেশি পঠিত দোয়া ছিল—আরবি: يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَউচ্চারণ: ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কলবি আলা দিনিক।অর্থ: "হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর সুদৃঢ় রাখুন"।অন্যান্য দোয়া: নবীজি (সা.) আলী (রা.)-কে "আল্লাহুম্মাহদিনি ওয়া সাদ্দিদনি" (হে আল্লাহ, আমাকে হেদায়েত দিন এবং সত্যের ওপর অবিচল রাখুন) শেখাতেন।
২. কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক (তাদাব্বুর)কুরআন কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং এর অর্থ বুঝে অনুধাবন (তাদাব্বুর) করা হৃদয়ে ঈমানের ভিত্তি মজবুত করে। নিয়মিত কুরআন অধ্যয়ন অন্তরকে পাপাচার থেকে রক্ষা করে এবং সত্য পথে চলার শক্তি জোগায়।
৩. নেক আমলের ধারাবাহিকতারাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে সেই আমল সবচেয়ে প্রিয় যা নিয়মিত করা হয়, পরিমাণে তা অল্প হলেও।সালাত: সঠিক সময়ে একাগ্রতার সাথে নামাজ আদায় করা হেদায়েতের পথে নোঙরের মতো কাজ করে।গোপন ইবাদত: লোকচক্ষুর অন্তরালে কিছু ইবাদত রাখা (যেমন- দান বা তাহাজ্জুদ) ইখলাস বা নিয়তের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে, যা অবিচল থাকতে সাহায্য করে।
৪. সৎ সঙ্গ ও আলেমদের সান্নিধ্যমানুষ তার বন্ধুর দ্বীন দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই এমন বন্ধুদের সাথে চলাফেরা করা উচিত যারা আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য আলেমদের সান্নিধ্য বা সোহবত গ্রহণ করলে দ্বীনের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো বোঝা ও বিভ্রান্তি থেকে বাঁচা সহজ হয়।
৫. দ্বীনি জ্ঞান অর্জন ও দাওয়াহসঠিক জ্ঞান ছাড়া শয়তানের বিভ্রান্তি থেকে বাঁচা কঠিন। কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করা এবং সাধ্যমতো তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া (দাওয়াহ) নিজের ঈমানকে সজীব রাখে।
৬. মৃত্যু ও আখেরাতের স্মরণদুনিয়ার চাকচিক্য মানুষকে অনেক সময় পথভ্রষ্ট করে। নিয়মিত কবর যিয়ারত বা পরকালের বিভীষিকা ও জান্নাতের নিয়ামতের কথা স্মরণ করা অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টি করে এবং বিচ্যুতি থেকে বাঁচায়।
৪
৪ মন্তব্য