সহকারী অধ্যাপক
০২ মে, ২০২৬ ০৬:১৭ অপরাহ্ণ
মজলুমের আর্তনাদ - মোঃ মুজিবুর রহমান
মজলুমের আর্তনাদ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
এই হৃদয়ের ভাঙা সুরে, জমেছে কত ব্যথা,
মানুষ নিল হক আমার—ফিরিয়ে দিল না কথা।
বিশ্বাস ভেঙে, প্রতারণায়, করল তারা ঘের,
নীরব রাতে কান্না মিশে—ডাকে শুধু ফের।
বন্ধু বলে পাশে ছিল, হাসত মিষ্টি মুখে,
অন্তরে তার লোভের আগুন, জ্বলত দুখে দুখে।
টাকার কথা উঠতেই সে বদলে ফেলল রূপ,
হাসির আড়াল সরিয়ে দিয়ে—দেখাল আসল কূপ।
“আমার হকটা ফিরিয়ে দাও”—বললাম শতবার,
উত্তরে সে দিল শুধু—হুমকি আর ধোঁকার ভার।
ন্যায়ের পথে দাঁড়িয়ে আমি—হয়ে গেলাম একা,
মানুষগুলো মুখ ফিরিয়ে—করল না কেউ দেখা।
রাতের শেষে অন্ধকারে, উঠল বুকের আর্তনাদ,
“হে আল্লাহ! তুমি দেখো—আমার সকল অবসাদ।”
চোখের জলে নামল দোয়া, কাঁপল অন্তর প্রাণ,
তুমি ছাড়া এই দুনিয়ায়—নেই তো কোনো জ্ঞান।
হে পরাক্রমশালী প্রভু, তুমি সর্বশক্তিমান,
আমার হকটা ফিরিয়ে দাও—এই আমার আরমান।
যারা নিল অন্যায় করে, দিলো শুধু দুঃখ,
তাদের বিচার তোমার হাতে—এই তো আমার সুখ।
দিন যায় কষ্টে ভরা, রাত নামে বিষাদে,
তবুও মন বলে উঠে—“থাকো তুমি সাধে।”
ধৈর্যের বাঁধন শক্ত করে, দাঁড়াও ন্যায়ের পথে,
আল্লাহ দেখেন প্রতিটি চোখ—লুকানো অশ্রুতে।
যাদের ভেবেছিলাম আপন, তারাই দিল আঘাত,
হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখে—অন্ধকারের রাত।
কথার জালে ফাঁসিয়ে রেখে, নিলো সবই ছিনিয়ে,
মানবতা আজ কাঁদে বসে—নিজের লজ্জা গুনিয়ে।
কিন্তু হে মন! ভেঙে পড়িস না—তুই তো মুমিন প্রাণ,
অন্যায়ের সামনে দাঁড়ানো—তোরই সম্মান।
হকের দাবি ছেড়ে দিলে—হবে নিজের ক্ষতি,
ন্যায়ের পথে লড়াই করা—সত্যিকার শক্তি।
অন্ধকার যত গভীর হোক—আলো আসে শেষে,
দুঃখ যতই কঠিন হোক—সুখ দাঁড়ায় পাশে।
আল্লাহ যদি সাথে থাকেন—কিসের আবার ভয়?
মজলুমের কান্না শুনে—তিনি বিচারময়।
আমি চাই না প্রতিশোধ—চাই শুধু ন্যায়,
যা আমার প্রাপ্য ছিল—ফিরে আসুক তাই।
তুমি তো হক্কের মালিক—তুমি বিচারক মহান,
তোমার দ্বারেই সঁপে দিলাম—আমার সবই জ্ঞান।
হে আল্লাহ! কষ্টগুলো দূর করে দাও আজ,
হৃদয়ের এই বোঝা যেন না থাকে আর সাজ।
আমার হক প্রতিষ্ঠা করো—তোমার রহমতে,
শান্তি দাও এই অন্তরে—তোমার করুণাতে।
এই দুনিয়া ক্ষণিকের পথ—পরীক্ষারই স্থান,
ন্যায়ের পথে থাকলে তুমি—পাবে সফল জ্ঞান।
মজলুমের এই কান্না একদিন হবে জয়,
আল্লাহর দরবারে কোনো অন্যায় থাকে না ক্ষয়।
***
বিশ্বাস ছিল সোনার মতো—চকচকে আর খাঁটি,
বন্ধুত্বের মুখোশ পরে—ছিল যে কত ফাঁকি।
হাসির ভিতর লুকিয়ে ছিল—লোভের বিষাক্ত দংশন,
হাত বাড়িয়ে নিলো সবই—করল বিশ্বাস ভক্ষণ।
“ভাই” বলে যে ডেকেছিল—সে-ই হলো শত্রু,
অন্তরের সেই আঘাত যেন—বিষের থেকেও তীক্ষ্ণ।
মানুষ চিনা কঠিন বড়—মুখে মধু, অন্তর কালো,
চোখের সামনে সত্য এল—ভেঙে গেলো ভালো।
বারবার বলি—“আমার হক, ফিরিয়ে দাও আমায়,”
উত্তরে শুধু ভয় দেখানো—হুমকিরই ছায়া।
ন্যায়ের কথা শুনতে তারা—হয় না রাজি কভু,
অন্যায়েরই দুর্গ গড়ে—বসে আছে সবই।
কথা দিলো, কথা ভাঙল—এ যেন নিয়ম হলো,
মানুষ হয়ে মানুষকে তারা—অমানুষে রূপ দিলো।
হকের দাবি যেন আজ—অপরাধের নাম,
সত্য বললেই শত্রু তুমি—এই দুনিয়ার দাম।
রাত নামে—নীরবতা, বুকের ভিতর ঝড়,
চোখের জলে ডুবে থাকে—অজস্র ব্যথার ঘর।
কারো কাছে বলার নেই—এই অন্তরের কথা,
নিঃসঙ্গতার সঙ্গী শুধু—দুঃখভরা ব্যথা।
নিঃশব্দে সেই কান্নাগুলো—আকাশ ছুঁয়ে যায়,
হৃদয়ের এই আর্তনাদ—শুধু আল্লাহ চায়।
মানুষ যখন ফেলে দেয়—অসহায়ের মতো,
প্রভুই তখন কাছে আসেন—নেন বুকে যত।
হাত তুলে বলি—“হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া কে?”
তোমার দরেই মাথা নত—এই দুঃখের ঢেকে।
“ইয়া কউইয়্যু, ইয়া আজীজ”—জিকিরে ভরে মন,
তোমার নামেই খুঁজে পাই—শান্তিরই কারণ।
দোয়ার মাঝে লুকিয়ে থাকে—অদৃশ্য এক বল,
ভেঙে যাওয়া হৃদয়টাকে—করে আবার চল।
মজলুমের এই চোখের জল—নষ্ট হয় না কভু,
তোমার আরশ কেঁপে উঠে—শোনে সেই রবু।
ধৈর্য যেন আগুনের মতো—জ্বলে অন্তর মাঝে,
সহ্য করে মানুষ তখন—দুঃখের কঠিন সাজে।
প্রতিটি দিন পরীক্ষার—প্রতিটি ক্ষণ ভার,
তবুও মন বলে উঠে—“ধৈর্য ধরো আর।”
সহ্যের ভিতর লুকিয়ে থাকে—জয়েরই ইশারা,
আল্লাহ দেন সেই প্রতিদান—যা নেই কোনো সারা।
কষ্ট যতই দীর্ঘ হোক—শেষ আছে তার,
ধৈর্যধারী মুমিন পায়—সফলতার দ্বার।
অন্যায় করে হাসছে যারা—ভাবছে জয় তাদের,
ক্ষমতারই দম্ভে ভরা—অন্ধকারের ফের।
ভয় দেখিয়ে চুপ করাতে—চায় তারা সবাইকে,
সত্য যেন চাপা পড়ে—মিথ্যার ঢেউতে।
কিন্তু তারা জানে না যে—সময় বড় বিচারক,
অন্যায়েরই প্রতিটি দাগ—রেখে দেয় হিসাবক।
আজ যারা শক্তির নেশায়—দাপিয়ে বেড়ায়,
কালই তারা ন্যায়ের কাছে—হার মানে নির্দ্বিধায়।
হে আমার মন! জেগে উঠ—ভেঙে পড়িস না আর,
তুই তো সত্যের পথিক—তোরই আছে অধিকার।
অন্যায়ের সাথে আপস করা—মুমিনের কাজ নয়,
ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকাই—তোর সত্য জয়।
হকের পথে দাঁড়ানোই—সাহসের পরিচয়,
ভয়কে জয় করে যে চলে—সেই সত্যময়।
হার মানা নয়, থামা নয়—চলতে হবে তোর,
আল্লাহ আছেন সাথে—খুলবে বিজয়ের দ্বার।
অন্ধকার যত গভীর হয়—আলো ততই কাছে,
কষ্ট যতই বাড়ুক না কেন—শেষ আছে সে মাঝে।
আল্লাহ বলেন—“সবর করো”—আছে তার ফল,
দুঃখ শেষে হাসি আসে—মুছে যায় সব জল।
এই প্রতিশ্রুতি সত্য—কখনো মিথ্যা নয়,
মজলুমের প্রতিটি কান্না—আল্লাহ গুণে রয়।
সময় এলে ফিরিয়ে দেন—হারানো সবই,
ন্যায়ের পাল্লা ভারী হয়—চিরকালই।
প্রতিশোধ নয়—ন্যায় চাই, এ আমার দাবি,
যা আমার প্রাপ্য ছিল—ফিরে আসুক সবই।
ঘৃণা নয়, বদলা নয়—চাই শুধু বিচার,
আল্লাহ তুমি জানো সব—গোপন আর প্রকাশ।
হৃদয়ে নেই প্রতিহিংসা—আছে শুধু বেদনা,
ন্যায়ের আলোয় মুছে যাক—এই অন্ধকার রচনা।
তোমার হুকুমেই চলুক সব—এই কামনা করি,
তোমার বিচারই শেষ কথা—তাই তোমারই ধরি।
হে প্রভু! তোমার হাতে দিলাম—আমার সবই আজ,
হকের এই বিচার যেন—হয় তোমার সাজ।
আমার কষ্ট দূর করে দাও—ভরাও শান্তিতে,
তোমার রহমতের ছায়ায় রাখো—জীবনের প্রতিতে।
যা হারিয়েছি—ফিরে পেতে চাই না শুধু তাই,
তোমার সন্তুষ্টি পেলেই—সবকিছুই পাই।
এই দুনিয়া ক্ষণিক মাত্র—চিরস্থায়ী তুমি,
তোমার দয়ার ছায়াতেই—শান্তি খুঁজে আমি।
***
প্রতারণার চূড়ান্ত মুখ
মুখে তারা দীন-ধর্ম, অন্তরে কপটতা,
বাহিরে নেকির পোশাক, ভিতরে পাপের ব্যথা।
লেবাস দিয়ে ঢেকে রাখে—অন্যায়েরই দাগ,
মানুষ ভাবে ধার্মিক তারা—আসলে বড় ফাঁক।
মিথ্যার উপর গড়ে তোলে—সম্মানেরই দেয়াল,
ভেতরে কিন্তু পচে যায়—অন্যায়েরই জাল।
এই দুনিয়ায় চেনা কঠিন—কারা সত্যবাদী,
বাহির দেখে বিচার করলে—ভুল হয় অবধি।
হুমকির ভাষা বাড়তে থাকে—“চুপ না থাকলে ক্ষতি,”
ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখতে—তাদেরই প্রবৃত্তি।
রাতের ঘুম উড়ে যায়—চিন্তার ভারে মন,
কিন্তু ভিতর থেকে বলে—“থামিস না এখন।”
ভয়কে জয় করা মানেই—একটি বড় লড়াই,
সত্যের পথে হাঁটতে গেলে—এটাই নিয়ম ভাই।
যে ভয়কে জিতে নেয়—সে-ই প্রকৃত বীর,
অন্যায়ের সামনে মাথা নত—কখনো নয় ধীর।
চেষ্টা শুরু—মানুষ ধরা, মুরুব্বিদের কথা,
সমঝোতার দরজায় গিয়ে—বললাম নিজের ব্যথা।
কেউ কেউ দিলো সাহস এসে—কেউ রইল নিরব,
তবুও থামিনি আমি—চলেছি নিজের রব।
আইনের পথে ধীরে ধীরে—খুলতে লাগল দ্বার,
ন্যায়ের কাগজ, সাক্ষ্য-প্রমাণ—হলো প্রস্তুতকার।
সত্য যখন দৃঢ় থাকে—ভাঙে না কোনো চাপ,
আল্লাহ দেন সেই শক্তি—যা করে অন্যায় চাপ।
হঠাৎ করে একদিন দেখি—সহজ হলো পথ,
যেখানে ছিল অন্ধকার—সেখানে আলোর রথ।
অচেনা কেউ সাহায্য করে—দিয়ে যায় সাহস,
মনে হয় যেন আল্লাহরই—গোপন কোনো স্পর্শ।
দোয়ার ফল যে আসে ধীরে—তবু আসে ঠিক,
অদৃশ্য হাতে বদলে যায়—জীবনের প্রতিটিক।
মজলুমের কান্না বৃথা নয়—এ সত্য চিরকাল,
রবের রহমত নেমে আসে—মুছে দেয় সব জ্বাল।
আগে ছিল শুধু রাগ আর—কষ্টেরই ঢেউ,
এখন মনে ধৈর্যের আলো—জ্বলে নতুন ঢেউ।
ঘৃণা ধীরে কমে গিয়ে—জায়গা নেয় দোয়া,
শত্রুর জন্যও চাইতে শিখি—হেদায়েতের ছোঁয়া।
এই পরিবর্তন শক্তিশালী—অন্তরেরই জয়,
নিজেকে জয় করতে পারা—সবচেয়ে বড় পরিচয়।
হৃদয় যখন পরিষ্কার হয়—শান্তি নামে তাতে,
আল্লাহ তখন কাছে থাকেন—রহমতেরই সাথে।
সময় নামে নীরব বিচারক—ধীরে ধীরে কাজ,
আজ যারা হাসে অন্যায়ে—কাল তাদের লাজ।
অন্যায়েরই ফল একদিন—ফিরে আসে ঠিক,
যে যেমন করে, পায় তেমন—এটাই ন্যায়ের দিক।
মিথ্যার ঘর টেকে না বেশি—ভেঙে পড়ে শেষে,
সত্যের আলো ফুটে উঠে—অন্ধকারের দেশে।
ধৈর্যের ফল মিষ্টি হয়—এ কথা সত্যি আজ,
সময়ই দেয় প্রকৃত বিচার—নেই কোনো লাজ।
সত্য এক অদ্ভুত শক্তি—চাপা থাকে না কভু,
যতই ঢাকো মিথ্যার চাদর—ফাঁস হয়ে যায় সবই।
সাক্ষ্য-প্রমাণ দাঁড়ায় এসে—ন্যায়ের পক্ষে চুপ,
মিথ্যার সব মুখোশ খুলে—দেখায় আসল রূপ।
সত্যের পথে থাকা মানে—একটি কঠিন দায়,
তবুও এতে আছে শক্তি—যা অন্য কোথাও নাই।
যে সত্যকে আঁকড়ে ধরে—সে কখনো হারে না,
আল্লাহ তার সাথে থাকেন—ফেলে দেন না।
ধীরে ধীরে দৃশ্য বদলায়—অন্যায়েরই ভাঙন,
যে ছিল শক্ত, সে-ই এখন—হারায় নিজের রঙ।
মানুষ চিনতে শুরু করে—কারা আসল দোষী,
সত্যের আলোয় প্রকাশ পায়—মিথ্যার সব রাশি।
হকের দাবি শোনা যায়—সমাজেরই মাঝে,
ন্যায়ের পথে হাঁটা মানুষ—আর থাকে না লাজে।
একটি ছোট পদক্ষেপও—বড় হয়ে যায় শেষে,
ন্যায়ের বৃক্ষ জন্ম নেয়—ধীরে ধীরে দেশে।
যা হারিয়েছিলাম একদিন—ফিরে আসার বার্তা,
মনে লাগে—শেষ পর্যন্ত—মিটবে এই ভারটা।
সম্পূর্ণ না হলেও কিছু—ফিরে আসে হাতে,
আল্লাহর দয়া বুঝতে পারি—এই ছোট প্রাপ্তিতে।
প্রতিটি অর্জন শেখায় নতুন—ধৈর্যেরই মানে,
কষ্ট ছাড়া সুখের মূল্য—বোঝা যায় না প্রাণে।
আল্লাহ দেন ঠিক সময়েই—যা আমাদের হক,
দৌড় নয়, অপেক্ষাই—জয়ের আসল পথ।
শেষে এসে দাঁড়ায় সত্য—উঁচু মাথা তুলে,
অন্যায়ের সব দেয়াল ভেঙে—পড়ে ধূলার কূলে।
হকের আলো ছড়িয়ে পড়ে—অন্তর হতে বাহিরে,
ন্যায়ের জয় ধ্বনি ওঠে—নীরবতার শহরে।
এই জয় শুধু টাকার নয়—এটা আত্মার জয়,
অন্যায়ের সামনে দাঁড়ানো—সবচেয়ে বড় পরিচয়।
মজলুমের এই ধৈর্য একদিন—ইতিহাস হয়ে রয়,
আল্লাহর ন্যায়বিচারে—সব অন্যায় ক্ষয়।
***
এই দুনিয়া ক্ষণিক ছায়া—একটি চলার পথ,
যা কিছু আজ আপন মনে—সবই হবে রথ।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, গর্ব—রবে না কিছু সাথে,
শেষে শুধু আমলটাই—থাকবে নিজের হাতে।
যারা আজ অন্যায় করে—হাসে শক্তির জোরে,
তারা ভুলে—একদিনই দাঁড়াবে হিসাব ঘরে।
দুনিয়ার এই মঞ্চটুকু—পরীক্ষারই স্থান,
আসল বিচার হবে পরে—সেই তো সত্য জ্ঞান।
একদিন সব থেমে যাবে—বেজে উঠবে ডাক,
মানুষ যাবে দলে দলে—হিসাবেরই ফাঁক।
সেই দিনে নেই কোনো ভয়—লুকানোরই স্থান,
প্রকাশ হবে প্রতিটি কাজ—খোলা হবে প্রাণ।
মজলুম দাঁড়াবে সেদিন—উঁচু করে মাথা,
জালিম তখন কাঁপবে ভয়ে—খুঁজবে না কোনো ব্যাখ্যা।
এক ফোঁটা চোখের জলের—হিসাব হবে ঠিক,
ন্যায়ের পাল্লা ভারী হবে—অবিচল নির্দ্বিধিক।
সেই আদালত নিখুঁত বিচার—নেই কোনো ভুল,
না আছে পক্ষপাতিত্ব—না আছে কোনো কূল।
হক যার, সে পাবে পুরো—কিছুই হবে না কম,
অন্যায়ের প্রতিটি ঋণ—শোধ হবে সেই সময়।
যে নিয়েছিল অন্যের হক—অন্যায়ভাবে একদিন,
তার ভালো কাজও চলে যাবে—ফিরিয়ে দিতে ঋণ।
ন্যায়ের এই পাল্লা যখন—হবে ভারী বেশ,
জালিম তখন বুঝবে এসে—কি করেছে সে শেষ।
দুনিয়ার সুখ ক্ষণিক মাত্র—মায়ার এক খেলা,
আখিরাতের সুখের কাছে—সবই যেন মেলা।
যে কষ্ট আজ সহ্য করো—আল্লাহরই তরে,
সেই কষ্টই রূপ নেবে—শান্তিরই ঘরে।
হারানো হক, চোখের পানি—সবই আছে জমা,
একদিন তার প্রতিদান—দেবে প্রভু মহান।
দুনিয়ার ক্ষতি কিছু নয়—যদি থাকে ঈমান,
আখিরাতের সফলতাই—জীবনের সম্মান।
ধীরে ধীরে শান্তি নামে—অন্তরেরই ঘরে,
দুঃখগুলো হারিয়ে যায়—রহমতেরই স্রোতে।
যা ঘটেছে—মেনে নিয়ে—হৃদয় হয় হালকা,
আল্লাহর উপর ভরসা রেখে—হয় না আর দোলাচল।
ক্ষমা করার শক্তি আসে—অন্তরেরই মাঝে,
রাগ আর ঘৃণা হারিয়ে যায়—আলোরই সাজে।
এই শান্তি সবচেয়ে বড়—জয়েরই নিদর্শন,
নিজেকে জয় করাই তো—সত্যিকারের অর্জন।
হকের পথে ধৈর্য ধরার—সবচেয়ে বড় ফল,
আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া—মুছে দেয় সব জ্বাল।
মানুষ যদি না-ও দেয়—তোমার প্রাপ্য মান,
প্রভু কিন্তু দেন প্রতিদান—অগণিত সম্মান।
যার উপর আল্লাহ খুশি—সে-ই সত্যিকার ধনী,
দুনিয়ার সব হারিয়েও—সে থাকে অমনি।
এই সন্তুষ্টি পাওয়ার মাঝে—আছে চির সুখ,
দুনিয়ার কোনো অর্জনই—তার সমান নয় মুখ।
এই পথের প্রতিটি কষ্ট—শিক্ষা হয়ে রয়,
মানুষ চেনা, নিজেকে জানা—সবই নতুন হয়।
বিশ্বাস রাখতে শিখি আবার—সতর্কতার সাথে,
সরলতা আর প্রজ্ঞা মিলে—চলতে হয় পথে।
অন্যায়ের এই অভিজ্ঞতা—ভবিষ্যতের ঢাল,
একই ভুলে না পড়ারই—এটাই তো জাল।
মুমিন শিখে প্রতিটি ক্ষণ—ভুল থেকে শিক্ষা,
এই জ্ঞানই জীবনের—সবচেয়ে বড় দীক্ষা।
পুরনো কষ্ট পেছনে ফেলে—শুরু নতুন পথ,
অভিজ্ঞতার আলো হাতে—হয় জীবনের রথ।
হার মানা নয়—জয় নিয়ে—ফিরে আসা আজ,
এই সংগ্রামই দিয়েছে—নতুন এক সাজ।
নিজেকে গড়ে তোলা এখন—সবচেয়ে বড় কাজ,
অন্যায়ের ভয় না পেয়ে—চলতে হবে আজ।
আল্লাহর উপর ভরসা রেখে—হোক নতুন দিন,
এই জীবনেই খুঁজে নাও—শান্তিরই ঋণ।
যা পেয়েছি, যা হারিয়েছি—সবই তোমার দান,
হে আল্লাহ! তোমার রহমত—অশেষ অফুরান।
কষ্ট দিয়ে শিখিয়েছো—ধৈর্যেরই মানে,
সুখ দিয়ে দেখিয়েছো—তোমার দয়া প্রাণে।
এই জীবনের প্রতিটি ক্ষণ—তোমারই আমানত,
কৃতজ্ঞতায় ভরে রাখি—আমার প্রতিটি প্রণত।
তোমার দয়ার ছায়া ছাড়া—নেই কোনো আশ্রয়,
তুমি আছো বলেই প্রভু—সবকিছুই জয়।
শেষে এসে বুঝি আমি—সবকিছুরই মানে,
ন্যায়ের পথে কষ্ট সয়াই—সত্যিকার টানে।
হকের জন্য লড়াই করা—ব্যর্থ যায় না কভু,
আল্লাহর ন্যায়বিচারে—মিটে সবই রভু।
এই কবিতা নয় শুধু—একটি জীবনের গান,
মজলুমের এই ধৈর্যই—সত্যিকার সম্মান।
অন্যায়ের অন্ধকার শেষে—আলো আসে ঠিক,
সত্যের জয়, ন্যায়ের জয়—এটাই চিরদিক।
***
৪
৪ মন্তব্য