Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ মে, ২০২৬ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

অহংকার: সাফল্যের পথে এক অদৃশ্য দেয়াল

অহংকার মানুষের চরিত্রের এমন একটি নেতিবাচক দিক, যা ধীরে ধীরে আমাদের বিবেক ও মনুষ্যত্বকে গ্রাস করে নেয়। সহজ কথায় বলতে গেলে, অহংকার হলো নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় মনে করা এবং অন্যদের তুচ্ছজ্ঞান করা। যখন আমাদের মনে এই ধারণা জন্মে যে আমিই সেরা বা আমার সম্পদ ও জ্ঞান অন্য সবার চেয়ে বেশি, তখনই আমাদের পতনের সূচনা হয়। কারণ অহংকার মানুষকে অন্ধ করে দেয়, ফলে সে নিজের ভুলগুলো আর দেখতে পায় না এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

​বাস্তব জীবনে দেখা যায়, অহংকারী ব্যক্তি সাময়িকভাবে অনেক ক্ষমতা বা প্রতিপত্তি অর্জন করলেও দিনশেষে সে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মানুষ তাকে ভয় পেতে পারে, কিন্তু শ্রদ্ধা করে না। সত্যিকারের সম্মান আসে বিনয় থেকে। একজন বিনয়ী মানুষ পাহাড়ের পাদদেশের মতো, যেখানে বৃষ্টির পানি জমে উর্বরতা তৈরি হয়; অন্যদিকে অহংকারী ব্যক্তি পাহাড়ের চূড়ার মতো, যেখানে বৃষ্টির পানি দানা বাঁধতে পারে না, বরং দ্রুত গড়িয়ে নিচে পড়ে যায়।

​অহংকারমুক্ত থাকতে হলে আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, পৃথিবীতে আমরা যা কিছু অর্জন করেছি—তা সে জ্ঞান হোক, রূপ হোক বা সম্পদ—সবই ক্ষণস্থায়ী। আজ যা আমার আছে, কাল তা অন্য কারোর হতে পারে। তাই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির না করে বরং অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া জরুরি। অন্যের সফলতায় ঈর্ষান্বিত না হয়ে বরং তাদের অভিনন্দন জানানোর মানসিকতা তৈরি করলে মন থেকে অহংকার দূর হয়।

​পরিশেষে বলা যায়, বিনয় কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি মহৎ গুণ। মানুষ হিসেবে আমাদের সার্থকতা তখনই ফুটে ওঠে যখন আমরা নিচু স্বরে কথা বলি, অন্যের বিপদে হাসিমুখে পাশে দাঁড়াই এবং নিজের ভুলগুলো নির্দ্বিধায় স্বীকার করি। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন থাকা ভালো, কিন্তু মাটির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে সেই উচ্চতা ধরে রাখা অসম্ভব। তাই আসুন, আমরা অহংকারের দেয়াল ভেঙে বিনয়ের সেতুবন্ধন তৈরি করি এবং একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলি।

মন্তব্য করুন

ব্লগ