সহকারী অধ্যাপক
০১ মে, ২০২৬ ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
অতীতের ধ্বংসস্তূপ মোঃ মুজিবুর রহমান
অতীতের ধ্বংসস্তূপ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
তবে কি তারা পথ চলে না, এই বিস্তৃত ধরায়?
দেখে না ইতিহাসের ক্ষত, ধ্বংসস্তূপের ছায়ায়?
যারা ছিল গর্বে অন্ধ, শক্তির দম্ভে ভরা—
আজ তারা কোথায় হারাল, কই তাদের সে ধরা?
দালান ছিল আকাশছোঁয়া, সিংহাসন ছিল দৃঢ়,
ক্ষমতার মদে মত্ত ছিল, করত না সত্যে শ্রদ্ধা।
আল্লাহর বাণী এলো যখন, ফিরল না তারা পিছু,
অহংকারে ডুবে রইল—ভুলে গেল সবকিছু।
হঠাৎ এল ভয়াল ধ্বংস, কেঁপে উঠল ভূমি,
একদিনেই নিভে গেল তাদের অহংকারের জ্যোতি।
আজকে শুধু ধুলো পড়ে, ইতিহাস কাঁদে চুপে,
কালের বুকে লেখা আছে—শিক্ষা লুকায় রূপে।
হে মানুষ! কেন তুমি আজো ভুলের পথে চলো?
দেখো না কি শেষটা কেমন—ভাবো, একটু বলো।
যারা ছিল গতকাল শক্তিশালী, আজ তারা নেই,
কাফিরদের সেই পরিণাম—আজও থামে নাকো সেই।
***
ধ্বংসের সাক্ষী পৃথিবী
চলো তবে হাঁটি সবাই, এই বিস্তৃত ধরায়,
ইতিহাসের পাতায় পাতায়, সত্য জেগে রয়।
পাহাড়, নদী, মরুভূমি—সবই বলে কথা,
যেখানে লুকিয়ে আছে অতীত দিনের ব্যথা।
যারা ছিল দম্ভে ভরা, শক্তিতে অপরাজেয়,
আজকে তাদের নামটুকুও ইতিহাসে ক্ষয়।
চলো দেখি ধ্বংসস্তূপ, চলো শুনি ধ্বনি,
কালের বুকে লেখা আছে—কারা ছিল ধনী।
তারা বলত—“আমরাই শক্তি, আমরাই মহাশক্তিমান!”
তাদের চোখে সত্য ছিল কেবলই অবহেলিত জ্ঞান।
আল্লাহর বাণী এলেও করল না তারা মান,
অহংকারে ঢেকে গেল তাদের বিবেকের প্রাণ।
সোনার প্রাসাদ গড়ল তারা, আকাশ ছুঁতে চায়,
কিন্তু অন্তরে ছিল শূন্যতা—অন্ধকারের ছায়া।
নবীদের ডাকে ফিরল না, হাসল উপহাস করে,
নিজেদের শক্তিকেই ভাবল চূড়ান্ত সবকিছুর উপরে।
বারবার এল সতর্কতা—“ফিরে আসো, হে মানুষ!”
কিন্তু তারা শুনল না, থাকল পাপের আবেশে আবিষ্ট।
আকাশ যেন নীরবে কাঁদে, জমিন দেয় সাড়া,
তবু তারা বোঝে না কিছু, ভুলেই থাকে সারা।
নবীরা কাঁদে, দোয়া করে, বলে—“হে প্রভু, দাও হিদায়াত,”
কিন্তু তাদের হৃদয় কঠিন, নেই কোনো অনুতাপ।
অবশেষে নেমে আসে সেই ভয়াল সিদ্ধান্ত,
যেখানে শেষ হয় সব দম্ভ, মুছে যায় অহংকারের চিহ্ন।
হঠাৎ করে আসে ঝড়, আকাশ করে গর্জন,
ভূমি কাঁপে, সাগর ফুঁসে—শুরু হয় ধ্বংসের সৃজন।
এক মুহূর্তে ভেঙে পড়ে প্রাসাদ আর মিনার,
যেন কালের কাছে হার মানে তাদের সব অহংকার।
চিৎকার করে মানুষ তখন—“ফিরে যাই আমরা!”
কিন্তু সময় তখন পেরিয়ে গেছে—বন্ধ সবই দ্বার।
ধুলো হয়ে যায় সবকিছু, থেমে যায় সে গান,
কালের গর্ভে হারিয়ে যায় তাদের সমস্ত জ্ঞান।
আজ সেখানে নীরবতা, শুধু বাতাসের সুর,
ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে থাকে ইতিহাসের নূর।
যারা ছিল একদিন শক্তিশালী, আজ তারা নেই,
তাদের গল্প বলে শুধু ভাঙা ইট আর সেই ঢেই।
হে মানুষ! দেখো চারপাশ—শিক্ষা লুকিয়ে আছে,
যারা মানেনি সত্যকে, তারা মুছে গেছে কালে।
একই পরিণাম অপেক্ষায়—যদি না বদলাও পথ,
তবে ইতিহাস আবার লিখবে ধ্বংসেরই রথ।
তাই আজও ডাক আসে—“ফিরে এসো সত্যপথে,”
অহংকার ছেড়ে দাও, চলো আলোর রথে।
যারা শিক্ষা নেয় অতীত থেকে, তারাই বাঁচে শেষে,
আর যারা অন্ধ হয়ে থাকে—তারা হারায় দেশে দেশে।
কাফিরদের সেই পরিণাম আজও অটল রয়,
আল্লাহর বিধান কখনো মিথ্যা হয় না কোনো সময়।
তাই হে মানব, জাগো এখন—সত্যকে করো গ্রহণ,
নইলে তোমার কাহিনিও হবে ধ্বংসেরই বর্ণন।
***
চলো তবে পথে নামি, এই ধরার বুকে,
দেখি কত ইতিহাস লুকায় নীরব সুখে।
পাহাড় বলে গল্প তার, নদী গায় গান,
ধ্বংসস্তূপে লেখা আছে কত যুগের জ্ঞান।
তবে কি তারা হাঁটেনি, এই মাটির পথে?
দেখেনি কি কালের লেখা, ভাঙা ইতিহাসেতে?
যারা ছিল শক্তিশালী, অহংকারে ভরা,
আজ তারা কোথায় হারাল—নেই কোনো ধরা।
দালান ছিল উঁচু তাদের, ছুঁতো নীল আকাশ,
ক্ষমতার সে গৌরবে ছিল না কোনো সর্বনাশের আশ।
কিন্তু তারা বুঝল না, সময় কত কঠোর,
এক নিমেষে কেড়ে নেয়—সব গর্বের ঘোর।
চলো দেখি চিহ্নগুলো, ভাঙা ইটের মাঝে,
কালের লেখা শিক্ষা আছে—যে বুঝে সে বাঁচে।
হে মানব, চোখ মেলো আজ, দেখো চারিধার,
অতীত যেন ডাকছে তোমায়—ছাড়ো মিথ্যার ভার।
তারা বলত—“আমরাই শক্তি, আমরাই সেরা জাত,”
তাদের চোখে সত্য ছিল অবহেলার প্রভাত।
নবীদের সেই ডাক শুনে হাসত তারা জোরে,
বলত—“এ সব কল্পনা, ভয়ের গল্প শুধু করে!”
সোনার প্রাসাদ উঠত তাদের, মিনার ছুঁতো গগন,
কিন্তু হৃদয় শূন্য ছিল—নেই আলোর স্পন্দন।
ধন-সম্পদ, সৈন্যদল—সবই ছিল পাশে,
তবু তারা হারিয়ে গেল নিজেদেরই ফাঁসে।
অহংকারের মুকুট পরে চলত তারা গর্বে,
ভাবত না কেউ থামাতে পারে তাদের কোনো রবে।
কিন্তু তারা জানত না—এক শক্তি আছে উপর,
যার সামনে সবকিছুই হয় ধূলির সমান ক্ষুদ্র।
বারবার এল বাণী—“ফিরে এসো সত্যপথে,”
কিন্তু তারা ফিরল না, রইল মিথ্যার রথে।
নবীরা কাঁদে, ডাকে বলে—“হে মানব, বুঝো আজ,”
কিন্তু তারা শোনে না কিছু—অন্ধ তাদের সাজ।
আকাশ যেন কাঁদছিল, জমিন দিত সাড়া,
প্রকৃতির প্রতিটি কণায় ছিল সতর্ক ধারা।
তবু তারা বুঝল না, হারাল সঠিক দিশা,
অহংকারে ঢেকে গেল হৃদয়ের সব দিশা।
যখন পাপ ছড়িয়ে পড়ে সীমার সব বাইরে,
যখন সত্য চাপা পড়ে মিথ্যার অন্ধকারে,
তখন আসে সিদ্ধান্ত—অবধারিত এক দিন,
যেখানে শেষ হয় সব অহংকারের রঙিন।
তারা ভাবে—“কিছু হবে না, সবই থাকবে ঠিক,”
কিন্তু সময় গোপনে লেখে ধ্বংসেরই দিক।
অদৃশ্য সেই হিসাব চলে প্রতিটি নিশ্বাসে,
কেউ রেহাই পায় না শেষে নিজের কর্মের ফাঁসে।
হঠাৎ করে আকাশ কালো, বাতাস করে হাহাকার,
ভূমি কাঁপে, সাগর ওঠে—ভেঙে পড়ে অহংকার।
এক মুহূর্তে সব শেষ—প্রাসাদ, সিংহাসন,
শক্তির সব গল্প মুছে দেয় ধ্বংসেরই রণ।
চিৎকার করে মানুষ তখন—“ফিরে যাই আমরা!”
কিন্তু তখন দেরি হয়ে যায়—বন্ধ সব দ্বার।
সময় তখন থামে না আর, নেয় না কোনো দান,
কর্মফলের বিচার আসে—অপরিবর্তনীয় জ্ঞান।
আজ সেখানে নীরবতা, শুধু বাতাসের গান,
ভাঙা দেয়াল সাক্ষী হয়ে বলে অতীতের জ্ঞান।
যারা ছিল একদিন শক্তিশালী পৃথিবীতে,
আজ তারা নেই—মিশে গেছে কালের গভীর নীড়ে।
ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে আছে সময়েরই ছাপ,
যেখানে লেখা আছে শুধু অহংকারের অভিশাপ।
হে মানুষ, শিক্ষা নাও—এটাই শেষ বাণী,
সত্য ছাড়া টিকে না কেউ—এটাই চিরজ্ঞানী।
নতুন প্রজন্ম আসে দেখে—“কার ছিল এই ঘর?”
কেন এখানে নীরবতা, কেন ভাঙা এই দর?
তাদের মনে জাগে প্রশ্ন—“কি হয়েছিল শেষে?”
ইতিহাস তখন বলে—“অহংকারের দেশে।”
যারা সত্যকে গ্রহণ করে, তারাই পায় আলো,
অহংকারের পথ ছেড়ে সত্যের পথে চলো।
আল্লাহর বাণী চিরন্তন—অটুট তার নিয়ম,
যে মানে সে রক্ষা পায়, অন্যরা হয় নিঃস্ব।
তাই আজও ডাক আসে—“জাগো হে মানবজাত!”
অহংকারের পথ ছেড়ে গ্রহণ করো সত্য।
যারা মানে না এ কথা, তাদের জন্য রয়,
অতীতের মতোই এক ভয়াবহ পরিণয়।
***
ভুলে গেছে মানুষ আজ অতীত দিনের কথা,
ধ্বংসস্তূপে লুকিয়ে আছে সতর্কতার ব্যথা।
যারা ছিল গর্বে ভরা, শক্তিতে অপরাজেয়,
আজকে তাদের স্মৃতিটুকু সময় করেছে ক্ষয়।
চোখের সামনে চিহ্ন আছে, তবু কেন অন্ধ?
সত্যকে ছেড়ে মানুষ কেন মিথ্যার পথে বন্দ?
ইতিহাসের পাতায় পাতায় সতর্কবার্তা রয়,
যে বুঝে সে পথ খুঁজে পায়, যে না বুঝে সে ক্ষয়।
শয়তান আসে নীরব পায়ে, কানে কানে কয়,
“তুমি শক্তিশালী বড়—তোমার ভয় কি হয়?”
অহংকারের আগুন জ্বালে, ঢাকে সত্যের আলো,
মানুষ তখন ভুলেই যায়—কোন পথে চলা ভালো।
ছোট ভুলকে বড় করে, পাপকে করে মধুর,
ধীরে ধীরে টেনে নেয় অন্ধকারের সুর।
হে মানব, সতর্ক হও—এটাই তার ফাঁদ,
একবার ঢুকলে সেখান থেকে ফেরা হয় বড় সাধ।
নিজের ভিতর যুদ্ধ চলে—নফস আর ঈমান,
একটি ডাকে সত্যপথে, অন্যটি করে টান।
নফস বলে—“ভোগ করো সব, এ জীবন অল্প সময়,”
ঈমান বলে—“সতর্ক হও, সামনে কঠিন ভয়।”
যে জিতে নেয় নিজের মন, সে-ই প্রকৃত বীর,
বাহিরের যুদ্ধ নয় বড়—ভিতরেরটাই ধীর।
যে হার মানে নফসের কাছে, সে হারায় সবকিছু,
আর যে জেতে—তার জন্য জান্নাত থাকে পিছু।
ধৈর্য যার সাথী হয়, সে কখনো হারে না,
ঝড় এলেও দৃঢ় থাকে—পথ থেকে সরে না।
কষ্ট আসে পরীক্ষা হয়ে, দেখে মানুষের মন,
কে থাকে সত্য আঁকড়ে ধরে, কে হারায় আপন।
যারা ধৈর্য ধরে চলে, আল্লাহ তাদের সাথ,
অন্ধকার শেষে আলো আসে—এটাই সত্য কথা।
হে মানব, ধৈর্য ধরো—কষ্ট ক্ষণিক মাত্র,
শেষে রয়েছে শান্তির সাগর, পুরস্কারের পাত্র।
যত পাপই হোক না কেন, ফিরে আসার পথ,
আল্লাহর দরজা খোলা—দিন-রাত অবিরত।
ভুল করলে লজ্জা নয়—ফিরে আসাই বড়,
যে ফিরে আসে সত্যপথে, সে-ই সফল ঘর।
অহংকারই বাধা হয়ে দাঁড়ায় মাঝখানে,
“আমি কেন ফিরব?”—এই চিন্তা ডুবায় প্রাণে।
হে মানুষ, মাথা নত করো—ক্ষমা চাও আজ,
দয়াময় প্রভু ক্ষমা করেন—এটাই তাঁর সাজ।
***
এই দুনিয়া রঙিন স্বপ্ন, চোখে লাগে ভালো,
মায়ার জালে বেঁধে রাখে, ঢেকে দেয় সত্য আলো।
ধন-সম্পদ, নামের খ্যাতি—সবই ক্ষণিক ছায়া,
তবু মানুষ ছুটে চলে, ভুলে যায় সে মায়া।
হাসি-খুশির এই মেলা, ভিতরে কত শূন্য,
বাহিরে যে হাসে বেশি, অন্তরে তার গুঁড়ো বেদনা।
হে মানব, বুঝে নাও—এটা নয় স্থায়ী ঘর,
একদিন সব ছেড়ে গিয়ে দাঁড়াতে হবে পর।
হঠাৎ করে থেমে যায় জীবনেরই গান,
নিঃশ্বাস থামে—নীরব হয় সব চেনা অবসান।
যে ছিল একটু আগে, এখন সে আর নেই,
এটাই জীবনের সত্য—কেউ তা মানতে চায় না তবেই।
ধন-সম্পদ পড়ে থাকে, মানুষ চলে যায়,
ক্ষমতার সে গর্বটুকু সাথে করে না কায়।
হে মানুষ, প্রস্তুত হও—সময় কিন্তু কম,
মৃত্যু কখন ডাকবে এসে—কেউ জানে না তম।
একদিন শিঙ্গা বাজবে—কেঁপে উঠবে ধরা,
ঘুমন্ত সব প্রাণ জেগে উঠবে—হবে নতুন ধরা।
মাটি ফেটে বের হবে সব, দাঁড়াবে একত্র,
কেউ লুকাতে পারবে না—সামনে আসবে সত্য।
রাজা-প্রজা এক সারিতে, নেই কোনো ভেদাভেদ,
সেই দিন শুধু কাজই হবে আসল পরিচয় খোঁজ।
হে মানব, ভাবো আজ—সেই দিনের কথা,
যেখানে কেউ বাঁচাতে পারবে না তোমার ব্যথা।
কর্মফল খুলে যাবে—প্রতিটি হিসাব,
ভুলে যাওয়া ক্ষুদ্র কাজও হবে স্পষ্ট জবাব।
হাত, পা, চোখ—সবই বলবে নিজের দেখা কথা,
কেউ অস্বীকার করতে পারবে না নিজের ব্যথা।
যে ভালো করেছে, সে পাবে শান্তির আলো,
যে মন্দ করেছে, তার জন্য ভয়ংকর কালো।
সেই দিন ন্যায় হবে পূর্ণ, থাকবে না কোনো ফাঁক,
এক বিন্দু অন্যায়ও হবে না কোনো ঢাক।
শেষে হবে বিভাজন—দুই পথ আলাদা,
একটি যাবে শান্তির দিকে, অন্যটি ব্যথায় বাঁধা।
যারা সত্যকে ধরেছিল, তারা পাবে নূর,
আর যারা ফিরেছিল মুখ—তাদের জন্য দূর।
চিরস্থায়ী হবে সেই ফল—ফিরে আসা নেই,
একবার যে পথ ধরবে, সে পথেই যেতে হয়।
হে মানব, বেছে নাও আজ—কোন পথে যাবে তুমি,
কারণ সামনে অপেক্ষায় চিরন্তন ভূমি।
সূরাঃ মুহাম্মাদ | আয়াতঃ ১০মাদান
৪
৪ মন্তব্য